জানা-অজানা

ছেলেদের গড় উচ্চতা বেশি কেন?
শুধু মানব প্রজাতির ক্ষেত্রেই নয়, প্রাণীজগতের প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুরুষদের গড় উচ্চতা মেয়েদের চেয়ে বেশি। এটা জটিল ও কঠিন বিষয়। manবেশির ভাগ জীববিজ্ঞানী মনে করেন, প্রাকৃতিক নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় বিবর্তনের মধ্য দিয়ে পুরুষ ও নারীর উচ্চতায় পার্থক্য এসেছে। অতীতে প্রাণীজগতে নারীসঙ্গী লাভের জন্য পুরুষদের মধ্যে তীব্র লড়াই হতো। লম্বা ও শক্তিশালী পুরুষদের জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি বলে তাদের সন্তানদের একই গুণাবলি অর্জনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ফলে বিবর্তনের ধারায় গড় উচ্চতা বেশি এমন পুরুষ ও মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। উপরন্তু লম্বা মেয়েরা প্রাকৃতিক নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় বেশি আনুকূল্য লাভ করে। কারণ, সন্তান জন্মদানের সময় খাটো মেয়েদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বিবর্তনের ধারায় অপেক্ষাকৃত লম্বা মেয়েদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু তা সত্তে¡ও মেয়েদের গড় উচ্চতা ছেলেদের চেয়ে কম। একে পুরুষশাসিত সমাজের একটি অভিশাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ, প্রায় সব সমাজে পুরুষের সমাদর বেশি। ভালো, পুষ্টিকর ও বেশি খাবার সাধারণত পুরুষেরাই আদিকাল থেকে পেয়ে আসছে। এখনো এই প্রথা অব্যাহত আছে। কম খাওয়া জুটলে উচ্চতাও তুলনামূলক কমে যায়। সমাজবিদেরা মনে করেন, মেয়েদের গড় উচ্চতা কম হওয়ার পেছনে এ সামাজিক বৈষম্য কাজ করেছে।
এক পাশে হৃদযন্ত্র আরেক পাশে ফুসফুস কেন?
আমাদের দুটি করে চোখ, কান, হাত ও পা শরীরের নিখুঁত প্রতিসাম্য (সিমেট্রি) অবস্থানে থাকে। কিন্তু হার্ট (হৃদপিণ্ড) শরীরের বাঁ পাশে, ফুসফুস ডান পাশে, লিভার (কলিজা) ডান পাশে ইত্যাদি। এগুলো প্রতিসম না হওয়ার কারণ সম্পর্কে অনেক গবেষণা হয়েছে। ভ্রƒণের ভেতর হার্ট প্রথমে একটি নলের আকারে শুরু হয়ে বাঁ দিকে helthবক্রাকারে প্রসারিত হয়। এরপর রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কুঠুরি ও কাঠামো শরীরের বাঁ-ডান দুই পাশেই বিস্তৃত হয়। ইতোমধ্যে অন্য অঙ্গগুলো তৈরি হতে থাকে। ঘড়ির কাঁটার পথরেখা অনুযায়ী ঘুরে পাকস্থলী ও কলিজা ভ্রƒণের মধ্যরেখা থেকে দূরে সরতে থাকে। ফুসফুসের ডান অংশে তিনটি ও বাঁ অংশে মাত্র দুটি লতিকা (লোব) তৈরি হয়। জীববিজ্ঞানীরা বলেন, ভ্রƒণের মধ্যরেখায় সৃষ্ট একটি ছোট নোড (সংযোগস্থল) থেকে প্রতিসাম্য অবস্থানের এ বিচ্যুতি শুরু হয়। নোডের ভেতরে থাকে সিলিয়া নামের শত শত ছোট আঁশ, যেগুলো সেকেন্ডে ১০ বার হারে অনবরত ঘুরপাক খায়। অনেকটা বেøন্ডারের মতো। ঘূর্ণমান এ সিলিয়াগুলো শরীরের বাঁ-ডান বিভক্তি অর্জনের সক্ষমতার জন্য জরুরি। কারণ, ভ্রƒণ পাতলা তরলে ডুবে থাকে। সিলিয়ার ঘূর্ণন ওই তরলকে ডান থেকে বাঁয়ে ঠেলে দেয়। এটা শরীরের ডান-বাঁ নির্ধারণ করে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

আঙুলের ছাপ কি নকল করা যায়?
অপরাধ বিজ্ঞানে আঙুলের ছাপ নকল অসম্ভব বলে দাবি করা হয়। যদিও কেউ আধুনিক কলাকৌশল অবলম্বন করে এ ব্যাপারে আপাত সফল হয়, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের finger prentপরীক্ষায় সেই নকল ধরা সম্ভব। কারও আঙুলের চামড়া পুড়ে বা সাময়িকভাবে নষ্ট হলেও পরে নতুন চামড়ায় একই ধরনের ছাপ তৈরি হয়। আধুনিক যেসব যন্ত্র আঙুলের ছাপ স্ক্যান করে অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করে, অথবা যেসব এটিএম মেশিন আঙুলের ছাপ শনাক্ত করে গ্রাহককে টাকা দেয়, সেখানেও জালিয়াতির একটি আশঙ্কা থাকে। যেমন কেউ কারও আঙুল কেটে এটিএম মেশিনে তার ছাপ ব্যবহার করে টাকা তুলে নিতে পারে। তাই এখন অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রটি একই সঙ্গে ব্যক্তির জৈবিক ও সাঙ্কেতিক তথ্য সমন্বয় করতে পারে। মেশিন বুঝতে পারে, আঙুলটি নিষ্প্রাণ না সজীব। কারণ, ছাপ নেয়ার সময় তাতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে কি না, সেটাও যন্ত্র বুঝতে পারে। তাই কারও কাটা আঙুল ব্যবহার করে এই মেশিনকে ফাঁকি দেয়া যায় না। আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত স্ক্যানার মেশিনগুলো থেকে যেসব রশ্মির বিকিরণ ঘটে, তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে কি না, এ বিষয়টি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।

কাটলে গাছ কি ব্যথা পায়?
স¤প্রতি আন্দোলনের নামে একদল দুর্বৃত্ত রাস্তা অবরোধ করার জন্য মহাসড়কের দুই পাশের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলে। এতে পরিবেশের ক্ষতি তো হয়েছেই, তাtreeর পরও প্রশ্ন ওঠে গাছকে ব্যথা-বেদনা দেয়া হয়েছে কি না? গাছের প্রাণ আছে, আমরা জানি। কিন্তু তাদের কি অনুভূতি আছে? থাকলে সেটা কি গাছ প্রকাশ করতে পারে, যেভাবে আমরা ব্যথা পেলে চেঁচিয়ে উঠি, হাতে ব্যথা পেলে তা সরিয়ে নিই? প্রাণীর ব্যথা পাওয়ার অনুভূতি নির্র্ভর করে তার মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ইত্যাদি আছে কি না তার ওপর। গাছের সে রকম কিছু নেই। তাই এক অর্থে বলা যায়, গাছ আমাদের মতো ব্যথা অনুভব করে না। কিন্তু আঘাত করলে গাছ একধরনের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। একে যদি ব্যথা পাওয়া বলি, তাহলে গাছ অবশ্যই ব্যথা পায়। একটা ডাল কেটে ফেললে গাছ এক ধরনের রাসায়নিক সঙ্কেত বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। এভাবে সে মূলত তার শাখা-প্রশাখা ও পাশের গাছপালাকে সতর্ক করে। এর ফলে গাছ তার কোষপুঞ্জের মাধ্যমে আত্মরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করার চেষ্টা করে। তখন সে অন্যদিকে তার ডালপালা বিস্তৃত করে, যেন আবার বিপদে পড়তে না হয়।

মুঠোফোনও এক্স-রে করা হয় কেন?
বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় হাতব্যাগের সঙ্গে আলাদাভাবে মুঠোফোনটিও (সেলফোন) এক্স-রে করা হয়। অনেক সময় মনে হয়, এত সতর্কতার কী প্রয়োজন। কিন্তু আজকাল এমন মুঠোফোনও বের হয়েছে, যেগুলো আসলে দশমিক ২২ ক্যালিবার পিস্তল। বিশেষ ধরনের এসব পিস্তল দেখতে অবিকল মুঠোফোন সেটের মতো। আকার-আকৃতিতে একই রকম। শুধু ওজন একটু বেশি। সেটের ওপরের দিকে চারটি ফুটো থাকে, যা বাতি বা অন্য কোনো কাজের জন্য নয়। সেটের ভেdeviceতরে থাকে বুলেট। চোরাচালানের সময় ২০০০ সালে ইউরোপে এ রকম বিপজ্জনক মুঠোফোন ধরা পড়ে। এর পর থেকে কোনো নিরাপত্তাচৌকিতে তল্লাশির সময় কেউ হাতে মুঠোফোন তুলে নিতে চাইলে তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীরা সতর্কতা হিসেবে ওই ব্যক্তির দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে রাখেন। কারণ, ওটা মোবাইল পিস্তল কিনা কে জানে? একই কারণে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় মুঠোফোন এক্স-রে মেশিনের মধ্য দিয়ে পার করে দেখা হয়, ওটা পিস্তল কি না।

হালকা গরম দুধ ঘুমের জন্য ভালো কেন?
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাতে শোয়ার আগে হালকা গরম দুধ খেলে ভালো ঘুম হয়। তবে সত্যিই ঘুমের সুবিধা হয় কি না, cofeeতা এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দুধের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে সেরোটনিনের সূত্রপাত ঘটে। এটা মস্তিষ্কে যে সঙ্কেত পাঠায়, তা স্নায়বিক উত্তেজনা প্রশমনে সাহায্য করে। হয়তো এ কারণে দুধ খেলে সহজে ঘুম আসে। কিন্তু ঘুম আনার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ট্রিপটোফ্যান গরুর দুধে আছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। প্রায় আড়াই লিটার দুধ খেলে হয়তো ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত ট্রিপটোফ্যান পাওয়া যাবে। রাতে শোয়ার আগে এত বেশি তরল পান করলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বড়জোর এক কাপ দুধ খাওয়া চলে। এতে কিছু উপকার হয়। কিন্তু গরম দুধই হতে হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। কারও কারও অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঠাণ্ডা দুধও ঘুমের জন্য উপকারী।

SHARE

Leave a Reply