জীবন ও সমাজ পরিবর্তনে সুন্দর আচরণ -মোবারক হোসাইন

সুন্দর আচরণ আর ভালো কথা এমন একটি শিল্প যার কোনো ক্ষয় নেই। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, “মানুষ তা পায় যা সে চেষ্টা করে।” (সূরা নাজম : ৩৯) আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় সর্বাপেক্ষা ভারী যে জিনিসটি রাখা হবে, তা হলো উত্তম চরিত্র ও আচরণ। আর আল্লাহ তাআলা অশ্লীলভাষী দুশ্চরিত্রকে ঘৃণা করেন।’ (তিরমিজি, মিশকাত হা/৫০৮১) আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে আরবে তথা গোটা বিশ্বেই যখন অরাজকতার অন্ধকার বিরাজিত ছিল, তখনই সত্য, ন্যায় ও সাম্যের আলোকবর্তিকা নিয়ে বিশ্বমানবতার পরম সুহৃদ হিসেবে প্রবর্তিত হয়েছিল এই কালজয়ী ইসলাম ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আদর্শ মানবসমাজ গঠনে সক্ষম হয়েছিলেন। যুগে যুগে নবী রাসূলগণ অন্ধকারে নিমজ্জিত, পথহারা, দিশেহারা মানুষদের আলোর পথ দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন সুন্দর আচরণের মাধ্যমে।

আচরণ কী
‘মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব। তার প্রধান দুটি সত্তা রয়েছে- একটি বাহ্যিক ও অন্যটি অন্তর্গত। শিক্ষা, জ্ঞানার্জন, পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সে তার এই দু’টি সত্তার উন্মেষ ঘটিয়ে থাকে। এ দু’টি একটি অপরটির পরিপূরক হলেও অন্তর্গত সত্তাটি সমাজের মানুষের ভাল-মন্দ পরিচয় নির্ভর করে প্রধানত তার বাহ্যিক সত্তার ওপর। আর এই বাহ্যিক স্তরটি প্রকাশিত হয় অন্যের প্রতি তার আচরণ ও সৌজন্য প্রকাশের মাধ্যমে। কথায় আছ, “Courtesy pays a lot, but costs nothing”। সাধারণত মানুষ তার কার্যাবলি সম্পাদনের সময় যে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তাকেই আমরা আচরণ বলে থাকি। বস্তুত সুন্দর আচরণ ও সৌজন্যবোধ বলতে আমরা সে সকল বাঞ্ছিত আচরণকে বুঝে থাকি যা আমরা নিজেরা চাই অন্যেরা আমাদের প্রতি করুক। ইংরেজিতে কথাটা এ রকম, “Do unto others as you wish to be done by”। কাজের দ্বারা মানুষের আচরণ প্রকাশ পায়। তাই বলা যায় “Behavior is a way of action” অর্থাৎ আচরণ হলো কার্যের একটি পন্থা বা উপায়। মানুষ মনে মনে যা চিন্তা করে এবং যেসব কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় তাকেই আচরণ বলা চলে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের ভালো-মন্দ পরিচয় নির্ভর করে সুন্দর আচরণের ওপর। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। মানুষ তার কার্যাবলি সম্পাদনের সময় যে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তাকেই আমরা আচরণ বলে থাকি। মানুষের আচরণ দর্শন ও পরিমাপযোগ্য। মানুষ মনে মনে যা চিন্তা করে এবং যেসব কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় তাকেই আচরণ বলা চলে। আচরণ মূলত লক্ষ্যাভিমুখী (goal oriented) হয়ে থাকে। অন্যভাবেও বলা যায়, মানুষ একটি লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য যে আকাক্সক্ষা দ্বারা তাড়িত হয় তাই আচরণ গঠন করে। মানুষ তাই বলে সব কাজ সজ্ঞানে করে না। যেমন – মানুষ যখন ঘুমাই তখন সে স্বপ্ন দেখে, স্বপ্নে চিৎকার দেয় বা অস্বাভাবিক আচরণ করে তা সজ্ঞানে করে না বরং অচেতন অবস্থায় করে। কাজেই তার এ আচরণ স্বাভাবিক নয়।

মনোবিজ্ঞানী Kewin Lewinএর আচরণ মডেল
বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী Kewin Lewinমানুষের আচরণ সম্পর্কে একটি তত্ত্ব প্রচার করেছেন। তাঁর মান অনুসারে তত্ত্বটি K. Lewinমডেল নামে পরিচিত। তিনি এখানে ব্যক্তির আচরণকে ব্যক্তির কার্যকলাপের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মূলত মানুষের আচরণ তার পারিপাশির্^ক অবস্থা দ্বারা প্রভাবিত হয়। ব্যক্তি তার পরিবেশের সাথে সঙ্গতি রেখে তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য কার্য সম্পাদনে প্রবৃত্ত হয় যা তার আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ লাভ করে।
K. Lewin একটি গাণিতিক ফাংশনের মাধ্যমে তার মডেলটি উপস্থাপন করেছেন। মডেলটি নিম্নরূপ :
B=F (P*E)
†hLv‡b,
B= Behavior
F= Function
P= Person
E= Environment
Lewin এর মডেলের মাধ্যমে মানুষের আচরণ সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে আরো কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে-
-মানুষ কোন বিষয়ে বিশেষ সময়ে বিশেষ আচরণ করে?
-কেন সে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে?
-সে কোন লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়?
-কোন অভাব বা তাড়না বা অভিপ্রায় মানুষকে লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে?
উপরের বিষয়গুলো সঠিক উত্তর অনুধাবন করা গেলে মানুষের আচরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। Lewin এর মডেলের বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হলো:
-উদ্দীপক/কারণ (Stimulus) : প্রত্যেক মানুষের আচরণের নেপথ্যে কোন না কোন বিশেষ কারণ নিহিত। বিনা কারণে বা প্রয়োজনে মানুষ কোন আচরণ করে না। প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত যে কোন কারণেই মানুষ ইতিবাচক বা নৈতিবাচক আচরণ করতে পারে।
-প্রতিক্রিয়া (Reaction) : মানুষ উদ্দীপকের প্রভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সাধারণত ইতিবাচক উদ্দীপকের প্রভাবে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উদ্দীপকের প্রভাবে নেতিবাচক আচরণ করে। তবে মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও লক্ষ করা যায়।
-তাড়না (Drive): ব্যক্তির মধ্যে তাড়না বা অভিপ্রায় থেকেই মূলত আচরণ সৃষ্টি হয়। তাড়না না থাকলে সে লক্ষ্য অর্জনের পথে ধাবিত হতো না। তাড়না যত বেশি তীব্র হবে আচরণও তত বেশি জোরালো হবে। অর্থাৎ তাড়নার প্রকৃতির ওপর আচরণের প্রভৃতি নির্ভরশীল।
-লক্ষ্য/ অভিপ্রায় (Goal) : সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মানুষ তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। লক্ষ্য না থাকলে কারো মধ্যে প্রতিক্রিয়া বা তাড়না সৃষ্টি হয় না। লক্ষ্য বা অভিপ্রায়পূর্ণ হলে মানুষের আপাত আচরণ বন্ধ হয়।

গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
একজন মানুষের জীবনে সুন্দর আচরণ ও সৌজন্যবোধ শিক্ষা ও অনুসরণ করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সুন্দর আচরণ সম্পর্কে জনৈক ফ্রায়া স্টার্ক বলেন, ‘সু-আচার আচরণ অঙ্কশাস্ত্রের শূন্যের মতো, আপাতদৃষ্টিতে এর গুরুত্ব ততটা বোঝা যায় না, কিন্তু সবকিছুর সাথে এর সংমিশ্রণ বিরাট মূল্য পরিবর্ধন করে।’ মানব চরিত্রে ২টি দিক হলো ভালো ও মন্দ। এই গুণ দু’টির পরস্পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান এবং এর সাথে ব্যক্তির যোগাযোগ ও প্রভাব নির্ভর করে। যদি ব্যক্তির চরিত্রে ভালো গুণটি প্রকাশ পায় তাহলে তার অবস্থান একরকম, খারাপটি প্রকাশিত হলে অন্য রকম। সুন্দর বা ভালো আচরণ একটি সমাজ ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে পারে এবং ব্যক্তিকে করে রাখে স্মরণীয়।
