ধূমকেতু দেবে প্রাণ সৃষ্টির সন্ধান?

dhumktuঅ্যামাইনো অ্যাসিড গ্লাইসাইন (amino acid glycine) হচ্ছে প্রোটিনের একটি মৌলিক বিল্ডিং ব্লক বা এক-একটি মৌল উপাদান। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, তারা এই প্রথমবারের মতো জীবনের এ মৌল উপাদানটির সন্ধান পেয়েছেন ধূমকেতুতে। এর ফলে এই তত্ত্বই আরো ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হলো যে, পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির কাঁচামাল তথা মৌল উপাদান এসেছিল বাইরের মহাকাশ থেকে।

নাসার মহাকাশযান ‘স্টারডাস্ট’ গভীর মহাকাশে ঢুকে পৃথিবী থেকে ২৪ কোটি ২০ লাখ মাইল বা ৩৯ কোটি কিলোমিটার দূরের wild 2ধূমকেতুর পুচ্ছ থেকে সংগ্রহ করা ‘নমুনা-বস্তু’র মধ্যে মাইক্রোস্কোপ পরীক্ষায় গ্লাইসাইন ধরা পড়েছে। এ নমুনা বস্তু সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে। নাসার ড. কার্ল পিলচার এই আবিষ্কারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এ মতই জোরদার হলো যে, মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহেও প্রাণের অস্তিত্ব বিরল নয়।

অনেক বিজ্ঞানীর বিশ্বাস, পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল, সৌর ব্যবস্থার শুরুতে, যখন পৃথিবীর ওপর শত শত কোটি বছর আগে গ্রহানু ও ধূমকেতুগুলো আছড়ে পড়েছিল। সাগরের যত পানি, সম্ভবত তা এসেছিল বরফময় ধূমকেতু থেকে।

এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ধূমকেতুতে জীবন সৃষ্টির রাসায়নিক মৌল উপাদানে অ্যামাইনো অ্যাসিড গ্লাইসাইনের এ আবিষ্কার কি এ সাক্ষ্য বহন করে যে, পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির পেছনে ধূমকেতুই দায়ী? ‘ম্যাচাচুচেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ তথা এমআইটি’র বিজ্ঞানী ড. ওয়াল্ট ব্রাউন তার লেখা বই ‘ইন দ্যা বিগিনিং’-এ ধূমকেতু সম্পর্কে কিছু মন্তব্য তুলে ধরেছেন : সৌরজগতে ধূমকেতু হচ্ছে সবচেয়ে ‘dynamic, spectacular, variable and mysterious bodies’ অর্থাৎ তার মতে ধূমকেতু হচ্ছে গতিশীল, বিস্ময়কর, পরিবর্তনশীল ও অবাক করার মতো এক বস্তু। তিনি উল্লেখ করেছেন, এটিতে এমনকি জৈব রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অ্যামাইনো আ্যাসিড গ্লাইসাইনের মতো রাসায়নিক পদার্থ, যা বিবেচিত পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির একটি জটিল মৌল উপাদান বা বিল্ডিং ব্লক হিসেবে। প্রাচীন বিজ্ঞানীরা বলে গেছেন, জৈব রাসায়নিকের সৃষ্টি জৈব বস্তুর গলনের মাধ্যমে। আজকের দিনে একটি জনপ্রিয় বিশ্বাস রয়েছে, ধূমকেতুই পৃথিবীতে প্রাণ বয়ে নিয়ে আসেনি, বরং এর পরিবর্তে পৃথিবী থেকে প্রাণের আবির্ভাব ঘটে থাকতে পারে ধূমকেতুতে।

অতীতে পৃথিবীতে ঘটেছিল খুব শক্তিশালী ভূতাত্ত্বিক ঘটনা, যা বড় বড় পাথরের কাদা মহাকাশে বা আউটার স্পেনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর এই কাদার মধ্যেই হয়তো ছিল মাইক্রোব বা ক্ষুদ্র অণুজীব। আমাদের উল্কা ও ধূমকেতু আসলে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে এই পৃথিবী থেকেই। নাসার বিজ্ঞানী ড. ক্যানেথ নেলসন দাবি করেছেন, এই ধরনের কর্দম ও ভূতাত্ত্বিক আবর্জনা এক পর্যায়ে মঙ্গলে গিয়ে পড়ে থাকতে পারে। নিউজ উইক সাময়িকীতে ১৯৯৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক লেখায় ঠিক এ সম্ভাবনার কথাটিই বলা হয়েছে। সেখানে সৃষ্টিতত্ত্ববিদ বিজ্ঞানী ড. ক্যানেথকে উদ্ধৃত করে বলা হয় : ‘আমাদের ধারণা পৃথিবীর প্রায় ৭০ লাখ টন মাটি এভাবে মঙ্গলে গিয়ে পড়ে। অতএব আমরা যদি মঙ্গলে প্রাণ সন্ধান পাই, তবে এ সম্ভাবনাকে ধরে নিতে হবে।

ড. ওয়াল্ট ব্রাউনও তার বইতে একই ধরনের কথা উল্লেখ করেছেন, তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু জীবনের বিল্ডিং ব্লক থাকলেই জীবকোষ তৈরি হয়ে যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন লাখ লাখ বিল্ডিং ব্লক একটি সুনির্দিষ্ট অণুক্রমে একীভূত হওয়া। ঠিক যেমনি একটি বাক্যে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে একটার পর একটা অক্ষর বসে তৈরি করে একটি বাক্য। একটি একক কোষ সৃষ্টির বেলায়ও বিল্ডিং ব্লকগুলো সেভাবে একটা ক্রম মেনে একত্রিত হতে হবে।

সৃষ্টিতত্ত্ব ও ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন সম্পর্কিত নানাজনের নানা যুক্তি ও মতের মধ্যে একটি অবাক বিষয় যে, সমাজের সুশিক্ষিত জনসহ কতজন এ কথা বিশ্বাস করে যে, বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে প্রাণ বা জীবন সৃষ্টি করতে পেরেছে। আসলে এমন বিষয় কখনোই ঘটেনি।

বিজ্ঞানীরা যা করতে সক্ষম হয়েছেন তা হলো, ইতোমধ্যেই অস্তিত্বশীল প্রাণে জিন প্রকৌশল প্রয়োগ করতে পেরেছেন এবং এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের প্রাণের সৃষ্টি করতে পেরেছেন। কিন্তু এরা প্রাণহীন বস্তু থেকে কোনো নতুন প্রাণের সৃষ্টি করতে পারেননি। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেয়া হয়, বিজ্ঞানীরা প্রাণহীন নির্জীব বস্তু থেকে প্রাণের সৃষ্টি করেও ফেলেন, তবুও এ তত্ত্ব প্রমাণে তা সহায়ক হবে না যে, দৈবাৎ ঘটনাক্রমে পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি কৃত্রিম প্রাণ সৃষ্টির বেলায়ও বিজ্ঞানীরা আসলে প্রাণহীন নির্জীব বস্তু থেকে প্রাণ সৃষ্টি করেন না। সেখানে একটি জীবকোষকে পরিবর্তন করে নতুন ধরনের প্রাণকোষ সৃষ্টি করেন। এবং এমনকি বিজ্ঞানীরা যদি কোনো দিন এর ডিএনএ ছাড়া কোনো বস্তু থেকে পুরোপুরি একটি জীবন্ত কোষ তৈরি করেনও, তবু সেখানে কোনো সম্ভাবনা থাকবে না দৈবাৎ তা সৃষ্টি করার, বরং তা করতে হবে ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের মাধ্যমে। কৃত্রিম প্রাণ হচ্ছে ঠিক ভিন্ন ধরনের একটি জিন প্রকৌশল। এবং সব সময় সতর্কতার সাথে মনে রাখতে হবে, সৃষ্টিকর্তাই হচ্ছেন প্রথম জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার।

প্রাণ কোষের যদি দৈবাৎ উদ্ভব ঘটতো, তবে তা ঘটতো একই সাথে। আংশিকভাবে উদ্ভব ঘটা কোষ পরিপূর্ণতা লাভের জন্য পৃথিবীতে লাখ লাখ বছর টিকে থাকতে পারত না। কারণ, উন্মুক্ত পরিবেশে তা হবে খুবই অস্থিতিশীল এবং দ্রুত অস্তিত্ব হারাতো। বিশেষ করে একটি পরিপূর্ণ ও পূর্ণ কার্যকর কোষ পর্দা ছাড়া তা টিকে থাকতে পারত না।

যদিও দেখানো হয়েছে যে, জীবনের মৌলিক বিল্ডিং ব্লক ‘অ্যামাইনো অ্যাসিড’ দৈবক্রমে একটা অণুক্রমে একত্রিত হতে পারে একটা প্রোটিন মলিকিউল গঠন করার জন্য। যদি অ্যামাইনো অ্যাসিড যথাযথ অনুক্রমে না আসে, তবে প্রোটিন মলিকিউল কাজ করে না। এমনকি সবচেয়ে সরলতম কোষটিতেও রয়েছে লাখ লাখ প্রোটন মলিকিউর। এই সুনির্দিষ্ট অণুক্রমে বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড পারস্পরিক বন্ধনে আবদ্ধ হবে, এমন কোন সহজাত রাসায়নিক প্রবণতা অ্যামাইনো অ্যাসিডের নেই। তা সত্ত্বেও, জীবনের প্রয়োজন হচ্ছে সব প্রোটিন হবে লেফট-হ্যান্ডেড। সে জন্য, লাখ লাখ অ্যামাইনো আ্যাসিড শুধু সঠিক অণুক্রমেই থাকবে না, সেই সাথে লেফট-হ্যান্ডেডও হবে। যদি একটি রাইট-হ্যান্ডেড অ্যামাইনো অ্যাসিড মিশে যায়, তখন প্রোটিন মলিকিউল আর কাজ করবে না। সেখানে কোনো প্রাণও থাকবে না।

একইভাবে ডিএনএ ও আরএনএ-র মধ্যে নিউক্লিক অ্যাসিডও থাকবে সুনির্দিষ্ট অনুক্রমে। এবং কোনো আরএনএ ছাড়া সেখানে কোনো ডিএনএ-ও থাকবে না। এবং ডিএনএ কিংবা আরএনএ ছাড়া সেখানে কোনো প্রোটিনও থাকবে না। এবং কোনো প্রোটিন ছাড়া ডিএনএ বা আরএনএ থাকবে না। এগুলো সবই নিজের অস্তিত্বের জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এগুলোর ক্রমে ক্রমে উদ্ভব ঘটতে পারে না। বিবর্তনবাদীরা সাধারণ বিশ্বাস করে প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হতে কিংবা একটি প্রাণকোষ সৃষ্টি হতে সময় লেগেছিল একশ কোটি বছর। এ বিশ্বাসের কথাই যদিও এখনো অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মের উপদেশাবলির মতো ছাত্রদের পড়ানো হলেও আধুনিক বিজ্ঞানে তা টিকেনি।

অবশ্য একবার একটি পূর্ণ প্রাণকোষ সৃষ্টি হয়ে গেলে, সেখানে জেনেটিক প্রোগ্রাম ও বায়োলজিক্যাল মেকানিজম শুরু হয়ে যায় তাদের নিজস্ব এই প্রোগ্রাম ও মেকানিজমের আওতায় আরো অধিকসংখ্যক সেল তৈরির জন্য। প্রশ্ন হচ্ছে, যখন প্রথমে কোনো নির্দেশক মেকানিজমের অস্তিত্ব ছিল না, তখন কী করে প্রাণ অস্তিত্ব পেলো?

মানুষ তার বুদ্ধি খাটিয়ে জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে অর্থবহ জেনেটিক কোড সৃষ্টি করে। এ থেকে জেনেটিক কোডের সূচনা সম্পর্কে কোন বার্তাটি পাওয়া যায়। প্রখ্যাত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার ফ্রেডেরিখ হয়লি বলেন, অণুর অনুক্রম সম্ভবত দৈব ঘটনাক্রমে ঘটে আর তা থেকেই সৃষ্টি হয় সরলতম প্রাণকোষ। যেমনটি একটি জাম্বো জেট বিমানের পার্টসগুলোর স্তূপের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের পার্টসগুলো এলোমেলোভাবে উড়ে গিয়ে জায়গায় জায়গায় বসে গিয়ে সংযোজিত হয়ে গেল আস্ত একটি জাম্বো জেট বিমান।

আমাদের মধ্যে প্রবণতা হচ্ছে কোনো কিছুর আকার বড় বা ছোট বিবেচনায় একে সরল কিংবা জটিল বলে ধরে নিই। অতএব আমাদের অনেকের ধারণা যেহেতু প্রাণকোষ বস্তুটির আকার আণুবীক্ষণিক পর্যায়ের, অতএব অবশ্যই তা সরল হবে। আসলে তা নয়! আকারটা আপেক্ষিক। কিন্তু জটিলতা আপেক্ষিক নয়। আপনি ভাবতে পারেন রাস্তার একটি ছোট্ট প্রাইভেটকার অ্যাম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের তুলনায় সরলতর। এবং দৈবাৎক্রমে এর পার্টসগুলো সংযোজিত হয়ে একটি পূর্ণ গাড়ি তৈরি হয়ে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও আমরা জানি, ব্যাপারটি তেমন নয়।

এই মহাবিশ্ব, জীবনব্যবস্থা এবং এমনকি একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিভাবে কাজ করে তার ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য প্রাকৃতিক নিয়মগুলো পর্যাপ্ত। কিন্তু নিছক অনির্দেশিত প্রাকৃতিক নিয়ম পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারে না, কী করে এ জীবনব্যবস্থার সূচনা ঘটেছিল। বিজ্ঞান প্রমাণ করতে পারে না কী করে প্রাণের সূচনা ঘটেছিল। কারণ, মানুষ দৈবাৎক্রমে কিংবা কোনো নাকশার মাধ্যমেও প্রাণের সূচনা প্রত্যক্ষ করেনি। মানুষের ইন্দ্রিয় দিয়ে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণই হচ্ছে বিজ্ঞানের ভিত্তি। প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্যও একই উপায় অবলম্বিত হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কোন অবস্থানটি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থনের জন্য উন্নতর। বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য উভয় পক্ষের সুযোগ অবশ্যই থাকা চাই।

