নতুন বছরের প্রত্যাশা ও সিরাতে রাসূল সা:-এর অনুসরণ

01ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে একটি বছর। পুরনো সব গ্লানি মুছে নতুন আশা আর উদ্দীপনা নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ইংরেজি বছর ২০১৫। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে সময়ের এই পালাবদল মানুষের জীবনেও আনে বৈচিত্র্য। সেই ধারাবাহিকতায় নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছে ইংরেজি ২০১৪ সাল। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, ব্যথা-বেদনা, আশা-আকাক্সক্ষা সব কিছু মিলেই ছিল বিগত বছরের উপাখ্যান। পুরনোকে ভুলে দেশবাসী আজ নতুন একটি প্লাটফর্মের প্রত্যাশা করছে। সবারই চাওয়া ২০১৫ সাল যেন পুরনো বছরের মতো না হয়। অতীতের শিক্ষা নিয়ে নতুন বছরের পথচলা শুরু হবে, এমনটিই প্রত্যাশা আপামর জনসাধারণের। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সুস্থ, সুন্দরের প্রত্যাশায় চেয়ে আছে পুরো জাতি। নতুন আশার আলো ছড়িয়ে যে বছরটি শুরু হলো সে বছরটি হবে শক্সকা ও হানাহানিমুক্তÑ এমন প্রত্যাশা সবার। ২০১৫ সাল হবে উদার গণতান্ত্রিক, যেখানে রাজনীতির নামে হানাহানি, মারামারি,  খোনাখুনি, লুটপাট, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিÑ এসব কিছুই থাকবে না। মানুষ ফিরে পাবে পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার। সত্য ও সুন্দর ভবিষ্যতের নির্মাণই হবে নতুন বছরের চাওয়া। সেই আশায় বুক বেঁধে আছে সমগ্র জাতি।
ইংরেজি নতুন বছরের আগমনের সাথে সাথে এসেছে আরবি মাস রবিউল আউয়াল। এ মাসের ১২ তারিখ প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা) পৃথিবীতে আগমন করেছেন আবার এ মাসের ১২ তারিখেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন (৬৩ বছর বয়সে)। একমাত্র নবী সা:-এর জীবন ও চরিত্র অনুসরণেই পূর্ণাঙ্গ হেদায়েত লাভ করা সম্ভব। মানবজীবনকে অর্থবহ ও মহান স্রষ্টার আনুগত্য লাভের জন্য প্রয়োজন রাসূলুল্লাহ সা:-এর অনুসরণ। প্রয়োজন আল কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ। আল্লাহ মনোনীত আর রাসূলুল্লাহ সা: প্রতিষ্ঠিত সত্য, সুন্দর ও শাশ্বত দীনকে মানুষের সামনে যুগোপযোগী করে তুলে ধরতে পারলে জাগতিক মুক্তি ও সার্বিক সফলতা লাভ করা সম্ভব। রাসূল সা:-এর জীবনদর্শন ব্যাপক ও বিস্তৃত। তাকে প্রেরণ করা হয়েছে বিশ্ব জাহানের যাবতীয় কল্যাণের জন্য। আমাদের ইহ ও পারলৌকিক মুক্তি ও কল্যাণের জন্য কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূলুল্লাহকেই সা: গ্রহণ করতে হবে। তাই একটি আলোকিত ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাসূলের জীবনদর্শন আজ বড় প্রয়োজন। প্রসঙ্গক্রমে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বলতে হয়, রাসূলুল্লাহ সা:-এর শিক্ষা এবং তার প্রদর্শিত পথ ও মতকে আঁকড়ে ধরাই একজন মুমিনের আবশ্যিক দায়িত্ব।
অবৈধভাবে জেঁকে বসা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। মূলত গণতন্ত্র হত্যার একটি প্রয়াস তারা চালাচ্ছে। আর তাই গত ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের সমাজে বিভাজন-বিভক্তি বেড়েছে। দেশে এক ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য যেমন প্রয়োজন রাসূল সা:-এর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ, তেমনি প্রয়োজন সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া। নতুন বছরের প্রেরণা হোক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা। সবাইকে নতুন বছরের সালাম ও শুভেচ্ছা।

SHARE

Leave a Reply