সুন্দর আচরণ বলতে সুন্দরভাবে কথা বলা, দেখা হলে সালাম দেয়া, কুশলাদি জিজ্ঞেস করা, কর্কশ ভাষায় কথা না বলা, ঝগড়া ফ্যাসাদে না জড়ানো, রাগ বা ধমকের সুরে কথা না বলা, গিবত বা পরনিন্দা না করা, অপমান বা অপদস্থ না করা, উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা, গম্ভীর বা কালো মুখে কথা না বলা, সবসময় হাসিমুখে কথা বলা, অন্যের সুখ দুঃখে পাশে থাকা, বিপদ দেখে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ আচরণের অন্তর্ভুক্ত। নিচে এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো:
ষ সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে : সু-আচরণ ও সৌজন্যবোধে অভ্যস্ত হতে পারলে একজন ব্যক্তি স্বীয় পরিবারসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে অধিক শ্রদ্ধেয়, গ্রহণীয় ও আদরণীয় হয়ে উঠতে পারে। আর এভাবে তার পারিপাশির্^ক পরিবেশ হয়ে উঠতে পারে সহজ ও আনন্দময়।
ষ সু-শিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত লাভ : সবশিক্ষিত ব্যক্তিই প্রকৃত শিক্ষিত বা সু- শিক্ষিত নন; বিষয়টি বহুলাংশে নির্ভর করে তার সু- আচরণ ও সৌজন্যবোধ অনুসরণের ওপর। আচরণগত উক্ত গুণের অনুপস্থিতিতে একজন শিক্ষিত বা উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিও অশিক্ষিত বা কুশিক্ষিত হিসাবে বিবেচিত হতে পারেন।
ষ সু-ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের সহায়ক : একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব তার বাহ্যিক সত্তার প্রকাশ তথা সু- আচরণ ও সৌজন্যবোধের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। অতএব, সু-ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব অর্জনে প্রয়াসী প্রতিটি ব্যক্তিকে এ বিষয়টির ওপর মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
সমস্যা : সুন্দর আচরণ ও সৌজন্যবোধ শেখা এবং তা যথাযথভাবে অনুসরণ করার ব্যাপারে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে যা নিচে সংক্ষেপে আলোচিত হলো :
-সঠিক গুরুত্বের অভাব
-মূল্যবোধের অভাব
-প্রাপ্তি ও শাস্তির অনুপস্থিতি
-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অপ্রতুলতা
সমাধান : মানুষের আচরণ এমনি এমনি সংঘটিত হয় না এর পিছনে কোন না কোন কারণ বিদ্যমান থাকে। মানুষের আচরণ পরিবর্তন করতে হলে আচরণের কারণ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করতে হবে। ব্যক্তিক অথবা সাংগঠনিক যে কারণই থাকুক না কেন তা বিশ্লেষণ করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আচরণ পরিবর্তন হতে পারে। নিচে সম্ভাব্য সমাধান বর্ণিত হলো :
-সঠিক গুরুত্বারোপ
-ব্যক্তিস্বকীয়তার অনুশীলন
-শিক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
-ব্যক্তি পর্যায়ে শিক্ষা
-সঠিক মূল্যায়ন
-শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
-প্রেষণাদান

সুন্দর আচরণ অনেক বড়
নেক আমল
আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস আল-মুযানী (রা) থেকে বর্ণিত নবী (সা) বলেছেন, উত্তম আচরণ, দৃঢ়তা-স্থিরতা ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে নাবুওয়তের চব্বিশ ভাগের একভাগ। (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০১০) শালীনতা ও ভদ্রতার আচরণ এবং উত্তম নৈতিক চরিত্র অনেকটা স্বভাবগতভাবে হয়ে থাকে। আবার কষ্ট ও সাধনা করে মানুষের স্বভাব চরিত্রে কোনো পরিবর্তন সাধন করা যায়। এ ব্যাপারে প্রিয় নবী (সা) ইরশাদ করেছন, ‘শিখতে শিখতেই ইলম হাসিল করা সম্ভব। আর সাধ্য সাধনার পরাকাষ্ঠার মাধ্যমেই ধৈর্য ও কষ্টস্বীকার আয়ত্ত করা সম্ভব। যে ব্যক্তি কষ্ট সাধন করে কল্যাণ অর্জনে ব্রতী হয়, সে কল্যাণপ্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি অকল্যাণ থেকে বাঁচার জন্য সচেষ্ট থাকে, সে অমঙ্গল থেকে বেঁচে যায়।’ উত্তম চরিত্র ও আচার-আচরণ অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেও নবী করীম (সা) আমাদের শিখিয়ে গেছেন। দোয়া করতে উৎসাহিত করে যাওয়াই প্রমাণ করে চরিত্র ও আচার-ব্যবহারকে ক্রমাগতভাবে উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি যে দোয়া করেছেন তার মর্মার্থ হচ্ছে, ‘হে আমার প্রভু! আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে ধাবিত করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ সেদিকে ধাবিত করার নেই। আর আমাকে অসৎ চরিত্র ও আচরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। আপনি ছাড়া তা থেকে দূরে সরানোর আর কেউ নেই।’
ইসলামে সুন্দর আচরণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের মাধ্যমে প্রিয় নবী (সা) কে সুন্দর আচরণ শিক্ষা দিয়েছেন। নবী (সা) সুন্দর আচরণের মাধ্যমে পথহারা, দিশাহারা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে এনেছেন। তাদেরও শিক্ষা দিয়েছেন উত্তম আচরণ। হারেস ইবনু ওয়াহাব (রা) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা) বলেছেন, ‘কঠোর ও রুক্ষস্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (আবু দাউদ, মিশকাত হা/৫০৮০,) অন্য হাদিসে বলা হয়েছে আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত আমি রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছি, ‘ঈমানদার ব্যক্তিরা তাদের উত্তম চরিত্র ও আচরণ দ্বারা নফল সিয়াম পালনকারী ও রাতে ইবাদকারীর মর্যাদা লাভ করবে।’ (আবু দাউদ, মিশকাত হা/৫০৮২) জারির ইবনু আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে লোক মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন করে না তাকে আল্লাহ্ তাআলাও দয়া করেন না। (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৯২২)
ভালো কথা, ভালো ব্যবহার, সুন্দর আচরণের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তির সার্বিক পরিচয় ফুটে ওঠে, তার উন্নত ব্যক্তিত্বের প্রমাণ মেলে। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। যারা সবসময় মানুষের সঙ্গে ভালো কথা বলে, সুন্দর আচরণ করে তাদের সমাজের, দেশের সবাই অত্যন্ত পছন্দ করে, ভালোবাসে, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। আল্লাহতায়ালাও তাদের অত্যন্ত পছন্দ করেন। একটি ভালো কথা, সুন্দর আচরণ একটি ভালো গাছের মতো। সুন্দর আচরণকারীর সামনে-পেছনে মানুষ তার প্রশংসা করে। তার জন্য মন খুলে দোয়া করে। ফলে আল্লাহ এবং আসমান-জমিনের ফেরেশতারাও তাকে অত্যন্ত পছন্দ করে। অপরদিকে খারাপ ব্যবহারে সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। সমাজের মানুষ তাকে অবহেলা, অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখে। তার কথার কোনো দাম দেয় না।
আমাদের নবী ছিলেন সদা-সত্যভাষী, হিতভাষী, শুদ্ধভাষী, সুভাষী এবং মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণকারী। তাই তিনি ছিলেন সব মানুষের সেরা। কারও সঙ্গে মুচকি হেসে কথা বলাও উত্তম আখলাক এর অংশ। মানুষের সুন্দর ব্যক্তিত্ব তার চেহারায় প্রকাশ পায়। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে নবী-রাসূলগণ মানুষকে সত্যের পথ দেখিয়েছেন। আমরা অনেকেই সুন্দর আচরণ করি অন্যের অন্তরে নিজেকে আকৃষ্ট করা এবং নিজের মহত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। কিন্তু ইসলামে যে উত্তম শিক্ষা দেয়া হয়েছে তার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাসূল (সা) যে উত্তম আখলাকে কথা বলেছেন তা কখনই নিজের স্বার্থ বা অন্যকে বসে আনার জন্য নয়, বরং একজন মুসলিমের কর্তব্য হিসেবে।
সুন্দর আচরণ উন্নত ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। ইসলামের পথে মানুষের আহবানের সর্বোত্তম পন্থা। মুসলিম শরিফে উল্লেখ আছে, রাসূল (সা) বলেছেন, সুন্দর আচরণই নেক আমল। আল্লাহ তা’য়ালা সূরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে বলেছেন, তোমরা তোমাদের পিতা-মাতা, নিকট আত্মীয়, দরিদ্র প্রতিবেশী, সঙ্গী- সাথী এবং যারা তোমাদের অধিকারে এসেছে, সবার সাথে সুন্দর আচরণ করো।
যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ অন্ধকারে নিমজ্জিত, পথহারা, দিশেহারা মানুষদের আলোর পথ দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন সুন্দর আচরণের মাধ্যমে। তারা ছিলেন উদারতা ও ক্ষমার প্রতীক। তাদের এই মহৎ গুণের অনুপ্রবেশ ঘটাতে হবে আমাদের চরিত্রে। আল্লাহ তায়ালা সূরা আলে-ইমরানে ১৫৯ নম্বর আয়াতে নবী (সা) কে বলেছেন আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন, পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করুন।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুন্দর আচরণের সাথে সাথে কিছু অভ্যাসও গুরুত্ব বহন করে। সুন্দর আচরণকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন এবং অন্যের কাছে মডেল হতে হলে খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে হবে। ভালো আচরণের সাথে অভ্যাসের সমন্বয় একজন মানুষ অন্যদের কাছে তাড়াতাড়ি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে পারে। যার কারণে পারিবারিক, সামাজিকভাবে তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। হয়ে ওঠে সবার প্রিয় এবং আস্থার প্রতীক। তার সাথে অন্য সকল শ্রেণীর মানুষের যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক দৃঢ় হয়। আর এ অভ্যাসগুলো শিশু বয়স থেকেই গড়ে ওঠা দরকার। নিম্নোক্ত অভ্যাসগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে লক্ষ রাখা দরকার।
-কারও দ্বারা কিছু পেতে হলে দয়া করে এবং কাজটি সম্পন্ন হলে তাকে ধন্যবাদ দেয়া।
-অন্যের কথোপকথনের মধ্যে কথা না বলা বা বাধা না দেয়া।
-সালাম দিয়ে কথা শুরু করা বা কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
-কারও দেহগত আকৃতি নিয়ে মন্তব্য না করা।
-নেগেটিভ বিষয় বা কারও নাম নিয়ে বিদ্রƒপ না করা।
-অন্যের কক্ষে বা বাসায় প্রবেশের পূর্বে অনুমতি নেয়া।
-খারাপ ভাষা এড়িয়ে যাওয়া।
-অন্যদের নিয়ে মজা না করা।
-কাশি বা হাঁচির সময় মুখের সামনে হাত বা রুমাল ব্যবহার করা।
-সবার সামনে নাক না খোঁটা।
-কারও সাথে বা অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় প্যান্টের পকেটে হাত না রাখা।
-অনুষ্ঠানে সামনে চেয়ারে বসে পায়ের ওপর পা না তোলা অথবা পা না নাড়ানো।
-কারও কিছু দরকার হলে সাহায্যের হাত বাড়ানো।
-অন্যের কোন কাজ আপনার ভালো না লাগলে তর্ক কিংবা ঝগড়া না করা।
-ধমক দিয়ে কথা বলা পরিহার করা।
-কিছু দরকার হলে সুন্দরভাবে বলা।

ব্যক্তির আচরণ কিভাবে
পরিবর্তন করা যায়
মানুষের দৃষ্টিগোচরযোগ্য ক্রিয়াকলাপই হলো আচরণ (Behaviour) আচরণ একটি পরিবর্তনশীল ব্যাপার। ব্যক্তি যে আচরণ করে তার প্রত্যেকটির পেছনেই কোন না কোন কারণ থাকে। সুতরাং আচরণ পরিবর্তনের সাথে অন্তর্নিহিত কারণ জানাটা জরুরি। তাই সংগঠন কর্মীর আচরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে তার ইতিবাচক(Positive) পরিবর্তন আনয়ন করতে পারে। নিচে ব্যক্তির আচরণ পরিবর্তনের উপায় বা কৌশলগুলো তুলে ধরা হলো:
-সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি
-ধনাত্মক সহায়তা
-উপযুক্ত তদারকি
-প্রেষণা
-কার্য সমৃদ্ধকরণ

অজুহাত/ যুক্তি/ এবং আচরণ
মানুষের প্রতিটি আচরণের পেছনে কোন না কোন কারণ বিদ্যমান। কেননা কারণ ছাড়া অকারণে কোন আচরণ সংঘটিত হতে পারে না, কোন সময় সংঘটিত আচরণের ব্যাখ্যা বা কারণ জানতে যাওয়া হলে আচরণকারী সঠিক কারণ নাও বলতে পারে। অনেক সময় ব্যক্তি তার আচরণের জন্য বিভিন্ন যুক্তি খাড়া করে। বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আমাদের জানতে হবে কারণ ও অজুহাত কী।

কারণ
প্রকৃতপক্ষে একজন ব্যক্তি যে বিশেষ বিষয়ের জন্য কোন নির্দিষ্ট আচরণ প্রদর্শন করে ঐ বিশেষ বিষয়ক ঐ আচরণের কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেমন- একজন ছাত্রের Home workসঠিকভাবে করা হয়নি বলে স্কুলে যেতে চায় না। এ Home work না হওয়াটা তার স্কুলে না যাওয়ার কারণ।

অজুহাত
কোন সংঘটিত আচরণের মূল কারণ আচরণকারী লুকানোর জন্য অন্য যে কারণ প্রকাশ করে তাকে অজুহাত বলে। যেমন- উপরের উদাহরণের ছাত্রটি যদি তার মাকে বলে যে, পেটের ব্যথার জন্য সে স্কুলে যাবে না। তাহলে পেটের ব্যথা মূল কারণ নয় বরং অজুহাত। সে জন্য কারণ এবং অজুহাত এক বিষয় নয়। বলা যায় কারণ এড়ানোর জন্যই অজুহাত দেখানো হয়। মূল কারণ প্রকাশিত হলে অজুহাতের কোন অর্থ থাকে না। নিম্ন সাংগঠনিক আচরণ, অজুহাত ও কারণের কয়েকটি উদাহরণ তালিকা আকারে উপস্থাপন করা হলো :
মানবীয় আচরণের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
মানুষ একটি জটিল প্রাণী। প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, ভালো লাগা, ভালোবাসা এবং হতাশার অনুভূতি বিদ্যমান। এসব কারণেই মানুষের আচরণও ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। অর্থাৎ মানবীয় আচরণের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো নানা রকম হয়ে থাকে। তাই আচরণগত কারণে মানুষে মানুষে বিভিন্নতা লক্ষণীয়। নিচে মানবীয় আচরণের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করা হলো :