যদি পৃথিবী কিছু মহাকাশচারী মানববসতিহীন একটি গ্রহে মি. উইলিয়ামের মতো একজন ব্যক্তির আবিষ্কার করে, তবে সেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করার উপায় নেই যে, এই ব্যক্তি কোনো নকশার মাধ্যমে বা দৈবাৎক্রমে সৃষ্টি হয়েছে। কোনো অবস্থানই এখানে বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। কিন্তু এটি বা অপরটির সমর্থনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি তুলে ধরা যেতে পারে।

অনেকে মনে করেন ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনই প্রমাণ যে আমরা বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছি। প্রাকৃতিক নির্বাচন সংঘটিত হয় প্রকৃতিতে। তা সত্ত্বেও প্রাকৃতিক নির্বাচন নিজে জৈবিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে না। প্রাকৃতিক নির্বাচন শুধু কার্যকর হতে পারে জৈবিক নির্বাচনের সাথে এবং তা সম্ভবও যার রয়েছে সারভাইভাবল ভ্যালু বা টিকে থাকার গুরুত্ব। এটি প্রকৃতিতে একটি কর্মবাচ্য প্রক্রিয়া, কর্তৃবাচ্য প্রক্রিয়া নয়। প্রাকৃতিক নির্বাচনকে শুধু অন্যভাবে বলা চলে, যদি কোনো জৈবিক পরিবর্তন ঘটে, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর টিকে থাকার জন্য সহায়ক, তখন ওই পরিবর্তন সংরক্ষিত হবে এবং তা চলতে থাকবে। অবশ্য প্রকৃতি কোনো সক্রিয় ও সচেতন নির্বাচনের কাজ করে না। ‘ন্যাচারাল সিলিকেশন’ পদবাচ্যটি একটি বাক্যালঙ্কার মাত্র। তাছাড়া ‘ন্যাচারাল সিলেকশন’ কথাটি তখনই প্রয়োগ করা হয়, যখন সেখানে থাকে প্রাণের অস্তিত্ব, প্রাণ অস্তিত্ব পাওয়ার আগে এর প্রয়োগ নেই। অন্য কথায়, ন্যাচারাল সিলেকশনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই জৈবিকপূর্ব অবস্থায় রাসায়নিকের অজৈবিক আন্তঃক্রিয়ায়। বিবর্তনবাদীদের বিশ্বাস, জেনেটিক কোডের এলোপাতাড়ি কিংবা দৈবাৎ মিউটেশন বা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক নির্বাচন কার্যকর করার সহায়ক বিবর্তনমূলক পরিবর্তন সাধন সম্ভব। তা সত্ত্বেও এমন সাক্ষ্য প্রমাণ এখনো মিলেনি যে, জেনেটিক কোডের এলোপাতাড়ি কিংবা দৈবাৎ মিউটেশনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক প্রজাতির মধ্যে বৃহত্তর জৈবিক জটিল পরিবর্তন ঘটাতে পারে। মিউটেশনে শুধু হরাইজেন্টাল ইভোলিউশন ঘটাতে সক্ষম। যে কোনো ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক প্রজাতির মধ্যকার বেশির ভাগ জৈবিক বিভিন্নতার কারণ ইতোমধ্যেই অস্তিত্বশীল জিনের মধ্যে নতুন বিন্যাস; মিউটেশন নয়।

জীবনের ব্যাপক জটিলতা বিবেচনায় আনলে এ কথা বিশ্বাস করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত যে, সব প্রজাতির মধ্যকার জেনেটিক ও জৈবিক সামঞ্জস্যের কারণ এর সৃষ্টিকর্তা এক। এর কারণ এই নয় যে, একই প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়ে এর সৃষ্টি হয়েছে। এটাই একমাত্র যুক্তিযুক্ত যে, মহান সৃষ্টিকর্তা একই উদ্দেশ্যে একই ধরনের এবং বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের জীবন বা প্রাণ সৃষ্টি করবেন।

এসব কিছুর সরল ও একমাত্র অর্থ দাঁড়ায়, সত্যিকারে বিজ্ঞান মানুষকে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী করে তোলে। বিজ্ঞান প্রমাণ করতে পারে না, আমরা হঠাৎ করেই দৈবাৎ বিবর্তনের মাধ্যমে চলে এসেছি পৃথিবীতে। বরং বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি হাজির করা যাবে ভিন্ন কিছু প্রমাণে। কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী হতে কিংবা কোনো ধর্ম অনুসরণ করতে। বরং এখানেও বৈজ্ঞানিক সত্যকেই মেনে নেয়ার তাগিদটুক অবধারিতভাবে এসে যাচ্ছে।

গোলাপ মুনীর

SHARE

Leave a Reply