দীপ্ত শপথের নির্ভীক কাফেলা থামতে জানে না । ড. মোবারক হোসাইন

দীপ্ত শপথের নির্ভীক কাফেলা থামতে জানে নাসময়ের আবহে নতুন বছরের পথচলার সূচনা হয়েছে। ধ্বনি বেজে উঠেছে একবিংশ শতাব্দীর নতুন আরো একটি বছর ২০১৯ সালের। পুরাতন বছর পেরিয়ে ইতোমধ্যেই আমরা পদার্পণ করেছি নতুন বছরে। নতুনের আহবানে সাড়া দেয়া, পৃথিবীর শাশ্বত নিয়ম। এ নিয়মের ব্যত্যয় কোনো দিন কোনো কালে হয়নি। ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত সকলকেই নতুনভাবে নতুন উদ্যমে নতুন দীপ্ত শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে নতুন বছরের পথচলা শুরু করতে হয়। কারণ এ পথচলা কখনো মসৃণ হয় না। অনেক বাধা-বিপত্তি, জেল জুলুম নির্যাতন আর প্রতিবন্ধকতার হাজারো পাহাড় মাড়িয়ে সামনে এগিয়ে চলতে হয় এ আন্দোলনের নেতাকর্মীদের।
বছরের মাঝামাঝি এসে কিংবা শেষ প্রান্তে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর চাইতে শুরুতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে পথচলতে পারার মাঝেই নতুন বছরের সার্থকতা নিহিত। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্ব সহকারে বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশলের সাথে কাজ করতে পারলে হাজারো প্রতিবন্ধকতার পাহাড় মাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত মঞ্জিলে পৌঁছা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

চ্যালেঞ্জের বছর ২০১৯ সাল

২০১৯ সালটি কেমন যাবে তা হলফ করে বলার সুযোগ নেই। এ বছরটি শুরুতেই স্বৈরতান্ত্রিক সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে নিজেদের অধীনে প্রহসনের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে ভোটডাকাতির মাধ্যমে তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। তাই এ বছরটি শুরুই হয়েছে চ্যালেঞ্জের বছর হিসেবে। অবশ্য দ্বীন বিজয়ের প্রত্যয়ে কাজ করা কর্মীদের কাছে প্রতিটি বছরই সমান গুরুত্বের হোক সেটা আজ কিংবা আগামীর। বরং দিন যত যায় চ্যালেঞ্জ তত বাড়ে। ধর্মনিরপেক্ষ এবং ইসলামবিদ্বেষী শক্তিগুলো একজোট হয়ে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন কৌশলে বরাবরের মতো ইসলামী আন্দোলনের ওপর আঘাত হানতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ এ কথা সর্বজনবিদিত সত্য যে হক এবং বাতিলের দ্বন্দ্ব চিরন্তন। সত্য এবং মিথ্যার পারস্পরিক লড়াই যুগ থেকে যুগান্তরে ছিল, আজো আছে, কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার হিম্মত বুকে ধারণ করে ইসলামী আন্দোলনের আদর্শবান কর্মী হিসেবে গড়ে ওঠার কার্যকর পন্থা গ্রহণ করতে পারলেই উবে যাবে বাতিলের সকল ষড়যন্ত্র। কবি মতিউর রহমান মল্লিকের গান- আমি হতাশ হব না/ ভেঙে পড়ব না/ নিরাশ হব না/ ভয়ও করব না/ দ্বীনের কাজে ব্যস্ত রব বরং সকাল সাজ/ দিনের পরে রাত্রি যেমন আসে/ তেমনি আবার রাতের পরে দিনের আলো হাসে।

