জামায়াত উৎখাতের চক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে – মতিউর রহমান আকন্দ

সম্প্রতি পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে সংগঠন দু’টির সমস্ত তৎপরতা প্রতিহত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে রেডিও তেহরানের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার নেয়া হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিউর রহমান আকন্দের। তার পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি ছাত্র সংবাদের পাঠকদের উদ্দেশে এখানে উপস্থাপন করা হলো :

গত ৫ ও ৬ নভেম্বর পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের জেরে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতেই জামায়াত-শিবির মরিয়া হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। আমরা জানতে চাচ্ছি, কোন্ প্রেক্ষাপটে জামায়াত-শিবির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল?
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। তবে আপনি ৫ বা ৬ নভেম্বরের যে কথা বলেছেন, আসলে ওই সময় থেকে নয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা জামায়াতে ইসলামীর ওপর খড়গহস্ত হয়েছে এবং প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামীকে কোনো মিটিং-মিছিল করতে দিচ্ছে না। অথচ জামায়াত একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, শুধু তাই নয়, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী একটি রাজনৈতিক দল। জামায়াতে ইসলামী যখনই কোনো মিটিং বা মিছিলের আয়োজন করেছে তখনই পুলিশ সেসব মিটিং বা মিছিলে হামলা চালিয়েছে। আর এ বিষয়ে শত শত ডকুমেন্ট আছে দেশে বিদেশে।
গত ৫ নভেম্বর আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন পুনঃস্থাপন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে যে প্রহসন হচ্ছেÑ তা বন্ধের দাবিতে। কারণ যে আইনে বা যেভাবে বিচার চলছে, সে আইন এবং প্রক্রিয়াটি সারা পৃথিবীতে প্রশ্নবিদ্ধ। ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ইধৎ অংংড়পরধঃরড়হ এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে এ বক্তব্য শুধু জামায়াতের নয়, এটা আন্তর্জাতিক মহলের বক্তব্য। এ বক্তব্যটি এবং সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা যা বাইরে থেকে প্রস্তাবনার দ্বারা সরকারকে দেয়া হয়েছিল, সরকার সেটা গ্রহণ না করে বারবার শুধুমাত্র ভাষার পরিবর্তন করেছে।
প্রথমে সরকার বলেছে, ‘যুদ্ধাপরাধ’, পরে বলেছে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’। প্রথমে সরকার বলেছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পরে আবার তা পরিবর্তন করে বলেছে এটা উড়সবংঃরপ ঞৎরনঁহধষ. তা ছাড়া প্রথমে সরকারের বক্তব্য ছিল এটা ওহঃবৎহধঃরড়হধষ খধি পরে বললেন, এটা উড়সবংঃরপ খধ.ি এভাবে সরকার বারবার তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে আন্তর্জাতিক কমিউনিটির বক্তব্যের মুখে। সুতরাং, ৫ তারিখে অন্যান্য দাবির সঙ্গে এ দাবিটিও আমাদের ছিল যে, প্রহসনের মাধ্যমে যে বিচারপ্রক্রিয়া তা বন্ধ করতে হবে। আর আমাদের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি কর্মসূচি।
একটি রাজনৈতিক দল যে কোনো বক্তব্য নিয়ে মাঠে ময়দানে হাজির হতে পারে। আপনার প্রশ্নের মধ্যে বলেছেন, শিবির পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। আসলে পুলিশ জামায়াত-শিবিরের কর্মসূচির ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের ওপর হামলার পর সেখানে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়েছে। আপনারা দেখেছেন অনেকে সেখানে আহত হয়েছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপি যখন ভারতনীতিতে পরিবর্তনের চিন্তা করছে, তখন জামায়াত-শিবির রাস্তায় অরাজকতা সৃষ্টি করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে। এর মাধ্যমে তারা বিএনপিকে আগাম জানিয়ে দিল যে, রাজনীতির মাঠে সচল থাকার জন্য জামায়াত ছাড়া বিএনপির অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আওয়ামী লীগের নেতাদের এ ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?
দেখুন, আওয়ামী লীগের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ যে বক্তব্য দিয়েছে বা অভিযোগ করেছে আসলে তার কোনো ভিত্তি নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জনসমর্থন হারিয়ে এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আজকে তারা আবোল-তাবোল বক্তব্য দেয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ আসলে এই বক্তব্য দিয়ে দেশকে এবং জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।
আমরা লক্ষ্য করেছিÑ জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষের পর সারাদেশে পুলিশের পাশাপাশি সরকারি দলের কর্মীরা জামায়াত-শিবিরের কার্যালয়, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এমনকি বাসা-বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর যুবলীগ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘যেখানেই জামায়াত-শিবির ও সাম্প্রদায়িক শক্তির অপতৎপরতা দেখবেন সেখানেই তাদের প্রতিহত করবেন। তাদের ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করবেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ নির্দেশের পর পরিস্থিতি আসলে কোন্ দিকে যাচ্ছে?
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব হচ্ছে দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। দেশে বেআইনি কোনো কিছু হলে সেটাকে প্রতিহত করা এবং ধ্বংসাত্মক কোনো কিছু ঘটলে তার প্রতিকার করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়Ñ মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে যে ভাষায় কথা বলেছেন এবং তার দলীয় লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে দেশের আইন এবং সংবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আর এই ধরনের কোনো বক্তব্য যদি সাধারণ কোনো নাগরিক দিত তাহলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতো। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে এই ধরনের বক্তব্য দেয়ার কারণে সরকার তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করেনি। আমরা মনে করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য ছাত্রলীগ জামায়াত ও শিবিরের অফিসে হামলা চালিয়েছে।
আপনারা টেলিভিশনে দেখেছেনÑ রংপুরে জামায়াতের অফিস থেকে জিনিসপত্র টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কিন্তু আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে সেখানে অপশক্তির মোকাবেলায় অবতীর্ণ হইনি। যদি আমরা সেখানে মুখোমুখি হতাম তাহলে সেখানে একটা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হতো এবং জানমাল বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিত। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে এটা করিনি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা জাতিকে একটা গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার শামিল বলে আমি মনে করি।
জামায়াত-শিবিরকে ঠেকাতে রাজপথে একাট্টা হচ্ছে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং বামপন্থী প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। জামায়াত-শিবিরকে ঠেকাতে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেড় মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। তো প্রশ্ন হচ্ছেÑ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল যদি মাঠে নামে তাহলে জামায়াত-শিবির তা কিভাবে মোবাবেলা করবে?
আপনি আপনার প্রশ্নের মধ্যে বলেছেন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়েÑ আসলে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী বলতে পাকিস্তানের ১৯৫ জনকে বুঝানো হয়। যাদেরকে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ওফবহঃরভু করা হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমান তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়ার কারণে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করার ঘোষণা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যদি চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলা হয় তাহলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওই ১৯৫ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকার ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন না, বিচার করছেন কিছু রাজনৈতিক নেতার। আর যেসব নেতাদের বিচার করা হচ্ছে ১৯৭১ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে কোথাও একটি মামলাও হয়নি, জিডিও হয়নি।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় চেপে বসার পর আগেও আওয়ামী লীগ আরো দুইবার ক্ষমতায় ছিল। তাদের সেই দুই মেয়াদের সময়ও জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা বা জিডি হয়নি। ২০০৯ সালের পর তারা হঠাৎ করে এই অভিযোগটা উত্থাপন করেছে। ফলে তাদের এই বক্তব্যটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং জামায়াতকে নির্মূল করার চক্রান্তের অংশ হিসেবে করা হচ্ছে। যারা এটা করছেন তারা ঘোষণা দিচ্ছেন যে সকল দল এ ব্যাপারে একাট্টা। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি তারা অনেক আগে থেকে একাট্টা হয়ে জামায়াতে ইসলামীকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে এবং চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। তবে, জামায়াত এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ওইসব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র-হামলা মোকাবেলা করে রাজপথে অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
আপনার আরো লক্ষ্য করে থাকবেন যে, এ দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে যদি ঘৃণা করতো বা প্রত্যাখ্যান করতো তাহলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তায় নামতেই পারত না; জনগণই তা প্রতিহত করত। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, জনগণ আমাদের সাথে আছেন এবং জনগণ আমাদের কর্মসূচিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। সুতরাং সম্মিলিতভাবে জামায়াতকে উৎখাত করার যে ঘোষণা তারা দিয়েছে, তাদের সেই চক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ।
সরকার কেন হঠাৎ করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ক্রাকডাউন শুরু করল? এর পেছনে কী কারণ আছে বলে আপনি মনে করেন?
প্রায় ৪৬ মাস আগে সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। তারপর থেকে এ পর্যন্ত জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকারগুলোর একটিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বিশেষ করে ৫টি বিষয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যেসব দাবি পূরণ করার কথা বলে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি তারা। তারা যখন বুঝতে পেরেছে তাদের পক্ষে আর আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয় তখন তারা কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছে। কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা বাতিল করার পরও তারা আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারবে কি না তা নিশ্চিত হতে পারে নাই। তাই জনগণের আন্দোলন যখন উত্তাল তরঙ্গের মতো সামনে আসছে তখন তারা খোঁজা শুরু করেছে, বর্তমান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে প্রধানতম শক্তি কে? আর সেই শক্তি হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির। সুতরাং জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে যদি দুর্বল করে দেয়া হয় তাহলে ১৮ দলীয় জোট দুর্বল হয়ে যাবে এবং সরকার যেনতেনভাবে একটি একদলীয় নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে পারে। আর এই উদ্দেশ্য থেকে মূলত জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের ওপর এককভাবে হামলা চালাচ্ছে সরকার।
জামায়াত-শিবিরের ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘বর্তমানে পুলিশের ৬০ শতাংশ সদস্য জামায়াত-শিবিরের। কাজেই, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কঠোর হাতে এ বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তার এ অভিযোগকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
আমি মনে করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ওই অভিযোগ বা বক্তব্যটি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাকেন্দ্রের একজন অধ্যাপক তিনি। দেশে রাজনৈতিক সহনশীলতা বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যখন তাদের মতো মানুষের কাছ থেকে আহ্বান আসার কথা ঠিক তখন তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জাতির কাছে প্রত্যাশিত নয়। একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদের কাছ থেকে আমরা এটা প্রত্যাশা করি না।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যদি সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয় তাহলে আপনাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?
বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন ফলে বিচারাধীন বিষয়ে কী সাজা হবে কী হবে না সে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য, বক্তব্য বা কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা ঠিক নয় বলে আমি মনে করি। তবে আমরা এখনও মনে করি, যে আইনে বিচার হচ্ছে সে আইনটি একটি কালো আইন। সুতরাং কালো আইনে বিচার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক মহলও মন্তব্য করেছেন, বক্তব্য দিয়েছেন। এখনও বক্তব্য-বিবৃতি প্রদান করছেন। কাজেই আমরা মনে করি এ ট্রাইব্যুনালে এবং এই আইনে যে বিচার হবে সে বিচার নিরপেক্ষ হতে পারে না। তারপরও যে রায় সামনে আসবে সে রায়ের অবস্থার আলোকেই আমাদের সংগঠন প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

SHARE

Leave a Reply