তথ্যসন্ত্রাসের শিকার ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন

মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

গত সংখ্যার পর

9‘মওদূদীবাদ’ তথ্যসন্ত্রাস
এ উপমহাদেশে ইসলামের প্রচার প্রসার ও মুসলমানদের সংগঠিত করে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের সূচনা করে জামায়াতে ইসলামী। এটি প্রথম দিকে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে স্বরূপে আত্মপ্রকাশ লাভ করে। মাওলানা মওদূদী (রহ) কাদিয়ানিরা মুসলমান নয় বলে কুরআন-হাদীসের আলোকে প্রমাণ করেন ও তাফহিমুল কুরআন তাফসিরের মাধ্যমে মানুষের সামনে কুরআনকে শুধু তেলাওয়াতের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেন। কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরকে মওদূদীবাদী বলে থাকেন। সাইয়েদ মওদূদী (রহ) তার লিখনির মাধ্যমে সর্বাধিক ইসলামী সাহিত্যের ভাণ্ডার মুসলিম উম্মাহকে উপহার দিয়েছেন, যা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি শিরক বিদ’আত ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার লিখনির মাধ্যমে চাপেটাঘাত করেছেন। তিনি ইসলামের মর্যাদাকর নাম ব্যবহার করে ইসলামের স্বরূপ বিকৃতিকারীদের খোলস উন্মোচন করে মুসলমানদের সচেতন করার চেষ্টা করেছেন এবং ভ্রান্তির সাগরে তৎকালীন যারা হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তাদেরকে শোধরানোর চেষ্টা করেছেন। এসব সত্য ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরে কিছু আলেম-ওলামা ও সেক্যুলার সংঘবদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতে থাকে। আল- জিহাদ বইটি লেখার পর কিছু আলেম ফতোয়া দিয়েছিলেন মওদূদীকে (রহ) কাফের হিসেবে, কারণ তিনি ইসলামে মুসলমানদের জিহাদের ফরজিয়াতের কথা বলেছেন ও ইসলামী রাজনীতি মুসলমানদের জন্য ফরজ বলে উল্লেখ করেন। কারণ তখন আলেমদের মাঝে অনেকে মনে করতেন যে ইসলামে রাজনীতি হারাম। আলেমরা তার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন কিন্তু কোন সমালোচনা তার স্বাধীনচেতা ও সত্যানুসন্ধানী মন-মানসকে সত্য পথের প্রকাশ থেকে তাকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। যারা মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদীর লিখনি ও কর্মকাণ্ডকে মওদূদীবাদ বলে ঘৃণাচ্ছলে প্রকাশ করেন সত্যিই তারা নির্বোধ। কারণ তিনি তার কোন লিখনি বা বক্তব্যে কখনো তার দর্শন প্রচার করতে হবে বা তিনি একজন দার্শনিক তা প্রচার করেননি। তিনি বিদগ্ধ একজন ইসলামী চিন্তাবিদ বা দার্শনিক হিসেবে সর্বমহলে মৃত্যু-পরবর্তীতে প্রমাণিত হলেও তিনি স্পষ্টভাবে তার লিখনিতে বলেছেন জামায়াতের কর্মীদের উদ্দেশ করে, ‘ব্যক্তি হিসেবে আমার লিখনিতে বা বক্তব্যে ভুল হলে সেটি পালনীয় বা গ্রহণীয় নয়। আমাদের সকলের অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় গাইড লাইন হলো আল কুরআন ও আল হাদিস।’ জামায়াতে ইসলামী মওদূদীকে অনুসরণের প্রচার বড়ই অবান্তর। কারণ কোন ইসলামী সংগঠন ব্যক্তির পূজা করতে পারে না। তাই তিনি তার কোন সন্তানকেও এ দলের আমীর নিয়োজিত করে যাননি, বরং আন্দোলনের নিয়মমাফিক পরবর্তী যোগ্য লোকেরাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এবং লেখক হিসেবে যে সত্য-সুন্দর কথাগুলো লিখেছেন তা কি গ্রহণীয় নয়? জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার পর থেকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়দ্বীপ্ত কাফেলা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই মওদূদী মতবাদকে প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। জামায়াতে মওদূদীবাদ বলে কোন মতবাদেরও স্থান নেই। তাদের গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের কথা। আর যদি জামায়াত মওদূদীবাদ প্রতিষ্ঠার করার চেষ্টা করে থাকে তাহলে তারা কেন তাদের কর্মীদেরকে এ মতবাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলে না? কেন তার জন্মদিবস ও মৃত্যুদিবস পালন করে না? তাহলে কি বলবেন জামায়াতকর্মীরা তার বই পড়ে কেন? এতে বলতে হয় ইসলামী সংগঠনের রূপরেখা এবং সাহিত্যের মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিভাগ নিয়ে তিনি যেভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন, সেভাবে ক’জনের লিখনি আছে? আমাদের সমাজের সমঝদার ব্যক্তিবর্গ বলে আমরা যাদেরকে সমীহ করি তাদেরকেও এসব হাস্যকর মন্তব্য করতে দেখা যায়। দেখা যায় শুধুমাত্র তার বা তার প্রতিষ্ঠিত দলের বিরোধিতা করার জন্য তার লিখনিকে কাটছাঁট করে সামনের অংশ বা পরের অংশের বয়ান করে যাতে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়। দেখা যায় ঐ ব্যক্তি যে ধরনের তথ্য দিয়েছে তার লিখিত বিষয়টি পড়লে ব্যাখ্যা আসবে অন্য রকম। আবার দেখা যায় যে বিষয়ে বলা হয়েছে সে বিষয় সম্পর্কে তার তেমন কোনো বক্তব্য উল্লিখিত বইয়ে নেই। কিছু আলেম-ওলামা বলে থাকেন তিনি সাহাবীদের সমালোচনা করেছেন, অথচ যারা এসব অভিযোগ না দেখেই বিশ্বাস করেন তারা একবারের মতোও কী কী কারণে সমালোচনা করা হয়েছে তা কি খতিয়ে দেখেছেন? আবার আহলে সুন্নাতের দাবিদার এক পক্ষ দাবি করে থাকে মওদূদী আউলিয়া ইকরামের সমালোচনা করেছেন। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছেন অনেকে, আবার তার সম্পর্কে না জেনেও অনেক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। কারো সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে অথবা কারো থেকে শুনে মন্তব্য করা এটা অন্যের ওপর বড়ই অবিচার। এ কারণে কারো ব্যাপারে মন্তব্য করার আগে তার সম্পর্কে জানা জরুরি। নতুবা আরেকজনের ক্ষতি করতে গিয়ে নিজেই গুনাহগার হবেন। যারা ইসলামী সংগঠন করতে ভালোবাসেন, যাচাই বাছাই করে যে কোন ইসলামী সংগঠনে যোগ দিতে পারেন। আলহামদুলিল্লাহ! এখন পৃথিবীর সর্বত্রই ইসলাম কায়েমের প্রত্যয়ে অনেক ইসলামী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। আল্লাহ তার পথে আমাদের প্রচেষ্টা দেখতে চান। ইসলামী আন্দোলন বা সংগঠনের নেতৃত্বের সমালোচনা করতে গিয়ে আমরা কেউ যাতে তাগুতের সাহায্যকারী হয়ে না যাই।
মওদূদী (রহ) যে সকল কারণে ইসলামী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের কাছে একজন মোজাহিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ, গাবেষক তা হলো তিনি এই উপমহাদেশে প্রথম ইসলামী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজকের এ সময়ে বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। তিনি তাফহিমুল কুরআন তাফসির করেন এবং সুবিশাল ইসলামী সাহিত্য ভাণ্ডার রচনা করেছেন। অনেক কুৎসা রটিয়ে বলে থাকেন জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রদায়িক দল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারেনি জামায়াতের লোকেরা অন্য ধর্ম সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর হামলা নির্যাতন করেছে। বরং অন্য ধর্মাবলম্বীরাই অভিযোগ করেছে বন্ধুবেশীরাই তাদের ওপর আক্রমণ করে জামায়াতের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। আরো যে সকল অভিযোগ আসে তা নিতান্তই অবাস্তব, মূলত এর অগ্রযাত্রাকে যাদের সহ্য হয় না তারাই বিভিন্ন অজুহাত তুলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে একে রুখে দিতে চায়।
তথ্যসন্ত্রাসের শিকার ইসলামী সংগঠন : ইসলামী আদর্শের অনুসারীরা আমৃত্যু তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে সকল বাধা বিপত্তি মাড়িয়েÑ এটাই স্বাভাবিক। কুরআনে কারীমে বলা হচ্ছে, “তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে উত্তম জাতি হিসেবে, তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে।” ইসলামের অগ্রযাত্রা যে সকল মহল সহ্য করতে পারেনি তারা চক্রান্তের পর চক্রান্ত চালিয়েছে কিন্তু সে সকল চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসলামের প্রচার প্রসারে আরো গতিশীলতা লাভ করছে। একবিংশ শতাব্দীতে ইসলাম বিপন্ন মানবতার জন্য এক অপরিহার্য বাস্তবতা। কিন্তু রাষ্ট্র যাতে ইসলামী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে পরিচালিত না হয় সে জন্য দেশে-বিদেশে সংগঠনের বিরুদ্ধে চলে বিষোদগার। যার কারণে অন্তত যারা মুসলমান তারা প্রকৃত ঘটনা জানতে পারে না ও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে না। যেমন ধরুন, মিসরের সাম্প্রতিক ইসলামী বিপ্লবের কথা। বেশ কয়েক যুগ জালিম শাসক জামাল আবদুন নাসের এর পর সর্বশেষ হোসনি মোবারকের পতনের মাধ্যমে জনরায়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধি করে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়। ড. মুরসি ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ প্রত্যাশিত অধিকার স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা ইসরাইলের মুখে প্রচণ্ড চপেটাঘাত। তাই মুসলিম ব্রাদারহুড নেতৃত্বাধীন মিসর ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বয়স এক বছর হতে না হতে ইসরাইল ও তার মিত্রদের সহযোগিতায় ড. মুরসির সরকারকে বেকায়দায় ফেলে কায়দা করে রাষ্ট্রক্ষমতাচ্যুত করে হাজার হাজার মিসরীয়কে হত্যা করে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে। বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা নজিরবিহীন। ড. মুরসির সরকারের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো অত্যন্ত হাস্যকর ও অবান্তর। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কারণ একটাই তা হলো মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্ব ইসলামিস্টদের হাতে চলে যাচ্ছিল, এতে ইসরাইল বা আমেরিকা বরাবরের মতো নেতৃত্ব দিতে পারছিল না। তাই বিশ্বমিডিয়ায় একযোগে প্রচার করা হলো, ড. মুসরির সরকার গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করছে না, কোন দল ও মতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। সামরিক ক্যু-এর সময় বলা হলো মুরসির সমর্থকরা সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবহার করছে, অথচ সেখানে সে রকম কোন ঘটনা ঘটেনি যার প্রমাণও তারা মেলাতে পারেনি।
আলজেরিয়ার কথা বলতে গেলে সেখানেও জনরায়ে বিজয়ী ইসলামপন্থীদের বিজয়কে কেড়ে নিলো ইসলামবিদ্বেষী সেনাবাহিনী। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গায়ের জোরে আমেরিকা নিজেরাই সন্ত্রাসী কায়দায় তালেবানদের ক্ষমতাচ্যুত করল। এখন সিরিয়ায় নানা অভিযোগে বিভিন্ন কলাকৌশলে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। পরের টার্গেট ইরান। ইসলামের নাম-গন্ধও তাদের অসহ্য, যেন চরম গায়ের জ্বালা। ইসলামের শৌর্যবীর্যের আলোক ভূমি ইরাক ও লিবিয়াকে তারা খান খান করে দিলো। ফিলিস্তিনিদের নিজেদের আবাসভূমি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে পরগাছা ইসরাইলকে চিরস্থায়ীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বের আসনে খোদাদ্রোহীরা বসাতে চায়। সব ইসলাম রাইজিং দেশের মাথা মোড়ানোর পর সৌদি আরব ও কাতারকে ধরে সর্বস্বান্ত করবে ইসলামবিদ্বেষী হুতোম পেঁচারা। সময় থাকতে ওইসব দেশ জাগবে কি না তারাই ভালো জানে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য তাদেরকে জাগতে হবে। আল্লাহ কোন জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না সে জাতি তার ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট হয়। তাই পরনির্ভরতা বাদ দিয়ে মিল্লাতে মুসলিমাকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সম্মুখ পানে এগিয়ে যেতে হবে দ্বিধাহীনচিত্তে।
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা : বাংলাদেশের মানুষ শোষণমুক্ত দেশগড়ার প্রত্যয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনতাসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দেশ স্বাধীন হয়ে গেল। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার গঠিত হলো। নতুন সংবিধান রচিত হলো। যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার ধারা সংযুক্ত করা হলো। শেখ মুজিব দেশের মানুষকে সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে ওয়াকিফহাল করেননি। তবে একটি সস্তা শ্লোগান প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলেছিল। তা হলো ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার বা ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। ধর্ম যার যার একান্ত নিজের। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হলো। দেশের মানুষের ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও ধর্মের প্রতি মানুষের ভক্তি- শ্রদ্ধার কারণে সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ও আল্লাহর ওপর আস্থা-বিশ্বাস স্থাপনের ধারা সংযুক্ত করা হয়। আবার মুজিবকন্যা ক্ষমতায় এলে সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা বিশ্বাস ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেয়া হয়; অন্যান্য ধর্মের সাথে এ অবস্থান একাকার করে দেয়া হয়। একদিকে সরকার ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগঠনের কথা বলে সংবিধান থেকে মুসলমানিত্বের নাম নিশানা মুছে দিতে চাচ্ছে আবার দেশের মানুষের ইসলামের প্রতি ভালোবাসার কারণে সংবিধানকে পরিপূর্ণভাবে ধর্মনিরপেক্ষ বানাতে পারছে না। অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদি সরকার তাই চিন্তা করেন তাহলে সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম থাকতে পারে না। দেশে ইসলামী রাজনীতিও চলতে পারে না।