সফলতার জন্য প্রয়োজন সুন্দর পরিকল্পনা

পরিকল্পনা হচ্ছে ভবিষ্যৎ পালনীয় কর্মপন্থার মানসিক প্রতিচ্ছবি। পরিকল্পনা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সময়ের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে। যদি কেউ পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে ব্যর্থ হওয়ারই পরিকল্পনা করলো। প্রবাদ আছে যে, যদি আমরা পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমরা ব্যর্থ হওয়ার পরিকল্পনাই গ্রহণ করলাম (If we fail with right scheme, we will take the wrong succeed))। ইংরেজিতে আরেকটি প্রবাদ আছে যে, “ (Well plan is half done) If you do not know where you are, it is impossible to determine how you can get to where you want to be.” পরিকল্পনাবিহীন কাজ মানেই উদ্দেশ্যবিহীন কাজ। সাফল্যের স্বর্ণদুয়ারে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন সময়ের যথার্থ ব্যবহার ও সুন্দর পরিকল্পনার। পরিকল্পনা হলো যেকোন কাজের দরজা। To plan master is to plan the gateway to learning. লক্ষ্য বা টার্গেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সময়; ব্যবস্থাপনার সুন্দর পরিকল্পনা, যা আপনাকে পৌঁছে দিবে সাফল্যের স্বর্ণদুয়ারে। আব্রাহাম লিঙ্কন বলেন, “If we could first know where we are, and whither we are tending, we could better judge what to do, and how to do it.”
নতুন বছরটা কিভাবে পরিচালিত হবে তার জন্য সবার আগে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ। পরিকল্পনা হবে ব্যক্তিগত এবং দলগত। পরিকল্পনা হবে আউটপুটভিত্তিক। আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা বছরের শুরুতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন না। কেউ দলগত তথা সম্মিলিত পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেন না। শুরুতেই ব্যক্তিগত এবং দলগত দুই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণই জরুরি। কখনো কখনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ধারণাভিত্তিক কিংবা আন্দাজের ওপর। এ ধরনের পরিকল্পনা কখনো সুফল বয়ে আনে না।দীপ্ত শপথের নির্ভীক কাফেলা থামতে জানে না

ব্যক্তিগতভাবে লক্ষণীয় কিছু বিষয়:

» প্রত্যেক জনশক্তিকে আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো।
» ছোট বড় সকল প্রকার গুনাহের কাজের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে সে অনুসারে পথ চলা।
» প্রতিদিন সময় নিয়ে কুরআন হাদিস অধ্যয়ন ও প্রতি ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করার চেষ্টা করা।
» বছরের শুরুতেই প্রতিটি জনশক্তির বার্ষিক ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
» জাহেলিয়াতের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আন্দোলনের জন্য মেধা ও মননকে কাজে লাগানো।
» আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সংগঠনের প্রতিটি নির্দেশ যত্নের সাথে পালন এবং সংগঠনের কাজ নিয়ে পেরেশানি আরো বাড়ানো।
» নিজেকে ইসলামের বাস্তব সাক্ষ্য তথা মডেল হিসেবে প্রস্তুত করা।
» গোটা সংগঠনকে এমনভাবে পরিচর্যা করা যাতে এটি একটি জান্নাতের বাগানে পরিণত হয়। সেজন্য জনশক্তির নিবিড় তত্ত্বাবধান, অকৃত্রিম সাহচর্য, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
» নিজেদেরসহ সকল জনশক্তির সাংগঠনিক কাজ ও একাডেমিক কাজে ভারসাম্য রক্ষা করা। এক্ষেত্রে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানো।
» নিজেদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইংরেজি ও আরবি ভাষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে পারদর্শিতা অর্জনের চেষ্টা করা।
» একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে নিজেকে সার্বিক দিক (ঈমান, ইলম, আমল, আখলাক, ক্যারিয়ার, সাংগঠনিক দক্ষতা, সংগঠনের সাথে দৃঢ়-সংযুক্তি, সমাজ পরিবর্তনের দক্ষতা প্রভৃতি) থেকে প্রস্তুত করা।

দাওয়াতকে জীবনের মিশন হিসেবে গ্রহণ করা

» পরিবেশ পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, দাওয়াতি কাজ চলমান থাকবে। এক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তা, হিম্মত, বিচক্ষণতা, কৌশলের মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ করা।
» যেকোন মূল্যে দাওয়াতি তৎপরতা অব্যাহত রাখা। ২০:১৫:১০ হারে বন্ধু বৃদ্ধি এবং ১২:১০:৫ হারে সমর্থক বৃদ্ধির চেষ্টা করা।
» স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদের সংগঠনে নিয়ে আসার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।
» চার ক্যাটাগরির ছাত্রদের (সিঙ্গেল ডিজিট, জিপিএ-৫, প্লেসধারী, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান) তালিকা করে দাওয়াতি টার্গেটের অধীনে আনা।
» দাওয়াতি চরিত্রের অধিকারী হওয়া। হিকমতপূর্ণ যেকোনো উপায়ে সকল পর্যায়ের ছাত্রদের নিকট দাওয়াত পৌঁছানোর চেষ্টা চালানো। আমাদেরকে বহির্মুখী চরিত্রের অধিকারী হওয়া; এক্ষেত্রে ‘যেখানেই ছাত্র, দাওয়াত দানের লক্ষ্যে সেখানেই আমরা’- এই শ্লোগানকে বাস্তবায়ন করা।
» প্রত্যেক জনশক্তি একজন করে নতুন ছাত্রকে কুরআন পড়া শেখানো। দাওয়াত দানের উদ্দেশ্যে প্রত্যেকে কমপক্ষে একজন দরিদ্র ছাত্রকে ফ্রি প্রাইভেট পড়ানোর চেষ্টা করা।
» অনলাইনভিত্তিক দাওয়াতি কাজ জোরদার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত ও ব্যবহার করা হবে।
» প্রতিটি মসজিদকে দাওয়াতি কাজের কেন্দ্রবিন্দু বানানো হবে।
» দাওয়াত দানের উদ্দেশ্যে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে ।
» দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার বাণীসমূহ উল্লেখ আছে যেসব স্থানে হামীম আস-সাজদা: ৩৩; নাহল: ১২৫,৩৬; আলে-ইমরান: ১১০,১০৪; আহযাব: ৪৫-৪৬; শুরা: ১৫; আরাফ: ৫৯,৭৩,৮৫,৬৫; ফাতির: ২৪; ইউসুফ: ১৫৮; ইব্রাহীম: ৫; মুদ্দাচ্ছির: ১-৩; বনি-ইসরাইল : ৫৩।


কুরআন ও সুন্নাহর ওপর টিকে থাকলে কোন ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। এ ব্যাপারে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো- হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন; আমি মু’আবিয়াহ (রা)-কে খুতবায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইল্ম দান করেন। আমি তো বিতরণকারী মাত্র, আল্লাহই (জ্ঞান) দাতা। সর্বদাই এ উম্মাত কিয়ামাত পর্যন্ত আল্লাহর হুকুমের ওপর কায়েম থাকবে, বিরোধিতাকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ বুখারী)


সংগঠন

আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান : ১০৪)
» পরিকল্পিতভাবে সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনে ভূমিকা রাখা।
» প্রতিটি ক্যাম্পাস-সংগঠনকে মজবুত করার জন্য পরিকল্পনার আলোকে সবাই মিলে প্রচেষ্টা চালানো।
» উপশাখার মৌলিক প্রোগ্রামসমূহ নিয়মিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
» শাখাসমূহ সুনির্দিষ্ট নামসহ একাধিক বেইজ এরিয়া তৈরি করবেন। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশর্^বর্তী এরিয়াকে গুরুত্ব দিবেন।
» সংগঠনের গুরুত্বের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার বাণীসমূহ- সূরা আলে ইমরান : ১০১, ১০৫, ১১০; সূরা নিসা : ১৭৫; সূরা সফ : ৪।

প্রশিক্ষণ

আমরা তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন। আর তা শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না। (সূরা বাকারা ১৫১)
আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : কোন ব্যক্তি ইল্ম অর্জনের জন্য কোন পথ অবলম্বন করলে তার বিনিময়ে আল্লাহ্ তার জান্নাতের পথ সুগম করে দেন। যার আমল তাকে পিছিয়ে রেখেছে, তার বংশগৌরব তাকে এগিয়ে দিতে পারে না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৩৬৪৩)
» কুরআন হাদীসের গভীর জ্ঞান অর্জন করা।
» জনশক্তির অ্যাকাডেমিক ও সাংগঠনিক অধ্যয়ন বাড়ানো।
» নিশ্চিত করেই কেবলমাত্র মানোন্নয়ন করা। ৩:২:১ হারে মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।
» ওয়ার্ড/ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক হারে টিএস বাস্তবায়ন করা।
» জনশক্তিদের সাথে ব্যাপক হারে ব্যক্তিগত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা।
» যত কঠিন পরিবেশই হোক না কেন, দু’টি কাজ বন্ধ হবে না (ক) দাওয়াতি কাজ (খ) প্রশিক্ষণমূলক কাজ।
» জনশক্তির ইলম, আমল, মোয়ামেলাত, নৈতিক মান, সাংগঠনিক ও ইতিহাস ঐতিহ্যের জ্ঞান, সাংগঠনিক তৎপরতা, বিচক্ষণতা, ত্যাগ-কোরবানি ও অ্যাকাডেমিক সচেতনতা বিষয়ে লক্ষ রেখে মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা ।
» ব্যক্তিগত পাঠাগার তৈরিতে জনশক্তিদের উৎসাহ দেয়া।
» প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার বাণীসমূহ উল্লেখ আছে- সূরা বাকারা: ১২৯; সূরা আলে ইমরান : ৪৮; সূরা জুমুআ : ২।

শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্রসমস্যার সমাধান

» ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখা।
» ছাত্রদের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা।

ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ

» জনশক্তির পরিকল্পিত ক্যারিয়ার গঠনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
» ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সমাজসেবক ও সামাজিক নেতৃত্ব তৈরির কাজে Motivation চালানো।
» রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ব্যাপারে সচেতন থাকা।
» আউপুটভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করা

পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিকে এমনভাবে সুদৃঢ় করা প্রয়োজন যাতে গোটা সংগঠন একটি জান্নাতের বাগানে পরিণত হয়। সে জন্য ব্যক্তিগত যোগাযোগ, জনশক্তির নিবিড় তত্ত্বাবধান, অকৃত্রিম সাহচর্য, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে যারা যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত যোগাযোগ পদ্ধতিকে কার্যকর করে তাদের প্রতি মমত্ববোধ সহকারে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই-এর ভিত্তিতে রচিত হবে পারস্পরিক সম্পর্ক। তাতে থাকবে না কোনো ধরনের গিবত বা পরনিন্দার চর্চা, থাকবে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ। আল্লাহ বলেন, “মুমিনেরাতো পরস্পরের ভাই।” (সূরা হুজুরাত : ১০) ইসলামী আন্দোলনের একেকজন কর্মীর সাথে অপর কর্মীর সম্পর্ক হবে পরস্পর ভাই ভাইয়ের মতো। তারা আল্লাহর জন্যই একে অপরকে ভালোবাসবে। যারা এরূপ সম্পর্ক স্থাপন করবেন কিয়ামতের দিন তারা আরশের নিচে স্থান লাভ করবেন। এ প্রসঙ্গে হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণিত; হাদিসে এসেছে, “আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন বলবেন, যারা আমার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরস্পরকে ভালোবাসতো, তারা আজ কোথায়! আজকে তাদেরকে আমি নিজের ছায়াতলে আশ্রয় দান করবো। আজকে আমার ছায়া ছাড়া আর কারো ছায়া নেই।” (মুসলিম)

কেউ না করুক আমি করবো কাজ

কে কাজ করলো কে করলো না, কে কতটুকু কম কিংবা বেশি করলো সেটি আমার বিবেচ্য বিষয় হবে না। বরং আমি কতটুকু কাজ করতে পারলাম সেটিই হবে বিবেচ্য বিষয়। মনে রাখতে হবে ইসলামী আন্দোলনে শরিক হয়েছি আমরা নিজেদের স্বার্থেই। কারণ এ আন্দোলনে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আমরা আমাদের পরকালীন মুক্তি তথা জান্নাত অর্জন করতে চাই। জান্নাত অর্জন করতে এসে যদি দায়িত্বে অবহেলা কিংবা আনুগত্যহীনতার কারণে আমাদের জন্য জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামই বরাদ্দ হয় তাহলে দ্বীনি এ আন্দোলনের সাথে যুক্ত হওয়ার সার্থকতা কোথায়? তাই কে কতটুকু কাজ করল তার দিকে না তাকিয়ে বরং কেউ না করলেও আমি কাজ করবো, আমি আমার পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত তথা জান্নাতের উপযোগী মানুষ হবো- এটিই হওয়া উচিত আমাদের প্রত্যয়। মরহুম কবি মতিউর রহমান মল্লিকের সুর আমাদের সবার ধ্বনিতে প্রতিধ্বনি হওয়া উচিত- “কেউ না করুক আমি করবো কাজ/ আল কোরআনের আহবানে/ দ্বীন কায়েমের প্রয়োজনে/ নতুন করে আবার আমি /শপথ নিলাম আজ।” আনাস ইবনে মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল, তিনি আগামীকালের জন্য কিছু জমা রেখে দিতেন না। (শামায়েল তিরমিযী: ৩৩৯)

