জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার এখনই সময়

CS-May-2014-300x199মুক্তির পয়গাম নিয়ে সিয়াম সাধনার মাস আমাদের মাঝে সমাগত। অন্যায়, অনাচার, দুর্নীতি, অসাধুতায় কলুষিত অন্তরকে কৃচ্ছ্রসাধনার দাবদাহ দ্বারা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়।  আমাদের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সকল মিথ্যা, শঠতা, প্রবঞ্চনা, কলহ, হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত  থেকে মুক্ত হয়ে তাকওয়ার পথে এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধপ্রবণতার জায়গায় তাকওয়ার বীজ বপন করে নিজকে সুখে থাকা এবং অপরকেও সুখে রাখার মহান শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রভুর আতিথেয়তার প্রত্যাশায় সিয়াম সাধনার মাধ্যমে গড়ে তোলে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন। ‘সংযম মাসের’ এই প্রশিক্ষণ দ্বারা অন্যায়, লোভ-প্রলোভনের হাতছানিকে পদাঘাত করে দূরে নিক্ষেপ করে। রমজান মুত্তাকিনের সমাজ গড়ে বিশ্বমানবতাকে তাগুতি শক্তির শোষণ-নিপীড়নের হাত থেকে উদ্ধারের আহবান জানায়।
এবার এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফলে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই। ইসলামী ছাত্রশিবির  মেধাবীদের একটি সংগঠন। আজকের এ  মেধাবীরা আগামী দিন তাদের মেধা এবং  নৈতিকতার সমন্বয়ে দেশ পরিচালনা করবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা এখন অসৎ  নেতৃত্বের কারণে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি না। মানুষ এখন আর এ নেতৃত্ব চায় না। এটি সমাজকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে ইসলামী ছাত্রশিবির মেধাবীদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমরা চাই সকলের অংশগ্রহণে সবুজ ও শান্তির দেশ। প্রতি বছরের মতো এবারো মেধাবীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মেধাবীরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। এ সবুজ শ্যামল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ কলুষিত হচ্ছে কতিপয় স্বার্থান্বেষী হিংস্র মানুষের দ্বারা। তাদের অত্যাচারে আজ দেশের প্রতিটি জনপদ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে সরকারকে এ নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। মুসলিম অধ্যুষিত এ জনপদ মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত করে সরকারের আজীবন ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা সফল হবে না। ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে তাদের ছাত্রসংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ধারাবাহিক সন্ত্রাস, বর্বরতা ও নৈরাজ্য চালাচ্ছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ছাত্ররাজনীতির বিষফোঁড়া ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকার সন্ত্রাসীদের বিচার না করে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের দাসে পরিণত হয়েছে। তারা সন্ত্রাসীদের রক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। তাদের ধারাবাহিক নৈরাজ্যের কারণে দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাস এখন টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন আজ হুমকির মুখে। সরকার যখন খুনি-সন্ত্রাসীদের বিচার না করে তাদের আরো উৎসাহিত করছে তখন ছাত্রসমাজ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। সরকার যদি ছাত্রসমাজের ধৈর্য ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে দুর্বলতা মনে করে তাহলে তারা ভুল করবে। জুলুম নির্যাতনের পাল্টা জবাব কিভাবে দিতে হয় ছাত্রসমাজ তা ভালো করেই জানে। যদি এখনই সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় না আনা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরাই প্রতিটি ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবে। আমরা আশা করি এরই মধ্যে সরকারের বোধোদয় হবে।

SHARE

Leave a Reply