দেশ-বিদেশে ঈদের সংস্কৃতি -হাফিজ ইকবাল

প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ঈদ উদযাপনের উৎস সম্বন্ধে জানা যায় এদেশে অনেক আগে থেকে মুসলিম আরব বণিকগণ বিভিন্ন বহর নিয়ে ব্যবসা ও ইসলাম প্রচারে আসতেন। কিন্তু মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ সালে সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে এদেশে ইসলামের ঝাণ্ডা উড্ডয়ন করেন। ১২০৩/১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি তৎকালীন বঙ্গের শাসক সেন রাজবংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে সেন গৌড় দখল করেন। লক্ষ্মণ সেন প্রাণ নিয়ে তৎকালীন বঙ্গে পালিয়ে যান এবং তার সৈন্যরা পরাজিত হয়ে নদিয়া শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এভাবেই মুসলিমদের অধীনে আসে এই বঙ্গের জমিন। যেহেতু সনাতন ধর্মের লোকজন এ অঞ্চলে বাস করত সেহেতু তাদের রেওয়াজ রসম বেশি প্রচলিত ছিল। আর সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত হতে থাকে ইসলামী রেওয়াজ রসমের অনুষঙ্গগুলো তথা ঈদ ও তদীয় সংস্কৃতি এবং উৎসবগুলোর।
তবে ইতিহাসে উল্লেখ করা হয় যে, মোগলদের আগমনের আগে বাংলায় ঈদের দিনের খুব একটা মর্ম ছিল না। মোগলরা আসার পর থেকেই ঈদকে উৎসব রূপে দেখতে পায় উপমহাদেশের সব মুসলিম। আগে ঈদ উল্লিখিতভাবে পালন না করার পেছনে কিছু কারণ খুঁজে বের করেন বিশিষ্ট লেখক ও ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন। তার কথা মতে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসিত তখনকার সমাজে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব বড়দিনকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হতো। খুব ধুমধাম করে পালন করা হতো বড়দিন বা ক্রিসমাস। এই দিনে সরকারি ছুটিরও ব্যবস্থা ছিল। কলকাতার বাইরে মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যদিও এই অনুষ্ঠানের কোনো যোগসূত্র ছিল না। তখন উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানের সমপরিমাণ খ্রিস্টানও ছিল। আর ব্রিটিশদের শাসনামল ছিল বিধায় খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসবগুলোই পালন করা হতো। সে সময় খুব জমকালোভাবে হিন্দু ধর্মের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা পালন করা হতো। মুসলমানরা ছিল সংখ্যালঘিষ্ঠ। তাই তাদের ধর্মীয় উৎসবের মর্যাদাও ছিল কম। ঈদের ছুটির তুলনায় পূজার ছুটি ছিল বেশি। ঈদের ছুটি বাড়ানোর আবেদন করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি সে যুগের মুসলমানরা।

ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে হালকা আনন্দ-উৎসবের ব্যবস্থা করত। তা ছাড়া তখন সাধারণ মানুষের ধর্ম এবং ধর্মীয় উৎসব সম্পর্কে জানা ছিল খুব কম। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ঈদ উদযাপিত না হওয়ার পেছনে আরেকটি বিশেষ কারণ ছিল বিশুদ্ধ ইসলাম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা। এসব ক্ষেত্রেও মোগলদের অনেক বড় অবদান রয়েছে। মোগলরা প্রত্যেক প্রদেশে মক্তব গড়ে তুলেছিলেন সঠিক কুরআন ও ইসলামী আইন শিক্ষা দেয়ার জন্য। সেই চারশ-পাঁচশ বছর আগে উপমহাদেশে ইসলাম ধর্মকে সঠিক রূপে প্রচার করেন মোগলরাই।
বর্তমানে ইসলামের উৎসভূমি (মধ্যপ্রাচ্যের) দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর, ঝিনাইদহ, বরগুনার বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দিনে কিছু মুসলিম উদযাপন করে পবিত্র ঈদ। ৮৯ বছর পূর্বে দেশে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ৭ নম্বর বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা দরবার পীর মরহুম মাওলানা আবু ইছহাক সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামের সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন। সেই থেকে দেশের সব মানুষের একদিন আগে তারা ঈদের নামাজ আদায় করে। বিষয়টি যেমন অযৌক্তিক তেমনি ফেতনা সৃষ্টিকারী। একটা সাধারণ বিষয় লক্ষ্য করলে তো এই বিষয়টা স্পষ্ট হয়। সেটি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সময়ের পার্থক্য কতটুকু? ওখানে যখন সাহরি খায় আমরা কি তখন সাহরি খাই? সৌদিতে যখন ইফতার করার সময় হয় তখন আমাদের কোন সময় হয়? সৌদি আরবের লোকজন কাবা শরিফে চতুর্দিক নামাজ পড়েন, অথচ আমরা শুধু পশ্চিম দিকেই নামাজ পড়ি। কাবার পশ্চিমের মুসলিমগণ পূর্ব দিক হয়ে নামাজ পড়েন। সুতরাং নিজস্ব অনুসারী তৈরি ও আলোচনায় আসার জন্য ফেতনা তৈরি করা জ্ঞানপাপীর কাজ। আর ইসলাম এ পৃথিবীতে এসেছে একতাবদ্ধ করার জন্য। বিচ্ছিন্নতা তৈরির জন্য নয়। তাই যারা স্থানীয় মানকে অস্বীকার করেন তাদের নিকট আহ্বান, আসুন যে ইসলাম বলেছে কুল্লু মুসলিমুন ইখওয়াতুন। সেই ইসলামের ঐক্যতে একতাবদ্ধ হই। মন যা চায় তা পরিহার করি।

