জানা-অজানা

walkহাঁটা ভালো, না দৌড়ানো ভালো?
শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আমরা নিয়মিত হাঁটি বা দৌড়াই। কোনটা ভালো? এটা নির্ভর করে কী চাই তার ওপর। সা¤প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যদি ওজন কমাতে চাই তাহলে দৌড়ানো বেশি কাজে দেয়। সাধারণভাবে বলা যায়, দৌড়াতে বেশি শক্তি ব্যয় হয়, তাই ওজন ও মেদ বেশি কমে। কিন্তু হাঁটলেও শক্তি ব্যয় হয়। দেখা গেছে, হেঁটে সমপরিমাণ শক্তি (ক্যালরি) ব্যয় করলেও ওজন নিয়ন্ত্রণ ততটা হয় না, যতটা হয় দৌড়ালে। যারা দৌড়ান, তাদের শরীর বেশি হালকা-পাতলা থাকে। এর একটি কারণ হতে পারে এই যে, দৌড়ালে ক্ষুধা কমে যায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, দৌড়ানোর পর রক্তে পেপটাইড ওয়াইওয়াই নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটা ক্ষুধা কমায়। হাঁটলেও পরিশ্রম হয়, কিন্তু বেশিক্ষণ হেঁটেও পেপটাইডের মাত্রা বেশি বাড়ানো যায় না। ফলে ক্ষুধা ভালোই থাকে। তবে অন্যান্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৌড়ানোর প্রায় সমান সুফল পাওয়া যায় হেঁটে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হাঁটা বেশি ভালো বলে প্রমাণিত হয়েছে। আরটারিওক্লেরোসিস, থ্রমবোসিস অ্যান্ড ভাসকুলার বায়োলজিতে (মে, ২০১৩) প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, দিনে এক ঘণ্টা করে দৌড়ালে হৃদেরাগের ঝুঁকি সাড়ে ৪ শতাংশ কমানো যায়। কিন্তু সমান শক্তি ব্যয় করে হাঁটলে হৃদেরাগের ঝুঁকি ৯ শতাংশ কমে।

চিৎ হয়ে ঘুমাবেন না উপুড় হয়ে?
কোন অবস্থানে ঘুমানো ভালো তা নিয়ে বিতর্ক আছে। আমরা সাধারণত এপাশ-ওপাশ করে ঘুমাই। আবার চিৎ হয়ে বা উপুড় হয়েও ঘুমাই। তবে যারা ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’তে ভোগেন, অর্থাৎ ঘুমের সময় মাঝেমধ্যে নিঃশ্বাস নেওয়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, তাদের চিৎ হয়ে ঘুমালে বেশি সমস্যা দেখা দেয়। যারা নাক ডাকেন, তাদেরও চিৎ হয়ে ঘুমানো এক সমস্যা। তবে পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি যে অবস্থানে শুয়ে আরাম পান, সেভাবেই ঘুমান। তারপরও অসুবিধা হলে ঘুমের মধ্যেই নড়েচড়ে শুতে দেখা যায়। অনেক সময় আমরা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ জেগে উঠে দেখি হাত-পায়ের কোথাও ঝিঁঝি ধরেছে। হয়তো আঙুলগুলো অবশ হয়ে গেছে। এটা সাময়িক। কয়েক মিনিটের মধ্যে আবার সেটা ঠিক হয়ে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে চিৎ হয়ে ঘুমানোই নিরাপদ। উপুড় হয়ে ঘুমালে এমনকি দম বন্ধ হয়ে অনেক শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। অন্যান্য কারণের পাশাপাশি এটাও সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোমের (এসআইডিএস) একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই শিশুদের সব সময় চিৎ হয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করা উচিত।

গাছের ক্যান্সার হয় না কেন?
অনেক সময় গাছের কাণ্ডে টিউমারের মতো এবড়োথেবড়ো উঁচু উঁচু ঢিবি দেখা যায়। এগুলো কি গাছের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে? না, গাছের কখনো ক্যান্সার হয় treeনা। মানুষের টিউমার থেকে ক্যান্সার হতে পারে কিন্তু গাছের ক্ষেত্রে সেটা খাটে না। কোনো অঙ্গের প্রাণকোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকলে মানুষের ক্যান্সার হতে পারে। একসময় ওই কোষগুলো টিউমার আকারে ফুলে উঠতে পারে। এই ত্রæটিপূর্ণ প্রাণকোষগুলো তার উৎসস্থল থেকে ছিটকে গিয়ে দেহের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানেও অনবরত কোষবিভাজন চলতে থাকে। এ কারণে মানুষের শরীরে ক্যান্সার একসময় নিরাময়ের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু গাছের টিউমারের মতো ফোলা অংশের কোষগুলো মানুষের শরীরের মতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে না বা ডাল-পাতায় ঘোরাফেরা করতে পারে না; ওগুলো কোষপ্রাচীরের মধ্যে আটকে থাকে। এ কারণে গাছের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। সাধারণত কোনো ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস বা ভাইরাসের কারণে গাছের টিউমার হয়। এর সঙ্গে ক্যান্সারের কোনো সম্পর্ক নেই।

SHARE

Leave a Reply