জবাবদিহির অনুভূতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা

জবাবদিহির অনুভূতি নিয়েই প্রত্যেককে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর দায়িত্বের ব্যাপারে প্রত্যেককেই জিজ্ঞাসা করা হবে। যার যে কাজ, সর্বোচ্চ পেরেশানি নিয়ে সে কাজ করা এবং সর্বপর্যায়ে গতিশীলতা নিয়ে আসার চেষ্টা করা প্রয়োজন। আমাদের ওপর অর্পিত দ্বীনি আন্দোলনের এই বিশাল আমানতের খেয়ানত যেন না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে, সব সময় মনে রাখতে হবে, আমাদের সকলকেই এ দায়িত্বের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে কাল কিয়ামতে যেন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে না হয় সে জন্য সবসময় মহান আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে হবে। যিনি কর্মী তিনিও দায়িত্বশীল। তারও জবাবদিহিতা আছে। দায়িত্বের ব্যাপারে রাসূল (সা)-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদিস রয়েছে- হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। “আল্লাহ কোনো সত্তার ওপরে তার ক্ষমতার অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” (সূরা বাকারা : ২৮৬)

পর্দা, নৈতিকতা এবং তাকওয়া চর্চার মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি অর্জন

যারা ইসলামী আন্দোলন থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, কিংবা খারাপ পথে পা বাড়ায় তাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন নাই। সে জন্য পর্দা, নৈতিকতা এবং তাকওয়া চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদের আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো আবশ্যক। আত্মশুদ্ধি এমন একটি বিষয় যা অর্জন মানুষকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। আত্মশুদ্ধির ওপরই নির্ভর করে মানুষের যাবতীয় কার্যক্রম ও তার ফলাফল। এ জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বার বার অন্তরাত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য যেমন তাকিদ দিয়েছেন তেমনি এটা অর্জনের ওপরই মানুষের সফলতা, ব্যর্থতাকে নির্ভরশীল করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করল সে-ই সফল হলো, আর ব্যর্থ সে-ই যে নিজের অন্তঃকরণকে কলুষিত করল।” (সূরা শামস্ : ৯-১০) আত্মশুদ্ধি প্রসঙ্গে রাসূল (সা) বলেছেন, “সাবধান! মানুষের দেহের অভ্যন্তরে একটি পিণ্ড রয়েছে, যদি তা পরিশুদ্ধ হয় তবে সমস্ত দেহই পরিশুদ্ধ হয়; আর যদি তা বিকৃত হয়ে যায় তবে সমস্ত দেহই বিকৃত হয়ে যায়। সেটা হলো কলব বা আত্মা।” (মুত্তাফাকুন আলাইহ্, মিশকাত)দীপ্ত শপথের নির্ভীক কাফেলা থামতে জানে না

সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারে শরিয়ত ওসংগঠনের অনলাইন নীতিমালা অনুসরণ করা

বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা সাধনের পাশাপাশি মানবেরও অনেক ক্ষেত্রে অধঃপতন হয়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, হাতে হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট আমাদেরকে যেমন অনেক অগ্রসর করেছে তেমনি আমাদের অনেকের নৈতিক মানকে দুর্বল করেছে প্রবলভাবে। সোস্যাল মিডিয়া তথা ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ নানা সোস্যাল মিডিয়া আমাদের আসক্তি বাড়িয়েছে। এসব ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত সময় ব্যয় আমাদের ক্যারিয়ারসহ সামগ্রিক অর্জনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারে শরিয়ত ও সংগঠনের অনলাইন নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি। শরিয়ত সমর্থন করে না এমন কোন সাইটে প্রবেশ না করা, দেশের আইন আদালতের বিপরীত কার্যক্রমে সোস্যাল মিডিয়ায় নিজেকে যুক্ত না রাখা প্রয়োজন। ফেসবুকে বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে তর্কবিতর্কে না জড়িয়ে সংযম প্রদর্শন করা।

ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক হওয়া

পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে সেটাকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করা। ত্যাগ-কোরবানির নজরানা পেশ করা। জনশক্তির মধ্যে যেন হতাশা কাজ না করে, সেজন্য ‘আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের মূল লক্ষ্য’- এ বিষয়ে মোটিভেশন চালানো এবং সর্বাবস্থায় ঈমানী দৃঢ়তার পরিচয় দেয়া। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা নিরাশ বা মনভাঙা হয়ো না, দুঃখিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা সত্যিকার মুমিন হও।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৯) মনে রাখতে হবে দৃঢ়তা তথা ধৈর্য সাফল্যের চাবিকাঠি। ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন এ প্রসঙ্গে কুরআনে এসেছে, “হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা বাকারা : ১৫৩)