-মানুষ সামাজিক জীব : মানুষ জন্মগতভাবেই সামাজিক জীব হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ এটি মানুষের মধ্যে একটি সহজাত প্রবৃত্তি বা আচরণ। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের আচরণের দৃষ্টিভঙ্গি বহুকাল পূর্বের। আদিম মানুষের মধ্যে এ প্রবৃত্তি বিরাজমান ছিল। কোন কালেই মানুষ একা বাস করতে পারেনি।
-যুক্তিবাদী হিসেবে মানুষ : মানুষের আচরণ এর আর একটি দিক হলো মানুষ কোন না কোনভাবে যুক্তিবাদী (logical)। অর্থাৎ যে কোন কাজে বা যে কোন বিষয়ে মানুষ তার নিজস্ব যুক্তি দাঁড় করাতে অভ্যস্ত। এটিও একটি আচরণগত বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে কোন পথে চললে নিজের লাভটি হবে সর্বাধিক সেটা নিশ্চিত হয়েই সে সেই পথে পা-বাড়ায়। এ ছাড়া এখানে আর একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, মানুষ শুধু যে যুক্তিনির্ভর তা নয়। বরং সে সর্বদাই নিজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতেই বেশি পছন্দ করে।
-জটিল মানুষ : মানুষের আচরণের আর একটি অন্যতম আলোচ্য দিক হলো মানুষ বড়ই জটিল প্রকৃতির এবং পাশাপাশি মানুষের আচরণ স্থির নয় বরং সদা পরিবর্তনশীল কোন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একজন মানুষ ব্যক্তিগত প্রয়োজনসমূহকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় এবং সময় ও পরিস্থিতির সাথে সাথে এ প্রয়োজনবোধটুকুও জটিলভাবে পরিবর্তন হয়। সে মানুষের আচরণ জটিল হওয়ার কারণেই তাকে প্রেষিত করাও খুব কঠিন। সকল মানুষকে এক পদ্ধতিতে যেমন প্রেষিত করা যায় না, তেমনি একই পদ্ধতিতে আবার দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেষণা দেয়া সম্ভব হয় না। প্রেষণাদানের নতুন নতুন Techniqu বা কৌশল অবলম্বন করতে হয়।
-অলসতা : মানুষের আচরণ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে অধিকাংশ ব্যক্তির মধ্যে অলসতার একটি প্রবণতা থাকে। কাজ করে ঠিকই তার পরেও অলস সময় কাটাতে অনেকেই পছন্দ করে। তবে যদি যোগ্যতা অনুযায়ী এবং পছন্দ সই কাজ দেয়া হয় বা পায়, তবে এ অলসতা ততটা থাকে না।
-সৃষ্টিশীলতা : মানবীয় আচরণের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে আর একটি হলো সৃষ্টিশীল আচরণ। কম- বেশি (More of less) সকল মানুষের মধ্যে কোন কোন দিকে সৃষ্টিশীল গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য থাকে। মানুষের আচরণের সৃষ্টিশীল দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি যত বেশি ব্যক্তির মধ্যে থাকবে, ততই ভাল। কারণ সৃষ্টিশীল আচরণের দ্বারা অনেক নতুন নতুন কাজ করা সম্ভব।
-অহমবোধ : মানুষের আচরণ এর মধ্যে যে বিভিন্ন দিক লক্ষণীয় সে রকম আর একটি দিক হলো মানুষের অহমবোধ। প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে আচরণের এ দিকটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। সকল মানুষই তার পারিপাশির্^ক অবস্থার ওপর প্রভাব রাখতে চায়, প্রতিটি কাজের মধ্য দিয়েই সে নিজের অবস্থানকে সংযত করতে চায়। যদি কোন ব্যক্তি অনুভব করতে শুরু করে যে, কেউই তাকে একজন ব্যক্তি হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দিচ্ছে না, বা গুরুত্ব দিচ্ছে না তখন সে নিজেকে বঞ্চিত ও অসুখী ভাবতে শুরু করে।

ব্যক্তিক আচরণ অনুধাবনের গুরুত্ব
সাধারণত মানুষের দৃষ্টিগোচরযোগ্য কার্যকলাপকে আচরণ বলে। সুতরাং মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আচরণ অনুধাবনের গুরুত্ব যথেষ্ট। প্রেষণা, মূল্যবোধ, ক্ষমতা, কার্যসম্পন্ন মূল্যবোধ প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য আচরণ অনুধাবন করতে হবে। নিম্ন আচরণ অনুধাবনের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো :
-পূর্বানুমান : আচরণ অনুধাবনের মাধ্যমে মানুষের আচরণ সম্পর্কে পূর্বানুমান করা যায়। আচরণ অনুধাবন না করলে কোন মানুষের আচরণ সম্পর্কে পূর্বানুমান করা যাকে না। আচরণ অনুধাবনের মাধ্যমে কে কোন ধরনের আচরণ করবে তা পূর্বেই নির্ধারণ করা যায়।
-আচরণ নিয়ন্ত্রণ : মানুষের আচরণ অনুধাবন করা হলে সম্পাদিত কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। আচরণ অনুধাবন করা হলে আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং তার মাধ্যমে পূর্বনির্ধারণ করা যায়।
-মনোবল বৃদ্ধি : মানবসম্পদের মনোবল বৃদ্ধি করতে হলে আচরণ অনুধাবন বিশেষ প্রয়োজন। আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে কর্মীদের প্রত্যাশা, অভাব, ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়।
-কার্যকারিতা বৃদ্ধি : মানুষের আচরণ ও কার্যকারিতার মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আচরণকার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
-কর্মসন্তুষ্টি : কর্মীদের আচরণ প্রত্যক্ষণ করে তাদের সন্তুষ্টির কারণ নির্ণয় করা যায়। তদানুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের কর্মসন্তুষ্টি বৃদ্ধি করা যায়।
-শৃঙ্খলা বিধান : আচরণ যথাযথভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে কাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়।

যে সকল উপাদান আচরণকে প্রভাবিত করে
ব্যক্তির কৃত আচরণের পেছনে অবশ্যই কোন না কারণ থাকে। তা কখনো জানা যায় আবার কখনো তা নেপথ্যেই থেকে যায়। যাহোক যে সকল চলক বা উপাদান আচরণকে প্রভাবিত করে বা ব্যক্তিক আচরণ যে সব উপাদান দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়ে ঐগুলোকে প্রধানত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করে আচরণ বিজ্ঞানীগণ আলোচনা করেছেন।
সুতরাং বলা যায় বিশ্বের বুকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন হতে হলে, সবারই উচিত ধনী-গরিব, জাতি, ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা। পৃথিবীতে যারা সফল হয়েছেন তাদের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সফলতার মাপকাঠি সুন্দর আচরণ। কাজেই যারা সুন্দর আচরণ করবে এবং ইসলামের রীতিনীতি মানবে তারা ইহকালে ও পরকালে উভয় জায়গায় সম্মানিত হবেন। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, যদি কেউ বিনম্রতা ও নম্র আচরণ লাভ করে তাহলে সে দুনিয়া ও আখেরাতের সব কল্যাণই লাভ করবেন। আর রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে এবং সুন্দর আচরণ বাড়িঘর ও সম্পদে বরকত দেয় এবং তার আয়ু বৃদ্ধি করে দেয়। রাসূল (সা) ঐ ব্যক্তির জন্য পরকালে জান্নাতে একটি বাড়ির নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
লেখক : সম্পাদক, মাসিক প্রেরণা

SHARE

Leave a Reply