ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেইন ফরেস্ট আমাজন । আজাহার গাজী

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেইন ফরেস্ট আমাজন । আজাহার গাজীএকটি শব্দে যার পূর্ণতা- আমাজন। দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত আমাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল। আমাজন নদীই আমাজন বনের জীবনীশক্তি। আমাজন অরণ্য, আমাজন জঙ্গল নামেও পরিচিত। ৯টি দেশের ৭০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার অববাহিকা পরিবেষ্টিত এই অরণ্যের প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকাটি মূলত আর্দ্র্র জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত। ঘনবন হলেও এই এলাকার জলবায়ু বেশ আর্দ্র। আমাজন বনের প্রায় ৬০% পড়েছে ব্রাজিলের ভাগে, ১৩%-এর মত পেরুতে এবং বাকি অংশ রয়েছে কলোম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম এবং ফরাসি জুড়ে। দক্ষিণ আমেরিকা বলতে আমরা যা বুঝি তার প্রায় ৪০%ই হলো এই দুর্গম আমাজন বন। পৃথিবীর রেইনফরেস্টের যত আয়তন তার অর্ধেকটাই আমাজন নিজেই। এক মুহূর্তও আমরা নিঃশ্বাস না নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি না, যদিও সেটা স্বাভাবিকভাবে আমরা অনুধাবন করি না যতক্ষণ না সর্দি হয়ে আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়। ঠিক একইভাবে, আমাজনের নাম শুনলেও আমরা অনেকেই জানি না যে, পৃথিবীর ২০% অক্সিজেনের উৎপত্তি আমাজনের ঘন অরণ্য থেকেই আসে। কার্বন শুষে নিয়ে অক্সিজেন ছাড়ার কারণে এই অরণ্যটি পরিচিত ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ হিসেবে।

এই আমাজন নামটি এসেছে এক যুদ্ধের পটভূমি থেকে। ফ্রান্সিস্কো ড্যিওরেলানা গোত্রের সাথে টেপিউস আর কয়েকটি গোত্রের যুদ্ধ বেধেছিল। রীতি অনুযায়ী ওরেলানা গোত্রের মেয়েরাই টেপিউসসহ অন্যদের পুরুষ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। গ্রিক পুরাণের এমাজোনাস থেকেই ওরেলানার গণকরা এই যুদ্ধের নাম দিয়েছিল আমাজোনাস। সেখান থেকেই পুরো বনের নাম হয়ে যায় আমাজন। এর পাশে বয়ে চলা নদীর নামও হয়ে যায় আমাজন নদী। আয়তনে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদী। বলা হয় আমাজন নদী থেকেই পৃথিবীর বেশির ভাগ নদীর উৎপত্তি। নদীর অববাহিকাসহ পুরো অঞ্চলকে বলা হয় আমাজন বেসিন। বন মানেই নানা জীব-জন্তুর আবাস আর অবাধ বিচরণ হলেও আমাজনে প্রায় ৩০০ এর বেশি উপজাতি বা নৃগোষ্ঠী বাস করে। এদের বেশির ভাগই ব্রাজিলিয়ান। তবে এরা ব্রাজিলের ভাষা ছাড়াও পর্তুগিজ, স্প্যানিস ভাষাতেও কথা বলে। অনেকের অবশ্য আবার নিজস্ব ভাষাও রয়েছে। কিছু নৃগোষ্ঠী যাযাবর প্রকৃতির, বাহিরের পৃথিবীর সাথে এদের যোগাযোগ তেমন একটা নেই বললেই চলে। গবেষকরা আমাজনের বড় অংশজুড়ে কালো মাটির সন্ধান পেয়েছেন। তাদের ধারণা এখানে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, তার ভিত্তি এই কালো ধরনের মাটি। একে টেরা মাটিও বলা হয়। আমাজনের ভাণ্ডার যেন অপার জ্ঞানের আধার জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, জলবায়ু, নদী, ভূগোল, পদার্থবিজ্ঞান, ফার্মাকোলজি বা চিকিৎসা সবারই আগ্রহের বিষয় আমাজনের নানা অধ্যায়। এ বন যেন এক জীবন্ত লাইব্রেরি। উষ্ণ ভৌগোলিক আবহাওয়ার কারণে, আমাজন পৃথিবীর সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যময় অঞ্চল। এই বিশাল অরণ্য প্রায় ২.৫ মিলিয়ন কীটপতঙ্গ, প্রায় ১৬ হাজার প্রজাতির গাছ, ২ হাজারের মত পাখি আর স্তন্যপায়ী নিজের মধ্যে ধারণ করে আছে। এ ছাড়াও ৪০ হাজার প্রজাতির গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, ৩৭০০ প্রজাতির বিভিন্ন মাছের বিচরণ এখানে। আমাজনে পাওয়া যায় এমন প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম হলো জাগুয়ার, অ্যানাকোন্ডা, ম্যাকাও, তাপির, ইলেকট্রিক ঈগল, পয়জন ডার্ট ফ্রগ, গোলাপি ডলফিন ইত্যাদি। গবেষকরা শুধু আমাজনের ব্রাজিল অংশেই ১২৮,৮৪৩টি অমেরুদণ্ডী প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন এখন পর্যন্ত। পেরুর অংশের একটি গাছে ৪৩ হাজার প্রজাতির পিঁপড়ার সন্ধান মিলেছে। এখন অবধি সমগ্র ব্রিটেনেও এত প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যত পথ্য আমরা জানি তার প্রায় ৩৭% আসে আমাজনের বৃক্ষরাজি থেকে।

আমাজনের কথা উঠলে আমাজন নদীর নামও অবধারিতভাবে চলে আসে। বলা হয়, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে ১২ বছরে যত পানি ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন কাজে কিংবা আশপাশের নদীতে প্রবাহিত হয়, আমাজনের নদীতে একদিনেই তার চেয়েও ১৮ হাজার কিউসেক লিটার বেশি পানি প্রবাহিত হয়। এই নদীর বুক দিয়ে প্রবাহিত এত পরিমাণে সুমিষ্ট পানি আশপাশের সমুদ্রে গিয়ে মেশে যে প্রায় ১২৭ মাইল পর্যন্ত সে সকল সমুদ্রের পানি কম লবণাক্ত থাকে। পৃথিবীর মোট ২৫% স্বাদু পানি আসে আমাজন থেকেই। আমাজন নদীর মুখ এতই বিশাল, যার জন্য এর নিকটবর্তী দ্বীপ মাজারিও ধীরে ধীরে ডুবে যায়। শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য হলো, মাজারিও আকৃতিতে প্রায় সুইজারল্যান্ডের সমান ছিল। তারচেয়েও বিস্ময়কর হলো, আমাজন নদী একসময় প্রবাহিত হতো প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে। ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে গতিমুখ বদলে এখন প্রবাহিত হচ্ছে আটলান্টিক মহাসগরের দিকে!
দাবানলের কারণে মাইলের পর মাইল বনাঞ্চল পুড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিশ্বনেতারা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েলে ম্যাক্রোঁ টুইট করে বলেছেন ‘আমাদের বাড়ি পুড়ে যাচ্ছে’ ব্রাজিলের অনেক জায়গাই এখন আগুনে পুড়ে যাচ্ছে, তবে তার বেশির ভাগই আমাজনে। প্রতি বছরই দাবানলের ঘটনা ঘটে ব্রাজিলে। তবে এবারে এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণের বেশি। মি. ম্যাক্রোঁ এই আগুনকে ‘আন্তর্জাতিক সঙ্কট’ বলে উল্লেখ করেন এবং জি-সেভেন সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গবেষক এবং ইতালির ভেনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৌর দাসগুপ্ত বলেন, ‘ব্রাজিলে এখন শুষ্ক মওসুম চলছে এবং এবারের খরা মওসুম অন্যান্য বারের চেয়ে প্রকট। এ জন্যে বাতাস কম, বৃষ্টি কম। ফলে দাবানল খুব বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। এই আগুন নেভাতে ব্রাজিল সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা হচ্ছে সারা বিশ্বেই। অনেকেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ যে আগুনের কারণে আমাজন ধ্বংস হযয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেটা নেভাতে মি. বলসোনারো তেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট বলসোনারো আগুন নেভাতে সামরিক বাহিনী নামানোর বিষয়টি অনুমোদন করেছেন। ব্রাজিলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, প্রায় ৪৪ হাজার সৈন্য আমাজনের আগুন নেভাতে কাজ করছে। সাতটি রাজ্যে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের বিষয়টিও অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যবহার করা হচ্ছে যুদ্ধবিমানও। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ জন্য ব্রাজিলকে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই খবরটি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বলসোনারো নিজেই। কিন্তু এর আগে বিভিন্ন দেশ যখন অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরেছে তখন তিনি তাদের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে তারা ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। আগুন নেভাতে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সাথে প্রস্তাবিত বাণিজ্য সমঝোতা বাতিল করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই চুক্তিটির জন্য গত ২০ বছর ধরে আলোচনা চলছে। ফিনল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছেন, ব্রাজিল সরকার যদি যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে তারা ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানিও নিষিদ্ধ করে দিতে পারে।
ব্রাজিলে শুষ্ক মওসুমে প্রায়শই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে এ বছর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ৮৫% বেড়ে গেছে। পরিবেশ রক্ষায় যারা আন্দোলন করছেন তারা এসব অগ্নিকাণ্ডের সাথে প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর পরিবেশনীতিকে দায়ী করেছেন। অভিযোগ আছে যে ইচ্ছে করেই এই অরণ্যে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাজন বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য যা প্রচুর কার্বন শুষে নেয়। সে কারণে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমিয়ে রাখতেও সাহায্য করে এই অরণ্য। এর বেশির ভাগ এলাকাই বিস্তৃত ব্রাজিলে। ড. সৌর দাসগুপ্ত বলেন, ‘দাবানলের কারণে প্রচুর পরিমাণে কার্বনডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড নিঃসৃত হচ্ছে যা শুধু ব্রাজিলের জন্যেই নয় আশপাশের সব দেশগুলোর জন্যও খুবই ক্ষতিকারক। এখানে আছে ৩০ লাখেরও বেশি প্রজাতির গাছপালা ও বন্যপ্রাণী। আছে দশ লাখেরও বেশি আদিবাসী। পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের দশ শতাংশ আসে এই আমাজন থেকে। আর এখন সেখানে দুপুরেই নেমেছে ঘন অন্ধকার। ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছে ব্রাজিলের সাও পাওলোর আকাশ। মুখ ঢাকা পয়েছে সূর্যেরও। একের পর এক আগুন লাগছে আমাজন অরণ্যে। লেলিহান শিখা আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে মহাকাশ থেকেও। আগুনের প্রকোপ এতটাই যে নিস্তার পায়নি ২৭০০ কিলোমিটার দূরের শহর সাও পাওলো। ব্রাজিলের রোরাইমা প্রদেশ থেকে পেরুর আকাশেও হানা দিয়েছে ধোঁয়া। এ বছর আমাজনে ৭২,৮৪৩টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৮৩% বেশি! এবং ২০১৩-র তুলনায় দ্বিগুণ! দাবানলের এই প্রকোপ আগের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘ইনপে’র। আমাজনে নতুন ৯,৫০৭টি দাবানলের চিহ্ন গত বৃহস্পতিবারই উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসাও আমাজন অঞ্চলের দাবানলের বেশ কয়েকটি উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিহত করতে অন্যতম ভরসা আমাজন অরণ্য। গোটা বিশ্বের ফুসফুস বলে পরিচিত এই অরণ্য পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। সেখানে এ রকম লাগাতার দাবানলের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে পরিবেশবিদদের। শুকনো বাতাসে দাবানল জ্বলে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সব দাবানলকেই ‘প্রাকৃতিক’ বলে মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞেরা। তাদের মতে, অনেক সময়েই চাষের জন্য জমি বা খামার তৈরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ব্রাজিল তথা আমাজন অঞ্চলও তার ব্যতিক্রম নয়। তা ছাড়া, বিভিন্ন খনিজপদার্থের জন্য আমাজন অরণ্যে লাগাতার জঙ্গল সাফ করে খননকাজ চালানো হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের মাপের জঙ্গল কাটা হয় এখানে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর নীতিকে কাঠগড়ায় তুলতে বাধ্য হচ্ছি। এ বছর জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার আগে আন্তর্জাতিক হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা না-করেই আমাজন অঞ্চলকে চাষ ও খনিজ উত্তোলনের কাজে ব্যবহারের কথা বলেছিলেন তিনি। এখন যদিও বোলসোনারোর বক্তব্য, ‘অযথা এ সব দোষারোপ করা হচ্ছে। এই সময়ে আগুন জ্বালিয়ে চাষের জমি তৈরি করেন চাষিরা। সেটাই রেওয়াজ। ইনপে-র পরিসংখ্যানকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়ে ইনপে-র ডিরেক্টরকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট। আমাজনের বৃষ্টি বনানীকে আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচাতে এ বার নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দু’মাস গোটা দেশে আগুন জ্বালানো বন্ধ রাখা হবে। তবে কৃষিক্ষেত্রে বা বন বিভাগের কোনও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সরকারি অনুমতি নিয়ে আগুন জ্বালানো যেতে পারে।
আমাজনের আগুন এখন কতটা নিয়ন্ত্রণে, তা নিজের চোখে দেখতে বৃষ্টি বনানীতে যাওয়ার কথা বোলসোনারোর। ব্রাজিলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাবি করেছিল, আমাজনের আগুন এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। ব্রাজিলের সরকার এই দাবির সমর্থনে একটি স্যাটেলাইট চিত্রও প্রকাশ করেছে। বোলসোনারো সরকার আরও জানিয়েছে, পেরু এবং চিলের সরকার ইতোমধ্যেই আগুন নেভানোর কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। দুই সরকারই বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছে। ব্রাজিলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আগুন নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করলেও আরও অনেক জায়গা নতুন করে জ্বলতে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। ইউরোপের সাহায্য তিনি নেবেন না বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

আমাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেস। এ মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে আমাজন রক্ষা করতে সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন মহাসচিব। জ্বলছে বৃষ্টি-বনানী। জি৭-এ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যে বিশেষ বৈঠকে আমাজন নিয়ে আলোচনা হলো, সেখানে যোগই দিলেন না ট্রাম্প। তিনি ব্যস্ত থাকলেন ‘ইরান-সমস্যা’ নিয়ে। বৃষ্টি-বনানীর আগুন নেভাতে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন পরিবেশ আন্দোলনকারী লিয়োনার্দো ডি ক্যাপ্রিয়ো। তার পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আর্থ অ্যালায়েন্স’-এর পক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ ডলার সাহায্যের অঙ্গীকার করা হয়েছে। শুরু থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাজনের দাবানল নিয়ে সরব লিয়োনার্দো। ‘পৃথিবীর জ্বলন্ত ফুসফুস’ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে স্থানীয় যে সংস্থাগুলো আমাজনের জীববৈচিত্র্য বাঁচিয়ে রাখার জন্য কাজ করে চলেছে, তাদের হাতে অর্থ তুলে দেয়া। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিলের আমাজন ১০ লক্ষ আদি বাসিন্দার ঘর। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পুড়ে মরছে অন্তত ৩০ লক্ষ প্রজাতির জীব।
ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাগাতার পাসি দিয়ে দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছে যুদ্ধবিমানগুলো। তাদের দাবি, সাতটি প্রদেশে অভিযান নিয়ন্ত্রণ করছেন খোদ প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো। যদিও রনডোনিয়া ছাড়া আর কোনও জায়গার খবরই জানানো হচ্ছে না। রনডোনিয়া প্রদেশের অবস্থাই সব চেয়ে খারাপ। সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, অরণ্যের মাথায় ধোঁয়ার চাঁদোয়া। যুদ্ধবিমান থেকে হাজার হাজার লিটার জল ফেলা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও ‘সুখবর’ মেলেনি। পরিবেশ সংস্থা ‘গ্রিনপিস’-এর সদস্যা রোজয়ানা ভিলারের কথায়, ‘আমাজনের উপর দিয়ে বিমানে ওড়া এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা। হতাশা শুধু আমাজনের জঙ্গলটা পুড়ছে। চার দিকে শুধু মৃত্যু, আর মৃত্যু। আমাজনের জঙ্গল মানেই একটা লোমহর্ষক ব্যাপার। আমাজনের ভয়াবহতা ও সৌন্দর্য নিয়ে বহু ছবি এবং গল্পও লেখা হয়েছে। সেই আমাজনেরই একটা অংশ সম্প্রতি দাবানলে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে। আমাজনের গভীর জঙ্গলে আদিবাসী অধ্যুষিত আমাপা প্রদেশ। আধুনিক সভ্যতার ছায়া এখনও পড়েনি। বাইরের জগৎটা ঠিক কেমন, জানা নেই সেখানকার বাসিন্দাদের। এরই মধ্যে আচমকা সেখানে হানা দিল এক দল অস্ত্রধারী। কুপিয়ে হত্যা করল গ্রামের মোড়লকে। কোনও গল্প-উপন্যাস নয়। উত্তর ব্রাজিলে আমাজনের গভীর জঙ্গলে সোনার খোঁজে পা পড়েছে দুষ্কৃতিকারীদের। সম্প্রতি ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল আমাপার ইভিটোটো গ্রামে হানা দেয়। ওয়াজাপি সম্প্রদায়ের বাস ওই গ্রামে। জঙ্গলের মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ হেক্টর এলাকাজুড়ে ১২০০ ওয়াজাপি বাস করেন। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বহিরাগতদের দেখে ভয়ে ইভিটোটো গ্রাম ছেড়ে পালান সেখানকার বাসিন্দারা। কাছের মারিরি গ্রামে আশ্রয় নেন তারা। কাছের বলতেও পায়ে হেঁটে ৪০ মিনিটের দূরত্ব। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়াজাপিদের থেকে জানতে পেরেছে, তাদের নেতা, ৬৮ বছর বয়সী এমিরা ওয়াজাপিকে খুন করেছে সোনা-সন্ধানীরা। তারা নদীর কাছে ফেলে রেখে যায় এমিরার দেহটা। কুপিয়ে খুন করার চিহ্ন স্পষ্ট। সোনার দখল নিয়ে হালে ব্রাজিলে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখানে এমন বহু জায়গা রয়েছে, যেখানে মানুষের পা পড়েনি। কিন্তু প্রচুর পরিমাণ মূল্যবান খনিজ রয়েছে। আমেরিকার মতো কোনও প্রথম বিশ্বের দেশ যদি আমাদের সাহায্য করে, তা হলে তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ওই খনিজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। আমাপার ঘটনার জন্য তার এই সিদ্ধান্তকেই দুষছেন অনেকে। প্রেসিডেন্ট যদিও চুপ। তাই লাগাতার জ্বলছে ব্রাজিলের আমাজন বৃষ্টি-অরণ্য।
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেইন ফরেস্ট আমাজন । আজাহার গাজীএক সঙ্গে ৭১ হাজারেরও বেশি দাবানল! বিধ্বংসী আগুনে ছাই হচ্ছে আমাজন অরণ্য। বছরের এই সময়ে আমাজন অরণ্যে দাবানল নতুন কোনও ঘটনা নয়। শীতকালের (দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ ব্রাজিলের সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাস জুলাই) শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য জুলাই-আগস্টে এখানে অসংখ্য ছোট-বড় দাবানল হয়। গড়ে বছরে হাজার তিন-চার দাবানলেরও খবর পাওয়া যায়। সেই সংখ্যাটা এবার ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছিল ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘ইনপে’। বুধবার মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-ও বৃষ্টি-অরণ্যের দাবানলের উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করে জানিয়েছে, ইনপে-র দাবি ঠিক। এই রেকর্ড সংখ্যক দাবানলের কারণ যে ‘প্রাকৃতিক নয়, তা বেশ কিছু দিন ধরেই বলে আসছেন পরিবেশবিদরা। এই সময়ে আগাছা পুড়িয়ে গবাদি পশুদের জন্য ঘাসজমি তৈরি করা হয়। তাই জঙ্গলে আগুন লাগে। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু দেশ-বিদেশের পরিবেশবিদদের চাপে বোলসোনারোও মেনে নিতে বাধ্য হন যে এবারের দাবানলের এই বিপুল সংখ্যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। কিন্তু সে কথা মেনে নিয়েও পরিবেশবিদদের উপরে উল্টো চাপ দিতে শুরু করেছেন তিনি। দাবি করছেন, তাকে অপদস্থ করার জন্য জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে এই এলাকার আদিবাসী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থারাই। বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের ওপর প্রেসিডেন্টের এই আক্রমণ ভালো চোখে দেখছেন না সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা। আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক ডেভিডসনের কথায়, বৈজ্ঞানিক তথ্য-নির্ভর বিশ্লেষণকে এ ভাবে যে এক রাষ্ট্রনেতা উড়িয়ে দিতে পারেন, সেটা সত্যিই আশ্চর্যের। ‘ইনপে’-র দেওয়া তথ্য অস্বীকার করে, সংস্থাটির প্রধানকে বরখাস্ত করে সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদেরই অপমান করলেন বোলসোনারো।’
প্রায় ৫ লক্ষ প্রজাতির কীটপতঙ্গ, ৩০০ প্রজাতির সরীসৃপ সমৃদ্ধ ৫৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই অরণ্যে বাস করে পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জীবজন্তু আর উদ্ভিদ। ল্যাটিন আমেরিকার ৯টি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই বনের মাঝ দিয়ে চলে গেছে বৃহৎ আমাজন নদী। অরণ্য ধ্বংসের এই মহোৎসবের মাঝে এখনো এই আমাজনের বেশির ভাগ জায়গায় সূর্যের আলো পড়ে না, এতই ঘন।
গত কয়েক মাস ধরে থেমে থেমে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে আমাজন জঙ্গল। প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্রাজিলের সাওপাওলো শহরে এই আমাজন থেকে দাবানলের ধোঁয়া জমে কাল কার্বনের বৃষ্টি হওয়ার পর দ্রুত উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। আমাজনের ঘন অরণ্য পৃথিবীর সর্বোত্তম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। এটি পৃথিবীর উদ্ভিদ, প্রাণী ও পোকা-মাকড় মিলিয়ে মোট ১০ মিলিয়ন প্রজাতির আবাসস্থল। এই জঙ্গলে রয়েছে ২৫ লক্ষের বেশি পতঙ্গের প্রজাতি, ৪০ হাজারের বেশি গাছের প্রজাতি ২০০০ পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রজাতি, ২২০০ প্রজাতির মাছের বাস। তা ছাড়া সেই জঙ্গলে বসবাসকারী ১৫ হাজার মোড়া জাতির জনগোষ্ঠী এবং প্রায় ৪০০০ ভিন্ন প্রজাতির মানুষ এখানে জীবন ধারণ করে চলেছে। আমাজন জঙ্গলে গাছপালার সাথে সাথে বিভিন্ন জীবজন্তু ও এই জনগোষ্ঠীর মানুষ জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। তাদের জীবনের শেষ সম্বলটুকুও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। মোড়া জনগোষ্ঠীর নেতা রাইমুড মোড়া জানিয়েছেন আমরা আমাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমাদের জঙ্গলকে বাঁচিয়ে রাখবো। সব মিলিয়ে বলা যায় পৃথিবীর ভারসাম্য এভাবেই নষ্ট হতে চলেছে। সাওপাওলো শহরের মতো ব্রাজিলের রোরাইমা প্রদেশ থেকে পেরুর আকাশেও ঘন ধোঁয়া ছাড়িয়ে পড়েছে। পরিসংখ্যান বলেছে আগুন লাগার কারণে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রোয়াইমা, একর, রন্ডনিয়া ও আমাজনস নামের কয়েকটি প্রদেশে। গত চার বছরে রোয়াইমাতে ১৪১, একরে ১৩৮, রন্ডনিয়াই ১১৫ ও আমাজনাসে ৮১ শতাংশ আগুন লাগার হার বেড়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণের প্রদেশ মাতোগোসেতে দুই বছরে আগুন লাগার হার বেড়েছে ১১৪ শতাংশ। অগ্নিকাণ্ডের কারণে ব্রাজিলের বড় বড় প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। যতটুকু জানা গেছে আমাজনের অর্ধেকের বেশি অংশ পুড়ে গেছে। শাখা নদীগুলো শুকিয়ে