নেপালের সংখ্যালঘু মুসলমান ইতিহাস ও ঐহিত্য -ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ

[গত সংখ্যার পর]

স্থানীয় সংস্কৃতির প্রভাবে প্রভাবিত হলেও শ্রেণীভেদে সকল মুসলমানের মধ্যে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায়, রমজান মাসের ফরজ রোজার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া এবং সমর্থবানদের জন্য হজ পালনের ব্যাপারে তেমন কোন দ্বিমত নেই। অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন মুসলমান হজব্রত পালন করার জন্য সৌদি আরব গমন করে। সরকারি সহযোগিতা পেলে হাজীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতো। প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ না থাকায় জাকাতের ক্ষেত্রে মুসলমানদের ধারণা খানিকটা পিছিয়ে। তবে শিক্ষিত শ্রেণীর মুসলমানদের মধ্যে এক্ষেত্রে কিছুটা সচেতনতা লক্ষ্য করা গেলেও তা শরয়িবিধান মোতাবেক পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব করে খাত অনুযায়ী বণ্টনের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাযের ক্ষেত্রেও স্থান বিশেষে ততোটা উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন না হলেও মুসলিম বসতিপূর্ণ এলাকায় ঈদের আমেজ লক্ষণীয়। পর্দার বিধান মান্য করার ক্ষেত্রেও অঞ্চলভেদে ভিন্নতর রয়েছে। কোন কোন পরিবারে এ ব্যাপারে বেশ কঠোরতাও লক্ষ্য করা যায়। বিবাহ-শাদি, তালাক, মিরাসবণ্টন ও বিচারিক আইনসহ রাষ্ট্রীয় বিধানে ইসলামের কোন বিধিমালা সংশ্লিষ্ট নেই বলে সমাজজীবনের রাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুসলমানগণ ইসলাম অনুসরণে ব্যর্থ হয়। সেক্ষেত্রে প্রচলিত আইনই তাদেরকে মেনে নিতে হয়। গবেষক মোজাম্মেল হক বলেন, The Muslims of Nepal are not given the right to practice Islamic personal law, because there are no such laws in the country. And they have to follow the non Islamic rules regarding marriage, divorce, sacrificing animal in the way of Allah during the month of Eidul Azhah and others.

নেপাল মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা
সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যকার উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও নেপালের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এর অনুপাত প্রায় ৪০ শতাংশ। এখানকার নাগরিকদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ১৮০ ইউএস ডলার। মুসলমানদের অবস্থা আরো বেশি ভয়াবহ। অধিকাংশ মুসলমান দরিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত। গোটা নেপাল জুড়ে উল্লেখ করার মতো মুসলমানদের কোন বাণিজ্যপ্রতিষ্ঠান নেই। তবে তিব্বতীয় ও কাশ্মিরি মুসলমানদের নিজস্ব বলয়ে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তদুপরি কাঠমান্ডুসহ দেশের দু-একটি স্থানের কিছু সংখ্যক মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা কিছুটা ভালো। কাঠমান্ডু অঞ্চলের মুসলমানদের ফসলি জমি থাকলেও তারা কৃষিকাজে ততোটা জড়িত নয়। তারা ছোটখাটো চাকরিসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তেরাই অঞ্চলের মুসলমানরা কৃষিজীবী। পশুপালন ও পোলট্রি শিল্পে তেরাই মুসলমানরা বেশ এগিয়ে। অমুলিমদেরকে পোলট্রি শিল্পে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলেও মুসলমানরা সরকারিভাবে তেমন কোন সাহায্য পায় না। মুসলমানরা প্রায় ঘরে ঘরেই কবুতর পালন করে থাকে।
পাহাড়ি অঞ্চলে মুসলমানদের কৃষিকাজ ও চুড়ি ব্যবসা প্রধান পেশা হলেও তাদের কৃষিজমি খুব কম। এখানকার প্রায় সকল মুসলমানই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এখানকার শতকরা ৮৫ ভাগ মুসলমান কৃষক পরিবারের আবাদি জমির পরিমাণ ১.২৩ হেক্টর। কোন কোন মুসলিম পরিবারের সর্বোচ্চ ২ হেক্টর জমি আছে। ভূমিহীন মুসলমানের সংখ্যাও কম নয়। এদের অধিকাংশই শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কৃষিজীবী মুসলিম পরিবারগুলো অভাব অনটনের কারণে শিক্ষা গ্রহণে খুব বেশি সুযোগ পায় না। তাছাড়া সরকারিভাবে তেমন কোন সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে তারা অর্থনৈতিকভাবে এমন পশ্চাৎপদই রয়ে যাচ্ছে। কৃষিকাজ ছাড়াও মুসলমানদের অনেকেই চুড়ি বিক্রেতা হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়া দর্জি পেশায় মুসলমানদের সংখ্যাও কম নয়। রিক্শা চালানো থেকে কুলি মজুরের কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহেও মুসলমানদের সংখ্যা বেশি। মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে গবেষক মুহাম্মদ সিদ্দিক উল্লেখ করেন, As the Muslims are generally not rich. The income distribution within the community has little variation. Indeed comparatively, Muslims appear to be poorer. No top business activity in Nepal is owned by a Muslim.
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমানদের অবস্থান অত্যন্ত নিম্নে। নেপালের সচিবালয়, বার অ্যাসোসিয়েশন, মানবাধিকার কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিশনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অফিসসমূহে মুসলমানদের অবস্থান একেবারে শূন্য। পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে দু’চারজনের সন্ধান পাওয়া গেলেও নেপালি সেনাবাহিনীতে মুসলমান সৈনিক নেই বললেই চলে। সরকারি যে কোন অফিস আদালতে মুসলমানদের চাকরির সুযোগ খুবই কম। নিম্নপদের কর্মচারী হিসেবে সামান্য কিছু মুসলমান পাওয়া গেলেও অফিসার পদে মুসলমানদের কোনো অবস্থানই নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ২ জন মুসলমান শিক্ষক পাঠদান করছেন।

রাজনীতিতে নেপালি মুসলমান
১৯৫১ সালে নেপালে রানাশাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং রাজতন্ত্র পরিচালিত বহুদলীয় সরকারব্যবস্থা চালু হয়। তবে এতে মুসলমানদের সামাজিক অবস্থানের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি ঘটেনি। এমনকি ১৯৫৯ সালে যখন দেশটির সংবিধান গৃহীত হয় তখনও মুসলমানরা অবহেলিতই থেকে যায়। সংবিধান গৃহীত হবার পর নেপালে বি পি কৈরালা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং গণতন্ত্র চালু হয়। তবে ১৯৬০ সালে রাজা মাহেন্দ্র এ সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেন এবং রাজতন্ত্র পরিচালিত পঞ্চায়েত ভিত্তিক দলহীন রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি ১৮৫৩ সালের কোডকে বাতিল করে দেন এবং তার পরিবর্তে ১৯৬৩ সালে নতুন কোড প্রচলন করেন। এই কোডে মুসলমানদের জন্য সমনাগরিক হিসেবে অভিহিত করা হয়। নতুন জারিকৃত আইনে মুসলমানদের স্বাধীন ধর্মচর্চার সুযোগ দেয়া হলেও ধর্মান্তর বা বিবাহবিষয়ক আইনে ১৮৫৩ সালে কোডের কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। পূর্বের ন্যায় মানুষকে ধর্মান্তর করার যেকোন প্রচেষ্টা একটি অপরাধ হিসেবে এই আইনে বিবেচিত ছিল যার শাস্তি ছিল ৩ বছরের কারাদন্ড। তবে রাজা মাহেন্দ্র জাতীয় পঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবে একজন মুসলমানকে মনোনীত করেছিলেন এবং মাদরাসা স্থাপন করতে মুসলমানদের উৎসাহিত করেছিলেন।
১৯৯০ সালে নেপালের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনে মুসলমানদের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য। ১৯৯০ সালে সম্পূর্ণ হিন্দু রাজতন্ত্রের পরিবর্তে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন নেপালের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এই সময় নেপালে একটি নতুন অস্থায়ী সংবিধান গৃহীত হয়। এই সংবিধানে নেপালকে একটি বহু জাতি ও ভাষাভিত্তিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম হিন্দু সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া এতে জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতারও ঘোষণা দেয়া হয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই জোয়ারে মুসলমানরাও আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মসচেতন হয়ে ওঠে। কয়েকটি মুসলিম সংগঠন যথা ‘মিল্লাতে-ইসলামিয়া’ এবং ‘মুসলিম সেবা সমিতি’ রাষ্ট্র পরিচালিত নেপালীকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। ১৯৯১ সালে অস্থায়ী সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর দেশটিতে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় বিবেচনায় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবার কারণে এ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের পক্ষ হয়ে ৩১ জন মুসলিম নেতা অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন নির্বাচিত হয়েছিলেন যাদের মধ্যে ৩ জন নেপালি কংগ্রেস হতে, ১ জন ‘নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি’ হতে এবং একজন ‘সাধভাবনা পার্টি’ হতে নির্বাচিত হন। মুসলমানদের এই ব্যাপক সাফল্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের পদচারণাকে আরো বলিষ্ঠ করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দমিয়ে রাখা মুসলমানরা রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়াতে সচেতন হয়ে ওঠে। পাশাপাশি তারা সাংবিধানিক সভায় ১০% আসন সংরক্ষণেরও দাবি তোলে। মুসলিম সামাজিক-ধর্মীয় সংস্থাসমূহ বিশেষ করে ইসলামী যুব সংঘ, মিল্লাতে ইসলামিয়া এবং ইত্তেহাদুল মুসলিমিন আগের চেয়ে আরো সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৬ সালের মে মাসের ১৮ তারিখে নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্টে দেশটিকে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে মুসলমানদের কার্যক্রম খানিকটা বাধাগ্রস্ত হলেও তারা তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন থেকে পিছপা হচ্ছে না।
নেপালে মুসলমানদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম

নেপালে মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। কারণ হিন্দু অধ্যুষিত নেপালে মুসলিম কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠা সহজসাধ্য ছিল না। নেপালে হিন্দু ধর্মীয় অনুশাসন ব্যতীত কোন কিছুই গ্রহণযোগ্য ছিল না। এমনকি হিন্দু ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী সে দেশের সরকারও পরিচালিত হতো। এতো বাধ্যবাধকতার পরও মুসলমানরা নেপালে বিভিন্ন সংগঠনে গড়ে তোলে।’Islam Sangh Nepal’ নেপালের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংগঠনে। এই সংগঠনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের হয়ে শিল্প, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, মসজিদ নির্মাণসহ নানাবিধ সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রমে অবদান রাখছে। এ ছাড়া এই সংগঠনের মাধ্যমে প্রচুর ইসলামী এবং অন্যান্য বিষয়ে বই প্রকাশিত হয়। এসব বইয়ের মধ্যে কিছু সংখ্যক বই নেপালের বিভিন্ন স্কুলে পাঠ্যবই হিসেবে বিবেচিত। The New National Muslim Struggle Alliance নেপালের একটি মুসলিম সংগঠন যা রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে। সদরুল মিয়া হক একজন মুসলিম সংসদ সদস্যও এই দলের নেতা। মোহনা আনসারি দেশটির একমাত্র মুসলিম মহিলা আইনজীবী এবং The National Women’s Commission–এর একজন সদস্য। নেপালের মুসলমানগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য মসজিদ এবং  ইসলামিক সেন্টার হচ্ছে আল-মারকাযুল ইসলামী, কাঠমান্ডু, জুমা মসজিদ, কাঠমান্ডু, জুমা মসজিদ, গোর্খা, মাদ্রাসা মাজহারুল উলুম, এবং মদিনা মসজিদ মাদ্রাসা, বুটিয়াল প্রভৃতি। এছাড়াও মুসলমানদের নিজস্ব সাহায্য সহযোগিতায় কিছু ইসলামী সংগঠন এবং সেবাকেন্দ্র রয়েছে, যেমন আল ফালাহ দাতব্য সংস্থা, কাপিলাবাস্তু, ইসলামিক ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, জানাকপুর, মিল্লাত ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, সানসুরি, মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশন, কাঠমান্ডু, নেপাল মুসলিম রিলিফ সোসাইটি, বীরগঞ্জ প্রভৃতি।
নেপালের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ হিন্দু ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ ও সংস্কৃতির প্রবাহের মধ্যে মুসলমানরা একটি বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করা খুব কঠিন। তদুপরি নেপালের মুসলমানদের শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবেও বেশ খ্যাতি রয়েছে। মুসলমানরা এখানে হিন্দু সাংস্কৃতিক বলয়ের অধীন। তথাপি নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তারা তাদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। নেপালি মুসলিম সম্প্রদায় ইসলামের উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে তার সর্বোত্তম ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে। তাই বলা যায়, দেশটির মুসলিম সম্প্রদায় শুধু যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন তাই নয়, এই প্রতিকূলতাগুলোকে তারা সাফল্যের সাথে মোকাবেলাও করছে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক দ্বৈধতা নেপালের মুসলমানদের জন্য খুবই স্বাভাবিক এবং বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সাথেও মুসলিম সম্প্রদায়ের যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য।
মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে মতামত প্রদর্শন করে থাকে। বর্তমানে শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে নেপালি মুসলমানদের কিছু কিছু ছাত্র উন্নত বিশ্বে গমন করছে। এসব কিছুই নেপালি মুসলিম সম্প্রদায়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবহ। নেপালি মুসলমানদেরকে বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে বিভাজন করা হলেও তারা প্রত্যেকে স্বদেশকে খুব ভালোবাসে। নিজেদেরকে নেপালি হিসেবে পরিচয় দিতে তারা খুব গর্ববোধ করে। মানতিকার অঞ্চলের মুসলমানদের আঞ্চলিক নেতা শাইখ ইসলাম তাদেরকে দেশপ্রেম সম্পর্কে বলেন, We are Muslim, but we are Nepali as well.’

লেখক : শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply