জানা-অজানা আগস্ট ২০১৩

সূর্যের আলোয় চলবে বিমান
সূর্যের আলোয় চলবে বিমান। সুইজারল্যান্ডের দুই গবেষক বারট্রান্ড পিকারড ও আন্ড্রে বুর্শবার্গ এমন এক বিমান তৈরি করেছেন। বিমানটি ৭ জুলাই কিছুক্ষণের জন্যে আকাশে উড়ানো হয়।
এ বিমানটির গতি হবে ঘণ্টায় ৫৪ কিলোমিটার। বিমানের দুই পাখায় সৌরপ্লেট লাগানো আছে। সেদিন বুঝি আর বেশি দূরে নয় বিমান চালাতে আর জ্বালানির প্রয়োজন পড়বে না। বায়ুদূষণ ও অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যার কারণে বিমানের জ্বালানি হিসেবে সৌরশক্তি ব্যবহার করা যায় কী না এ ব্যাপারে অনেকদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই সফল প্রয়াস নতুন এ বিমান।

সবচেয়ে বড় ব্যাটারি
যুক্তরাজ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি সংরক্ষণের জন্য ছয় মেগাওয়াট ধারণক্ষমতার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি নির্মিত হচ্ছে।
নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে তিনশ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তারা। সূর্যের আলো ও বাতাস থেকে সংগৃহীত বৈদ্যুতিক শক্তি দীর্ঘসময় ব্যবহার করতে ইউরোপে বানানো হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি। এ ব্যাটারি যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংরক্ষণে কাজে লাগবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ ব্যাটারির মাধ্যমে সন্ধ্যার পর বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সূর্যের আলো ও বাতাস থেকে বেশি পরিমাণে শক্তি সঞ্চয় করা যাবে। এতে নবায়নযোগ্য শক্তি আরও বেশি ব্যবহার করা যাবে।
এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি। এটি তৈরিতে লিথিয়াম ম্যাংগানিজ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এক কোটি ৮৭ লাখ পাউন্ডের এ প্রকল্প নবায়নযোগ্য শক্তি সঞ্চয়ে কাজ করবে।

চূড়ান্ত পর্যায়ে বেসরকারি মহাকাশযান
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মানুষ পাঠানোর জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেবে নাসা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা গত সপ্তাহে বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশে যাত্রী বহনের পরিকল্পনার চতুর্থ ও চূড়ান্ত পর্বের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এ পরিকল্পনার আওতায় ২০১৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মানুষ পাঠানোর জন্য বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেয়া হবে।
বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ স্টেশনে যাত্রী পরিবহনে নাসার পরিকল্পনার একটি অংশ এটি। পরিকল্পনা অনুসারে বছরে এ ধরনের দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এ জন্য নাসা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মহাকাশে যাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব গ্রহণ করবে। এরপর তাদের মধ্যে থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হবে।
এ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই নাসার সঙ্গে মহাকাশযানের ক্যাপসুল তৈরির কাজ শুরু করছে বোয়িং এবং স্পেসএক্স। এছাড়া সিয়েরা নেভাডা মহাকাশযানের বডি ডিজাইন করছে। মহাকাশযানগুলোর প্রত্যেকটিই সাতজন যাত্রী বহনের উপযোগী হবে।
অনুপস্থিতি জানাবে ডোরবেল
মালিক বাড়িতে না থাকলেও আগন্তুকের সঙ্গে মালিকের ভিডিওসহ কথা বলিয়ে দিতে পারবে নতুন এ ডোরবেল। নতুন ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির ডোরবেল বাজারে এসেছে। ডোরবটের নতুন এ সংস্করণটিতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মালিক বাড়িতে না থাকলেও আগন্তুকের সঙ্গে মালিকের কথা বলিয়ে দিতে পারবে। নতুন এ ডোরবটটির দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ ডলার।
ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির পাশাপাশি ডোরবেলটিতে রয়েছে ক্যামেরা। বাড়ির মালিক অনুপস্থিত থাকাকালীন কেউ বেল বাজালে তার ডোরবেলটি মালিকের স্মার্টফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোন করবে এবং লাইভ ভিডিও স্ট্রিম করবে। আর এভাবেই বাড়ির মালিক জানতে পারবেন, তার বাড়িতে কে এসেছেন এবং প্রয়োজনে তার সঙ্গে কথা বলতেও পারবেন।
নতুন এ ডোরবেলটির ভেতরে রয়েছে ইন্টারনাল রিচার্জেবল লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি, যা এক বছর সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়াও এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে এটিকে সহজে কেউ চুরি করতে না পারে।

ঘাম থেকে খাবার পানি
খাবার পানিতে পরিণত হবে ঘাম, এ রকম একটি যন্ত্র সুইডেনে তৈরি হয়েছে। যন্ত্রটি সুইডেনে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ যন্ত্রটি তৈরিও করেছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফের যন্ত্রটিতে ঘর্মাক্ত কাপড় রাখলে তার আর্দ্রতা পরিবর্তিত হয়ে খাবার পানিতে পরিণত হয়।
যন্ত্রটিতে ঘর্মাক্ত কাপড় রাখলে সেখান থেকে ঘাম সরিয়ে নিয়ে আর্দ্রতা পরিবর্তন করে খাবার পানিতে পরিণত করা হয় বলে জানা গেছে। ঘূর্ণন এবং উষ্ণতার সাহায্যে যন্ত্রটি ঘাম সরিয়ে নেয়। তারপর একটি বিশেষ পর্দার মধ্য দিয়ে বাষ্প প্রবাহিত করে। পরবর্তীতে তাপমাত্রা কমিয়ে আনলে খাবার পানিতে পরিণত হয় বাষ্প।
নির্মাতারা জানিয়েছেন, গত ২৯ জুলাই যন্ত্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ ঘাম থেকে পরিবর্তিত পানি খেয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, যন্ত্রটির এ পানি ট্যাপের পানি থেকেও পরিষ্কার।
যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিশুকেন্দ্রিক চ্যারিটির জন্য। এর মাধ্যমে ইউনিসেফ তুলে ধরতে চেয়েছিল বিশ্বে ৭৮ কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভোগে। যন্ত্রটি নকশা এবং নির্মাণ করেছেন প্রকৌশলী আন্দ্রেয়াস হ্যামার।

পাখির মতো বোমারু বিমান
আমেরিকান বিমান বাহিনী পাখির মতো দেখতে নতুন এক বিমান ব্যবহার শুরু করেছে। বিমানটির নাম দেয়া হয়েছে বি২। আকাশে উড়ার সময় মনে হবে যেন একটি বাজপাখি উড়ছে।
এ বিমানে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একবারে ১০,০০০ নটিকাল মাইল উড়তে পারে। নির্দিষ্ট লক্ষে বোমা নিক্ষেপ করতেও এর জুড়ি নেই। বি২ বিমানের প্রধান ঠিকাদারী কোম্পানি নর্থরোপ গ্রুমান ধারণা করছেন এই বিমান যেকোন যুদ্ধের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
পরীক্ষামূলক যাত্রায় এটি এক সাথে ২৩০ কিলো ওজনের ৮২ বোমা ফেলে রেকর্ড করে। এটি ২০ টন পর্যন্ত বোমা বহন করতে পারে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, সাথে আছে প্রতি সেকেন্ডে আঘাত করার লক্ষের হালনাগাদ করার সুযোগ।

বিশ্বের প্রথম মাকড়সা রোবট
তৈরি হয়েছে বিশ্বের প্রথম ত্রিমাত্রিক মাকড়সা রোবট। রোবাগটিক্স নামক প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করেছে। রোবটটির নাম দেয়া হয়েছে টিএইট (ঞ৮)।
থ্রিডি প্রিন্টার টেকনোলজি ব্যবহার করে এর শরীরের ডিজাইন করা হয়েছে। ফলে যে কেউ দূর থেকে একে সত্যিকারের মাকড়সা ভেবে ভুল করবেন। আর এটি যেনতেন ছোটখাটো মাকড়সা নয়। এটির আকার বেশ বড়। এ অষ্টপদী কীট দেখলে গা শিউরে উঠবে।
রোবটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২৬ টি সার্ভো মোটর এবং একটি ওয়্যারলেস রিমোট কন্ট্রোল। আপনি একবার কোন গন্তব্য দেখিয়ে দিলে মাকড়সাটি ঠিক সেখানে কিলবিল করে এগিয়ে যাবে।

নেপচুনের নতুন চাঁদ
হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে নাসার গবেষকেরা নেপচুন গ্রহের নতুন একটি উপগ্রহ বা চাঁদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্যোতির্বিদ মার্ক শোয়াল্টার নেপচুন গ্রহের ক্ষুদ্রতম এই উপগ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন। এটি নেপচুনের ১৪তম চাঁদ। নেপচুনের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম এ চাঁদের আকার মাত্র ১২ মাইল।
নেপচুনের বাইরের বলয়ে অবস্থিত অতি ক্ষুদ্র এই চাঁদ অনেকটাই অনুজ্জ্বল। খালি চোখে দেখা সবচেয়ে অনুজ্জ্বল তারার চেয়েও ১০০ মিলিয়ন গুণ কম অনুজ্জ্বল এই নতুন চাঁদ। চাঁদটি এতই ক্ষুদ্র যে, ভয়েজার ২ যখন নেপচুন গ্রহটি পর্যবেক্ষণ করে তখনও চাঁদটির অস্তিত্ব ধরা পড়েনি। তবে ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হাবল টেলিস্কোপে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে নেপচুনের এই ১৪তম চাঁদটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। চাঁদটি প্রতি ২৩ ঘণ্টায় নেপচুনকে একবার প্রদক্ষিণ করে।

SHARE

Leave a Reply