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঈদুল ফিতরের সংস্কৃতি ও খাদ্য উপাদান সম্পর্কে জানার আগ্রহে যেসব তথ্যাদি হস্তগত হয় তা হচ্ছে, সকালবেলা ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদগুলোতে তাকবির পাঠ শুরু হয়। যদিও আগের দিন সন্ধ্যাকালে সাওয়ালের চাঁদ দেখার সাথে সাথে তাকবির পাঠ শুরু হয়। ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে চাঁদ দেখতে খোলামাঠে বা উঁচু জায়গায় দাঁড়ায়। চাঁদ দেখলে তারা আনন্দে মেতে ওঠে। আশপাশ বাড়িগুলোতে যেয়ে চাঁদ উঠেছে, কালকে ঈদ বলে আনন্দের ভাগাভাগি করে। যদিও এখন একটি কুসংস্কৃতি জেঁকে বসেছে আমাদের উপর যে, শিশুরা আতশবাজি করে। ককটেল ফাটায়। যা ইবাদতমূলক এই উৎসবকে পরিণত করে হই-হুল্লোড়মূলক এক উৎসবে। বাবা-মা বা অন্য লোকজন তাদের নিবৃত্তও করছি না এই ঈদের সংস্কৃতির উপর বিজাতীয় হই-হুল্লোড়ীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনে। সারা মাস যারা রোজা রাখলাম তাদের থেকে বেরোজাদার বিজাতীয় সংস্কৃতির ধ্বজাধারীরা খুব খুশি ঈদ আসাতে। তারা নাটক মুক্তি দেয়। সিনেমা মুক্তি দেয়। নতুন গান বানায়। বিশেষ আসর জমানোর জন্য লালপানি, নীলপানি ইত্যাদির সমাহার করে। শহুরে ঈদে বিশেষশ্রেণির রাঢ়াদের খুউব কদর ও দাম বেড়ে যায়। তারাও মুখিয়ে থাকে এই দিনটির জন্য। টিভি চ্যানেলে এক কোণে লেখা থাকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বা ঈদ মোবারাক। কিন্তু সেই টিভিতেই অনুষ্ঠান হচ্ছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে খেমটি নাচনের। সিনেমার প্রায় উলঙ্গ পোস্টারে লেখা থাকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত। আসলে কী মুক্তি দেয় এরা? এতদিন ধরে শয়তান বন্দি থাকায় তার মুক্তিদিবস উপলক্ষে কি এইসব হুল্লোড়ীয় আয়োজন নয়?

এসবের মাঝে যে বিষয়গুলো আশাব্যঞ্জক তা হচ্ছে- ঈদের দিন সকালে ফিতরা আদায় হয়। সে আদায়কৃত ফিতরা বণ্টন হয় দুস্থ গরিবদের মাঝে। তারা নানাপ্রকার খাদ্যদ্রব্য কিনে। মুখে হাসি ফুটে তাদের। একটু অসচ্ছল আত্মীয়কে উপহার উপঢৌকন পাঠানো হয়। প্রায় সবার জন্যই সাধ্যমত কেনাকাটা হয়। ঈদের সেলামি পায় ছোটরা। যারা এদিনে নিজেদের আরো সমৃদ্ধ করতে চায় সৎকর্মে তারা প্রায় সময় তাকবির দেন। ঈদগাহে যাওয়ার আগে সুন্দর করে গোসল করে নতুন কাপড় পরিধান করে আতর সুরমা লাগিয়ে মিষ্টান্ন খেয়ে নেয়। যে পথ ধরে ঈদগাহে যায় অন্যপথ ধরে ফেরে। কেননা প্রত্যেক কদমে সাওয়াব হয়। ঈদের মাঠে নামাজ শেষে ইমামের খুতবা শ্রবণ করে। সাধ্যমত দান-খয়রাতও করে। মা-বোনেরা অনেক জায়গায় নামাজে আসেন। তাদেরকেও মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করা উচিত। কেননা রাসূলে আকরাম সা. মুমিন নারীদেরকে ঈদের মাঠে আসতে বলেছেন। নামাজান্তে খুতবা শেষে ভাই ভাই, মুমিন মুমিনে পরস্পর কোলাকুলি করা হয়, যা সৌহার্দ্যরে সেতুটিকে মজবুত করে।
গ্রামীণ মানুষেরা সকালে বিভিন্ন খেলাধুলোর আয়োজন করে। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায়।
এদেশের প্রায় সকল বাড়িতে সকালবেলা রসালো দুধের সেমাই দিয়ে ঈদের দিনের খাদ্যগ্রহণ শুরু হয়। নামাজ শেষে পোলাও, খিচুড়ি, বিরিয়ানি ইত্যাদি পরিবেশন হয় ঘরে ঘরে। দেশের অনেক জায়গায় সম্মিলিতভাবে গরু বা খাসি জবাই করে গোশত বণ্টন করে নিয়ে ঈদুল ফিতরের আপ্যায়ন ও নিজেরা ভুঁড়িভোজন করার রীতি দেখা যায়। আবার ঈদুল আজহায় কুরবানির গোস্তের আলাদা আয়োজন তো আছেই।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঈদুল ফিতরের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময়। যেমনটি আমাদের দেশের মাঝে বৈচিত্র্যময়। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে চানরাতে মেয়েরা হাতে মেহেদি লাগায়। ভারতে ঈদ মানে কোটি কোটি রুপির নতুন সিনেমা। সিনেমা ছাড়া ঈদ একবারেই যেন অসম্ভব সেখানে। নয়াদিল্লিতে জামে মসজিদ, হায়দরাবাদে মক্কা মসজিদে, লক্ষেèৗতে আছে শবাগ ঈদগাহে, কলকাতায় রেড রোডে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এ সময় অমুসলিম প্রতিবেশী ও বন্ধুরাও মুসলিমদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান। সেদিন সরকারি ছুটি থাকে। ভারতের হায়দরাবাদে সবথেকে বেশি জাঁকজমকভাবে ঈদ উদযাপন করা হয়। একে প্রধান জামাত বলা যায়। সম্প্রতি মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানকার মুসলমানরা চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। বিশেষ করে গরু জবাই ও গোস্ত বিতরণকে কেন্দ্র করে অনেক মুসলমানের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানে ঈদের দিনে পার্ক ও দোকান খোলা থাকে। সমুদ্রের পাড়ে বেড়াতে যায় সপরিবারে।
কাতারে তিন দিনের এই উৎসবে থাকে নানা আয়োজন। মহিলারা নানা জাতীয় জুতো, কাফতান ও জামাকাপড় পরে। বাচ্চাদের ঈদের গান আর রাজধানী দোহায় বিভিন্ন কসরত দেখানো হয়। নিজদেশে পরবাসী ফিলিস্তিনি মুসলিমগণ ঈদের দিনে তাদের আত্মীয়দের কবর জেয়ারত করেন যা আল আকসা মসজিদের কাছে। আফগানিস্তানে তোখম জাঙ্গ বা ডিম যুদ্ধ ঈদের দিনের প্রধান আকর্ষণ। সৌদি আরবের ঈদ প্রায় নিষ্কলুষভাবে পালিত হয়। পার্ক, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়।

মিসরে ছোটরা বড়দের কাছ থেকে হাদিয়া পায়, যাকে ঈদ-ইএ-ইয়াহ বলে। নীলনদ, শারম আল শেখ ইত্যাদি জায়গায় ভ্রমণ করতে যায় মিসরীয়রা। উপহারের পর্ব বেশ চলে এই উৎসবের তিনদিন সরকারি ছুটিতে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনিক রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদ মানে হাজারো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চমৎকার সব নাটক বা শো এবং অভাবনীয় অফারের ছড়াছড়ি। রণ-পা, নৃত্যশিল্পী, ভাঁড়, জাদুকর, বেলুনওয়ালা দিয়ে ভরে যায় এখানকার রাস্তাগুলো। শিয়া অধ্যুষিত ইরানে ঈদ উদযাপন হয় অনেকটা নীরবে। অনুষ্ঠানের ঘটা থাকে ব্যক্তিগত সব আয়োজনে। ঈদে দান করাটা তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিটি পরিবার গরিবদের মধ্যে খাবার বিলিয়ে থাকে। ধনীরা অনেকে এই দিনে ত্যাগের মহিমায় গরু বা ভেড়ার গোশত গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে থাকে। ইরানি মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য কালো বোরখা ও হিজাবের মহিলাদের জয় জয়কার। পুরুষদের থেকে নারীরা বেশি উদযাপন করে এই ঈদুল ফিতর। রাস্তায় জাকাত ও ফিতরা প্রদান করার বাক্স বসানো থাকে। এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়াতে ঈদের দিন আপামর জনতা ঘরের দুয়ার খুলে পরস্পরকে অভ্যর্থনা জানায়। ঘরের সামনে পেলিতা নামক মোম জ্বালিয়ে ঈদের শোভা বাড়িয়ে তোলে মালয়েশিয়ানরা। এই বিশেষ দিনটি গোটাবিশ্বে খ্যাত।

‘সেকের বায়রামি’ আমরা যাকে ঈদ বলি তুর্কিরা তাকে এই নামেই চেনে। বাচ্চারা প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে যায়। ঈদ উপলক্ষে বৌদ্ধদের দেশ চীনের মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের জন্যই ২-৩ দিনের সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করা হয়। সকালবেলা ঈদের নামাজ শেষে চাইনিজ মুসলিমরা পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রোমন্থন করে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিলি করে। তা ছাড়া সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় নিহতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থাও করা হয় এই দিনটিতে।
অতিসম্প্রতি মুসলিমদের রক্তে বিধৌত নিউজিল্যান্ডে মুসলিমগণ ঈদের জামায়াত মসজিদে আদায় করে। মাঝে মাঝে জামাতের লাইন মসজিদ ছেড়ে সড়ক পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়। অস্ট্রেলিয়ায়ও একইভাবে ঈদ উৎসব পালিত হয়। শুধুমাত্র মুসলিমদের ছুটি থাকে অফিস আদালতে।
উৎসব বা আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ খাবার গ্রহণ। মহান রবের দেয়া সন্তুষ্টির এই দিনে সারা বিশ্বের মুসলিমগণ তাদের সাধ্যমত নিজস্ব রুচি ও স্বকীয়তার মধ্যে মুখরোচক নানা খাদ্য উপাদান তৈরি করেন। প্রিয়জন, গরিব-দুঃখীসহ অন্যান্যদের মাঝে তা বিতরণ করেন।

বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানে যে রকমটি রসালো সেমাই ঈদুল ফিতরের প্রধান খাদ্য উপাদান ঠিক তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষদের নানা ধরনের খাদ্য উপাদান আছে এই বৃহৎ উৎসব উদযাপনে। ভ্রাতৃত্বের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শক মুমিনগণ এসব খাবার শুধু নিজেরা ভক্ষণ করেন না। তা গরিব দুঃখী দুস্থদেরও অকাতরে বিলিয়ে দেন। মরক্কো দেশে লাসিদা ও তাজিন খুবই বিখ্যাত ঈদের খাবার হিসেবে। ইন্দোনেশিয়াতে ল্যাপিস লেগিত, কেতুপাত, দোদোল, লেমাং ও নয়োনয়া নামক খাদ্য ঈদুল ফিতরের প্রধানতম খাবার। ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, মিসর ও ইরাক যখন বিশেষ মাখন বিস্কুট ঈদের দিনের খাবার সেখানে বোলানি খাবারটি ছাড়া আফগানিস্তানে ঈদ উদযাপন কল্পনাতীত। বুলালিত, বাকভালা ও কফি হচ্ছে কাতারের ঈদের দিনের মুখরোচক খাবার। ইরানে এইদিনে রাস্তায় রাস্তায় বিশেষ মিষ্টান্নের প্যাকেট থাকে। শিয়া অধ্যুষিত বলে এই ঈদুল ফিতরের জাঁকালো কোনো খাবারের আয়োজন ও অনুষ্ঠান দৃষ্টিগোচর হয় না।
আসুন, ঈদুল ফিতরের এই কল্যাণময় দিনে আল্লাহর কল্যাণ লাভের জন্য সকল বিজাতীয় সংস্কৃতির নাগপাশ ছিন্ন করে তাওহিদভিত্তিক উৎসব পালন করি। নিজেদের সক্ষমতার অংশীদারদের অংশ প্রদান করি। অনাবিল শান্তির পরশের ছোঁয়ায় পঙ্কিলতা মুক্ত হই!

লেখক : প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও অনুবাদক

SHARE

Leave a Reply