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং তারই ওপর ভরসা করা

ইসলামী আন্দোলনের কঠিন জিম্মাদারি যারা পালন করেন তাদের নিয়মিত আত্মপর্যালোচনার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি ও তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা জারি রাখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নফল নামাজ (বিশেষ করে তাহাজ্জুদ), নফল রোজা (সোম/বৃহস্পতিবার), সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়কে সহযোগী উপকরণ হিসেবে কাজে লাগানো দরকার। এ ছাড়াও প্রয়োজন সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তারই নিকট বেশি বেশি সাহায্য কামনা করা। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “তোমরা যদি সত্যিকারার্থে মুমিন হও তাহলে এক আল্লাহর ওপরই ভরসা করো।” (সূরা আল মায়েদা : ২৩) আল্লাহ আরো বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করবে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হবেন।” (সূরা তালাক্ব : ৩) “যখন তুমি দৃঢ়ভাবে ইচ্ছা করবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান : ১৫৯) রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, “যদি তোমরা আল্লাহ তাআলার ওপর যথার্থ তাওয়াক্কুল কর তাহলে তোমাদের এমনভাবে রিজিক প্রদান করা হবে যেমন পাখিদেরকে রিজিক প্রদান করা হয়। পাখি সকালে খালি পেটে বের হয়। বিকেলে ভরপেটে ফিরে আসে।” (তিরমিযী)

আখিরাতের সাফল্যকে চূড়ান্ত সাফল্য মনে করা

দুনিয়ার সাফল্যের চাইতে আখিরাতের সাফল্যকে চূড়ান্ত সাফল্য মনে করা। কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী আর পরকালীন জীবন চিরস্থায়ী। সে জন্য দীর্ঘস্থায়ী আবাসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ দু’টি হাদিস তুলে ধরছি। হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে ৫টি প্রশ্নের জবাব না দেয়া পর্যন্ত এক কদমও নড়তে দেয়া হবে নাÑ ১. জীবনকাল কিভাবে অতিবাহিত করেছে, ২. যৌবনকাল কোন পথে ব্যয় করেছে, ৩. কোন পথে সম্পদ আয় করেছে, ৪. কোন পথে সম্পদ ব্যয় করেছে, ৫. ইলম (জ্ঞান) অনুযায়ী আমল করেছে কিনা? (তিরমিজি)। অন্য হাদিসে এসেছে, হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সা) বলেছেন, সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা (কিয়ামত দিবসে) তার (আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, সেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না। ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক, ২. ঐ যুবক যে তার যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে, ৩. ঐ ব্যক্তি যার অন্তঃকরণ মসজিদের সাথে ঝুলন্ত থাকে (জামায়াতে নামাজ আদায়ে উন্মুখ থাকে), ৪. ঐ দুই ব্যক্তি যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অন্যকে ভালোবেসেছে কিংবা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে (তাও আল্লাহর উদ্দেশ্যে), ৫. ঐ ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর ভয়ে অশ্রুপাত করেছে। ৬. ঐ ব্যক্তি যাকে কোন সম্ভ্রান্ত বংশের সুন্দরী মহিলা (ব্যভিচারের দিকে) আহবান জানায় আর (তদুত্তরে) সে বলে আমি আল্লাহকে ভয় করি (তা থেকে বিরত থাকে), ৭. ঐ ব্যক্তি যে এত গোপনে আল্লাহর রাস্তায় দান করল যে, তার বাম হাত জানতে পারল না ডান হাত কী দান করেছে। (বুখারি)

মুমিনদেরকে আল্লাহ্ সাহায্য করবেন

আল্লাহ তায়ালা বলছেন,“আমি সাহায্য করব রাসূলগণকে ও মুমিনগণকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দণ্ডায়মান হওয়ার দিবসে।” (সূরা গাফির : ৫১) আল্লাহ তায়ালা আরো বলছেন,“মুমিনদের সাহায্য করা আমার দাযিত্ব। (আর রুম ৪৭) যখন আমরা আমাদের ঈমানকে পরিপূর্ণ করব, আল্লাহ আমাদের বিজয় দান করবেন। কিন্তু আমাদের এক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, কেননা বিজয় লাভের পূর্বে একজন মুমিনকে অনেক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে বেহিসাবি পুরস্কার প্রদান

রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সত্যের কালেমা উচ্চারণ এবং মিথ্যা প্রতিরোধের জন্যে যুক্তি প্রদর্শন করে এবং নিজের প্রচেষ্টায় হকের সাহায্যের জন্যে কাজ করে সেই ব্যক্তির এই কাজ আমার সঙ্গে হিজরত করার চেয়ে বেশি উত্তম বিবেচিত হবে। রাসূল (সা) আরো বলেন, ইসলামের পথে কারো এক ঘণ্টার কষ্ট সহ্য করা এবং দৃঢ়পদ থাকা তার ৪০ বছর এবাদতের চেয়ে উত্তম। হযরত কাতাদা (রা) বলেন, হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) আমাকে বলেছেন যে, রাসূল (সা) বলেছেন, কেয়ামতের দিন দাঁড়িপাল্লা লাগানো হবে, সদকা খয়রাত যারা করবে তাদের দানের বিনিময়ে, পুরস্কার দেয়া হবে। নামায রোযা হজ ইত্যাদি নেক কাজের বিনিময় দেয়া হবে। এরপর আল্লাহর পথে বিপদ সহ্যকারীদের পালা আসবে। তাদের জন্যে দাঁড়িপাল্লা লাগানোর আগেই তাদের নেক আমল ওজন হয়ে যাবে। তাদের বেহিসাব বিনিময় দেয়া হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ধৈর্যশীলদের তাদের পারিশ্রমিক বিনা হিসেবে দেয়া হবে। (সূরা যুমার : ১০)

আল্লাহ কখনোই কাফিরদেরকে মুসলমানদের ওপর জয়ী হতে দেবেন না

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলছেন, কিছুতেই আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলমানদের ওপর বিজয় দান করবেন না।” (সূরা নিসা ১৪১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদিসে বলেছেন, “ইসলাম হচ্ছে সর্বদা সব কিছুর ওপরে, আর এর ওপর কিছু নেই অর্থাৎ কোন শক্তিই ইসলামকে দমিয়ে রাখতে পারে না। (বায়হাকি)

মুসলমানদের অভিভাবক হলেন আল্লাহ

প্রকৃত ঈমানদার জীবন দেবে তবুও ঈমানের পথ থেকে ফিরে যাবে না। পাক্কা মুসলমান কখনো মাথা নত করতে জানে না। বাতিলের হুঙ্কার, রক্তচক্ষু ভয় করে না মজবুত ঈমানদারেরা। মুসলমানদের অভিভাবক হলেন আল্লাহ। মুসলমানদের নেতা হলেন নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা)। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরি করে, তাগুত (শয়তান) তাদের অভিভাবক। তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে বের করে আনে। এরাই হলো জাহান্নামি। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (সূরা বাকারা : ২৫৭) সুতরাং আল্লাহ অভিভাবক হলে মুসলমানদের ভয় কিসের? দৈহিক নির্যাতন, মানসিক অস্থিরতা এবং কাতর অবস্থাকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা’য়ালা যুগে যুগে সকল ঈমানদারদের এই বার্তা দিয়ে বুঝাচ্ছেন যে, “লোকেরা কি মনে করেছে যে, ঈমান এনেছি বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে অথচ পরীক্ষা করা হবে না?” আল্লাহ বলেন, “এ সময় ও অবস্থাটি তোমাদের ওপর এ জন্য আনা হয়েছে যে, আল্লাহ দেখতে চান তোমাদের মধ্যে সাচ্চা মুমিন কে? আর তিনি তোমাদের শহীদ হিসেবে কবুল করতে চান।” (সূরা আলে ইমরান : ১৪১)

পরিশেষে বলা যায় যে, কুরআন ও সুন্নাহর ওপর টিকে থাকলে কোন ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। এ ব্যাপারে একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো- হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন; আমি মু’আবিয়াহ (রা)-কে খুতবায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইল্ম দান করেন। আমি তো বিতরণকারী মাত্র, আল্লাহই (জ্ঞান) দাতা। সর্বদাই এ উম্মাত কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর হুকুমের ওপর কায়েম থাকবে, বিরোধিতাকারীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ বুখারী)

লেখক : বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply