জানা-অজানা

অতিবেগুনী রশ্মি শাক-সব্জীর জন্য উপকারী
আল্ট্রা ভায়োলেট বা অতিবেগুনী রশ্মি মানুষের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হলেও সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের গবেষকরা বলছেন, এটি শাক-সব্জীর বেড়ে ওঠা জন্য বেশ উপকারী।
গবেষকরা জানিয়েছেন, আল্ট্রাভায়োলেট-বি রশ্মিটিই সব্জীর বেড়ে ওঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। অনেক শস্য সূর্যের আলো মোটেও সহ্য করতে পারে না। তবে, লেটুস পাতার ক্ষেত্রে সেটি ঘটে না। সব্জীর ক্ষেত্রটির কথা ছোট শিশুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ছোটদের যেমন সামান্য পরিমাণে সূর্যের আলো বা অতিবেগুনী রশ্মির প্রয়োজন পড়ে বিষয়টি সব্জীর ক্ষেত্রেও তাই।

কান দিয়ে দেখা!
চোখের দৃষ্টিশক্তি না থাকলে কান দিয়েও দেখা সম্ভব। গবেষকরা এমনই একটি ডিভাইস তৈরি করেছেন যা চোখের দৃষ্টিকেই কানের মাধ্যমে দেখিয়ে দেবে।
‘ভয়েস’ নামের এ ডিভাইসটি তৈরি করেছেন আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর গবেষকরা। প্রতিষ্ঠানটির ১১৯তম বার্ষিক সভায় এ উদ্ভাবনটির বিষয়ে জানানো হয়েছে। কোনো জিনিস চোখে না দেখলেও সে জিনিসটি বিষয়ে পুরো ধারণা দেবে ভয়েস। দৃশ্যমান বস্তুগুলোর বর্ণনা কানে শোনাবে এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর জন্য কোনো বিষয়ে ধারণা দেবে।
আমরা ভাবি শুধু চোখের মাধ্যমেই কোনো বিষয় দেখা যায়। আসলে দেখার অনুভূতিটা সৃষ্টি হয় মস্তিষ্কে। তাই চোখে দেখার অনুভূতি নষ্ট হলেও অন্য কোনো ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে সেটি মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘ভয়েস’ ডিভাইসটি দীর্ঘদিন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে গেলে চোখের দেখাটাই কান দিয়ে দেখা যাবে।

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ব্যাটারি উদ্ভাবন
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ব্যাটারি তৈরির দাবি করেছেন। তারা যে ব্যাটারি উদ্ভাবন করেছেন সেটি ব্যাকটেরিয়ার ৬ ভাগের এক ভাগ মাত্র। কেবল মাইক্রোস্কোপেই দেখা সম্ভব এ ব্যাটারি উদ্ভাবন করেছেন রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। ব্যাটারিটি কেবল একটি কোষের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে যে চিপ ব্যবহৃত হয় সেসব চিপেই শক্তি যোগাতে পারবে।
জানা গেছে, এ ব্যাটারি মাত্রই ১৫০ ন্যানোমিটার প্রশস্ত, যার অর্থ; এটি মানুষের চুলের চেয়েও একশো ভাগের এক ভাগ পাতলা। এবং একটি ব্যাটারি ও সুপারক্যাপাসিটরের মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে এ ব্যাটারি তৈরি করেছেন গবেষকরা।

গাড়ির তালা খুলবে এসএমএসে
লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত ব্ল্যাক হ্যাট সিকিউরিটি কনফারেন্সে মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আইসেক পাটনার্স-এর বিশেষজ্ঞ ডন বেইলি উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার এসএমএস প্রযুক্তিতে গাড়ি হ্যাক করাও সম্ভব। তবে, কোন্ গাড়ি এবং কী মডেলের গাড়ি হ্যাক করা সম্ভব সেটি তিনি গোপন রেখেছেন।
বেইলি’র আরেক দাবি, এ প্রযুক্তি কেবল গাড়িতেই নয়, মোবাইল ফোন, ক্যাশ মেশিন এবং শিল্পপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও হ্যাক করে ফেলতে সক্ষম হবে। হ্যাক করা সম্ভব হচ্ছে, কারণ গাড়িতে যেসব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় সেগুলো ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে বিঘিœত হয়।

পানির ওপরে হাঁটবে রোবট
পানির ওপর একজাতীয় পোকা যেমন দ্রুত ছুটতে পারে সে পোকার অনুকরণেই এ বায়োনিক রোবটটি তৈরি করা হয়েছে। রোবটটি তৈরি করেছেন চীনের জেজিয়াং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।
এ রোবটটি গোয়েন্দা মিশন, পানির দূষণ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজে লাগানো সম্ভব হবে। একে পানির ওপর ছেড়ে দেয়া হলে এটি স্থির হয়ে থাকতে পারে। এরপর সেটি দ্রুত ছুটতে বা থেমে যেতে পারে।
পানির ওপরে মানুষের হেঁটে বেড়ানোর শখ বহুদিনের। তবে, সে শখ মেটানোর ক্ষমতা মানুষের নেই। কেবল কিছু পোকাই পানির ওপরে হাঁটতে পারে। সে পোকার অনুকরণেই তৈরি হয়েছে ১২ পা ওয়ালা এ রোবট। জানা গেছে, এ রোবটটিতে যোগ করা হয়েছে দুটি ক্ষুদ্র মোটর। এ মোটর দুটি রোবটের পায়ে শক্তি যোগায় এবং রোবটের পা প্রপেলারের মতো কাজ করে।

টাইম মেশিনে ভ্রমণ অসম্ভব!
এটি নিঃসন্দেহে মন খারাপ করা একটি তথ্য। হংকং-এর গবেষকরা বলেছেন, সিনেমায় যতোই দেখানো হোক না কেন, সময় পরিভ্রমণ বাস্তবে কখনও সম্ভব নয়। আলোর গতির চেয়ে দ্রুত ছুটতে পারলে হয়তো টাইম মেশিন তৈরি করা যাব এবং তাতে চড়ে ভবিষ্যত বা অতীতের যে কোনো সময়ে যাওয়া যাবে, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক এইচ জি ওয়েলস-এর সে ধারণাটি বাস্তবে আদৌ  সম্ভব নয়।
হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা তাদের তত্ত্ব প্রমাণ করতে দেখিয়েছেন, যে ফোটন কণার সাহায্যে টাইম মেশিনের কল্পনা করা হয়, সেটি মোটেও আলোর চেয়ে দ্রুত ছুটতে পারে না। আর তাদের এ পরীক্ষাতেই আশার বেলুন চুপসে গেছে।
উৎসাহী অনেকের মনেই ধারণা ছিলো বৈজ্ঞানিকরা হয়তো একদিন টাইম মেশিন তৈরিতে সফল হবেন। কিন্তু গবেষকদের নতুন এ উদ্ভাবনটি সময় পরিভ্রমণের সে স্বপ্নের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিলো। জানা গেছে, গবেষকরা একটিমাত্র ফোটনের গতির পরীক্ষা করে দেখেছেন, সেটা আইনস্টাইনের সর্বোচ্চ গতির নিয়ম মেনে চলে। কোনো গতিই এর বেশি হতে পারে না। গবেষকদের মতে সবচেয়ে চরম সত্যটি হচ্ছে, সবচেয়ে ছোট কণা ফোটন কখনোই আলোর গতির যে সীমা তাকে অতিক্রম করে না। এর মানে দাঁড়াচ্ছে কোনোকিছুর পক্ষেই আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে যাওয়া সম্ভব নয়।
উদ্ভাবিত নতুন এই তত্ত্বটি  ‘কারণের আগে কার্য ঘটে না’ এ তত্ত্বটিকে সমর্থন করে।

অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ আর গতির গাড়ি
২০০৭ সালে সুপারকার হিসেবে নিশান জিটি-আর প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছিলো। ২০০৯ সালে নিশান স্কাইলাইন জিটি-আর নামে আন্তর্জাতিক বাজারে এনেছিলো এ গাড়িটি। তবে, এবারের মডেলটিতে আরো উন্নত গ্রিপ সুবিধা আর অসাধারণ গতির সমন্বয় করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
২০১২ মাডেলের গাড়িটিতে জ্বালানি খরচ কম। এটি মূলত আধুনিক স্পোর্টস কার।  গাড়িটিতে আধুনিক প্রযুক্তির সব ধরনের সুবিধাই রয়েছে। এটি সব ধরনের রাস্তায়ই চলার উপযোগী। তবে এর দাম পড়বে ১ লাখ ডলার। গাড়িটিতে ব্লুটুথ অডিও স্ট্রিমিং এবং আইপড যুক্ত করা যায়।

টি-শার্টেই চার্জ হবে মোবাইল
টি-শার্টও মোবাইল চার্জ করতে পারে। গবেষকদের মতে, উচ্চমাত্রার শব্দ শোষণ করতে পারে টি-শার্ট। এরপর সেই শব্দশক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে মোবাইল চার্জ করতে পারে। এজন্য শব্দ যতো জোরে হবে মোবাইল ফোনটি ততো বেশি চার্জ হবে। আর সম্প্রতি এমনই টি-শার্ট তৈরি করেছেন টেলিকম জায়ান্ট অরেঞ্জ-এর উদ্ভাবকরা।
যখন কোথাও উচ্চস্বরে ব্যান্ড পার্টি বা কনসার্ট হবে তখন চাইলেই টি-শার্ট থেকেই দ্রুত মোবাইল চার্জ করিয়ে নেয়া সম্ভব। এজন্য স্রেফ টি শার্টের সঙ্গে মোবাইলের প্লাগটি জুড়ে দিলেই দ্রুত চার্জ হয়ে যাবে। শব্দ থেকে মোবাইল চার্জ করতে পারে এমন টি-শার্ট তৈরিতে গবেষকরা এ-৪ সাইজের পিজোইলেকট্রিক ফিল্ম ব্যবহার করেছেন যা শব্দতরঙ্গ শোষণ করে।

জলে নামলে সাবমেরিন ডাঙায় গাড়ি!
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রকৌশলীরা এমন একটি গাড়ির নকশা করেছেন, যা ডাঙায় সাধারণ গাড়ির মতো চলতে পারবে এবং পানিতে নামলে নৌকার মতো ভাসবে আবার যখন পানির নিচে ডুব দেবে এটি হয়ে যাবে সাবমেরিন। গবেষক জুইয়ং কিম এএসকিউ ‘কম্বো’ গাড়ির নকশা করেছেন।
বন্যাদুর্গত এলাকা এবং যেসব এলাকা বেশি প্লাবিত হয় সেখানে এই গাড়িটি সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে। এএসকিউ গাড়িটি জেট স্কি এর মতো পানির নিচে চলবে। এটি ওয়াটার জেট প্রপালশন সিস্টেমে পানির নিচে চলতে পারবে।
হাইড্রন গাড়িটি হবে তিন সিটের। গাড়িটির নকশা করেছেন বেলজিয়ান প্রকৌশলী ডেভিড কার্ডোশো। গাড়িটির প্রতিটি চাকার সঙ্গে রয়েছে বৈদ্যুতিক মোটর যা পানি নিরোধক বক্সে সেট করা হয়েছে। এগুলো পানির নিচে প্রপেলার হিসেবে কাজ করবে।

