নির্যাতিত ফিলিস্তিনি শিশু দেখার কেউ নেই

এম. তৌফিক

Storyইসরাইলিরা শুধু ফিলিস্তিন দখল করেই সন্তুষ্ট নয়। হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের মাতৃভূমির বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েও সন্তুষ্ট নয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ, যখন-তখন যেখানে-সেখানে অবাধ বোমাবর্ষণ করেও ওদের বর্বরতা থামছে না। জমিজমাসহ স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পদ জব্দ করা, ফিলিস্তিনিদের জমিতে ইহুদিদের নতুন নতুন বসত গড়ে তোলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের আহ্বান উপেক্ষা করে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছেÑ এরা এখন ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে একধরনের দমনমূলক অমানবিক নীতি অবলম্বন করে চলেছে। ফলে অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার এখন তাদের শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ফিলিস্তিনে থাকার সাহস দেখাচ্ছে না। এই শিশুবিরোধী ইসরাইলি নীতি এখন সম্প্রসারণবাদী ও বর্ণবাদী এই দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ইসরাইলি সৈন্যরা এখন জোরালোভাবে এই শিশুবিরোধী নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে, যাতে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। কারণ এখন ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো তাদের শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এর বিকল্প কিছু করার কথা ভাবতে পারছে না। ইসরাইল ধরে নিয়েছে, এখন যদি ফিলিস্তিনি শিশুদের অত্যাচার-নির্যাতন করে তাদের মধ্যে একধরনের ইসরাইলভীতি সৃষ্টি করা যায়, তবে ভবিষ্যতে এরা তরুণ ও যুবক বয়সে ইসরাইলবিরোধী কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে সাহস পাবে না।
গাজা দখল করে নেয়া পশ্চিম তীরে এখন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর টার্গেট হচ্ছে আট বছরের মতো বয়সী ফিলিস্তিনি শিশুরা। দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী এখন ফিলিস্তিনি পরিবারের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালানোর দুষ্ট-সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছে। এরা বিভিন্ন শহরের চেকপোস্টে বাধা সৃষ্টি করে ফিলিস্তিনিদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাজারগুলোতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সৈন্যরা নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে। জব্দ করছে সম্পত্তি। জোর করে এদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাদের বাড়িঘর থেকে। আর ফিলিস্তিনিদের এসব বাড়িঘর দিয়ে দেয়া হচ্ছে চরমপন্থী ইসরাইলি সেটেলারদের। যখন ফিলিস্তিনি তরুণেরা এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, তখন ইসরাইলি খুনিরা এসব বিক্ষোভকারীর মধ্য থেকে শিশুদের টার্গেট করে মাথায় ও শরীরের ওপরে অংশ লাইভ অ্যামিউনিশন দিয়ে গুলি করে, যাতে এরা মারাত্মকভাবে আহত হয়। যখন ইসরাইলি সৈন্যরা রাবারের আবরণ দেয়া বুলেটের ওপরের আবরণ ফেলে দিয়ে গুলি করে, তখন এই গুলির আঘাত আরো বেশি মারাত্মক হয়ে ওঠে। যখন সৈনিকেরা এ ধরনের বিক্ষোভ মিছিল তাড়া করে, তখন এরা নির্মমভাবে শিশুদের মাথা টার্গেট করে লাঠিচার্জ করে। এ ধরনের আঘাতের ফলে শিশুরা স্থায়ীভাবে বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ে। অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় এদের পরিবারকে খরচ করতে হয় প্রচুর অর্থ, যা দরিদ্র ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইহুদিদের সম্প্রসারণবাদী পরিকল্পনা ব্যবহার করে ইহুদিবাদী ইসরাইলিরা জোর করে ফিলিস্তিনি জায়গা-জমি, বাড়িঘর, ফসলি খামার দখল নিচ্ছে। ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে গড়ে তোলা হচ্ছে ইহুদি বসতি। তা ছাড়া অবশিষ্ট ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোর ওপর নজর রাখার জন্য পাহাড় চূড়ায় তৈরি করছে ইহুদিদের ক্যারাবান সেটেলমেন্ট। সেখান থেকে টার্গেটে পরিণত করে ফিলিস্তিনিদের, বিশেষ করে শিশুদের।
চরমপন্থী ইহুদি সেটেলারেরা যখন-তখন এসে ফিলিস্তিনিদের জলপাইয়ের গাছ কেটে দেয়। পুড়িয়ে দেয় ক্ষেতের ফসল, এমনকি গুলি করে মেরে ফেলে কৃষিকাজে ব্যবহারের পশুগুলোকেও। কোনো কোনো সময় এরা অপহরণ করে কৃষিকাজে নিয়োজিত ফিলিস্তিনি শিশুদেরও। এরা কেউ ক্ষেতে কাজ করে কিংবা পশুপালন করে। কিন্তু তাদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় ইহুদি বসতিগুলোতে। সেখানে দীর্ঘসময় ধরে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। কয়েক দিন নির্যাতন চালানোর পর এদের কাউকে কাউকে আবার ছেড়েও দেয়া হয়। এরা তখন নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে আসে অন্য ধরনের এক আতঙ্কের ছাপ চোখে-মুখে নিয়ে।
একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয় পূর্ব জেরুসালেমেও। ইসরাইলি সরকার এর থাবা বাড়িয়েছে আল-আকসা মসজিদের পাশের এলাকা সিলওয়ানেও। বলা হচ্ছে, সেখানে ইসরাইলিরা তৈরি করবে ‘কিংস গার্ডেন’। এ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর অধিগ্রহণ করা হচ্ছে কিংবা বলা ভালোÑ জব্দ করা হচ্ছে। এসব বাড়িঘরের মালিকদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সেখানে আগমন ঘটছে ইসরাইলি চরমপন্থীদের। এরা কখনো ফিলিস্তিনি বাড়ির মালিকদেরসহ গোটা পরিবারকে একটি কক্ষে আটক করে হয়রানি করে। এর পাশেই গড়ে তোলা হচ্ছে একটি ইসরাইলি বসতি। পূর্ব জেরুসালেমে এ ধরনের বসতি গড়ে তোলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এ চরমপন্থীরা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মনে একধরনের উদ্বেগ আর ক্ষোভের জন্ম দেয়। এরই জের ধরে সেখানে অব্যাহতভাবে নানা সঙ্ঘাত-সংঘর্ষ হচ্ছে। আর এর সহজ শিকার হচ্ছেন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরাই। এসব সঙ্ঘাত-সংঘর্ষকে অজুহাত হিসেবে ইসরাইলিরা সামনে নিয়ে আসে ফিলিস্তিনি বাড়িঘরে হামলা চালানোকে যৌক্তিক করে তুলতে। এমনকি কখনো কখনো রাতেও ফিলিস্তিনি শিশুদের বিছানা থেকে টেনে-হেঁচড়ে নামিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে চোখবাঁধা অবস্থায় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইসরাইলি ই ঞংবষবস নামের একটি সংস্থার তদন্তে জানা গেছেÑ এক বছর সময়ে সিলওয়ান এলাকা থেকে কমপক্ষে ৮১জন ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করে নিয়ে গিয়ে ইসরাইলি স্পেশাল ফোর্স নির্যাতন চালিয়েছে।
‘দ্য ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল’-এর ফিলিস্তিন বিভাগ এ ধরনের নির্যাতিত শিশুদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এর মাধ্যমে জানা গেছে, এরা যেমনি নির্যাতিত হয়েছে ইসরাইলি স্পেশাল ফোর্সের হাতে, তেমনি হয়েছে ইসরাইলি চরম পন্থী সেটেলারদের হাতেও। এ সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রচুর প্রত্যক্ষ সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ‘ওউঋ ঃধৎমবঃং পযরষফৎবহ’ লিখে ইউটিউব ডট কমে সার্চ করলে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনার প্রচুর ভিডিও ক্লিপিং পাওয়া যাবে। ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ হচ্ছে সাবেক ইসরাইলি সৈনিকদের একটি সংগঠন। অধিকৃত ফিলিস্তিন এলাকায় প্রতিদিন কী ঘটছে তা তুলে ধরার কাজে নিয়োজিত এ সংস্থা। এ সংস্থা ৩০জন সাবেক ইসরাইলি সৈনিকের টেস্টিমনি (প্রামাণিক সাক্ষ্য) নিয়ে একটি ছোট্ট বই প্রকাশ করেছে। এদের সাক্ষ্যে তুলে ধরা হয়েছে, ফিলিস্তিনি শিশুদের আটক করে কী ধরনের নির্মম অমানবিক নির্যাতন ইসরাইলি স্পেশাল ফোর্স ও চরমপন্থী সেটেলারেরা চালায়।
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সৈন্যেরা নিয়মিত এ ধরনের যেসব অপারেশন চালায় তারই একটির নাম ‘ঝঃৎধি রিফফড়’ি- এই অপারেশন চালানো হয় মধ্যরাতে কিংবা ভোর হওয়ার ঠিক আগেই। আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র সজ্জিত ইসরাইলিরা রাতে ফিলিস্তিনিদের ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে। এবং পরিবারের সবাইকে আটক করে একটি মাত্র কক্ষে। এরপর পুরো বাড়িটাকে এরা যত সময় প্রয়োজন রোধ করে তত সময় একটা আর্মি ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করে। এক সময় পুরো বাড়িটাকে আবর্জনা তুল্য করে ফেলে চলে যায়। পরিবারের লোকজন, বিশেষ করে শিশুদের আতঙ্কিত ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। এ শিশুদের অনেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সারাক্ষণ একধরনের ভীতি এদের মধ্যে কাজ করে। জীবন-যাপন এসব পরিবারের জন্য এক ধরনের ঝুঁকিতে নিমজ্জিত হয়।
স্ট্রো উইডোর মতে আরেকটি নিয়মিত অপারেশন চালায় ইসরাইলি সৈন্যরা। এর মাধ্যমে ঠিক ভোর হওয়ার আগে ফিলিস্তিনি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আটক করা হয় শিশুদের। ঘুমন্ত শিশুদের বিছানা থেকে তুলে নিয়ে হাত বেধে, চোখ বেধে ও আবরণে ঢেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে মিলিটারি জিপে তোলা হয়। কোনো কোনো শিশুকে পেটাতে পেটাতে ও পেছনে লাথি মারতে মারতে জিপে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের জিপের ফ্লোরে উপুড় করে শুইয়ে রেখে ইসরাইলের সামরিক জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার আগে পর্যন্ত অন্ধকার ও ঠাণ্ডা সেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি দিনের পর দিন ফেলে রাখা হয়। বিভিন্ন সামরিক কর্মকর্তা অব্যাহতভাবে এদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। চেয়ারে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এদের জিজ্ঞাসাবাদের কাজ চলে। এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর সময় এরা নানা ধরনের ভয়ভীতি ও নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়। কখনো কখনো যৌন নির্যাতনের হুমকিও দেয়া হয়। তখন এসব শিশুদের হিব্রু ভাষায় লেখা একটি স্বীকারোক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। এই ভাষা ফিলিস্তিনি শিশুদের কাছে বিদেশী ভাষা ছাড়া আর কিছুই নয়। দিনে পর দিন, কখনো কখনো মাসের পর মাস নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদের পরে এদের সামরিক বাহিনীর লোকেরা শিকল পরিয়ে ইসরাইলি আদালতে নিয়ে যায়। সেখানে এদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা হয়। এই পুরো সময় এই শিশু কোথায় কিভাবে আছে, তার কিছুই জানেনা শিশুর পরিবারের সদস্যরা। এই আইনি অধিকার লঙ্ঘন করেই ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর। অনেক শিশুকে ইসরাইলি অপরাধীদের সাথে কারাগারে রাখা হয়। সেখানে ইসরাইলিদের হাতে এরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকে যৌন নির্যাতনেরও শিকার হয়। এদের অনেককে ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের সাথে অন্ধকার ও ঠান্ডা এবং কারাবন্দীতে ঠাসাঠাসি করা কক্ষে রাখা হয়।
এ ধরনের ভীতিকর নির্যাতনের শিকার শিশুরা মানসিকভাবে স্বাভাবিক থাকবে, এমনটি না হওয়ারই কথা। ফলে শিশু বয়সেই এ ধরনের শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ বাসা বাধে। এরা জেল থেকে ছাড়া পেলেই কেবল পরিবারের সহায়তা পায়। এই নির্যাতনে বিরূপ প্রভাব শুধু শিশুটির ওপরই নয়, তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও পড়ে। ফলে পরিবারের লোকজনও তখন অসহায় হয়ে পড়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটির সহায়তা করার ব্যাপারে, শিশুটি তাদের আপনজন হওয়া সত্বেও। কোনো সরকারি ও সামাজিক সংস্থা থেকে কোনো সহায়তা না পাওয়ার ফলে এরা একাকিত্ববোধ করে। অসহায়ত্ব চারদিক এসে এদের ঝাপটে ধরে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাজেট ইসরাইলি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তাই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এদের আইনি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিয়ে সেভাবে এগিয়ে আসতে পারে না।
ইসরাইলের এই শিশু নির্যাতন একটি নাটকীয় প্রপঞ্চে রূপ নিয়েছে। প্রখ্যাত ক’জন ইংরেজ আইনজীবীর তা নজরে এসেছে। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সর্বোচ্চ বৃটিশ আদালতের সাবেক বিচারক স্যাব স্টিফেন স্যাডলি। এরা ইসরাইলি আদালত সফর করেছেন। এরা এরপর তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘চিলড্রেন ইন মিলিটরি কাডি’ শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। এ রিপোর্টে এরা শিশু অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের কনভেনশনে মারাত্মক লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন ইসরাইলের ওপর। এরা বলেছেন, ইসরাইল এই কনভেনশনের ডিসক্রিমিনেশনসংক্রান্ত ২ নম্বর অনুচ্ছেদ, চাইল্ড’স বেস্ট ইন্টারেস্টসংক্রান্ত ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ, প্রিমেচিউর রিসোর্ট টু ডিটেনশনসংক্রান্ত ৩৭(বি) অনুচ্ছেদসহ বিভিন্নবিষয়ক ৩৭(বি), ৩৭(ডি) ৪০ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। তা ছাড়া ইসরাইল চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ৩৬, ৩৭(ক) ও৭৬ নম্বর অনুচ্ছেদও লঙ্ঘন করেছে।
এরা রিপোর্টে বলেছেন, ইসরাইলিরা এই শিশুদের ‘পটেনটিশয়াল টেরোরিস্ট’ বলে উল্লেখ করেছেÑ বিষয়টি নাৎসিদের ইহুদি শিশুদের সাথে তুলনীয়।
স্বঘোষিত মানবিক আমেরিকান প্রশাসন ও ন্যাটো ব্যানার বহন করে ‘আলিগেশন টু প্রটেক্ট লাইভস’ এবং ‘প্রোডাইডিং হিউম্যানেটারিযান এইড’-এর। এরা আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সরকার পরিবর্তনের জন্য এবং এসব দেশ ধ্বংসের জন্য অর্থ, মিলিটারি হার্ডওয়্যার দিতে এর পায়ে খাড়া। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষা প্রশ্নে এদের অবস্থান ইসরাইলের পক্ষে। ইসরাইলিরা যে ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে এরা অন্ধ। আর আমরা বাংলাদেশীরা তো ফিলিস্তিনি, কাশ্মির কিংবা অন্যান্য নির্যাতন মুসলিমদের কথা বেমালুম ভুলেই আচ্ছি। অন্ধ রাজনীতি আর কাকে বলে?

SHARE

Leave a Reply