জ্ঞানার্জন আর সাধনা

মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত#

carearআধুনিক বিশ্বে এ কথা আজ দিবালোকের মতো সত্য যে, জ্ঞানই হচ্ছে মানুষের মূল শক্তি। জ্ঞানের শক্তিতেই মানুষ সাফল্যের শিখরে আরোহণ করতে পেরেছে। জ্ঞান মানুষকে দেখিয়েছে আলোকিত পথের সন্ধান। এ জন্য জ্ঞানকে একদিকে বলা হয় ‘শক্তি’ আবার অন্যদিকে বলা হয় ‘আলো’। সভ্যতার উন্নতির মহাসড়কে আরোহণ করতে জ্ঞানই মানুষকে সহায়তা করছে। তবে শুধু জ্ঞানার্জনই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি নয় বরং জ্ঞানের সাথে সাধনার সংযোগ সাফল্য অর্জনকে নিশ্চিত করেছে। সাধনাও এমন এক শক্তি যা মানুষের অর্জনকে ধরা দিতে সহজ করে দেয়। যে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ সাফল্য পেতে চায়, সাধনা সেই সাফল্য অর্জনে গতিশীলতা সৃষ্টি করে। জ্ঞানার্জন এবং সাধনা ব্যতীত সাফল্য অর্জনের আশা করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। জ্ঞানার্জন আর সাধনা একে অপরের পরিপূরক। কেউ যদি চিন্তা করে জ্ঞানার্জন আর সাধনার কোন একটি ছাড়াই সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে যাবেন তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কারণ, জ্ঞানার্জন আর সাধনা ছাড়া সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে কুরআনে এসেছে- ‘চেষ্টা সাধনা ব্যতীত মানুষের জন্য কিছুই নেই।’ (সূরা নাজম : ৪০) অপর এক আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘মানুষের জন্য কিছুই নেই, কিন্তু শুধু সে তাই লাভ করবে, যার জন্য সে চেষ্টা সাধনা করেছে।’ (সূরা ত্বা-হা : ১৫) জ্ঞানার্জন আর সাধনা মানুষকে সাফল্যের পথ চিনিয়েছে। মহান আল্লাহ বিজ্ঞানময় গ্রন্থ আল কুরআনে উল্লেখ করেছেন, ‘যারা আমাদের পথে চেষ্টা-সাধনা করবে, আমরা তাদেরকে আমাদের পথ দেখাব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন।’ (সূরা আনকাবুত : ৬৯)
জ্ঞানার্জন মানুষকে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সুন্দর-অসুন্দর, সাফল্য-ব্যর্থতাকে চিনতে এবং জানতে সাহায্য করে। মানুষ কিসে সাফল্য অর্জন করবে তার পথ দেখায় মূলত জ্ঞানার্জন বা শিক্ষা। জ্ঞানার্জনকে আবর্তন করেই মানুষ বাকি সব বিষয়কে সাথে নিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়। যার জ্ঞান নেই তার বিবেক-বুদ্ধি কোন কাজে আসে না। সাদা-কালো, ছোট-বড়, ধনী-গরিব এগুলো মানুষের মাঝে ব্যবধানের মূল উপাদ্য বিষয় নয় বরং মানুষে মানুষে ব্যবধান গড়ে তোলে জ্ঞানার্জন। জ্ঞানী আর জ্ঞানহীন ব্যক্তি কখনো সমান হতে পারে না। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?’ (সূরা যুমার : ৯) শুধু তাই নয়, প্রকৃত শিক্ষা বা জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে মানুষ নিজের চরিত্রকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারে। নিজের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করতে পারে। সত্য- মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে। কল্যাণ-অকল্যাণের পথ খুঁজে নিতে পারে, আলো আর অন্ধকারের পার্থক্য বুঝতে পারে, সর্বোপরি নিজেকে একজন সফল সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আর নিজেকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারাটাই গোটা জীবনের মূল সাফল্য, বিরাট সার্থকতা।
জ্ঞানার্জন আর সাধনা মানুষকে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছতে সাহায্য করে। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যারাই সাফল্য লাভ করেছেন, খ্যাতির শিখরে আরোহণ করেছেন তারা কেউ জ্ঞানার্জন কিংবা সাধনা ব্যতীত সফল হয়েছেন এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। বরং তাদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় জ্ঞানার্জন আর সাধনাবলেই তারা সাফল্য লাভ করেছেন। সামান্য মানুষ হলেও নগণ্য পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেও শুধুমাত্র জ্ঞানার্জন আর সাধনার ফলে মানুষ সাফল্যমন্ডিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। শেকসপিয়র একজন নগণ্য পরিবারের ছেলে ছিলেন, নিউটন ছিলেন চাষার ছেলে। কিন্তু জ্ঞানার্জন আর সাধনা দ্বারা তারা নিজেদেরকে আরোহণ করিয়েছেন সাফল্যের চূড়ায়। গড়ে তুলতে পেরেছেন ব্যক্তিত্ববান হিসেবে। রাজা এড্রিয়ন যখন বালক ছিলেন তখন তার অধ্যয়নের সময় আলো জ্বালানোর প্রয়োজনীয় তেলও জুটতো না। তারপরও এড্রিয়ন হাল ছাড়েন নি, পরিশ্রম করে, সাধনা করে চালিয়ে গেছেন তার জ্ঞানার্জন। দিনের আলোতেই বেশি পড়া আদায় করার চেষ্টা করেছেন, আর রাতের বেলায় রাস্তার আলোতে তিনি পড়তেন। তার এই পরিশ্রম এবং সাধনাই তাকে সাফল্য এনে দিয়েছিল। বিজ্ঞানী নিউটন সাধনা আর পরিশ্রমের মাঝেই সাফল্য খুঁজেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার আবিষ্কারের কারণ আমার প্রতিভা নয় বরং সাধনা আর পরিশ্রমই আমাকে সার্থক করে তুলেছে। ভলটেয়ারের মতে- প্রতিভা বলতে মানুষের মুখ্য কোন জিনিস নেই বরং পরিশ্রম কর, সাধনা কর তাহলে সাফল্য তোমার পদচুম্বন করবেই।’

জ্ঞানার্জন ও সাধনা ব্যতীত ব্যক্তি ও জাতির কোন উন্নতি হয় না। জ্ঞানার্জনের সাথে যদি সাধনা যোগ থাকে তাহলে মানুষ জীবনে অনেক সাফল্য অর্জন করতে পারে। শুধু জ্ঞান থাকলেই যেমন সাফল্য অর্জিত হয় না, তেমনি শুধু সাধনা করলেই সাফল্যের দেখা পাওয়া যায় না। দুটোর মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সাফল্য বের করে আনতে সাধনার কোন বিকল্প নেই। জীবন যে অবস্থায় থাকুক না কেন, প্রতিবন্ধকতার পর প্রতিবন্ধকতা পথ আগলে রাখুক না কেন জ্ঞানের সাথে ব্যক্তিকে সম্পর্ক রাখতে হবে। কারণ, জ্ঞানের চরম সার্থকতা হলো জ্ঞান সকল প্রতিবন্ধকতার দ্বার উন্মোচন করে দেয়, জ্ঞানের সাথে যোগ থাকলে কেউ ব্যক্তিকে পরাভূত করতে পারে না।

জ্ঞান মানুষের জীবনকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে। মানুষের ঘুমন্ত শক্তি, বিবেক, বুদ্ধি এবং মস্তিষ্কের লুকানো ক্ষমতাকে জ্ঞান জাগিয়ে তুলে প্রকৃত সফল মানুষ হিসেবে ব্যক্তিকে তৈরি করতে সুযোগ করে দেয়। জ্ঞানার্জন আর সাধনা ব্যতীত কোন কাজে সফলতা আসে না। সারা বছর বসে থেকে যারা পরীক্ষার সময় ধুমসে পড়ে রেজাল্ট অর্জন করতে চান তারা মূলত পরীক্ষার হলে গিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখেন। জ্ঞানার্জনের এটি কোন সঠিক পদ্ধতি নয়। কারণ শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারার মধ্যেই জ্ঞানার্জনের মূল সার্থকতা নেই। বরং বলা হয়েছে জ্ঞান এমন একটি জিনিস ‘যেখানে যা পাবে সেখান থেকেই তা আহরণ করবে’। পড়া মুখস্থ করতে গিয়ে যেটাকে পাহাড়সম মনে হচ্ছে সেটা যদি নিয়মিত পড়া হতো, সেই ক্লাসে অংশগ্রহণ করা হতো, তাহলে এটিকে পানির মত সহজ মনে হতো। ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’ কবিতার এই দু’টি লাইন জিজ্ঞেস করলে কে এমন আছে বলতে পারবে না। আসলে এই দু’টি লাইনের চর্চা এতো বেশি হয়েছে যে ব্যক্তি বুড়ো হওয়ার পরও তা ভুলে যায় না। আমরাও যদি আমাদের জ্ঞানের চর্চা এমন করে যতবেশি বাড়াতে পারবো ততবেশি আমাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ হবে। এ জন্য আমাদের প্রয়োজন পড়ার সময় পড়া, প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন আদায় করা, নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করা। তখন আর পরীক্ষার পূর্বে পড়াকে পাহাড়সম মনে হবে না। আর পরীক্ষার হলেও চোখ মুখ অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে না। মূলত শিক্ষা বা জ্ঞানার্জন এমন জিনিস দূর থেকে কঠিন মনে হবে কিন্তু কাছে এসে তা গ্রহণ শুরু করলে মনে হবে জ্ঞানার্জন অতি সহজ।
জ্ঞানার্জন আর সাধনার পেছনে বিশ্বের মহামনীষীরা কিভাবে ছুটেছেন তা একটু খেয়াল করলেই কারো বুঝতে কষ্ট হবে না। জ্ঞানের পেছনে শ্রম ঢেলে, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও যিনি দমে যাননি তিনি হলেন দার্শনিক আল রাযী। তিনি প্রায় ২০০টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তার আল জুদারি ওয়াল- হাসানাহ নামক পুস্তিকাটি শুধু ইংরেজিতেই চল্লিশবার মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। তার বিনয়ী কথায়ই প্রকাশ পায় তিনি জ্ঞানার্জনে কতটা অদম্য ছিলেন। তিনি বলেন, জ্ঞান সাধনায় আমার অদম্য উৎসাহের ফলেই মাত্র এক বছরে আমি কুড়ি হাজার পৃষ্ঠার মৌলিক রচনা লিখেছি (প্রতিদিন প্রায় ষাট পৃষ্ঠা)। দিবা-রাত এমন কঠোর পরিশ্রম করেছি যে, শেষে আমি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলি। তবু আজও আমি অন্যকে দিয়ে বই পড়িয়ে শুনি কিংবা আমার রচনা লেখাই। প্রখ্যাত পন্ডিত আল কিন্দি একাধারে বারটি স্বতন্ত্র বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার পরও ছয়টি ভাষাতে অসাধারণ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং প্রায় ২৬৫টি গ্রন্থ রচনা করেন। প্রখ্যাত দার্শনিক ও বিজ্ঞানী আল ফারাবিও জ্ঞানের পেছনে ব্যাপক শ্রম দিয়েছেন। তিনি দশটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন এবং ৬টি স্বতন্ত্র বিষয়ে তার অগাধ পান্ডিত্য ছিল। প্রায় ৭০টি বিরাট নোটবুকে দর্শনশাস্ত্রের সারাংশ তিনি লিপিবদ্ধ করেছিলেন। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও পন্ডিত আল তাবারি ক্রমাগত চল্লিশ বছর যাবৎ দৈনিক ৪০ পৃষ্ঠা করে মৌলিক রচনা লিখতেন। যার যোগফল দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ লক্ষ ৮৪ হাজার পৃষ্ঠা। ফারাবি এরিস্টটলের আত্মা সম্বন্ধীয় গ্রন্থটি একশতেরও বেশিবার এবং পদার্থবিদ্যা বিষয়টি ৪০ বার পাঠ করেছিলেন। ১৮৭৯ সালের ২১ অক্টোবর বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করেছিলেন। তার এই আবিষ্কারের পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত কঠোর সাধনা আর পরিশ্রমের। কারণ তিনি ১০ হাজার বার চেষ্টা করে তবেই সাফল্য পেয়েছিলেন বাল্ব তৈরি করতে। আর তাইতো তিনি বলেছেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে প্রতিভা প্রেরণা জোগায় মাত্র এক ভাগ আর বাকি ৯৯ ভাগ প্রেরণাই আসে পরিশ্রম ও সাধনা থেকে।’ জাপানিরা বিশ্বের বুকে আজ সফল জাতি, তার পেছনের কারণ তারা কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করে। কারো সাথে দেখা হলে জাপানিদের সম্বোধন ‘কেমন ঘামছেন?’ প্রমাণ করে তারা পরিশ্রমী। বিশ্বের এক নম্বর শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে জাপানিরা প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার মানুষ অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে মারা যায়, অথচ আমরা তার উল্টো জরিপ করলে দেখা যায় অলসতার কারণে পৃথিবীতে অনেক লোক মারা যায়।
সাধনা ছাড়া দুনিয়াতে কেউ কোন কিছু অর্জন করতে পারেননি। রাসূল (সা) নবুওয়তের আগে ১৫ বছর ধ্যান করেছেন, ১৩ বছর প্রচন্ড ধৈর্যসহকারে দাওয়াত দিয়েছেন, আর ১০ বছর ধরে সংগ্রাম চালিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামের পূর্ণতার। রাসূল (সা)-এর এমন সাধনাই সকল মত ও পথের ওপর ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে সমাজে বিজয়ী হয়েছিল। ইমাম বুখারী (রহ) হাদিসের সেরা গ্রন্থ বুখারী শরিফ রচনা করতে গিয়ে একটি হাদিস সংগ্রহে ৩শত মাইল হেঁটেছেন। স্পেলার বলেছেন, ‘প্রতিভা বলে কিছু নেই। সাধনা করো সিদ্ধিলাভ একদিন হবেই।’ নোবেল বিজয়ী লিও টলস্টয়কে বলা হয়েছিল জাতীয় উন্নয়নের জন্য আপনি যুবসমাজের প্রতি কিছু বলুন। তিনি বলেছিলেন, আমার তিনটি পরামর্শ আছে- পড়ো, পড়ো এবং পড়ো ।
ওহির প্রথম বাণীই ছিল জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দিয়ে। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আলাকের ১ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পড়, তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ আর পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আ)কেও আল্লাহ জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ তায়ালা আদম (আ)কে সকল বস্তুর নাম শিখিয়ে দিলেন।’ (সূরা বাকারা : ৩১) মানবতার মহান শিক্ষক রাসূল (সা) বলেছেন, জ্ঞান হচ্ছে মুসলমানদের হারানো সম্পদ, জ্ঞানের শক্তিবলেই মুসলমানরা সমগ্র দুনিয়া শাসন করেছিল। রাসূল (সা) আরো বলেছেন, ‘জ্ঞান হচ্ছে তোমাদের হারানো সম্পদ, সুতরাং যেখানে পাও তা কুড়িয়ে নাও।’ হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরয’ (জামেউস সগির) (ইবনে মাযাহ)। হযরত আলী (রা)- এর ব্যক্তিগত হাদিস সঙ্কলন ‘সহিফা’ সংরক্ষিত থাকতো সর্বদা তার তলোয়ারের খাপের  ভেতর। আমেরিকার তৎকালীন সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট অন্য লোকদের সাথে কথোপকথনের সময় ও ফাঁক দিয়ে বই পড়তেন এবং ভ্রমণের সময় প্রতিদিন প্রায় তিনটি করে বই পড়তেন। নেপোলিয়ান যুদ্ধে গেলেও সাথে থাকতো চলমান বইয়ের লাইব্রেরি এবং যুদ্ধক্ষেত্রেও তিনি বই পড়তেন। মহাত্মা গান্ধী যেখানে গোসল করতেন সেখানে প্রতিদিন একটি করে গীতার শ্লোক লিখে রাখতেন। গোসলের সময় তা গানে সুরে মুখস্থ করে ফেলতেন।
সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠত্ব, কর্তৃত্ব, নেতৃত্ব সব কিছুই জ্ঞানের শক্তিবলে মানুষ অর্জন করেছে। অন্ধকার থেকে আলোর পথের দিশা জ্ঞানই মানুষকে দিয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে জ্ঞানের সাথে যুক্ত ছিল সাধনা। সাধনা আর জ্ঞান মানুষের সকল সাফল্য অর্জনের নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাই জ্ঞানের পাশাপাশি সাধনার কোনো বিকল্প নেই। ইমাম গাযযালী (রহ) বলেছেন, ‘সাফল্যের অপর নামই অধ্যবসায়’।
লেখক : কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply