নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই । ড. মোবারক হোসাইন

নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই । ড. মোবারক হোসাইনচীনা দার্শনিক কনফুশিয়াস বলেন, “যদি তুমি এক বছরের পরিকল্পনা মতো ফল পেতে চাও তবে শস্য রোপণ কর, যদি দশকের পরিকল্পনায় ফল পেতে চাও তবে বৃক্ষরোপণ কর আর যদি সারা জীবনের জন্য পরিকল্পনা করে ফল পেতে চাও তবে মানুষের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা কর।” মানুষকে মানুষ করার আয়োজনই শিক্ষা। মানুষ ছাড়া সকল প্রাণীই প্রকৃতির নিজস্ব আয়োজনে জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমৃদ্ধ হয়, এ জন্য তাদের কৃত্রিমব্যবস্থা করতে হয় না। অথচ মানুষকে জ্ঞানসমৃদ্ধ হওয়ার জন্য একটি পরিকল্পিত কৃত্রিমব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। সেটি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা ও নৈতিকতা, মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো। মানবিক নৈতিকতা ছাড়া শিক্ষা কুশিক্ষার নামান্তর, যা মানুষকে পশুর চেয়েও নিম্নস্তরে নামিয়ে ফেলে। আর মানবিক নৈতিকতাপূর্ণ শিক্ষা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত রাখে। মানুষের জ্ঞান ও চিত্তের উৎকর্ষের জন্য, মানবসভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য, চরিত্রগঠন ও মানবীয় মূল্যবোধের জন্য, সর্বোপরি মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য শিক্ষা হচ্ছে প্রধান নিয়ামক। বর্তমান বিশ্বে যেকোন দেশের প্রকৃত সম্পদ বলতে মানবসম্পদ বা জনসম্পদকে বুঝায়। আর এ মানবসম্পদ তথা মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশের মূলে রয়েছে শিক্ষা। শিক্ষা একজন ব্যক্তিকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসে। আর নৈতিকতা মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে তোলে। এ দু’টির সমন্বয় হলে একজন মানুষ সৎ, চরিত্রবান, আল্লাহভীরু, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। ফলে বর্তমান সমাজে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে ইসলামী শিক্ষা অতুলনীয়।

শিক্ষার সংজ্ঞা

বাংলা ‘শিক্ষা’ শব্দটি এসেছে ‘সাস’ ধাতু থেকে। যার অর্থ হলো শাসন করা বা উপদেশ দান করা। আরবি ভাষায় শিক্ষার সংজ্ঞায়নে তিনটি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। প্রথমত: তালিম যা আলিমা থেকে উৎপত্তি হয়েছে, যার অর্থ হলো জ্ঞান অন্বেষণ অথবা প্রদান করা। দ্বিতীয়ত: তাদিব যা আদাবা থেকে নির্গত হয়েছে। যার অর্থ হলো পরিমার্জিত, পরিশীলিত। তৃতীয়ত: তারবিয়াহ যা মূল শব্দ রাবা থেকে এসেছে। যার অর্থ জন্মানো, বৃদ্ধি করা, লালন করা প্রভৃতি। শব্দটির মাধ্যমে স্রষ্টার সাথে ব্যক্তির আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক চেতনার বৃদ্ধি ও লালনকে বুঝানো হয়।
শিক্ষা শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Education. যার প্রতিটি অক্ষরকে বিশ্লেষণ করে শিক্ষার এক সামগ্রিক অর্থকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশ্লেষণটি হলো- The term EDUCATION stands for : E-Enlargement of mind (মনের প্রশস্ততা বা সংকীর্ণতার অবসান) D-Discipline (শৃঙ্খলা) U-Universal outlook (সর্বজনীনতা) C-Characterization (নৈতিক চরিত্রগঠন) A-Activities (শিক্ষার প্রয়োগ বা কর্মচাঞ্চল্য) T-Truth worthiness (সত্যানুরাগ) I-Idealism (আর্দশানুরাগ) O-Omniscient (প্রজ্ঞার প্রকাশ) N-Nice tempered (মেজাজের ভারসাম্য)। বিশ্লেষণটিকে পরখ করলে দেখা যায়, জীবনের সুকুমারবৃত্তিগুলোকে স্পর্শ করেছে শিক্ষা। ইংরেজি Education যার সাধারণ আভিধানিক অর্থ হলো- শিক্ষাদান ও প্রতিপালন।
Oxford Advanced Learner’s Dictionary তে Education শব্দের অর্থ করা হয়েছে- Knowledge, Abilities and the development of character and mental powers.
অধ্যাপক গোলাম আযমের মতে, “যে শিক্ষা আত্মা ও দেহকে এক সুন্দর সামঞ্জস্যতাময় পরিণতিতে পৌঁছিয়ে এ জগতের রূপ-রস-গন্ধকে নৈতিকতার সীমার মধ্যে উপভোগ করার যোগ্যতা দান করে সে শিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা।” জন মিল্টন বলেন, “Education is the harmonious development of mind, body and soul.” একই কথা বলেছেন অ্যারিস্টটলও, তাঁর মতে “সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হলো শিক্ষা।” কবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবাল বলেছেন, “মানুষের খুদির বা রুহের উন্নয়নই আসল শিক্ষা।” আবার সক্রেটিসের ভাষায় “শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ।”
ফ্রেডারিক হার্বাটের মতে, “শিক্ষা হচ্ছে মানুষের বহুমুখী প্রতিভার ও অনুরাগের সুষম প্রকাশ এবং নৈতিক চরিত্রগঠন।”
ফ্রেডারিক ফ্রোয়েবেলের মতে, “সুন্দর বিশ্বস্ত এবং পবিত্র জীবন উপলব্ধি হলো শিক্ষা।”
ফ্রেন্সিস পার্কারের মতে, “মানুষের সকল প্রকার সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনই শিক্ষা।”
জন ডিউইর মতে, “আত্মোপলব্ধিই হলো শিক্ষা।”
হোয়াইট হিডের মতে, “শিক্ষা হচ্ছে জ্ঞানার্জন এবং সুষ্ঠু প্রয়োগের একটি পরিকল্পনা এবং কৌশল মাত্র।”
দার্শনিক রাসেলের মতে, “শিক্ষা হচ্ছে কতিপয় মানবিক গুণের যথা সাহস, উদ্যম, অনুভূতিশীলতা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদির বিকাশ সাধন।”
কান্টের মতে, “আদর্শ মনুষ্যত্ব অর্জনই শিক্ষা।”
হার্বার্ট স্পেনসারের ভাষায়, “পরিপূর্ণ জীবনযাপনই শিক্ষা।”
হার্বার্ট রিডের মতে, ‘‘মানুষকে মানুষ করাই শিক্ষা। স্রষ্টার সৃষ্টির রহস্য সম্যক উপলব্ধি করতে যা সাহায্য করে, তাই শিক্ষা।”
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে- Education is the backbone of a nation.শিক্ষাহীন জাতি মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মতো। অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকে শিক্ষা বলে। এ শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করে এবং মানবহৃদয়কে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে। প্লেটো ‘দি রিপাবলিক’ গ্রন্থে শিক্ষাকে (ক) জানা (খ) বিশ্বাস (গ) স্বরূপ অন্বেষা (ঘ) সমাধান ও নিশ্চয়তা- এ চারটি স্তরে ব্যাখ্যা করেছেন।

শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য

শিক্ষার লক্ষ্য হলো জ্ঞান অর্জন করা আর উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ সৃষ্টি করা বা মূল্যবোধের পরিবর্তন সাধন করা। অর্থাৎ, জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সঠিক মূল্যবোধের সৃষ্টি করাই হলো শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। পবিত্র কুরআনে নবী (যারা ছিলেন মানবজাতির শিক্ষক) প্রেরণের উদ্দেশ্যের কথা বলতে গিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, “আল্লাহ ঈমানদারদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুত তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট।” (সূরা আলে ইমরান : ১৬৪) অর্থাৎ মানুষের জীবনকে পরিশোধন বা সংশোধন করে সঠিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা ছিল নবীদের অন্যতম দায়িত্ব।
তার মানেই হলো সমাজের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষার জাতীয় উদ্দেশ্যগুলো হলোÑ যোগ্যতানুসারে প্রতিটি মানুষের সৃজনশীলতার বিকাশ সাধন, পারস্পরিক সমঝোতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মনোভাব সৃষ্টি, পরিপূর্ণ জীবন যাপনের যোগ্যতা অর্জন, নৈতিক চরিত্রগঠন, পরোপকারী হওয়া, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পরমতসহিষ্ণু দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন, ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবন উপলব্ধি করা, জ্ঞানভিত্তিক পরিশীলিত আচরণ করার যোগ্যতা অর্জন, জাতীয় মূল্যবোধ তথা কর্তব্যজ্ঞান, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ শিষ্টাচার ও একাত্মবোধ সৃষ্টি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার মাধ্যমে দক্ষ ও সৃজনশীল জনশক্তি প্রস্তুতকরণ। শিক্ষার মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদাবোধ সৃষ্টি এবং জাতীয় উন্নয়ন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে সবাইকে অনুপ্রাণিত করা। মেধা ও প্রবণতা অনুসারে জীবিকা অর্জনের জন্য যথারীতি প্রশিক্ষণ প্রদান। প্রয়োজনীয় বস্তুর উদ্ভাবন এবং সত্য মিথ্যা চিহ্নিতকরণ।

একজন আদর্শ শিক্ষিত মানুষের মাঝে তিন প্রকারের মূল্যবোধ থাকতে পারে-
১. মানবিক মূল্যবোধ
২. সামাজিক মূল্যবোধ
৩. নৈতিক মূল্যবোধ

নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই । ড. মোবারক হোসাইননৈতিকতা কী?

নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality যার উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে। Moralitas অর্থ হলো- ধরন, ভালো আচরণ, চরিত্র প্রভৃতি। কাজেই নৈতিকতা হলো এমন এক বিধান যার আলোকে মানুষ তার বিবেকবোধ ও ন্যায়বোধ ধারণ ও প্রয়োগ করতে পারে। সততা, সদাচার সৌজন্যমূলক আচরণ সুন্দর স্বভাব মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র- এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা। নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (সা) সর্বোত্তম ব্যক্তি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যার চরিত্র উত্তম।” (বুখারী ও মুসলিম) রাসূল (সা) আরো বলেন- “মুমিনের পরিমাপদণ্ডে কিয়ামতের দিন উত্তম নৈতিক চরিত্র অপেক্ষা অধিক ভারী জিনিস আর কিছু নয়।” (তিরমিযি) নৈতিকতা হলো ব্যক্তির মৌলিক মানবীয় গুণ এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ যা অর্জন করলে তার জীবন সুন্দর ও উন্নত হয়। আর এর মাধ্যমে সে অর্জন করে সম্মান ও মর্যাদা। ইসলামী শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া। নীতিহীন মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- তাদের হৃদয় আছে উপলব্ধি করে না, চোখ আছে দেখে না, কান আছে শুনে না। এরা হলো চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়। বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট। আর এরাই হলো গাফিল। (সূরা আরাফ : ১৭৯) নৈতিক শিক্ষা ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলির অন্তর্গত। ইসলামী দর্শনে আদি শিক্ষক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। তাই ফেরেশতারা বলেছিলেন: “হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র! আপনি যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনোই জ্ঞান নেই; নিশ্চয় আপনি মহাজ্ঞানী ও কৌশলী।” (সূরা বাকারা : ৩২) আমাদের প্রিয় নবী (সা:)-এর প্রতি ওহির প্রথম নির্দেশ ছিল: “পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানব ‘আলাক’ হতে। পড়ো, তোমার রব মহা সম্মানিত, যিনি শিক্ষাদান করেছেন লেখনীর মাধ্যমে। শিখিয়েছেন মানুষকে যা তারা জানত না।” (সূরা আলাক : ১-৫) “দয়াময় রহমান (আল্লাহ)! কুরআন শেখাবেন বলে মানব সৃষ্টি করলেন; তাকে বর্ণ শেখালেন।” (সূরা রহমান : ১-৪)

নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব

ড্রাইভার সফটওয়্যার ব্যতীত কোন কম্পিউটার যেমন অচল, তেমনি নৈতিকতা ব্যতীত কোন জীবিত মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। নৈতিকতার ধরন বা প্রকার ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু নৈতিকতাবিহীন কোন মানুষ হতে পারে না। আর নৈতিকতা নিরপেক্ষ যেহেতু কোন মানুষ হতে পারে না, তাই মানুষ কোন্ ধরনের নৈতিকতা অর্জন করবে বা ধারণ করবে তা মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যেসব বিষয় সরাসরি সম্পর্কিত সেগুলো হলো সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি। আচরণে অভীষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধনের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তথ্য প্রদান বা জ্ঞান দান করাকে শিক্ষা বলে। খলিফা হজরত উমর (রা)-এর এক প্রশ্নের জবাবে হজরত উবায় ইবনে কাআব (রা) বলেন, ‘ইলম হলো তিনটি বিষয়- আয়াতে মুহকামাহ (কুরআন), প্রতিষ্ঠিত সুন্নত (হাদিস) ও ন্যায় বিধান (ফিকাহ)।’ (তিরমিজি)
মানুষ দোষে-গুণে সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় যারা অকৃতজ্ঞ, হোক সে কিতাবধারী ও অংশীবাদী, সে জাহান্নামের আগুনে চিরকাল দগ্ধ হবে; তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্টতম। আর যারা বিশ্বাসী ও সৎ কর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।” (সূরা বাইয়িনাহ : ৬-৭)। রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেন, “জেনে রাখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা (মুদগাহ) আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীর তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীর তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখো, সে গোশতের টুকরাটি হলো কলব।” (বুখারী : ৫০)।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে যে কোন জাতির সামনের দিকে এগিয়ে চলা উচিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সে দল নিজেদের মতো করে ইতিহাস ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করে। এভাবে নতুন প্রজন্ম সত্য অতীত থেকে হয় বঞ্চিত। বিকৃত ইতিহাস জাতিকে বিভাজন ও অনৈক্যের দিকে ঠেলে দেয়। স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমরা আমাদের জাতিসত্তার পরিচিতির ব্যাপারে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারিনি। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটা গল্প আছে, আমাদের দেশে নাকি ইংরেজ আমলে চাকরি বা পদোন্নতির জন্য কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হতো। কাউকে চাকরিতে নিয়োগ করা হলে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হতো এবং তার উত্তর ধারাবাহিকভাবে শিখিয়ে দেয়া হতো। যেমন প্রথম প্রশ্ন হলো, What is your age? অর্থাৎ বলা হয় তোমার বয়স কতো? তাকে শিখিয়ে দেয়া হয় 30 Years। তারপর দ্বিতীয় প্রশ্ন করা হয় How long are you in service? অর্থাৎ, তোমার চাকরির বয়স কতো? তখন উত্তর শিখিয়ে দেয়া হতো 2 Years। তৃতীয় প্রশ্ন করা হয় What do you expect promotion and increament of your salary? তখন উত্তর শিখিয়ে দেয়া হয় Both. ধারাবাহিকভাবে তিনটি প্রশ্নের উত্তর শিখিয়ে দেয়ার পর কখনো লর্ড দ্বিতীয় প্রশ্ন আগে জিজ্ঞাসা করলে একজন উত্তর দেয় 30 Years. তখন প্রথম প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেয় 2 Years. উত্তর শুনে লর্ড অবাক হয়ে বলেন, এটা কি করে সম্ভব? তখন লর্ড তৃতীয় প্রশ্ন করেন Are you nonsence or I? অর্থাৎ তুমি পাগল না আমি পাগল? তখন উত্তরে সে বলে Both. ঠিক তেমনই আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কতিপয় বিষয় মুখস্থ করানো হয়। শিক্ষক কি বলেন ছাত্র তা বুঝে না। মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের দরুন প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা একদল ভোগবাদী, স্বার্থপূজারি ও অবিবেচক লোক ছাড়া বিকল্প কিছু উপহার দিতে পারছে না। শিক্ষার উদ্দেশ্যে ‘প্রবেশ কর, সেবার উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়’ শিক্ষাঙ্গনের ফলকে এটা লিখে রাখলেও বাস্তবে এর কোনও ফল নেই। বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম বা নৈতিক শিক্ষা এমন একটি পর্যায়ে আছে যা একটি উদাহরণ দিলেই আমরা বুঝতে পারব। এক লোক বিবাহের জন্য একটি পায়জামা ক্রয় করল এবং বাড়িতে এসে দেখল পায়জামা বড় হচ্ছে, তখন সে মাকে বলল, তার পায়জামা বড় যেন একটু কমিয়ে দেয়। আবার লোকটি বোনকে এবং ভাবীকেও পায়জামা কমিয়ে দিতে বললো। পরে দেখা গেল প্রথমে মা কমালো তারপর বোনে কমালো, ভাবীও কমালো। এভাবে লোকটি পরবর্তীতে পায়জামা পরতে গিয়ে দেখে শর্ট পায়জামা হয়ে গেল। ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা আজ কমতে কমতে শর্ট হয়ে গেছে অর্থাৎ তা নামে মাত্র এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।

একনজরে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক ত্রুটিসমূহ

〉 সৃষ্টিকর্তাবিমুখ শিক্ষাব্যবস্থা: যা দিয়ে মানুষ ঈমানী জযবা তৈরি করতে ব্যর্থ।
〉 জীবনপদ্ধতি কী হবে সেই নির্দেশনা না থাকা।
〉 নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
〉 কর্মবিমুখ শিক্ষাব্যবস্থা।
〉 সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্ব তৈরিতে ব্যর্থ।
〉 জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টিতে ব্যর্থ।
〉 পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব।
〉 দক্ষ শিক্ষক তৈরিতে ব্যর্থ।

ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা কী?

যে শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আল্লাহ তা’য়ালার একত্ববাদের উপর পূর্ণবিশ্বাস রেখে ইসলামের মৌলিক বিধি-বিধান ও তার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে শিক্ষা গ্রহণ এবং এর যাবতীয় কার্যপ্রণালী পরিচালিত হয়, তাকে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ, যে শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে ইসলামী মূল্যবোধকে সংরক্ষণ করে একটি কল্যাণমূলক যুগোপযোগী শিক্ষাপদ্ধতির যাবতীয় কার্যাবলি প্রণীত ও বাস্তবায়ন করা হয় তাকে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা বলে। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যাপক গোলাম আযমের ভাষায়, “যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ হিসেবে শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা থাকে তাই ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা।”

ইসলামী শিক্ষার ভিত্তি

ইসলামী শিক্ষার মূল ভিত্তিগুলো হলো-
〉 তাওহিদ: মানুষের ইবাদত পাবার যোগ্যতা ও অধিকার একমাত্র এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহরই আছে।
〉 রিসালাত: আল্লাহ মানবজাতিকে সত্য পথ দেখাবার জন্য বিধানসহ নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন।
〉 আখিরাত: পরকালে পৃথিবীর সমস্ত কর্ম সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে এবং এর ভিত্তিতে শাস্তি ও পুরস্কার প্রদান করা হবে।
〉 খিলাফাত: পৃথিবীতে মানুষ আল্লাহতায়ালার নির্দেশ মুতাবিক তাঁরই বিধান ব্যক্তিক ও সামষ্টিক জীবনে বাস্তবায়ন করবে।
〉 বিশ্বভ্রাতৃত্ব: পৃথিবীর সকল মানুষ আদম (আ) ও হাওয়ার (রা) সন্তান। এ জন্য তারা পরস্পর ভাই ভাই। কৃত্রিম কোন কারণে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করা যাবে না।
〉 ব্যক্তিস্বাধীনতা: মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করে এবং স্বাধীনভাবে একমাত্র আল্লাহতায়ালার বান্দা হিসেবে জীবন যাপন করবে।
〉 মৌলিক অধিকার: অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-চিকিৎসা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ হওয়া।
〉 সৎকাজে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অসৎ কাজে নিষেধ করা।

নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই । ড. মোবারক হোসাইনইসলামে শিক্ষার পরিধি

যে কোন সভ্যতা মূলত শিক্ষার ফলশ্রুতি। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইত্যাদি নানা উপাদান নিয়ে পত্তন হয় কোন সভ্যতার। আর সভ্যতার সেইসব উপাদানের নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষার অবদান। আর তাই শিক্ষার পরিধি বলতে সভ্যতায় সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোর অবদানগুলোকেই বুঝায়। ইসলামে শিক্ষার পরিধি বা সভ্যতায় ইসলামের অবদানগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো :

সামাজিক অবদান

〉 একটি মানবিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সোনালি সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
〉 মানুষকে সামাজিক গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে।
〉 সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর করে।
〉 প্রতিটি মানুষকে তার মেধা অনুযায়ী বিকশিত করতে সহায়তা করে।
〉 ঐক্যবদ্ধ সমাজগঠনে চিন্তার ঐক্য তৈরি করে।
〉 আদর্শের প্রতি প্রত্যয় সৃষ্টি করে।
〉 পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট উপলব্ধিতে এবং কাক্সিক্ষত সামাজিক পরিবর্তনে সহায়তা করে।
〉 পরিশীলিত বা ভদ্রোচিত আচরণ নিশ্চিত করে।
〉 মানুষের মধ্যে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে।

রাজনৈতিক অবদান

〉 জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে তোলে।
〉 দেশ ও উম্মাহর প্রতি কর্তব্য পরায়ণ করে।
〉 নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
〉 শক্তিশালী উম্মাহ গড়ে তুলতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলে।
〉 রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা সৃষ্টি করে।
〉 দেশ ও জাতিকে উন্নয়নের পথ দেখাতে সহায়তা করে।
〉 বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
〉 রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।

অর্থনৈতিক অবদান

〉 জীবিকা উপার্জনের যোগ্য করে গড়ে তোলে।
〉 জনশক্তিকে সম্পদে পরিণত করে।
〉 পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
〉 কর্মানুরাগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
〉 প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদান রাখে।
〉 নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

সাংস্কৃতিক অবদান

〉 খেলাধুলা, শরীরচর্চার প্রচলনের মাধ্যমে শারীরিক বিকাশ সাধন।
〉 শিল্প ও সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ ঘটানো।
〉 দৃষ্টিভঙ্গি উদার ও প্রসারিত করা।
〉 গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো।
〉 মূল্যবোধের চর্চাকে অগ্রাধিকার দেয়া।
〉 জীবনের সকল স্তরের সৌন্দর্যকে সংস্কৃতিতে গ্রহণযোগ্য উপস্থাপনায় প্রকাশ করা।
〉 জীবনধারা নিয়ন্ত্রিত করতে শেখানো।
〉 মানুষকে রুচিশীল করে তোলা।

ইসলামে শিক্ষার ভূমিকা

বস্তুবাদী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিলে মানুষ পশুর চেয়েও নিম্নমানের আচরণে বেড়ে ওঠে। আবার শুধু মনের বা আধ্যাত্মিক জাতীয় অর্থাৎ শুধু ঊর্ধ্ব জগৎ বিষয়ে শিক্ষাকে প্রাধান্য দিলে মানুষ বাস্তবজীবনে কোন কাজেই লাগে না। বাস্তবজীবন পরিচালনায় সামান্যতম কোনো অবদান রাখতে সক্ষম হয় না। একমাত্র ইসলামী শিক্ষাই এই উভয়ের সমন্বয় করে মানুষের দেহ ও মনের পরিপূর্ণ বিকাশের সহায়ক হবার যোগ্যতা রাখে। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে ইসলামী শিক্ষা মানবসমাজে নিম্নোক্ত ভূমিকা রেখে যায়-
〉 মানুষের দেহ ও মনের চাহিদা যথার্থভাবে পূরণ করে।
〉 সৎ, চরিত্রবান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে।
〉 মানুষকে তার স্রষ্টা আল্লাহর সাথে পরিচিত করে।
〉 মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করে।
〉 মানুষের মাঝে পারস্পরিক মমত্ববোধ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে।
〉 আল্লাহর বিশাল সৃষ্টি প্রাকৃতিক শক্তির গূঢ় রহস্য উদ্ভাবন ও কলাকৌশল আবিষ্কার করে মানবতার কল্যাণ সাধন করে।
〉 মানুষকে আল্লাহর প্রতিনিধির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে বা থাকতে সহায়তা করে।
〉 হক্কুল্লাহ এবং হক্কুল ইবাদ বা স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে।
〉 জাগতিক শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে ভারসাম্যমূলক জীবন গড়তে সহায়তা করে।
〉 মানুষকে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে অকুতোভয় করে তোলে।

ত্রুটি থেকে সমাধানের উপায়

দেশে ভয়াবহ ব্যাধির মত দানা বাঁধছে নৈতিক ও সামজিক অবক্ষয়। সমাজ বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এখন থেকে এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আগামী বছরগুলোতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেবে সামাজিক অবক্ষয়। প্রতিদিন একটু একটু করে অবক্ষয়ের অতল অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে দেশ। ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা সর্বক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি হয়ে উঠছে। শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটানো দরকার। তাহলে হয়তো আমরা সভ্য জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবো। যার জন্য প্রয়োজন কিছু পদক্ষেপ-
〉 ধর্মীয় শিক্ষাকে জাগিয়ে তোলা উচিত।
〉 ইসলামের সঠিক শিক্ষার প্রয়োগ থাকা প্রয়োজন।
〉 নৈতিক শিক্ষার আলোকে জাতিকে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
〉 অপসংস্কৃতির উন্মুক্ত আগ্রাসন রোধকল্পে আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
〉 সামাজিক অনুশাসন জোরদার করা উচিত।
〉 আদর্শিক পরিবার গড়ে তোলা উচিত।
〉 পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা উচিত।
〉 প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
〉 মিডিয়া ও গণমাধ্যমকে ন্যায়-নীতি ও আদর্শের পথে ধাবিতকরণে উৎসাহিত করা উচিত।
〉 দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর রোধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
〉 পক্ষ ও বিপক্ষের খোলস ছেড়ে সত্য বলার মানসিকতা থাকা উচিত।
〉 আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার।
〉 সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকতে হবে।

উপসংহার

নেপোলিয়ান বলেছিলেন, ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’ কিন্তু বর্তমান সময়ের শিক্ষিত মা পাওয়া গেলেও নৈতিক ও আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত সন্তানের খুব অভাব! অথচ উন্নত দেশ গড়তে হলে প্রয়োজন উন্নত জাতি। আর উন্নত জাতি গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা ও নৈতিকতা শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণসমাজ। যে তরুণরা শুধু নিজের কথা না ভেবে দেশ ও দশের কথা ভাববে। স্বার্থহীনভাবে দেশকে ভালোবাসবে, অন্যের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। সামাজিক ও নৈতিকতার অবক্ষয় হতে জাতিকে রক্ষা করতে হলে নৈতিকতা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
আল্লাহর কাছে মুমিনদের স্বপ্নের চাওয়া, “হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করুন। আর পরকালের কল্যাণও। আর আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”

লেখক : বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply