জীবন্ত শহীদ নজরুল ইসলাম হান্নান

স্বাধীনতা-উত্তর এই সোনার বাংলাদেশের সোনার যুবসমাজ যখন একেবারেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে গিয়েছিল, বিশেষ করে ছাত্রসমাজ বই-খাতা ফেলে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল আর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল গোটা জাতির ভবিষ্যৎ, ঠিক সে সময় ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্র“য়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যুগের মুয়াজ্জিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আজ অবধি ১৩৬ জন তাজা প্রাণের বিনিময়ে বিপথগামী ছাত্রসমাজকে একটি হেরাররশ্মির পথ দেখাতে সম হয়েছে। আর আমার মতো ছাত্রদল কর্মীকে দেখিয়েছে এমন পথ যার বিনিময়ে আমি আল্লাহকে চিনেছি। আশা করি কিয়ামত পর্যন্ত এই শহীদি কাফেলা দায়ীর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে, ইনশাআল্লাহ।
এই সংগঠনে আজ অবধি ১৩৬ জন শাহাদাতবরণ করেছেন। আবার অনেক ভাই হয়েছেন পঙ্গু। নজরুল ইসলাম হান্নান ভাই তাঁদেরই একজন।  ছাত্র সংবাদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি তাঁর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। তারই অংশবিশেষ পাঠকদের অবগতির জন্য দেয়া হলো :
আপনি কখন কিভাবে এ সংগঠনে এসেছেন?
নজরুল ইসলাম হান্নান : ১৯৮৭ সাল। আমি তখন যশোর এমএম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং জাতীয় ছাত্রদলের একজন কর্মী। সে সময় শহীদ হাসান জহির ভাইয়ের দাওয়াতে শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করি।
আপনার সাংগঠনিক জীবনের স্মরণীয় কোনো ঘটনা বলুন যা বর্তমান ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে।
নজরুল ইসলাম হান্নান : ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদানের মুহূর্তটাই আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা।
সেই ঘটনাটা বলুন যার কারণে আপনি আজ এই অবস্থায় উপনীত।
নজরুল ইসলাম হান্নান : ১৯৯৫ সালের ২২ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের বোমা হামলায় ছাত্রশিবিরের বেশ ক’জন নেতাকর্মীসহ আমি পঙ্গুত্ববরণ করি।
বর্তমান পরিবেশে কোন বিষয়ের প্রতি শিবিরের কর্মীদের সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করেন।
নজরুল ইসলাম হান্নান : শুধু আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বাড়ানো এবং মেধাবীদের সংগঠনমুখী করার পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। তাছাড়া এর পাশাপাশি ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও জোরদার ভূমিকা পালনের চেষ্টায় মনোনিবেশ করা উচিত।
একজন জীবন্ত শহীদ হিসেবে আপনার অনুভূতি ব্যক্ত করুন ।
নজরুল ইসলাম হান্নান : মৃত্যু পর্যন্ত যেন ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকতে পারি এবং বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয়েছে তা যেন দেখে যেতে পারি।

অনুলিখন : এম এম রহমাতুল্লাহ

SHARE

Leave a Reply