নীলকণ্ঠের কাব্যকলা -মাহফুজুর রহমান আখন্দ

বুকের কপাট কতটা প্রশস্ত হলে ভালোবাসা ধারণ করা যায়, জানি না
জানিনা কিভাবে রাতারাতি বদলে যায় হৃদয় সাগরের মসৃণ বেলাভূমি
কিভাবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে ভালোবাসার স্বপ্ন-উঠোনে
কিভাবে নেতিয়ে পড়ে সাহসের সুউচ্চ হিমছড়ি চূড়া
বরফের মতো ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় মানবিক মূল্যবোধ
ঠিক যেমন পড়ন্ত বিকেলে সূর্যটাও ঢুকে পড়ে অন্ধকারের গহীন অরণ্যে

আমাকে তুমি হারিয়ে ফেলতে চাও হতাশার কৃষ্ণবিবরে
তাইতো শাপলা শালুকে মিলাও কাউয়াকুলি ফল,
পদাঘাতে সরাও পদ্মফুলের ঘ্রাণ
সহসাই ডাস্টবিনে ফেলে দাও সুরেলা তানপুরা
অচেনা সঙ্গীতে সরিয়ে নিচ্ছো সাধনার তাল, আমার সারেগামা শিস
কষ্টের হেমলকে সাজিয়ে দিচ্ছো আমার কলিজারঙ, খয়েরি গোলাপ
রুদ্ধশেলে বন্দি করছো আমার কলমের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর

চেতনার আকাশে আজ আমি নীলকণ্ঠের বালিহাঁস
পঞ্চাশের হিসেব চুকিয়ে মধ্যসিঁড়িতে আসন পেতেছি আমি
প্রত্যাশার জাল বুনে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেবো সিন্দাবাদের মতো
আবিষ্কার করবো নতুন নতুন জলাভূমি, পাহাড়ি জনপদ, সুখময় সমতল
কান্নার পরতে পরতে তুলবো ভৈরবী সুর, দাদরা ত্রিতাল
বাতাসের কণায় কণায় ছড়িয়ে দেবো নিষ্পাপ হাসি

আরো খানিকটা সময় পেতে চাই আমি

অথচ তুমি, সেই তুমি প্রিয়জন আমার
ঘুঙুরের আদলে আমার পায়ে পরিয়েছো পরাধীনতার লাঞ্ছনাবেড়ি
চোখের রেটিনা জুড়ে চিত্রিত করেছো বিষাক্ত ঢেউ
কবিতার পঙক্তি জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছো ফ্যাকাশে আকাশ
লোমকূপের আস্তিনে জমিয়ে রাখছো অদৃশ্য মৃত্যুকূপ
সময়ের পাতায় পাতায় এঁকে যাচ্ছো ধূসর পাণ্ডুলিপি

জেনে রাখো, তবুও থামবো না আমি
হার মানবো না জীবনের কাছে
মৃত্যুর দাসখতে পরোয়া করবো না
পরোয়া করবো না গোখরো সাপের ভয়ঙ্কর ফণা, কিংবা বিষাক্ত দাঁত

ঝলসানো রূপনগরের জৌলুশ মারিয়ে
বদরের ধূলিকণা ছুঁয়ে এগিয়ে যাবো
এগিয়ে যাবো আবদুল্লাহ বিন রাওহার বিপ্লবী চেতনায়
হাসসান বিন সাবিতের প্রেমের সঙ্গীতে
হেরার পরশে তুলে আনবোই প্রভাতি সুরের সুখময় কাব্যকলা
হৃদয়ের ক্যানভাসে ভোরের সূর্যের মতো হেসে উঠবে লাল-সবুজের প্রশান্ত মুখ।

SHARE

Leave a Reply