মানুষের চোখের প্রোটিন দিক চেনার কম্পাস!
মানুষের চোখও কম্পাসের মতো আচরণ করে। মানুষের চোখে থাকা আলোক সংবেদী প্রোটিন চৌম্বকক্ষেত্রে কম্পাসের মতোই দিক নির্ণায়ক যন্ত্রের মতো আচরণ করে।
চোখের এই ক্ষমতা বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় বেছে নেয়া হয়েছিল মাছিকে। মাছির চোখে ‘ম্যাগনেটোরিসেপশন’ প্রোটিন  না থাকায় মাছির চোখ চৌম্বকক্ষেত্রে কম্পাসের মতো কাজ করে না। তবে, মানুষের চোখে এই প্রোটিন রয়েছে। মাছির চোখে এই প্রোটিন প্রতিস্থাপনে সফলতা পেয়েছেন গবেষকরা।
মানুষের চোখে থাকা ‘ক্রিপ্রোক্রম’ প্রোটিনটির কারণেই চৌম্বকক্ষেত্র ধরতে পারে। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর চোখে ক্রিপ্রোক্রম প্রোটিন দুটি রূপে থাকতে পারে। এই প্রোটিনটিকে মানুষের ‘দেহ-ঘড়ি’র সঞ্চালক ধরা হয়।

নিকষ কালো গ্রহের সন্ধান
সম্প্রতি জ্যোর্তিবিদরা মহাকাশের সবচেয়ে কৃষ্ণকায় গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। কয়লার চেয়েও কালো এ গ্রহটির পরিবেশ নিকষ আঁধারে ঘেরা। নাসার কেপলার নভোযান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কৃষ্ণ গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। তারা এ গ্রহটির নাম দিয়েছেন টিআরইএস-২বি।
গবেষকরা জানিয়েছেন, টিআরইএস-২বি নামের এ গ্রহটি থেকে শতকরা ১ ভাগেরও কম আলো বের হয়ে আসতে পারে। ফলে, এটি অন্যান্য সব গ্রহ বা উপগ্রহের চেয়ে বেশি কালো। এমনকি, কালো রঙের যে প্রতিফলন তৈরি হয় সেটিও এ গ্রহটির ক্ষেত্রে খুব কম হয়।
বৃহস্পতির সমান আকারের এ গ্রহটি পৃথিবী থেকে সাড়ে সাতশো আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। গ্যাসের তৈরি এ গ্রহটি  ২০০৬ সালে ট্রান্স-আটলান্টিক এক্সোপ-ানেট সার্ভের সময় আবিষ্কার করেছিলেন তারা। গ্রহটি জিএসসি ০৩৫৪৯-০২৮১১ নামের একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। গ্রহটির তাপমাত্রা ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। গ্রহে থাকা বাষ্পীয় সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং গ্যাসীয় টাইটানিয়াম অক্সাইড আলো শুষে নেয়। তবে, অতি তাপমাত্রা গ্রহটিতে মাঝে মাঝে কালোর মধ্যে লাল আভা দেখায়।

ঘুরলেই জমা হবে শক্তি
এটি একটি সেন্সর যা ব্যাটারি ছাড়াই চলতে পারে এবং শক্তি যোগাতে পারে। এটি যে কোনো ঘূর্ণনশীল বস্তু, নড়াচড়া করে এমন বস্তু, বা ঝাঁকি দেওয়া বস্তু থেকে শক্তি গ্রহণ করে। ক্ষুদে এ ক্ষুন্সর তৈরি করেছেন ইথাকা’র মাইক্রোজেন সিস্টেমস ইনকর্পোরেশন এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।
জানা গেছে, মাইক্রোজেনের এ সেন্সর তৈরিতে পিজোইলেকট্রিক নামের এক ধরণের ক্ষুদ্র ফিল্ম ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। পিজোইলেকট্রিক ফিল্ম শব্দতরঙ্গ শোষণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। গাড়ির চাকার ঘুর্ণনের ফলে যে কম্পন তৈরি হবে তা থেকেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে এ সেন্সর। ক্ষুদে একটি সেন্সর ২০০ মাইক্রোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।

SHARE

Leave a Reply