মাহে রমজানের শিক্ষার বাস্তবায়ন

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকারসমূহের একটি। শিক্ষার মাধ্যমেই একটি জাতি তার জাতিসত্তার সাথে পরিচিত হয়। মূলত সঠিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত মানবগোষ্ঠীই সেই দেশ বা সমাজের উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারক ও বাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। শিক্ষানীতি তাই হতে হয় একটি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের সমন্বয়ে প্রণীত।
অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাস ও মননের সাথে মিশে আছে ইসলাম। বাংলাদেশের শিক্ষানীতি তাই প্রণীত হওয়া উচিত ইসলামী অনুশাসনের আলোকে। কিন্তু বারবারই গণমানুষের সেই তীব্র আকাক্সা ও দাবি উপেক্ষিত হয়েছে, বরং সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে দেশের ইতহাস-ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক শিক্ষানীতি প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই জাতিকে পরিচয়হীন করে দেয়ার হীন মানসে সেক্যুলার শিক্ষানীতি পাস করে তা বাস্তবায়নের কাজ বেশ জোরেশোরেই শুরু করে দিয়েছে। ফলে মদন মোহন রায়-এর মতো শিক্ষকরা ধর্মীয় মূল্যবোধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য প্রদান করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে বিভক্তির বীজ বপন করতে উৎসাহী হচ্ছে। আর উন্নয়নের পথটা পিচ্ছিল থেকে পিচ্ছিলতর হয়ে উঠছে, ক্রমশ।
শহীদ আবদুল মালেক, এই উপমহাদেশের ইতিহাসে ইসলামী তথা নৈতিকতার সমন্বয়ে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের দাবিতে প্রথম শাহাদাত বরণ করে এক অনন্য নজীর স্থাপন করে গেছেন। তিনি তো সেই ব্যক্তিত্ব, যিনি প্রিয় দেশবাসীর প্রাণের ভাষা পড়তে পেরেছিলেন। আর তাদের পরম চাওয়াকে পাওয়ায় পরিণত করতে গিয়ে বিরুদ্ধবাদী তথা দেশকে নিয়ে যারা বারবার ষড়ডন্ত্রের জাল বিস্তারে ব্যস্ত, তাদের বিরাগভাজন হয়ে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। তিনি তো সফল। কিন্তু আমরা আজও পারিনি তাঁর মহান আত্মত্যাগের মূল্য শোধ করতে। তাইতো যখন দেশবিরোধী বিভিন্ন চক্রান্তের বিরুদ্ধে সত্যিকারার্থে যারা দেশপ্রেমিক, তারা সোচ্চার হয়ে ওঠেন, তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে দ্বিধায় জড়িয়ে পড়ি।
সরকার একে একে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে বাংলাদেশের প্রায় সবকিছুই একপ্রকার বিনা শর্তে দিয়ে দিচ্ছে। সেদেশের মন্ত্রী-নেতারা ঘন ঘন এদেশে সফর করছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যেন ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য বাংলাদেশ। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ভয়াবহতা তুলে ধরে যখন সমগ্র দেশবাসীকে সতর্ক করে তার বিরুদ্ধে জনমত গঠনের ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, সেই মুহূর্তে তাঁদেরকে কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত মিথ্যা মামলায় জামিন পেলেও অন্য একাধিক সাজানো ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় তাঁদেরকে আটকে রাখা হয়। এখন তো কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে প্রহসনের বিচার অনুষ্ঠানের চেষ্টা বেশ জোরেশোরেই চলছে।
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সঙ্কটে জনজীবন অতিষ্ট। পবিত্র রমজান মাস চলছে। সেই সাথে বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। প্রধানমন্ত্রী চরম নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়ে সবাইকে এটা মেনে নিয়ে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আল্লাহর মেহমান রোজাদারদের সাথে এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ এর আগে কেউ দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশের ইতিহাসে লিখিত নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বেড়েই চলেছে। সরকারের মধ্য থেকেই এর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা হয়েছে। তারপরও তা নিরসনে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
আল্লাহপাক তাঁর বান্দাকে তাকওয়া তথা খোদাভীতি অর্জনের জন্য রমজান মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন। রোজাদার সিয়াম পালনের মাধ্যমে সংযমী হতে শেখে। অপর ভাইয়ের সহযোগিতায় সর্বাগ্রে এগিয়ে আসার দীক্ষা পায়। যাকাত ও ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজে ধনী-গরিবের ব্যবধান কমিয়ে আনার শ্রেষ্ঠ সময় মাহে রমজান। এই রমজানকে তাই যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবেই সফল হবে একমাস সিয়াম সাধনা। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা রক্ষার জন্য সবাইকে সতর্ক হতে হবে। কেননা, যুগে যুগে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার অভাবেই বিভিন্ন জাতি ধ্বংস হয়েছে। কেবল যারা সমাজে ভাঙন সৃষ্টিতে তৎপর তারাই নয়- তাদের সাথে সমাজের সাধারণ মানুষও ধ্বংসের শিকার হয়েছে। তাই সময় এসেছে সতর্ক হওয়ার, সোচ্চার হওয়ার

SHARE

Leave a Reply