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের প্রয়োজনে ইসলামকে ব্যবহার করেছে। যেমন ’৯৬ সালে নির্বাচনের পূর্বে অন্যান্য ইসলামী দলকে আওয়ামী লীগ ইসলামের অনেক অনুশাসন সংবিধানে যুক্ত করার ব্যাপারে একমত ছিল। তবে যেকোনো মূল্যে ক্ষমতার অধিষ্ঠিত হওয়াটাই মূল লক্ষ্য ছিল। বর্তমান সংবিধানে তারা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বাদ দেয়নি। নিজেরা ভোট চাইতে গিয়ে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’। এভাবে তাদের মধ্যে দ্বৈত আচরণ দেখা যায়। এখন অনেক আওয়ামী নেতাই বলেন দেশকে সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে গঠনের জন্য স্বাধীন করা হয়েছিল। অথচ ১৯৭১ যে যুদ্ধ ছিল সেটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয় বরং পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার ৪২ পর যারা দেশকে ইসলামমুক্ত করার কথা বলে তাদের মুখের কথা শুনলে স্বধীনতাযুদ্ধের বীর সেনানীরা আফসোস করেন। তাদের অনেকেই বলেন, ’৭১ এর দিনগুলোতে নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার ধ্বনি হাঁকিয়ে আমরা শত্রুসেনার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম; সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠন করার জন্য নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমি হিন্দুও নই মুসলিমও নই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যই এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। বর্তমানে যারা দেশ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন তাদের কথা খুব বেশি শোনা যায় না। স্বাধীনতার সময় যারা দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছিলেন তারাই আজকের সময় সবচেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা। সত্যিকারার্থে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগঠনের কথা বলা হলেও মানুষ দেশকে ইসলমিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। কারণ যুক্তি খুবই যুক্তিযুক্ত। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলামপ্রিয়। পরধর্মসহিষ্ণু। যারা এটা বিশ্বাস করে না তারা গণভোট দিয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেন। তবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো এ দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে গঠন করার জন্য প্রতিনিয়ত নিউজ, বক্তব্য, সংলাপ, নাটক উপস্থাপনে মিডিয়াগুলো অনুমিত হয় বড় ধরনের মিশন নিয়ে নেমেছে।
যারা ধর্মনিরপেক্ষতার সুফলের কথা ইনিয়ে বিনিয়ে উপস্থাপন করতে সিদ্ধহস্ত, কে তাদেরকে বুঝাবে ধর্মনিরপেক্ষতার কুফলের কথা। ধর্মনিরপেক্ষতার আসল মানে হচ্ছে ধর্মহীনতা। শিক্ষা-দীক্ষায় আচার আচরণসহ সর্বক্ষেত্রে যদি ধর্মের অনুপস্থিতি লোপ পায় তাহলে সে ব্যক্তির ভেতর মনুষ্যত্বের পরিবর্তে পশুত্ব দানা বাঁধতে থাকে। মানুষ আজকের পুঁজিবাদী সমাজে যেভাবে অশান্তির দাবানল দাউদাউ করে জ্বলে অঙ্গার হচ্ছে এর থেকে বাঁচার জন্য ধর্মীয় জীবনাচরণ পোষণের কোন বিকল্প নেই। সমাজতন্ত্র মানবতার মুক্তির চমকপ্রদ উপাখ্যান নিয়ে জনসম্মুখে হাজির হলেও স্বল্পসময়ে সে আদর্শ মানবতার শান্তির পরিবর্তে অশান্তির জালকে বিস্তার করেছে। কমিউনিজম ও ক্যাপিটালিজম আদর্শের কিছু দেশ এখনো নেতৃত্ব দেয়ার চেষ্টা করলেও তা আজ মানবতার মুক্তি নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বলতে হয় সমাজের স্তরে স্তরে জেঁকে বসা সকল অনাচার অবিচারকে দলিত মথিত করতে ইসলামের আদর্শ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামের আদর্শ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে তার সুফল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছবে। যদিও আধুনিককালে ইসলামকে সেকেলে ও বাস্তবমুখী নয় বলে মিডিয়াগুলো মিথ্যার ডালি বিছিয়ে সর্বমহলে ভীতি ছড়াতে নিয়ামক শক্তিস্বরূপ কাজ করে চলেছে। যা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নামে চরম কপটতা, শঠতা ও ধৃষ্টতা।
ইতিহাসের বিকৃতি সাধনের মাধ্যমে তথ্যসন্ত্রাস : একটি জাতির ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিগঠনে নাগরিকেরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে ইসলামপন্থীদের ভূমিকাকে প্রচ্ছন্ন করে রেখেছে। বিভিন্ন জায়গায় বিতর্কিত ভূমিকার কথাও ইতিহাস রচনায় যোগ করতে দেখা যায়। যেমন ধরুন না আমাদের দেশের ইতিহাস রচনার কথা। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের সময় আমাদের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে ইতিহাস রচনা করা হয়েছে এক ধরনের। এরশাদ সরকারও ইতিহাসকে মনমত এদিক ওদিক করার চেষ্টা করেছেন। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকারও যথাসাধ্য তার মতো করে ইতিহাস রচনা করে আগামী প্রজন্মকে গেলাতে চেষ্টা করেছেন। আবার বর্তমান আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ইতিহাস রচনায় মিথ্যা ও অসত্য তথ্য দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করে পাঠ্যপুস্তকে অনুপ্রবেশ করিয়েছে। দেশের অনেক গুণী ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গের চরিত্রকে কালিমা লেপন করে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের ইতিহাস রচনা একদিকে ঐসকল ব্যক্তির ওপর অবিচার করা হয়, অন্য দিকে প্রকৃত ইতিহাসকে ধামাচাপা দেয়া হয়। ইতিহাস তখন জাতির দর্পণ হিসেবে কাজ করে না, বারবার পরিবর্তনশীল ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জাতিগঠনে উদ্বুদ্ধ করার পরিবর্তে নানা প্রশ্নবাণে আত্মোপলব্ধিকে জর্জরিত করে পূর্বপুরুষদের ব্যাপারে কুধারণা ও হীনমন্যতা লাভ করে। তাই দেশের শাসকবর্গের উচিত দেশপ্রেমিক, নিরপেক্ষ ও বিবেকবান ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইতিহাস রচনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বর্তমানে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে ইতিহাস রচনার যে নীলনকশা বাস্তবায়ন হচ্ছে এতে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে ইসলাম বাংলাদেশের শত্রু। ইসলামপন্থীরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব চায় না, চায় শুধু ধ্বংসযজ্ঞ আর জঙ্গিবাদ। যারা এ ধরনের বিকৃতিপূর্ণ ধারণা দিতে ব্যস্ত তারা না জেনে অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করছে। ইসলাম দেশ ও জাতিগঠনের অন্তরায় নয় বরং ইসলাম এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলশক্তি। এর সংস্পর্শে মানবতা মর্যাদার সুউচ্চ শিখরে উপনীত হয়।
সরকারের মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ : যেকোনো রাষ্ট্র এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান। চলমান জীবনপ্রবাহে প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহের যথার্থ সংবাদ এবং জাতিকে শিক্ষাভাবাপন্ন সচেতন নাগরিক হিসেবে তৈরি করতে রাষ্ট্রের প্রচারযন্ত্রের ভূমিকা অভাবনীয়। এক সময় সরকারের মুখপত্র হিসেবে হাতেগোনা ক’টি টিভি বা পত্রিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত হলেও তথ্যপ্রবাহের একালে মিডিয়া জগতের ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। অনেক বেসরকারি মিডিয়া হাউজ তৈরি হয়েছে। তবে এটি সাংবাদিকতার জগৎকে আরো বেশি উৎকর্ষিত করার পরিবর্তে ব্যক্তিবিশেষের উদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করার জন্যই তৈরি হয়েছে। এটিকে মিডিয়া বুর্জুয়া বললে ভুল হবে না। তাই বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় যে এসব মিডিয়ার মালিকানার নেপথ্যে যারা তার অধিকাংশ ব্যক্তিই শোষকশ্রেণী। আর এসব শোষকশ্রেণী সরকারের ছত্রছায়ায় তাদের শোষণনীতিকে আরো বেশি শাণিত করে। নিজেদের সমস্ত কর্মকণ্ডকে বৈধ প্রমাণ করতে পাহাড়সম মিথ্যাকে রঙ-চঙ লাগিয়ে সত্যের মোড়কে আচ্ছাদিত করতে বেপরোয়া ভূমিকায় অংশ গ্রহণ করে। স্বৈরাচারী শাসকবর্গ নিজেদের অপকর্ম অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার জন্য যেভাবে রাষ্ট্রের প্রচারযন্ত্রকে যথেচ্ছা অপব্যবহার করে একইভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রচারযন্ত্রগুলোকে সেগুলোর অপকর্মের সুযোগে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বাগিয়ে নেয়। যারা এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে তাদেরকে অবদমিত করার জন্য নানা ধরনের কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়, এ জন্য তৈরি করা হয় নিজেদের মনগড়া আইনকানুন। যে কারণে বস্তুনিষ্ঠ কোন সংবাদমাধ্যম তার স্বকীয়তা নিয়ে পরিচালিত হতে পারে না। হয়তোবা সেটি রাষ্ট্রের কোপানলে পড়ে বন্ধ হয়ে যায় নতুবা অনৈতিকতার আলো আঁধারে গুলিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রের কাছে আস্থাভাজন হওয়ার জন্য হেন কোনো কর্মকাণ্ড অবশিষ্ট থাকে না যা তারা করে না। এসব কারণে তারা জাতি ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেও কার্পণ্য বোধ করে না। শাসকবর্গের যথার্থ সমালোচনাকারী সংবাদমাধ্যমগুলোকে যখন বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে তখন সেসব গণমাধ্যম সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ শাসকশ্রেণীর সর্বগ্রাসী ক্ষমতার অপব্যবহারকরণে মিডিয়ার সুফল হতে মানুষ বঞ্চিত, যা এখন মানবতার জন্য দানবীয় রূপে আবির্ভূত হয়েছে। সাম্প্রতিককালে মিসরে সেনা ক্যু হওয়ার পর সেনা সরকারের সমালোচনাকারী সকল মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। সরকারের পদলেহী মিডিয়াগুলোকে ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত গণহত্যার সত্য ঘটনাকে মিথ্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার জন্য ঘৃণ্য পরিকল্পনা গৃহীত হয়, যা পরবর্তীতে জনসম্মুখে ফাঁস হয়ে যায়। আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম কই? সরকারের সমালোচনায় মুখর চ্যানেল ওয়ানকে বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সরকারে নানামুখী কর্মকাণ্ডে কিছু মিডিয়া সমালোচনা করলে সেগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়। এমনকি যে সকল সাংবাদিক সরকারের অপকর্ম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে চেয়েছেন তাদের হত্যা করা হয়েছে। যারা টক-শোতে সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়ার জন্য সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঠিক করে দেয়া হয় কোনটা প্রচার করতে হবে, কোনটা প্রচার করা যাবে না। প্রকাশিত সংবাদ সরকারের বিরুদ্ধে গেলেই সরকারের তরফ থেকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হয়।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির স্কাইপি সংলাপ প্রকাশিত হওয়ার পর আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নামে মামলা হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পত্রিকাও বন্ধ করে দেয়া হয়। সম্প্রতি আমাদের দুই নেত্রীর সংলাপ নিয়ে চলছে নানা নাটক। ক’দিন আগে টেলিফোনে হাসিনা-খালেদার কথা হলো ৩৭ মিনিট দীর্ঘ। তথ্যমন্ত্রী ইনু বললেন, প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ জাতির সম্পদ তাই তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। বলার একদিনের মাথায় তা বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হতে দেখা গেল। তাই অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ জাতির সম্পদ তাই প্রকাশ করা হলো আর স্কাইপি সংলাপ জাতির গুপ্তধন তাই লুকিয়ে রাখা হলো। খুবই হাস্যকর ব্যাপার! এক দেশে দ্বৈতনীতি। বিবিসি, সিএনএন, ভুয়াসহ যে সকল মিডিয়া বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী হিসেবে আমরা মনে করি তারাও তাদের দেশের সাম্রাজ্যবাদকে আরো বিস্তার করার জন্য হরদম চেষ্টা করে চলছে। সরকারের নানামুখী কার্যক্রমের সমালোচনা যারাই করে তাদেরকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারে না সরকার বাহাদুর। অনেকাংশে মনে হয় ধর্মকে অকার্যকর হিসেবে প্রমাণিত করার জন্যই মিডিয়াগুলোর জন্ম, বিশেষ করে ইসলামপন্থীদের অগ্রযাত্রাকে ঠেকানোই যেন ঐতিহাসিক দায়িত্ব; দেদার চলে অপপ্রচার। তবে এটি দৃঢ়তার সাথে বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে তথ্যপ্রবাহের এ যুগে মিডিয়া মানুষের ভেতর মানুষের আস্থা-বিশ্বাসকে যতটুকু দৃঢ় করেছে তার চেয়ে যোজন যোজন বেশি ভাঙন সৃষ্টি করেছে। আসল প্রকাশ করার পরিবর্তে যদি নকল প্রকাশই তথ্য অধিকার হয় তাহলে এসব মিডিয়ার কাছে এর চেয়ে আর ভালো কী আশা করা যেতে পারে? রাষ্ট্রের মিডিয়ার ওপর এহেন সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যদি ওপরে ফেলা না যায় সে জাতির ভিত্তি গড়ে ওঠে মিথ্যার বেসাতির ওপর, বেড়ে ওঠা প্রজন্ম মিথ্যাকেই তাদের চলার পথের সম্বল হিসেবে পুঁজি করে নেয়; ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে বাহ্যিকভাবে সবল সুস্থ একটি বিকলাঙ্গ প্রজন্ম। যারা জীবন নির্বাহের জন্য সত্যের পরিবর্তে মিথ্যার প্রলেপকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যে দেশে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় এমন দর্শন শিক্ষণ দেয়া হয় সে জাতির জন্য ভবিষ্যতে কী ভয়াবহ(!) দুরবস্থা করছে তা শুধু সময়ই বলে দেবে।

