জানা-অজানা

বিশুদ্ধ অক্সিজেন মৃত্যুর কারণ!
আমরা নিশ্বাসের সময় বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং এ অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোষের অভ্যন্তরস্থ রক্তের সংস্পর্শে আসে এবং রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে বিক্রিয়া করে অক্সি-হিমোগ্লোবিন তৈরি করে যা বিভিন্ন ধমনী ও উপ-ধমনী দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশের জৈব কোষের সংস্পর্শে এসে দহণ ক্রিয়া সংঘটিত করে। এ দহন ক্রিয়ার ফলে দেহাভ্যন্তরে তাপ উৎপন্ন হয় এবং ঐ তাপ প্রাণীদেহের উষ্ণতা বজায় রাখে। শরীরে শক্তি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে যা প্রশ্বাসের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। গাছপালা কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে নিজেদের খাদ্য তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে যা প্রাণিকুল শ্বাসের সাথে গ্রহণ করে। কিন্তু শ্বাসের সাথে আমরা বায়ুর যে অক্সিজেন গ্রহণ করি তা বিশুদ্ধ নয়। বায়ুর মধ্যে অক্সিজেন ছাড়াও আরও গ্যাস থাকে। যেমন নাইট্রোজেন। বায়ুর ৫ ভাগের ৪ ভাগ হল নাইট্রোজেন আর অক্সিজেন হল মাত্র ১ ভাগ। প্রাণিকুল শ্বাসের সময় যে অক্সিজেন গ্রহণ করে তার সাথে নাইট্রোজেন মিশ্রিত থাকে। নিস্ক্রিয় প্রকৃতির এই নাইট্রোজেন গ্যাস বায়ুস্থ অধিক সক্রিয় অক্সিজেন গ্যাসের দহন ক্রিয়াকে অনেকটা মৃদু করে ফলে দেহের অভ্যন্তরস্থ দহনক্রিয়া সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে এবং পরিমিত গতিতে সম্পন্ন হয়।
শ্বাসের সাথে যদি আমরা শুধু অক্সিজেন গ্রহণ করতাম তবে প্রাণীদেহের অভ্যন্তরে দহন ক্রিয়া এত দ্রুত সম্পন্ন হত যে, তাতে অত্যধিক তাপশক্তি উৎপন্ন হত এবং দেহযন্ত্র বিনষ্ট হয়ে যেত। ফলে প্রাণীর অস্তিত্ব লোপ পেত।

হঠাৎ আলো দেখলে হাঁচি হয় কেন
অন্ধকার থেকে আলোতে গেলে কিংবা সূর্যের দিকে তাকালে এক-তৃতীয়াংশ লোকের হাঁচি পায়। আলো দেখে এভাবে হাঁচি দেয়াকে বলে ঢ়যড়ঃরপ ংহববুব ৎবভষবী। বিষয়টি অনেক মহাজ্ঞানীকেও ভাবিয়েছে। এরিস্টটল মনে করতেন নাকের উপর সূর্যের তাপ এজন্য দায়ী। আবার ইংরেজ দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকন ভেবেছিলেন সূর্যের আলোয় যে চোখের পানি হয়, তা নাকে গিয়ে হাঁচির উদ্রেক করে। কিন্তু ফিজিওলজি বা শারীরবিদ্যা অনুযায়ী তা সম্ভব না।
নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাঁচির স্টিমুলেশন বহন করে ট্রাইজেমিনাল নার্ভ। ব্রেইনের ভেতর তা অপটিক বা চোখের নার্ভের কাছাকাছি থাকে। তীব্র আলোর অনুভূতি অপটিক নার্ভ দিয়ে বাহিত হবার সময় তা ট্রাইজেমিনাল নার্ভকেও স্টিমুলেট করে, ফলে হাঁচি হয়। কিন্তু কোনো অসুস্থতার সাথে সম্পর্ক না থাকায় এই বিষয়টি নিয়ে তেমন গবেষণা হয়নি। তবুও, ১৯৬০ সালের এক গবেষণায় দেখা যায় এই বৈশিষ্ট্য আমাদের জিন বা বংশগতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এবং এটি অটোজোমাল প্রকট বৈশিষ্ট্য। তাই বাবা বা মা যে কোনো একজনের থাকলে অর্ধেক সন্তানে এই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাবে।

আঙুল ফোটালে শব্দ হয় কেন?
সাধারণত ধারণা করা হয়, আঙুল মোচড়ানোর সময় হাড়ে হাড়ে ঘষা লেগে শব্দ হয়। ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়। সেখানে হাড়ের মধ্যে ঘষা লাগে না। আমরা যখন আঙুল ফোটাই, আঙুলগুলোকে আমরা সাধারণত এমন পরিমাণ বেন্ডিং করি, যেটা সাধারণভাবে আঙুলের পক্ষে হওয়া সম্ভব নয়। আমাদের জয়েন্টগুলোর চারপাশে এক ধরনের ফ্লুইড থাকে, যেটাকে বলা হয়- সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। যখন আমরা এভাবে আঙুলগুলোকে তাদের স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরিয়ে আনি, এই ফ্লুইডে এক ধরনের ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি হয় এবং একটা বাবল তৈরি হয়, যেটা একদম সাথে সাথেই ভেঙে যায়। এই বাবল ফাটার শব্দটাই হচ্ছে আঙুল ফোটানোর শব্দের উৎস।

SHARE

Leave a Reply