গেছে। সেখানে প্রাণীদেহের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে, ঘন অরণ্যে বসবাসকারী আদিম উপজাতিরা আগুনে ঝলসে গেছে। ব্রাজিলের তাপমাত্রা হঠাৎ করে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। অনতিবিলম্বে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের প্রভাব পড়বেই। আমার মতে অবৈধ উপায়ে নজিরবিহীনভাবে সোনার খনির খোঁজ করায় আমাজনের আগুন লাগার প্রধান কারণ। ৯ দেশের বিস্তৃত আমাজনের ২৪৫ এলাকার ২৩১২টি অবৈধ খনি রয়েছে বলে জানিয়েছেন আমাজন সোসিও ইনভায়রনমেন্টাল। এসব খনি থেকে সোনা উত্তোলনের লোভে এবং বাণিজ্য বিস্তারে আমাজন ঘিরে বেড়ে উঠেছে বহু জনপদ। এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায় ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে তাইস্ট্যাটাস নদীর তীরজুড়ে শতশত কুঁড়েঘর স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সোনার খনি খননের কাজে রয়েছে বিভিন্ন কর্মীরা। অবৈধভাবে খনি খননকারী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন জসে অন্তনিও। তার কুঁড়েঘরের পাশে স্তূপ করে রাখা কয়লা আর উচ্চশব্দের হাইড্রোক্লোরিক ডিলমেশিন। আমাজনের ভেতরে বাদামি রঙের এমন দানব মেশিন শত শত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ জন্য আদিবাসীদের জমি দখল করে আমাজনের গাছ কেটে নদীর দূষণ করে এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে জঙ্গল নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে। আবার সরকার ও বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আঞ্চলিক প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের রাস্তা নির্মাণ, রেলপথ স্থাপন, বন্দর ও নৌপথ নির্মাণ। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য হলো গভীর জঙ্গলে মূল্যবান খনিজ তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাসসহ অন্যান্য সম্পদ উত্তোলন করা। এসব করতে গিয়ে সাবাড় হচ্ছে জঙ্গল। আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে, দূষিত হয়ে পড়েছে জঙ্গলের নদীগুলো। ক্যাপাযস নদীর পানিও কমলার বর্ণ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে বছরে অন্তত ৩০ টন সোনা অবৈধভাবে কেনাবেচা হয় এই আমাজনে। এই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৪০০-এর বেশি অবৈধ খনন খনি স্থাপন করা হয়েছে, হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা করার কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমাজন এবং এই কারণে আগুন লাগছে। কিন্তু ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের মুখে এখন অন্য কথা, তবে আমাজন জঙ্গলকে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে বাঁচানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা না হলে বেশ কিছু লোকের কারণে পৃথিবীর জনজীবন নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান, ক্রমাগত বিরূপভাবে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক জলবায়ু, মানুষের করাল আঘাতসহ নানা কারণেই আমাজন তার জৌলুস হারাতে শুরু করেছে। ২০০৪ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ব্রাজিল ভাগের ৪০% অ্যামাজন বন বিলীন হয়ে গেছে। পৃথিবীর অদ্বিতীয় ভৌগোলিক, জীববৈচিত্র্যের আঁধার আমাজন হয়তবা আর খুব বেশিদিন আমাদের গর্ব হিসেবে থাকবে না। সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন আমাজনকে আমরা খুঁজবো ইতিহাসের পাতায়। তাই সকলেই গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান। একটি গাছ, একটি প্রাণ, এই সত্য কথাটি সবাইকে বুঝিয়ে দিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও পরিবেশবিদ

SHARE

Leave a Reply