জানা-অজানা

নিজেই পরিষ্কার হবে কাপড়!
ভাবুন একবার, শুধুমাত্র রৌদ্রের নিচে অথবা বারান্দার তারে ঝুলিয়ে রাখলেই যদি কাপড়গুলো নিজে নিজে পরিষ্কার এবং দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়, তাহলে কেমন হবে? অনেক অদ্ভুত হবে নির্ঘাত। কিন্তু এই অদ্ভুত ব্যাপারটাই নাকি ঘটে গেছে। বিজ্ঞানীরা একটি নতুন সুতি কাপড় তৈরি করেছেন যাকে সূর্যালোকে রাখলে নিজেকে যে কোনো ব্যাকটেরিয়া এবং দাগ থেকে পরিষ্কার করতে পারে।
মিঙ্গস লং এবং ডেয়ং উ জানিয়েছেন, তাদের নতুন এই কাপড়টিতে ব্যবহার করা হয়েছে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডের কোটিং। টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড একটি সাদা ম্যাটেরিয়াল যা সাধারণত খাদ্যের সাদা রং থেকে সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এই টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড যখন কোনো আলোর সংস্পর্শে আসে তখন ময়লাগুলোকে ভেঙে ফেলে এবং মাইক্রোবসগুলোকে মেরে ফেলে। এই পদ্ধতি ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয় সেলফ-ক্লিনিং জানালা, রান্নাঘর, বাথরুমের টাইলস ও গন্ধহীন মোজা এবং আরো অনেক পণ্যতে।

চুল রহস্য
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, কারণ মানুষের আছে অতি উন্নত মস্তিষ্ক। এই মস্তিষ্ককে ঘিরে একেবারে বাইরে রয়েছে চুল। চুল নিয়ে মানুষের গবেষণার শেষ নেই। চুল বা লোম হচ্ছে ত্বকের বহিঃস্তরে অবস্থিত ফলিকল থেকে উৎপন্ন হওয়া চিকন লম্বা সুতার মত প্রোটিন তন্তু। চুলের প্রধান উপাদান হচ্ছে কেরাটিন। মানুষ ব্যতীত অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরে যে নরম, সুন্দর চুল পাওয়া যায় তাকে “ফার” বা লোম বলে।
ত্বকের উপরিতলের কোষ বা এপিডারমাল সেল থেকে চুলের উৎপত্তি। হেয়ার ফলিকল তৈরি হয় এপিডারমাল সেল থেকে। হেয়ার ফলিকলের একেবারে গভীরতম অংশ বা হেয়ার বাল্বের বিভাজনে তৈরি হয় নতুন নতুন কোষ। এই নবীন কোষগুলোতে বিশেষ ধরনের প্রোটিন জমতে থাকে, যা ত্বকের সাধারণ প্রোটিন থেকে কিছুটা আলাদা ও শক্ত।
মানুষের মাথায় আছে অসংখ্য চুল। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মাথায় প্রায় ১০০০০০ চুল থাকে। মানুষের চুল প্রতিদিন ০.৫ মিলিমিটার বৃদ্ধি পায়। ২৪ ঘণ্টায় মাথার চুল সমানভাবে বাড়ে না। রাতে চুল খুব ধীরে বাড়ে। সকালে এর গতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বেলা ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়ে। দুপুরের দিকে এ চুল বাড়ার গতি কমতে থাকে, আবার বিকালের দিকে আবার বাড়ে এবং সন্ধ্যায় গতি কমতে থাকে। গরমকালে চুল সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে এবং ঝরে। দৈনিক কিছু চুল স্বাভাবিকভাবে পড়ে যায় এবং একইভাবে কিছু চুল গজায়। কিন্তু চুল পড়া ও চুল গজানোর হারের সমতা যখন থাকে না তখনই চুল পাতলা হতে শুরু করে। দিনে প্রায় ১০০টার মত চুল পড়লে তা স্বাভাবিক। অনেক রকম ইনফেকশন, বিভিন্ন রোগ, ওষুধের ব্যবহার এবং খাদ্যের ভিন্নতার কারণে সাধারণত চুল পড়ে। তবে ৯৫ ভাগ চুল পড়ার কারণ জিনগত বা বংশগত। এ অবস্থাকে বলা হয় অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া এবং অ্যানড্রোজেন অর্থাৎ পুরুষ হরমোন এ সমস্যার জন্য দায়ী। এ কারণেই ছেলেদের চুল বেশি ঝরে। বৃদ্ধ বয়সে চুল ঝরার হার বেশি। নিয়মিত চুলের যত্নে ও মানসিক চাপ কমিয়ে চুল পড়া কমানো সম্ভব।

ফ্যান বা এসি উপরে এবং হিটার নিচে থাকার রহস্য
আমরা জানি, বাতাসকে উত্তপ্ত করা হলে সেটা আয়তনে বৃদ্ধি পায় ফলে তার ঘনত্ব কমে গিয়ে তা হালকা হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। অর্থাৎ সোজা কথায় ঠাণ্ডা বাতাস নিচের দিকে নেমে আসে এবং গরম বাতাস উপরের দিকে উঠে যায়। মূলত এই নীতির কারণেই ফ্যান বা এসিকে উপরে রাখা হয় এবং হিটারকে নিচে রাখা হয়।
ফ্যান বা এয়ারকুলার উপরে লাগানো থাকে বলে এটা প্রথমে উপরের দিকের বাতাসকে ঠাণ্ডা করে ফেলে। সেই ঠাণ্ডা বাতাস ভারী হওয়ায় নিচের দিকে নেমে আসে এবং নিচের গরম হালকা বাতাসকে উপরের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এবার এই গরম বাতাস আবার ঠাণ্ডা হয়ে নিচে নেমে আসে এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে পুরো ঘরের বাতাস ঠাণ্ডা হতে থাকে। এখন ফ্যান যদি উপরে না লাগিয়ে নিচে লাগানো হতো, তাহলে এটা শুধু নিচের বাতাসকেই ঠাণ্ডা করত এবং সেই ভারী ঠাণ্ডা বাতাস নিচেই বসে থাকত। ফলে উপরের গরম বাতাসগুলো গরমই রয়ে যেত।
একইভাবে হিটার নিচে রাখা হয় বলে এটা প্রথমে নিচের বাতাসকে গরম করে ফেলে। সেই গরম বাতাস হালকা হওয়ায় উপরের দিকে উঠে যায় এবং উপরের ঠাণ্ডা ভারী বাতাসকে নিচের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এবার এই ঠাণ্ডা বাতাস আবার হিটারের উত্তাপে গরম হয়ে উপরের দিকে উঠে যায় এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে পুরো ঘরের বাতাস গরম হতে থাকে। এখন হিটার যদি নিচে না রেখে উপরে লাগানো হতো তাহলে এটা শুধু উপরের বাতাসকেই গরম করত এবং সেই গরম বাতাস উপরেই বসে থাকত। ফলে নিচের ঠাণ্ডা বাতাসগুলো ঠাণ্ডাই রয়ে যেত।
ভাঙা বস্তু জোড়া লাগবে নিজে নিজেই
অসম্ভব এই বিষয়টিকে সম্ভব করেছেন নেদারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। তারা Eindhoven University of Technology-এর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে নিয়ে রাসায়নিক কোম্পানি AkzoNobel  নতুন ধরনের এ পলিমার উদ্ভাবন করেছেন। নতুন ধরনের এই পলিমার দিয়ে তৈরি কোন বস্তু ভেঙে গেলে দুই প্রান্ত একসঙ্গে ধরলেই তা আবার জোড়া লেগে যাবে। প্রয়োজন হবে না কোনো ধরনের আঠার। হাইড্রোজেন বন্ড-এর একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যাতে হাইড্রোজেন অণুসমূহ অন্য অক্সিজেন বা নাইট্রোজেনের মত অণুসমূহের সাথে আকর্ষণের মাধ্যমে এই পলিমার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। নতুন এই পলিমারটি অন্যান্য যেকোনো মজবুত প্লাস্টিকের মতই শক্তিশালী হবে। “সুপরা বি” নামের এই পলিমার গাড়ির উইন্ডশিল্ড, ল্যাপটপ-এর মত যেকোনো ব্যবহার্য বস্তুতে ব্যবহার করা যাবে। যা করে তুলবে যেকোনো জিনিসকে আরও টেকসই ও যুগোপযোগী।

মানুষ কেন বামহাতি হয়
শতকরা ৯০ জন লোক ডানহাতি এবং ১০ জন লোক বামহাতি। এটা শুনে আরও অবাক হবেন যে এই আনুপাতিক হার মোটামুটিভাবে স্থির রয়েছে সেই আদিম কাল থেকেই। এই বামহাতি হওয়া ব্যাপারটা আসলে পারিবারিক বা বংশগত। আর বংশগত হওয়া মানেই এটির সাথে আমাদের জিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক LRRTM-1 নামক একটি জিন সনাক্ত করেন। গঠন বিকারগ্রস্ত একটি শিশুর শরীর পরীক্ষা করার সময় তারা এটি খুঁজে পান। পরে দেখা যায় বামহাতি হবার পেছনে এই বিশেষ জিনটির যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তারা জানান, “নিউরনগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের সাথেও এই জিনটির সম্পর্ক আছে।” তবে বিজ্ঞানীরা আরও একটি কারণও খুঁজে পান। তা হল, যে মানুষের মস্তিস্ক বেশি অসামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের বামহাতি হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এখানে বলে রাখা ভালো, আমাদের সবার মধ্যেই এই অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। তবে বামহাতিদের মধ্যে এটা অনেক বেশি।

বৃত্ত পথে ঘুরতে ঘুরতে পিঁপড়ার মৃত্যু
আমরা অনেক সময়ই একটি পিঁপড়াকে তার সামনের সঙ্গীটিকে অনুসরণ করে চলতে দেখি। সাধারণত খাবার সন্ধানের জন্য তারা একই চলার পথ অনুসরণ করতে থাকে। পিঁপড়াদের সুনির্দিষ্ট পথ আছে এবং তারা সেই পথেই চলতে থাকে, সেটা যদি ঘুরে যেতে হয় তবুও তারা সামনের জনের অনুসরণ করে।
সৈনিক পিঁপড়া (army ant) নামের এক ধরনের পিঁপড়ার মধ্যে এক জটিল বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। এই পিঁপড়া সব সময় দলগতভাবে বসবাস করে। এবং কোনো এক সময় শত্রুর আক্রমণে নামলে পিছ পা হয় না। আর যদি কখনো বৃত্তাকার পথে অতিক্রম করে তাহলেই বিপর্যয় দেখা দেয়। প্রত্যেকে তার আগের জনকে অনুসরণ করতে গিয়ে তারা বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকে এবং ক্লান্তি এসে যায় তবুও পথ চলা বন্ধ করে না। বৃত্ত পথে ঘুরতে ঘুরতে হাজার হাজার পিঁপড়া মারা যায়।

SHARE

Leave a Reply