অপপ্রচারের মূল কারণ
ইসলাম জাতীয় ঐক্য, সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে সমাজে এ ধরনের পরস্পর বুঝাপড়ার গরমিল বিরাজিত সে সমাজে পরস্পর পরস্পরকে শত্রু ভাবতে শুরু করে, একে অপরের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে থাকে। সে সমাজে রাষ্ট্র যদি ঐক্যবদ্ধ সমাজগঠনে ভূমিকা পালন করে, বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্যের চেষ্টা করে সে সমাজ ভাঙার পরিবর্তে গড়তে থাকে। অন্য দিকে রাষ্ট্র যখন জনগণের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করতে সীমারেখা টেনে দেয় সেখানে শান্তি, নিরাপত্তা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ কামনা করা আষাঢ়ে গল্প বৈ কী হতে পারে? বিশেষ করে এই ধরনের অসম আচরণের মূল কারণ চিহ্নিত করতে গিয়ে দেখা যায় মূলত ইসলামকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে এ সকল শক্তি কখনো সহ্য করতে পারে না, তাই তারা নানা কায়দায় একপক্ষীয় আচরণ করে থাকে।
উল্লেখযোগ্য কারণগুলো ঠিক এ রকমÑ
বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর অগ্রযাত্রার সকল বাধা বিপত্তি মাড়িয়ে সম্মুখে এগিয়ে চলছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রায় সকল অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রকৃত মুসলমানরা ইসলামকে শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয় বরং রাষ্ট্রীয়জীবনেও প্রতিষ্ঠিত করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রচেষ্টার কারণে সাধারণ মানুষও ইসলামকে অনুসরণ ও অনুকরণে এগিয়ে আসছে ও তাদের জানার আগ্রহ বাড়ছে। যার ফলে প্রায় প্রতিটি দেশেই সেক্যুলার ও তাদের দোসররা ইসলামপন্থীদের ওপর নানা ধরনের অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে দেশাভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি করছে। আমাদের দেশে আমরা দেখতে পাই এখানকার আলেম ওলামাদের ও ইসলামপন্থীদের ওহাবি, সুন্নি, স্বাধীনতার পক্ষে, স্বাধীনতার বিপক্ষে বিভিন্ন শ্রেণীতে ফারাগ করার সফল আয়োজন চলছে। এ দ্বন্দ্ব এখন গৃহাভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করেছে, যা একটি জাতির এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড়ই অন্তরায়। আর এ বিভাজনের ক্ষেত্রে তেল মসলা জোগান দিচ্ছে ঐসকল মিডিয়া যেগুলোর নাম ইতঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
অপপ্রচারের আরো একটি অন্যতম কারণ হিসেবে গবেষকেরা মনে করেন যে- বর্তমান বিশ্বে দ্রুতগতিতে বিকশিত হচ্ছে। এ ধর্মে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে দীক্ষিত হচ্ছেন। যারা আধিপত্যবাদ কায়েম করে রাখতে চায় তারা সুনিশ্চিত হয়েছে যে আগামী শতাব্দী হচ্ছে ইসলামের শতাব্দী। তাই এর অগ্রযাত্রা থামাতে মরণকামড় দিয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে তারা ময়দানে নেমেছে। তারা বিশ্বাস করে ইসলামের আগমন কোনভাবেই তারা আগামী দিনে তাদের পরিকল্পিত স্বার্থসিদ্ধি করতে পারবে না।
সাম্রাজ্যবাদের মোড়লরা যেভাবে তাদের খবরদারি চালিয়ে যাচ্ছে তাকে রুখে দেয়ার সক্ষমতা শুধু ইসলামই পালন করতে পারে। ইসলাম শুধুমাত্র কোনো ভূখণ্ডে বিজয়ী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় না। বরং একটি ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে এর তৎপরতা শুরু হলেও এ কল্যাণ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এ কারণেই সাম্রাজ্যবাদীদের হৃদকম্পন শুরু হয়েছে। তাই যে সকল দেশে ইসলামী জাগরণের উত্থান ঘটছে সেখানেই তারা নানা মুখোশে তার অপদমন করার চেষ্টা হয়েছে। যে দেশ থেকে কিছু পদলেহী লেখককে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারেও ভূষিত করেছে। এসব তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নমুনা।
তাইতো তারা ইসলামের সুমহান আদর্শকে কালিমা লেপনে মরিয়া। যে সকল দেশে ইসলামী রাষ্ট্র পূর্ণ বা অর্ধেকটা কায়েম আছে সেখানে জনগণের মাঝে বিভিন্ন ধরনের বিভক্তির সীমারেখা দিয়ে অতি কাছের লোকদেরকে দূরের মানুষে পরিণত করা হচ্ছে। যাতে তৈরি হচ্ছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সন্দেহ ও সংশয় তাই ইসলামী রাষ্ট্রের পরিচালনা বা গঠনের ক্ষেত্রে বড়ই অন্তরায়। ইসলামী রাষ্ট্রের উপকারিতা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলো পজিটিভ কোন ধারণা পাওয়া দূরের কথা গায়ের জোরে নেগেটিভ কনসেপ্ট বিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।
মোদ্দাকথা ইসলাম ও ইসলামবিরোধী শক্তির দ্বন্দ্ব চিরন্তন। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে এর যাত্রা শুরু হয়ে এর যৌবন পূর্ণমাত্রায় কেয়ামত অবধি এ দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, আর যারা কুফরি করেছে তারা তাগুতের পথে লড়াই করে।” (সূরা আন-নিসা ৭৬)
সুতরাং এ দ্বন্দ্ব থামবার নয়। আর এ পথের যাত্রীরা অতীতেও এ ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। আসহাবুল উখদুদুদের ঘটনা আল্লাহ তা’য়ালা সূরা বুরুজে বর্ণনা করেছেন সত্যাচেষ্টদের ওপর আল্লাহদ্রোহীদের অবর্ণনীয় নির্যাতনের স্টিমরুলার, তাদের অপরাধ হচ্ছে তারা মহিমান্বিত মহান রবের ওপর ঈমান এনেছে।

করণীয় প্রস্তাবনা
পাহাড়সম অপপ্রচারকে মাড়িয়ে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সত্যকে মিথ্যার আস্তরণ থেকে ছেঁকে বের করে সত্যাশ্রয়ী সমাজব্যবস্থা কায়েমের প্রত্যয়ে যুগোপযোগী কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে। হতাশার সাগরে নিরন্তর গা ভাসিয়ে দেয়ার পরিবর্তে আশাবাদী নাবিকের মতো তীরে পাড়ি জমানোর অপ্রতিরোধ্য মিশনই কেবল মিথ্যার কালো মেঘে ঢাকা একটি সমাজের পরিত্রাণ নিশ্চিত করতে পারে। যেখানে নিশ্চিতভাবে বুলন্দ আওয়াজ ধ্বনিত হবেÑ সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভয়াবহ তথ্যসন্ত্রাসের মুখোশ মানবতার সামনে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করার জন্য বহুমুখী পরিকল্পনা উম্মাহর নেতৃবৃন্দকে গ্রহণ করতে হবে। অতীব জরুরি কিছু করণীয় বিষয়ে যৎসামান্য আলোকপাত করা হলো :
(ক) ধর্মীয় ও জাগতিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় : অধিকাংশ ধর্মেরই ভিত্তি ছিল অহিভিত্তিক। ধর্মের ধারক বাহকরা নিজেদের প্রয়োজন মত অহির অনেক নির্দেশকে উলট-পালট করে ফেলে। যেমন, তাওরাত, ইঞ্জিল, জবুর ইত্যাদি। শুধুমাত্র কুরআন ব্যতিক্রম। কুরআনের রূপকেও পরিবর্তনের জন্য যুগে যুগে খোদাদ্রোহীরা যারপরনাই চেষ্টা করেছে। কিন্তু এটি সংরক্ষণের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে এক অনন্য ব্যবস্থাপনা রাসূলকে (সা) শিক্ষা দিলেন। রাসূল (সা) নিজে কুরআন মুখস্থ রাখতেন সাহাবীদেরকেও মুখস্থ করতে বলতেন। এভাবে লক্ষ লক্ষ হাফেজে কুরআন ধারাবাহিকভাবে কুরআন বুকে ধারণ করে রাখলেন। পৃথিবী যত দিন রবে লক্ষ কোটি মুমিনের হৃদয়ে মহাগ্রন্থ আল কুরআন ততদিন সংরক্ষিত থাকবে। মানুষের মন-মনন স্বাভাবিকভাবে ইন্দ্রিয় কর্র্তৃক পরিচালিত হলে সমাজজীবনে কল্যাণ সাধনের পরিবর্তে অকল্যাণই অধিক পরিমাণে সংঘটিত হয়। তাই ব্যক্তির ইন্দ্রিয় শক্তিকে পুরোদমে নিজের ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করে স্রষ্টার সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে যথার্থ সার্থক করার জন্য সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে অহি নামক যে গাইড লাইন দেয়া হয়েছে তার শিক্ষা মানুষের জন্য অতীব জরুরি। তাই সমাজের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তাব্যক্তিরা যদি মানবতার জন্য অপরিহার্য এই বিষয় সম্বন্ধে অবহেলা প্রদর্শন করে ধর্মীয় শিক্ষাকে জাতির চলার পথে অন্তরায় মনে করে তখন যারা সত্যগ্রাহী পথের পরিচালক তাদের সহায় সম্বল যা আছে তা নিয়েই বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে জাগতিক শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ধর্র্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাও চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানিক ও ঘরোয়াভাবে ব্যাপকভিত্তিক এর চর্চা হতে পারে। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাই ব্যক্তির মনে হিতাহত জ্ঞান প্রদান করে ভালো-মন্দের ফারাক মালুম করতে ও রাষ্ট্র-সমাজ-ব্যক্তি জীবনে প্রকৃত সুখ-শান্তি-স্বস্তি-আস্থা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মহানায়কের ভূমিকা পালন করে। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা মানুষ কখনো মিথ্যাচারের সাগরে নিজেদেরকে ভাসিয়ে দিতে পারে না। নিজের ক্ষতির কথা নিয়ে তারা যা ভাবে ঠিক অন্যের ক্ষতি নিয়েও অনুরূপ ভাবতে শিখে। তাই এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
(খ) শক্তিশালী মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করা : মিডিয়া বলতে বর্তমান সময়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়াকেই ধরা হয়। মিডিয়ার কারিশমার কথা পূর্বের আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। যেখানে অখ্যাতকে বিখ্যাত করার তীব্র প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এর বিপরীতে যে মিডিয়া তৈরি হবে সেখানে বিখ্যাতকে বিখ্যাত হিসেবে এবং কুখ্যাতকে কুখ্যাত হিসেবেই উপস্থাপন করবে। যেখানে যা তাই প্রকাশ করবে দ্বিধাহীনচিত্তে। সংবাদমাধ্যমগুলোর বেশির ভাগ মালিকানা ইহুদি খ্রিস্টানদের হাতে। তারা এসব গণমাধ্যম যথেচ্ছা ব্যবহার করছে ইসলামের বিরুদ্ধে। তাই এর বিপরীতে অপপ্রচারের যথার্থ জবাব দেয়ার জন্য ও ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য জনগণের সামনে উপস্থাপনের জন্য ঐসব গণমাধ্যমের চাইতে আরো বেশি শক্তিশালী গণমাধ্যম তৈরি করতে হবে। যার শক্তির উৎসই হবে সত্য। বিশ্ববাসী ভালোভাবেই জানে CNN, BBC, VOA, রয়টার্স, এএফপির মত মিড়িয়া কোন মহলের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজ করে। কিন্তু মুসলমানদের কাছে সত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য তো বিকল্প কোনো মাধ্যম নেই। এটি অনেক ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং কাজ হলেও উম্মাহর প্রয়োজনে এটিকে গুরুত্বসহকারে দেখা অতি জরুরি। সংবাদকর্মীরা তা করতে বাধ্য যা মিডিয়ার মালিকেরা নির্দেশ করেন। তাই মালিকানা যার হাতে প্রচার দৃষ্টিভঙ্গি তার হাতে। Peace TV  একটি কেন! শত শত Peace TV তৈরির সক্ষমতা মুসলমানরা রাখে। এর বাস্তবায়ন যত দেরি হবে তত বেশি ইসলামপন্থীদের তথ্যসন্ত্রাসের ভয়াবহ দংশনে কাতরাতে হবে।
(গ) তথ্যপ্রযুক্তির কারিগর তৈরি : তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। আল কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান। কুরআন আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে মানবজাতির উৎকর্ষতার জন্য সব ইউনিক বিষয়রেই নির্দেশনা দিয়েছে, যা বর্তমানকালে বিজ্ঞানীরা নতুন করে কিছু আবিষ্কারের পর তারা বিস্মিত হচ্ছেন। কারণ আল কুরআনে এর বর্ণনা ও নির্দেশনা অনেক আগেই দেয়া হয়েছিল। সুতরাং যে সকল বিজ্ঞানী অজ্ঞতাপ্রসূত মনে করেন কুরআন বিজ্ঞানশূন্য, প্রকৃত পক্ষে কুরআনকে তারা বুঝতে সক্ষমতা লাভ করেননি। তাই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ এ সমাজব্যবস্থায় কুরআন থেকেই আমাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। অসত্য ও মেকি মুখরোচক তথ্য যখন সমাজব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত অশান্তির দাবানল বেড়েই চলছে, এ সময় যারা তথ্যপ্রবাহের কাজের সাথে জড়িত তাদের খুবই প্রয়োজন। তাই মিডিয়ার মালিকানা যেভাবে জরুরি তেমনি সেগুলোকে পরিচালনার জন্য যোগ্য নিয়ন্ত্রক ও কর্মী তৈরি করা আরো জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় কোন মিডিয়া হাউজের অধিকাংশ কর্মকর্তা যদি মালিকের চিন্তার বিপরীত মতের হয় তখন তাদের দাপট ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই হাউজ চলতে বাধ্য হয়। শুধু নিজেদের মিডিয়া হাউজের অঙ্গনে যাতে যোগ্যকর্মীরা হারিয়ে না যান সে কারণে সুনির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে অন্য সংস্থাগুলোতেও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন মিডিয়া কারিগর তৈরি করতে হবে। যেমন, গুগোল, ইয়াহু, নাসাসহ সকল প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রবাহের কারিগর। যারা পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো নতুন কিছু তৈরি করবে।
(ঘ) সব তরুণ-তরুণীর কাছে ইসলামের সঠিক আহ্বান পৌছানো : কুরআনের ওই বাণী তাদের কর্ণকুহরে পৌঁছে দেয়াÑ “হে কম্বল আচ্ছাদনকারী, উঠ! সাবধান কর। তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।” মুসলিম তরুণ-তরুণীদের হৃদয়ে ইসলামের আদর্শই সর্বাধুনিক আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করে ইসলামী আদর্শবিরোধী জীবনাচরণকে ত্যাগ করে দ্বীনের ঝাণ্ডাবাহী মর্দে মুমিন হিসেবে কল্যাণমূলক কাজের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার জন্য আদর্শের মূর্তপ্রতীক হিসেবে কিছু ব্যক্তিকে ভূমিকা পালন করতে হবে। যারা নিজেদেরকে সর্বতোভাবে আল্লাহর রঙে রঙিন করতে চায়, একই ভাবে সারা দুনিয়াকে। এমন ভিশনারি যুবসম্প্রদায় তৈরি করতে পারলেই সর্বপর্যায়ে এক অভূতপূর্ব শিহরণ জাগ্রত করা সম্ভব। যারা সত্যনির্ভর প্রত্যাশিত জাতিগঠনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করবে।
(ঙ) কুরআনের রাজ কায়েমের উদ্যোগ গ্রহণ করা : কুরআন- হাদিস তেলাওয়াত শুধুমাত্র সওয়াব অর্জনের জন্য নয় বরং পৃথিবীর অনিবার্য বাস্তবতার জন্য কুরআনের রাজ কায়েমের কাজকে দুর্বার করার লক্ষ্যে। আল কুরআনের সমাজ গঠনের কাক্সিক্ষত মানুষ তৈরির জন্য একদল লোক তৈরি করা ও তা প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ধীরে ধীরে পরিবেশ তৈরি করা। সর্বতোভাবে আল- কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
(চ) উপযুক্ত নেতৃত্ব তৈরি : এমন নেতৃত্ব তৈরি হবে যারা অন্যায়ের কাছে মাথানত করে না, যেমন কঠিন ¯্রােতের বিপরীতে নাবিক তরী বয়ে চলে। যারা দুমড়ে-মুচড়ে যাবে, ক্ষত-বিক্ষত হবে, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রমাণ করবে অসত্যের কাছে মাথা নত করার চেয়ে জীবনের পরিসমাপ্তি অনেক শ্রেয়। অর্থ-নারী-ক্ষমতা কোন কিছুই যাদেরকে মঞ্জিল থেকে একচুল নড়াতে পারবে না। এমন নেতৃত্বকে পৃথিবী ঘুরাতে পারে না পৃথিবীকে সে নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরানোর সক্ষমতা অর্জন করে। যে নেতৃত্ব মানবতার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দেবে।
(ছ) দেশে বিদেশে সকল ইসলামী সংগঠনের লক্ষ্য স্থির করা ও পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা : ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যে সকল ইসলামী সংগঠন দেশাভ্যন্তরে ও বহির্বিশ্বে কাজ করে যাচ্ছে তাদের ভেতর পারস্পরিক লক্ষ্য এক ও অভিন্ন হওয়া চাই, একইভাবে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। যেমন আন্তর্জাতিক সংগঠন OIC, Rabeta, Al-Alam Al-Islam, IDB, ISESCO, IIIT, I WAMY এর সাথে সমন্বয় করেও ইসলামের পুনর্জাগরণের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, তাই সেগুলোকে ইসলামের কার্যকর সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালনের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা।
(জ) বিকল্প সাংস্কৃতিক ইমারত তৈরি : সাংস্কৃতিক মন-মননের ওপর একটি জাতির আত্মপরিচয় বহন করে। ইসলামী তাহজিব তমুদ্দুনের বিপরীতে ঈমানবিধ্বংসী সংস্কৃতি গ্রহণ করে মুসলমানদের একটি অংশ নিজেদের চেতনাবোধকে অন্য সংস্কৃতির হাতে বিকিয়ে দিয়েছে, ভুলে গেছে তাদের আত্মপরিচয়। যাদের ধারণা ইসলামে কোনো সংস্কৃতি নেই। আবার অনেকেই গান বাজনাকেই শুধু সংস্কৃতি হিসেবে ধরে নিয়েছে। এ ধরনের ভুল ধারণা শুধরে দেয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজন শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা ও ইসলামসম্মত সংস্কৃতির ব্যাপক চর্চা, প্রশিক্ষণ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। এমন এক দৃশ্যমান আশা জাগানিয়া উদ্যোগ প্রয়োজন যা শুধু মুসলমানদের মধ্যে নয়, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও শিহরণ জাগাতে সক্ষম হবে, যা শুদ্ধ সমাজগঠনে বিশেষ অবদান রাখবে।
(ঝ) এক কেন্দ্রবিন্দুর দিকে আহবান : মুসলিম মিল্লাতের নেতৃবৃন্দসহ ইসলামের অনুসারীদের একযোগে ইসলামের মৌল আদর্শের দিকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আহবান জানানো এবং আদর্শের পক্ষে যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরা। যেভাবে হযরত আদম (আ) থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ (সা) এক আল্লাহর দিকে বিশ্বমানবতাকে আহবান জানিয়েছিলেন।
(ঞ) মন্দের জবাব ভালো দিয়ে : ইসলামের মূল সৌন্দর্য হলো সত্যবাদিতা। সকল অসুন্দরের মোকাবেলা হবে সুন্দর দিয়ে। মন্দের জবাব ভালো দিয়ে। মন্দের জবাব যদি মন্দ দিয়ে হয়, অসুন্দরের জবাব যদি অসুন্দর দিয়ে হয় তাহলে আদর্শবাদী আর অনাদর্শবাদীদের মধ্যে ন্যূনতম পার্থক্য থাকে না। যদি সত্যপন্থী পরিচয় বহনকারীদের পরিচয় শুধু প্রচার-প্রকাশনায়, বক্তব্য বিবৃতির মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে, এর কথকরা যদি নিজেদের জীবনে এর প্রতিফলন ঘটাতে না পারে; এ ধরনের আদর্শপরিপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকাণ্ড দিয়ে স্বীয় আদর্শ কখনো সমাজজীবনে আশাব্যঞ্জক কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। সত্যাশ্রয়ী সমাজগঠনের অনন্য নমুনা হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা) ও তার সাহাবীরা।
(ট) নিজেদের দুর্বলতার দিকগুলো নির্ণয় করে সমাধানে উদ্যোগী হওয়া : ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন সে আন্দোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিরোধীদের যেমন চক্রান্ত ষড়যন্ত্র আছে একইভাবে নিজেদের মধ্যেও অনেক দুর্বলতা আছে সেগুলো যথার্থভাবে চিহ্নিত করে সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যেমন, পাশ্চাত্যনির্ভরতা, মুসলিম শাসক ও জনগণের মাঝে দূরত্ব ও দ্বন্দ্ব, নিজেদের ভেতর অনৈক্য ও ফেরকাবাজি এবং জনসমর্থন নয় ইসলামী বিপ্লবের পূর্বশর্ত সশস্ত্র সংগ্রামের ধারণা ইত্যাদি।
(ঠ) যথার্থ সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করা : যথার্থ সমালোচনাকে সাদরে গ্রহণ করে ভুলত্রুটি শুধরে নেয়া, যে কোন আদর্শবাদী দলের নেতাকর্মীদের সমালোচক হওয়ার পরিবর্তে সমালোচনা শোনার মতো মানসিকতা তৈরি করতে হবে। যথার্থ সমালোচনা গ্রহণ করে ব্যক্তি ও সংগঠনকে সংশোধনের চেষ্টা থাকলে মঞ্জিলে পৌঁছার ক্ষেত্র আরও সহজ হয়। আবার আন্দোলনের সমালোচক কর্মীরা আন্দোলন নিয়ে আশান্বিত হয়। তারা আন্দোলন নিয়ে নতুন করে কাজ করার অনুপ্রেরণা পায়। নেতৃত্বের আরও একটি বড় গুণ হলো কথা বলার চেয়ে কথা বেশি করে শোনা। শুধুমাত্র সমালোচনার দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয়গুলো নিজেদের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শত্রুমহলের সমালোচনাকেও খতিয়ে দেখা। কোন এক বিজ্ঞজন যথার্থই বলেছিলেন, ‘মূর্খ বন্ধুর চাইতে ধূর্ত শত্রু অনেক শ্রেয়।’ স্বভাবজাত দৃষ্টি থেকে মানুষ মনে করে সে যা বলে তাই যথার্থ। সেটি অসত্য হলেও তা সত্য হিসেবে রূপ দেয়ার জন্য সব ধরনের কলাকৌশল অবলম্বন করে। মিথ্যার আশ্রয় নেয়। ইনিয়ে বিনিয়ে শেষ অব্দি যুক্তিতর্ক চালিয়ে যায়। এ ধরনের পরিবেশ যেখানে বিরাজ করবে সেখানে সত্যকে জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করার প্রত্যাশা করা দুরূহ ব্যাপার। তবে এ বিপ্লবের সর্বস্তরের ব্যক্তিরা যদি যেকোন প্রতিকূল পরিবেশেও সত্যাশ্রয়ী হয় তাহলে তাদের কাছে সময়ান্তরে মিথ্যা পরাজয় বরণ করে।
(ড) আশার শিহরণ জাগ্রত করা : চারদিকে মিথ্যার আস্তরণের কালো মেঘে যখন লক্ষ্যভ্রষ্ট দিগি¦দিক মানবতা, বিশ্বাসের ইমারতগুলো যখন ভেঙে খান খান, আশার প্রদীপ নিভু নিভু, মিথ্যার প্রেতাত্মারা নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হয়ে বীভৎস চেহারায় সবকিছুকে করায়ত্ত করতে চায় তখন সত্যপন্থীদের দুর্বার দুঃসাহসিকতা নিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে চলা এক ইস্পাতকঠিন দুরূহ কাজ। কিন্তু যারা সমাজের সকল আবর্জনাকে ধুয়ে মুছে সুগন্ধিময় করতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায় তাদের সম্মুখে সাগরের ভয়ঙ্কর উত্তাল, হিমালয়ের উত্তুঙ্গে আরোহণ ও বাতাসের প্রচণ্ড তোড়ে ঠায় সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়া খুব মামুলি ব্যাপার অনুভূত হয়। রাসূল (সা)-এর সাহাবীরা যেভাবে আরবের জাহেলিয়াতপূর্ণ সমাজব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে নতুন সমাজব্যবস্থা গঠন করেছিলেন। প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে যে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুঃসাহসিক নাবিক হওয়ার মতো হিম্মতের বারুদ রপ্ত করতে হবে, যা দেখে হতবাক হবে বিশ্ববাসী, যাদের কাছে বুক ভরা আশা নিয়ে প্রত্যাশা করবে শোষিত-বঞ্চিত মানবতা, থাকবে না হতাশার লেশমাত্র চিহ্ন; জাগ্রত হবে আশার শিহরণ।
ইসলাম অবিচারের বিরুদ্ধে সুবিচারের ইস্পাতকঠিন দেয়ালের নাম। এর নাম নিশানা যারা নিঃশেষ করে দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করে তারাই সে দেয়ালের প্রচণ্ড আঘাতে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। সকল চড়াই-উৎরাই মাড়িয়ে সত্য-সুন্দরের তরী বয়ে চলে স্ব গতিতে আপন লক্ষ্যপানে। মিথ্যার প্রেতাত্মারা সাময়িক চমক দেখিয়ে ফায়দা লুটলেও তাদের ধ্বংসশালার ইমারত নিজের হাতে নিজেরাই কামাই করে নেয়। ইসলামকে নিয়ে পাশ্চাত্যের মিডিয়াজগৎ চরম নাজুক ও নাজেহাল অবস্থার চিত্র তুলে ধরেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই বিরোধী শিবিরের লেখক এবং বুদ্বিজীবী প্রফেসর এডওয়ার্ড সাইদ তার “Covering Islam’ বইয়ে। তার কথায় ”The main difficulty with Islam for the western media, however, was that unlike India or china, It hat never been pacified or defeated.” অর্থাৎ ইসলামের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের মিডিয়া জগতের প্রধান সমস্যা হলো ভারত বা চীনের মতো ইসলামকে না কখনও শান্ত করা গেছে, না পড়তে স্বীকার করানো গেছে। এ জন্যই পাশ্চাত্য তথা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ইসলামের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি আক্রমণে নেমেছে। তা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়েও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রাচ্য লেখক Samuel Huntington তার বিখ্যাত বই Clash of civilization “যাতে তিনি ইসলামের অনিবার্য উত্থান প্রয়াস” এবং তার সাথে অন্যান্য সভ্যতার অনুগামীদের অবশ্যম্ভাবী সংঘাতকে চিহ্নিত করেছেন। ইসলামকে শুধু পাশ্চাত্য জগৎ নয় বরং সারা দুনিয়ার ইসলামবিদ্বেষীদের কাছে একমাত্র চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে। কিন্তু ইসলাম হলো এক অনিবার্য জীবনব্যবস্থার নাম, যা ব্যতীত একটি প্রকৃত কাক্সিক্ষত স্বপ্নিল সমাজ কায়েম করার স্বপ্ন লালন করা দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হোক না কেন ইসলাম কায়েমের কাণ্ডারিদের সম্মুখ পানে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। তাই শুধুমাত্র বিরোধীদের পরিকল্পনা মোকাবেলা নয় বরং মানুষ যাতে সত্য স্বাগ্রহে গ্রহণ করে সে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্ব মহলে ইসলামের আহবান পৌঁছাতে হবে, ইসলাম মানবতার জন্য মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি, ইসলামই মানবতার মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে। সমাজব্যবস্থায় বেড়ে উঠবে একদল মুজাহিদ, যারা বাতিলের বিরুদ্ধে গড়ে তুলবে প্রচণ্ড দ্রোহ, সুন্দর আগামী বিনির্মাণে বিলিয়ে দেবে নিজের জীবনের সব কিছু। আল্লাহর রঙ তাদের জীবনের রঙ, আল্লাহর পছন্দ তাদের পছন্দ। আল্লাহর কাছে যা অপ্রিয় তাদের কাছে প্রিয় হিসেবে উপস্থাপনের সাধ্য কার? ইসলামী সংগঠন ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে কুৎসিত অপপ্রচার তার জবাব শুধু সত্যকে তুলে ধরার মাধ্যমেই মোকাবেলা করা সম্ভব। যারা আদর্শের লড়াইয়ে পরাজিত তারাই কেবল সুড়ঙ্গের চোরাপথে কালজয়ী আদর্শকে পরাজিত করতে চায়। তাদের মোকাবেলায় অনুরূপ প্রত্যুত্তর আন্দোলনের আদর্শকে জলাঞ্জলি দেয়া ছাড়া আর কী করতে পারে? তাই রাসূলের (সা) শেখানো পথেই নিজের সকল সহায়সম্বলকে বিলিয়ে দিয়ে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সময়োপযোগী পরিকল্পনা নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালালে সে সুফল একদিন ধরা দিবেই, অসত্যের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাবে মানবতা।
লেখক : কেন্দ্রীয় সভাপতি,
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply