নৈতিক শিক্ষার খোলসে চলছে ভ্রান্ত সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা জাতি ধ্বংসের পাঁয়তারা

 মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে আল্লাহ যত নবী বা রাসূল পাঠিয়েছিলেন সবার জন্যই শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন। তাদের মাধ্যমে শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে তাগিদ দিয়েছেন। যেমন শেষ নবী মুহাম্মদ রাসূল (সা)-এর কাছেও প্রথম যে বাণী এসেছিল তাতেও বলা হয়েছে “পড়! তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা-আলাক) কারণ শিক্ষাই মানুষকে অন্ধকারের পথ থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “হে নবী আপনি বলুন! যারা জানে, আর জানে না তারা কি কখনো এক হতে পারে?” (সূরা যুমার : ৯) আর জেনে রাখা ভালো যে সবচেয়ে নিখাদ, কল্যাণকর ও ভেজালমুক্ত জ্ঞান হলো অহির জ্ঞান। শিক্ষা-সংস্কৃতি যে কোনো জাতির অমূল্য সম্পদ। যে কোনো জাতির উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি হলো শিক্ষা-সংস্কৃতি। তাই জ্ঞানীরা বলেন, কোনো জাতিকে সমূলে ধ্বংস করতে হলে সে জাতির শিক্ষা- সংস্কৃতি ধ্বংস করার বিকল্প নেই। স্বঘোষিত খোদা ফেরাউন যখন ক্ষমতার মসনদে সমাসীন হলো সে তার সভাসদকে ডেকে আমৃত্যু শ্রেষ্ঠত্ব আঁকড়ে ধরে রাখার উপায় খুঁজতে নির্দেশ দিলো। এতে তার উজির হামান পরামর্শ দিলো মানুষকে অজ্ঞতার অতল গহবরে নিমজ্জিত করতে পারলেই শুধুমাত্র একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে আমৃত্যু আপনার শর্তহীন আনুগত্য মেনে চলবে জনসাধারণ। যেই চিন্তা সেই কাজ। ফেরাউন চটজলদি সম্রাজ্যের সকল শিক্ষালয় বন্ধ করে দিলেন। ঘোষণা দিলেন “আনা রাব্বু কুমুল আ’লা” অর্থাৎ আমি সব চেয়ে বড় খোদা। তৈরি করলো নয়া শিক্ষাব্যবস্থা। যেখানে নেই কোনো ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা বলতে শুধুমাত্র ফেরাউনকে আনুগত্য করা ও তার গুণকীর্তন শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। যেমনি বর্তমান সরকার ক্ষমতার মসনদে আসার পর থেকে দেশের মুসলিম অধ্যুষিত ইসলামপ্রিয় জনগোষ্ঠীর মতামতকে উপেক্ষা করে ইসলামী শিক্ষাকে সঙ্কোচিত করা, বিকৃত করা ও সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার ব্যক্তিবর্গের জীবনপ্রণালি পাঠ্যপুস্তকে সংযোজনের মহোৎসব চলছে। আর মিডিয়া সন্ত্রাসের উপর্যুপরি মিথ্যাচারে শিক্ষা ধ্বংসের এ প্রতিযোগিতাকে শিক্ষা উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বলে ধুয়া তোলা হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের প্রচলিত সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাঙ্গনগুলোতে নেই শিক্ষার্জনের সুস্থ পরিবেশ। ফলে ছাত্র হত্যা, শিক্ষক লাঞ্ছিত করা, সাংবাদিক প্রহার, নিয়োগবাণিজ্য, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, গুম, ধর্ষণ, ব্যভিচার, যৌনাচার, ভর্তিবাণিজ্য, হল দখল, অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজি, আধিপত্য বিস্তার, অন্তঃকোন্দল ও মাদকাসক্ততায় শিক্ষাঙ্গনের অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি। তাই এ সকল শিক্ষাঙ্গন থেকে শিক্ষিত কুলাঙ্গার তৈরি হচ্ছে। যারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ভয়ঙ্কর। এ সকল শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বড় অংশ শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংক ডাকাতি, ব্যভিচার, গুম-খুন, কলমের খোঁচায় অন্যের সর্বনাশ ডেকে আনার মতো কু-অভ্যাস চর্চা করতে মোটেও দ্বিধা করছে না। এমনকি দেশের বড় কর্তাব্যক্তি হলেও ব্যক্তিস্বার্থ থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে পারছে না। তাই দেশ-জাতি তাদের কাছে নিরাপদ নয়!

সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার পরিচয়
Secularism বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ দর্শনটি ঊনিশ শতকে যুক্তরাজ্যে প্রথমত ব্যবহার শুরু হয়েছে। ১৮৪৬ সালে জর্জ জ্যাকব হোলিওক (George Jacob Holliock) নামক এক ব্যক্তি সেক্যুলারিজম শব্দটি ব্যবহার করেন। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রধানত মানুষের ইহজগতের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কিত। নিম্নে ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদের সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো Oxford Dictionary-তে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (Secularism)-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ÔBelief that religion should not be involved in the organization of society, education etc.Õ

আবার এ মতবাদের অনুসারী (Secular) সম্পর্কে বলা হয়েছে ইংলিশ সেক্যুলারিজম গ্রন্থ অনুযায়ী ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ হলো Secularism is a code of duty pertaining to this life founded on considerations purely human, and intended mainly for those who find theology indefinite or inadequate, unreliable or unbelievable. Its essential principles are three- The improvement of this life by material means; That is good to do good, whether there is other good or not, the good or present life is good and it is good to seek that good. (English Secularism, p.35)
মূলত যে শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মের লেশমাত্র স্থান নেই, যেখানে পরকালের জবাবদিহিতার কোনো দীক্ষা নেই, যে শিক্ষাব্যবস্থা আত্মপূজা, ভোগবাদ, বস্তুবাদ, স্বার্থবাদ ও আধিপত্যবাদকে আষ্টেপৃষ্ঠে আগলে রাখে। ‘খাও দাও ফুর্তি কর, দুনিয়াটা মস্ত বড়’ এই নীতিতে বিশ্বাসী কতক শিক্ষিত লোক তৈরি করে। ধর্মকে জাগতিক উন্নতির অন্তরায় মনে করে। অথচ জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্ম শিক্ষাই যে মানুষকে প্রকৃত মনুষ্যত্ব্যের উন্নত শিখরে সমাসীন করতে পারে।
তাই পাশ্চাত্য লেখক বানার্ড শ’ও ইসলাম ও হযরত মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে অশান্ত পৃথিবীকে শান্তির নীড়ে পরিণত করার এক অনিবার্য বাস্তবতা উল্লেখ করে বলেন, If a man like prophet Mohammad was to assume the dictatorship of Modern world, would Success in Solving it’s problem in way that would being in men needed peace and happiness.

শিক্ষামন্ত্রীর বিচার চাই
শিক্ষামন্ত্রী মহাজোট সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থার তরক্কি নিয়ে বেশ চাঙ্গাবস্থায় আছেন। সময়মতো রেজাল্ট, পরীক্ষা, বই বিলি ও ক্লাস শুরু করতে পেরে আপাতদৃষ্টিতে অঢেল বাহবা কুড়িয়েছেন এ যাবৎ কালের যে কোনো শিক্ষামন্ত্রীর চাইতে বেশি। তিনি ধর্মীয় শিক্ষার নাম দিয়েছেন ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা। তিনি ধর্মের মধ্যে নৈতিকতা খুঁজে পান না, তাই ধর্মের সাথে নৈতিক শিক্ষা শব্দ যোগ করেছেন। অধিকাংশ ধর্মমত মনে করে ধর্ম হচ্ছে এক বিস্তৃত বিষয়, যা মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সাথে জড়িত। কেউ ধর্ম পালন করতে না পারেন, তাতে কোনো আপত্তি কারো থাকার কথা নয়, আপত্তি সেখানে কেউ যদি চিরন্তন, অবিনশ্বর ও প্রতিষ্ঠিত সত্যকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাতির মাঝে সত্য-অসত্যের ফারাক করার বোধশক্তি লোপ করতে চায়। যে চিন্তা চেতনা ও সত্যের ওপর সমগ্র জাতি প্রতিষ্ঠিত, সে সত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়।
শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন, কালান্তরে তিনি আওয়ামী সরকারের শিক্ষামন্ত্রী। কমিউনিজমের দৃষ্টিভঙ্গি নয়া করে ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন বোধহয় নেই। বর্তমান সময়ে আমাদের বাজারে যেটি অচল সেটিই কমিউনিজম। এখানে কর্মী কম নেতা বেশি, এরা সুবিধাবাদী, পরগাছা, অন্যের কাঁধে পা রেখে নিজে সবল হতে চায়। যদি সবল হতে না পারে তাহলে প্রয়োজনে অন্যকে ধ্বংস করে দেবে তারপরও নাছোড়বান্দা। নিজের মত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বর্তমান শিক্ষা কমিটিকে তিনি নিজের কায়দা কানুনে গঠন করেছেন। কথায় বলে ‘যার কাছে যা আছে সে তা বিলিয়ে দিতে পারে’। মানে কারো কাছে ভালো কিছু থাকলে ভালো কিছু, আর খারাপ কিছু থাকলে খারাপ কিছু বিলিয়ে দেয়। এটাই বাস্তব, যুক্তিসঙ্গত ও পরিবেশবান্ধব। এ হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশের শিক্ষিত বিশিষ্ট জনেরাও নারাজ। তারা তাদের বিবেককে বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে আগামী প্রজন্ম তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণের মতাদর্শের বিপরীত শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের জনতার আদালতে বিচার হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করতে পারে না তারা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধী।

দেশের সর্বকালে শিক্ষানীতি প্রণয়নে জড়িতরা একই মতাদর্শের অনুসারী
স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ শাসনামলে একটি শিক্ষা কমিশন এবং তিনটি শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে বিজ্ঞানী কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে প্রণীত হয় কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন। এরপর ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর শামসুল হকের নেতৃত্বে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি’, ২০০০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি’ এবং সর্বশেষ প্রফেসর কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ প্রকাশ করা হয়েছে। খুদা কমিশনের পর যে তিনটি শিক্ষানীতি আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছে তার প্রত্যেকটি প্রণয়ন করা হয়েছে খুদা কমিশনকে ভিত্তি করেই। খুদা কমিশনকে কিভাবে যুগোপযোগী করে বাস্তবায়ন করা যায় সেটিই ছিল এ তিনটি শিক্ষানীতি কমিশন প্রণয়নের মূল লক্ষ্য। ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর শামসুল হকের নেতৃত্বে যে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয় তা ছিল আসলে খুদা কমিশনেরই আধুনিক ভার্সন। আর সর্বশেষ যে শিক্ষানীতি ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে তা করা হয়েছে ’৯৭ সালের শিক্ষানীতিকে ভিত্তি করে যার মূল ভিত্তি ছিল খুদা কমিশন। যে কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে বর্তমান শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে তিনি ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা কমিশনেরও সদস্য ছিলেন।
আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই তারা চেয়েছে খুদা কমিশন বাস্তবায়ন করতে। সে জন্য তারা সবসময় সেটিকে সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বসার পরপরই শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের আলোকে প্রণীত শামসুল হক শিক্ষানীতিকে যুগোপযোগী করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। আর খুদা কমিশন নিয়ে প্রতিবাদের মূল বিষয় ছিল ধর্মশিক্ষাকে অবহেলা করা। পরের শিক্ষানীতি যেহেতু খুদা কমিশনকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে তাই সে ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্বহীন করার বিষয়টি স্থান পেয়েছে ঘুরে ফিরে এবং আওয়ামী লীগ আমলে প্রণীত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ ধর্ম। সর্বশেষ শিক্ষানীতির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
ভাবতেই অবাক লাগে পঁচানব্বই ভাগ মুসলমানের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কলকাঠি যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে নড়া চড়া করছেন সেক্যুলার ব্যক্তিবর্গ। যারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সেক্যুলার চিন্তা-চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটিতে যে সকল ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে তারা জাতির সর্বস্তরের গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন বলে মনে হয় না। ফলে শিক্ষানীতিতে তাদের চিন্তা-চেতনার যে প্রতিফলন ঘটেছে পুরো জাতির কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এদের প্রায় সবাই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতাদর্শের লালনকারী। এদের কেউ কেউ নাস্তিক বলেও দেশে ব্যাপক সুনাম রয়েছে! সোজা কথায় ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী এসব মানুষ শিক্ষানীতি প্রণয়নে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেননি।
শিক্ষামন্ত্রী জনাব নূরুল ইসলাম নাহিদ মন্ত্রিত্ব পদে আসীন হওয়ার পর থেকে জনমের তরে দেশের অধিকাংশ জনমতের ধ্যান-ধারণাকে উপেক্ষা করে সেক্যুলার মতাদর্শ বাস্তবায়নের নিমিত্তে তার মতাদর্শেরই অন্যতম ধারকদের নিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে চলছেন দেদার। উল্লেখ্য, ইসলাম শিক্ষার যৎসামান্য ছিল তা-ও কাটছাঁট করে কাদিয়ানি ও ইসলামের লেবাসধারী ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বিকৃতভাবে পাঠ্যপুস্তকে ছাপানো হয়েছে এবং সেক্যুলার ধারার মিডিয়াগুলোতে সে সকল বুুদ্ধিজীবী লেখালেখি ও টকশোতে দেদার লিখছেন ও বলছেন। এটি কারো অজানা নয় যে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন এবং ১৯৭৬ সালে যুব ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব কবীর চৌধুরীকে আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী হিসেবেই সবাই জানে, ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ককূক্তিকর বক্তব্যে দেশবাসীকে ফুঁসিয়ে তুলেছিলেন। তিনিই এখন জাতির অন্যতম শিক্ষাবাহক হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছেন! এ ছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্যদের ছাত্রজীবনে সেক্যুলার ছাত্রসংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। এরা বর্তমানে কর্মজীবনে, বক্তব্য ও লিখনিতে ইসলামের গোড়া কর্তনেই উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলছেন। তারা হলেন ড. কাজী শহীদুল্লাহ, ড. কাজী খলিকুজ্জামান, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ফখরুল আলম, প্রফেসর ড. সাদেক হালিম ও জরিনা রহমান খান। উপরোল্লিখিত বর্তমান শিক্ষা কমিটির সাথে আরো যারা ছিলেন তারা হলেন অধ্যাপক শেখ ইকরামুল কবির, অধ্যাপক আর আই এম আমিনুর রশীদ উপাচার্য, অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র সূত্রধর, জনাব সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, জনাব মো: আবু হাফিজ, মাওলানা অধ্যাপক এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান, বেগম নিহাদ কবির, অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল সিদ্দিকী, অধ্যাপক শাহীন মাহ্বুবা কবীর প্রমুখ। বিশেষ করে জনাব ড. জাফর ইকবালের কথা না বললেই নয়, যিনি তার লিখনির মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে ধর্ম-বিজ্ঞানকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ধর্মকে সেকেলে হিসেবে প্রমাণের অপপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন। এই যদি হয় দেশের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কর্তাব্যক্তিদের ধ্যান-ধারণা, তাহলে তাদের কাছ থেকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শিক্ষানীতির নামে জাতিকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেয়া ছাড়া আর কী!

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব
জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী সংগঠনগুলোর ‘ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল’ করার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ গত ৭ এপ্রিল বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি দাবি করেছেন যে, শিক্ষানীতি নিয়ে আর কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। কারণ তার মতে শিক্ষানীতি ২০১০ আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করেই গৃহীত হয়েছে। কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী বলেননি শিক্ষানীতি গ্রহণের সময় আলেম-ওলামাদের কোন্ পরামর্শটি তারা গ্রহণ করেছেন। এমনকি শিক্ষানীতিতেও এর কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। শিক্ষানীতির খসড়া প্রকাশের পর যখন সমালোচনার ঝড় বইছিল তখন তারা বাধ্য হয়ে দেশের সকল নাগরিকের মতামত চেয়েছিলেন। কিন্তু আসলে তারা তা করেছিলেন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে ভূগোল  বোঝানোর জন্য। খসড়া শিক্ষানীতির ওপর আলেম-ওলামা যে পরামর্শ দিয়েছিলেন তার একটিও গ্রহণ করেনি শিক্ষা কমিশন। তবে ইসলামবিরোধী কিছু শব্দকে তারা সিস্টেমে ফেলে সন্দেহজনক শব্দে পরিণত করেছে। যাতে এটি আসলে ইসলামবিরোধী না ইসলামসম্মত তা বোঝার উপায় নেই। মাননীয় মন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে আধুনিকায়ন করেছেন। কিন্তু তিনি বলেননি ইসলামী শিক্ষার কোন্ নীতিটি আধুনিক শিক্ষা বা প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে? আলেম-ওলামারা আধুনিক বা প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিপক্ষে কখনোই অবস্থান নেননি। তাদের অবস্থান হচ্ছে আধুনিকায়নের নামে অশ্লীল শিক্ষার বিরুদ্ধে। তাদের দাবি হলো ধর্মীয় শিক্ষাকে অটুট রেখেই তা প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিকায়ন করা হোক। কারণ ইসলাম হলো সর্বজন স্বীকৃত সবচেয়ে আধুনিক জীবনব্যবস্থা। সুতরাং সরকারের উচিত হবে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে কাক্সিক্ষত সুনাগরিক তৈরির লক্ষ্যেই শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করা

দেশের শিক্ষানীতি ধর্মীয় মূল্যবোধের অবাধ বিকাশের পরিপন্থী
একটি শিক্ষানীতির সঙ্গে জাতির ভাগ্য এবং ভবিষ্যৎ জড়িত। এ কারণেই জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের সময় ব্যক্তিবিশেষের চিন্তা, বিশ্বাস এবং দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস, কৃষ্টি-সভ্যতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং যুগচাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখা বাঞ্ছনীয়। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই কুদরাত-এ-খুদা কমিশন (১৯৭৪) ও শামছুল হক (১৯৯৭) শিক্ষানীতির (২০০০) আলোকে একটি নতুন শিক্ষানীতির চূড়ান্ত খসড়া ২০০৯ সালে ওয়েবসাইটে প্রদান করে, এ বিষয়ে জনগণের মতামত চাওয়া হয়। বিভিন্ন মহল সে বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা সমালোচনা করে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রদান করে। কিন্তু জনগণের প্রদত্ত সে মতামতকে গ্রহণ বা বর্জনের কোনো সংখ্যাভিত্তিক তথ্য ও ব্যাখ্যা না দিয়ে এর কিছু শব্দ ও টার্ম পরিবর্তন করে শিক্ষানীতি ২০১০ চূড়ান্ত করা হয়। আর তা বিগত ৩ অক্টোবর ২০১০ জাতীয় সংসদে পাস করার জন্য বিল আকারে উত্থাপন করা হয়।
শিক্ষানীতি একটি দেশের সুনাগরিক  তৈরির দিকনির্দেশনা বিধায় এটা জাতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের বিশ্বায়ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো নেতৃত্বদানকারী, যোগ্য, কর্মমুখী, সৎ, আর্দশবান ও প্রতিযোগী মনোভাবাপন্ন করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তাই জাতিকে কাক্সিক্ষত মানে উন্নীত করার জন্য শিক্ষানীতিতে তিনটি বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ দেয়া দরকার। তা হলো ১. ধর্ম শিক্ষা ২. কারিগরি শিক্ষা ৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা। শিক্ষানীতি ২০১০-এ উক্ত তিনটি বিষয়ে স্বীকৃতি দেয়া হলেও প্রথমোক্ত বিষয়টিকে বাস্তবে উপেক্ষা করা হয়েছে। শিক্ষানীতি ২০১০-এর প্রাক-কথনে দাবি করা হয়েছে ‘এখানে ধর্ম, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।’ অথচ বাস্তবতা তা নয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, শিক্ষানীতি ২০১০-এর কোথাও কোথাও ধর্মশিক্ষা ও  নৈতিক শিক্ষা প্রভৃতি কিছু শব্দ যোগ করা হয়েছে এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা নামে একটি অধ্যায় যোগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত জনগণকে বোঝানো হয়েছে যে, শিক্ষানীতি ২০১০-এ ধর্ম শিক্ষা রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় প্রাক-প্রাথমিকের শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার কর্মকৌশলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধর্ম শিক্ষাব্যবস্থা নেই।
ইতঃপূর্বেকার কুদরাত-এ-খুদা ও শামছুল হক শিক্ষানীতিতে ধর্ম ও  নৈতিক শিক্ষা গুরুত্ব না পাওয়ায় বরাবরই এ জাতি সে বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। বর্তমানে প্রণীত ‘শিক্ষানীতি ২০১০’-কেও খুদা ও হক কমিশনেরই প্রতিরূপ বলে মনে হয়েছে। এ জন্যই এ শিক্ষানীতিতে অনেক ভালো প্রস্তাব থাকার পরও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ তা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। চূড়ান্ত খসড়া শিক্ষানীতি ২০০৯-এ অধ্যায় ছিল ২৯টি, সংযোজনী ৭টি এবং সারণি ২টি। তবে শিক্ষানীতি ২০১০-এ অধ্যায় আছে ২৮টি। বাদ দেয়া হয়েছে ৫টি সংযোজনী এবং ২টি সারণি। কিন্তু এর কোনো কারণ ব্যাখ্যা রাখা হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয় যে সংযোজনী ২ ও ৩ বাদ দেয়া হয়েছে জাতিকে শিক্ষার বিষয়বস্তু ও ধরন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধ রাখার কৌশলে। কারণ এ ২টি সংযোজনীর প্রথমটিতে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের জন্য প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম কাঠামো এবং দ্বিতীয়টিতে মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যবিষয় তালিকা ও নম্বর বণ্টন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ২০১০ শিক্ষানীতিতে বুদ্ধিভিত্তিক এমন কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে, যাতে পাঠ্যক্রমে কী কী বিষয় আছে, তা জানার কোনো উপায় থাকছে না।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে শিক্ষানীতি ২০১০-এ কিছু ইতিবাচক দিক অবশ্যই আছে। কিন্তু এতে পবিত্র সংবিধান, জাতিসত্তা, জাতীয় বিশ্বাস-মূল্যবোধ ঐতিহ্য-চেতনায় পুরোপুরি প্রতিফলন হয়নি। যেমন, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের পরিবর্তে অসাম্প্রদায়িকতা, সহজীবন যাপনের মানসিকতা, সমমৌলিক চিন্তা-চেতনা গড়ে তোলা, উপজাতীয়দের আদিবাসী বলা, প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর এবং উচ্চতর স্তরের কাঠামো ভেঙে দিয়ে হ-য-র-ব-র-ল করা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সকল ধারায় এক ও অভিন্ন শিক্ষাক্রম-পাঠ্যপুস্তক, প্রশ্নপত্র-পরীক্ষা মূল্যায়নব্যবস্থা, শিক্ষকদের বদলিনীতি, ক্যাডেট ও বিশেষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা, অন্যান্য ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যনীতি, ইংলিশ মিডিয়াম ও এনজিও শিক্ষার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত রাখা, মাদরাসা শিক্ষায় মৌলিক বিষয় কমিয়ে এনে স্কুলে পরিণত করার কৌশল গ্রহণ, কওমি মাদরাসার প্রতি উদাসীনতা, উচ্চশিক্ষায় ব্যাপক বৈষম্যকরণ, সঙ্কোচননীতি এবং ব্যাপক গবেষণার পথ উন্মুক্ত না রাখা, প্রকৌশল-চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং বিজ্ঞান শিক্ষার সঙ্কোচন, তথ্যপ্রযুক্তির নামে আকাশ সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণহীনতা, নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষার নামে সংবেদনশীল বিষয় চালুকরণ, চারুকলার নামে নৃত্য-যাত্রা-সিনেমা-ব্রতচারী শিক্ষা চালুকরণ, প্রতিরক্ষা ও সামরিক শিক্ষার ব্যাপারে কোনো বক্তব্য না দেয়া এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও জনগোষ্ঠীর শিক্ষার ব্যাপারে ঔদাসীন্য, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি সম্পর্কে কোনো কিছু না বলা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদানের ব্যাপারে কোনো কিছু না বলা এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদালয় থেকে কিছু বিষয়ের বিলুপ্তি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ স্তরবিন্যাসের ফলে শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কাসহ আরো অনেক ব্যাপারে এ শিক্ষানীতিতে অর্পূণাঙ্গতার ছাপ রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর ৪১ নম্বর পৃষ্ঠায় ললিতকলা শিক্ষা সম্পর্কে বলা হয়েছে, “সরকারি উদ্যোগে ও অর্থানুকূল্যে জাতীয় চিত্রশালা, সঙ্গীত ও নৃত্য একাডেমি, নাট্য ও রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা বাঞ্ছনীয়।” এ সম্পর্কে একই পৃষ্ঠায় আরো বলা হয়েছে, “সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শহর ও গ্রাম পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ চিত্রকলা ও কারুশিল্পের প্রদর্শনী, সঙ্গীত, নাটক নৃত্যানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে।” আমরা এ প্রসঙ্গে বলতে চাই যে ললিতকলা শিক্ষাকার্যক্রমসমূহ প্রত্যেক ধর্মের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে সুস্থ, সুন্দর ও মৌলিক সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে পরিচালিত হতে হবে যা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর ৪৫ নম্বর পৃষ্ঠায় ব্রতচারী কার্যক্রমকে নীতিগতভাবে স্বীকৃতি দেয়া ও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্রতচারীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, “এটি গীত ও নৃত্যভিত্তিক সুশৃঙ্খল একটি কার্যক্রম যা বিদ্যালয়ে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হিসেবেও বিবেচনা করা যায়। ব্রতচারী কার্যক্রম সিলেট, খুলনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং জয়পুরহাটের অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রচলিত আছে।” ব্রতচারী কার্যক্রম কোনোভাবেই ঢালাওভাবে আমাদের বিদ্যালয়সমূহে চালু করার মতো বিষয় নয়। এটি কোনো সর্বজনীন, স্বীকৃত ও নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল আচার-প্রথাও নয়; বরং এটি একটি আঞ্চলিক গোষ্ঠীগত প্রথা। এরূপ গোষ্ঠীগত কোনো চর্চাকে সাধারণভাবে উৎসাহিত কিংবা চালু করা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ব্রতচারীর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে যা বলা হয়েছে, তা স্কাউটিং ও গার্লস গাইডিং এবং ক্রীড়া শিক্ষার কার্যক্রম শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
শিক্ষানীতি ২০১০-এর একটি বড় ত্রুটি হচ্ছে, এটা একটা দলীয় আদর্শের শিক্ষানীতিতে পরিণত হয়েছে। যদিও এটাকে “কোনো দলীয় শিক্ষানীতি নয়” বলে দাবি করা হয়েছে। উপরোক্ত দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে জাতির বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনীতিক, আলেম-ওলামা, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় পণ্ডিত, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবীসহ সমাজের সকল স্তরের মতামত, পরামর্শ, সুপারিশ বিবেচনা করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যানগত তথ্য দেয়া হয়নি। অধিকন্তু এই শিক্ষানীতিতে বিভিন্ন অংশে উল্লিখিত কিছু শব্দ রয়েছে, যেগুলো যথাযথ সংজ্ঞায়িত হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় জাতি বিভ্রান্তিতে পড়বে। যথা দেশজ আবহ, ব্রতচারী, নীতিবোধ, ন্যায়বোধ, সংস্কৃতিমনস্কতা, কর্তব্যবোধ, সংস্কার/কুসংস্কার, শৃঙ্খলা, মুক্তিচেতনা, শিষ্ঠাচারবোধ, সুশিক্ষা, সাম্প্রদায়িকতা/ অসাম্প্রদায়িকতা, কুশিক্ষা, মানবাধিকার, আদিবাসী, সহ-জীবন যাপন, সমমৌলিক চিন্তা,  নৈতিক/অনৈতিক ও মুক্তবুদ্ধিচর্চা ইত্যাদি। বিতর্কিত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে প্রণীত ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যক্রমে মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞানসহ অন্যান্য শাখা থেকে ইসলাম শিক্ষা বিষয়টি বাদ দেয়া হয়েছে। এটা ইসলাম শিক্ষা নিয়ে সরকারের একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশকে ধর্মহীন করার আরেকটি কূটকৌশল।
ধর্মীয় শিক্ষার অনিবার্য বাস্তবতা বুঝাতে গিয়ে Sir Stanely Hull বলেন-“ÒIf you teach your children three ÔRs’ i.e Reading, Writting and Arithmatic and leave the fourh `R’ i.e Religion, you will get a fift ÔR’ i.e Rascality

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে নবী প্রেরণ করেছি, যিনি তোমাদেরকে আমার নির্দেশনাবলি আবৃত করে শোনায় এবং তোমাদেরকে নৈতিকতার মানদণ্ডে উৎকর্ষিত করে, তোমাদেরকে কিতাব ও জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেয় এবং তোমরা যা জানতে না, তা-ও তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেন।” (সূরা বাকারা : ১৫১)
এরিস্টটল বলেছেন, “শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় অনুসাশন পালনের মাধ্যমে সুখ লাভ করা।”

ধর্মভিত্তিক শিক্ষানীতির প্রয়োজনীয়তা
একটি আস্তিক জাতিসত্তার শিক্ষানীতি হতে হবে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক গড়ার উপযোগী ধর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা। যেহেতু মানুষ নৈতিক জীব এবং সেই নীতি শেখার মৌলিক ও কার্যকর পন্থা হলো ধর্মশিক্ষা। মানুষকে শুধু আইন দিয়ে নয়, বরং ধর্মভিত্তিক   নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই সর্বযুগে সর্বকালে মানুষ সভ্য হয়েছে ধর্মভিত্তিক  নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে। সকল যুগে সকল দেশের জরিপে প্রমাণিত হয়েছে যে, নিষ্ঠাবান ধার্মিক লোকদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা একেবারই থাকে না বা কম থাকে। পক্ষান্তরে ধর্মভিত্তিক নৈতিকতাবোধ যাদের মধ্যে যত কম থাকে, সেই জনগোষ্ঠী তত বেশি অপরাধ প্রবণ হয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে সুপ্রবৃত্তি ও কুপ্রবৃত্তি এ দু’ধরনের প্রবৃত্তি বিদ্যমান। সুপ্রবৃত্তিকে কার্যকর করতে হলে কৃপ্রবৃত্তিকে দমন করেই করতে হবে। আর তা একমাত্র সম্ভব সর্বশক্তিমান স্রষ্টার ভয় ও পরকালীন জবাবদিহিতার মাধ্যমে। সুতরাং শিক্ষানীতিতে ধর্মশিক্ষাকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে শিক্ষার সকল স্তরে বাধ্যতামূলক স্থান দেয়া জরুরি।
স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত ৪২ বছর যাবৎ সকল সরকারই দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ এবং অপরাধ কমানোর অঙ্গীকার করেছেন, অনেক আইন করেছেন। কিন্তু কোনোটাই বাস্তবে কার্যকর হয়নি বরং দুর্নীতি বেড়েছে বহুগুণে। যারা এ প্রবণতা থেকে মুক্ত থেকেছেন তারা মূলত আইনের ভয়ে যতটা নয় তার চেয়ে বেশি তার ধর্মীয় অনুভূতির কারণেই। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবন ত্রুটিমুক্ত করার একমাত্র গ্যারান্টি হলো ধর্মীয় জ্ঞান ও এর অনুশীলন।
শিক্ষানীতিতে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে- শিক্ষার্থীদের জন্য কোন কোন বিষয় সর্বাগ্রে অবশ্যই জানতে হবে এবং কোন বিষয় ঐচ্ছিক তা-ও। শিক্ষানীতিতে আবশ্যিক জ্ঞান হিসেবে শিক্ষাকে অবশ্যই জানতে হবে তার স্বীয় সত্তার পরিচয় এবং তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও স্রষ্টার পরিচয়। অতঃপর সে জানবে তার মাতা-পিতা, পরিবার-পরিজন ও তার পারিপার্শি¦ক সকল কিছু সম্পর্কে। নৈতিকতার মূল ভিত্তি হলো, অতিপ্রাকৃতিক শক্তি তথা সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস। এ বিশ্বাসই ব্যক্তি মানুষকে তাঁর আদেশ ও নিয়ম অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করে, কু-কর্মের শাস্তি সম্পর্কে অবহিত করে এবং ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করে। মূলত নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ও পরিস্ফুটন ব্যতীত একটি সুশৃঙ্খল ও কল্যাণকর মানবসমাজ কল্পনা করা যায় না। আজকের বিশ্বজুড়ে চলমান অরাজকতা ও অশান্তির মূল কারণও এ নৈতিক শিক্ষার অভাব। আর নৈতিক শিক্ষার মূল বিষয়টি ধর্মীয় শিক্ষা থেকে উৎসারিত। পৃথিবীর সকল ধর্মই মানুষের মঙ্গলের কথা বলে, আত্মার পরিশুদ্ধির কথা বলে, ন্যায়-অন্যায় বোধের শিক্ষা দেয়। আর এসবই  নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়। তাহলে কি ধর্মীয় শিক্ষা ব্যতীত নৈতিক শিক্ষা অর্জন করা যায় না? হয়তো যায়; কিন্তু তা ভঙ্গুর ও বিক্ষিপ্ত। নৈতিক শিক্ষার এসব বিক্ষিপ্ত স্রোতের আদি উৎসও বিভিন্ন ধর্ম। ধর্মীয় মূল্যবোধই এর মূল স্রোত। ধর্মীয় স্রোতবিহীন নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি দেয়াল থেকে যায়। ধর্মীয় শিক্ষার বাইরে যে নৈতিক শিক্ষা তাতে ব্যক্তি নিজের কাছে তার দায়বদ্ধতার কারণে নীতি মেনে চলে। ফলে ব্যক্তি যেকোনো দুর্বল মুহূর্তে প্রলোভনে পড়ে কিংবা মানবিক দুর্বলতার কারণে তার নৈতিক গণ্ডির বাইরে চলে যেতে পারে। তা ছাড়া এখানে ব্যক্তি সৎ থাকার, নৈতিক আচরণে অটল থাকার কোনো কারণ খুঁজে পায় না। নশ্বর এই পৃথিবীতে ভোগ-বিলাস ও আরাম-আয়েশের মধ্য দিয়ে জীবন কেটে গেলেই হলো। তাতে কারো ক্ষতি কী উপকার হলো তা দেখার প্রয়োজনই বা কিসের? দুনিয়ার সময়টুকু যেকোনো উপায়ে পার করতে পারলেই হলো। ব্যস খালাস!
একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের ধর্মসমূহ ও ধর্মীয় বিশ্বাস হচ্ছে সামাজিক উপাদানসমূহের একটি যৌগিক সমন্বয়। ধর্ম ও নৈতিকতা পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কিত। এদের অবস্থান সর্বদাই পাশাপাশি। মূলত নৈতিকতার উৎপত্তি ধর্মের এমন জায়গা থেকে, যা কখনও আলাদা করার মতো নয়।  নৈতিকতা মানুষের একটি সহজাত বিষয়। বয়সের সাথে সাথে এটা বিকশিত হয়ে কিছু বিষয়কে গ্রহণ এবং কিছু বিষয়কে বর্জন করে একটা মানদণ্ডে পৌঁছায়, যাকে আমরা মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদণ্ড বলি। মানুষে মানুষে এ আচরণের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। এসব কারণেই মানুষের বিবেক কিছু নৈতিক গুণাবলিকে ভালো বলে স্বীকৃতি দেয় এবং কিছু বিষয়কে মন্দ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
ধর্মীয় শিক্ষার সকল বিষয়ই স্রষ্টাকেন্দ্রিক। এখানে মানুষের সকল কাজ-কর্ম স্রষ্টার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য উৎসর্গীকৃত। এ পৃথিবীই শেষ নয়; পৃথিবীর জীবন শেষ হলে আছে আরেক অনন্ত জীবন। সে জীবনের ভালো-মন্দ সবকিছু নির্ভর করে পৃথিবীতে ব্যক্তির কৃত সকল কাজ-কর্মের ওপর। ফলে সেই অনন্ত জীবনের প্রতি বিশ্বাস থেকে এর সাফল্যের জন্য ব্যক্তি নিজেকে ভালো কাজে নিয়োজিত রাখে; মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে। ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী ব্যক্তি মাত্রই বিশ্বাস করেন যে, স্রষ্টা সর্বদ্রষ্টা; প্রতিটি ভালো ও মন্দ কাজের তিনি সাক্ষী এবং সকল কাজ-কর্মের জন্য পরকালীন জীবনে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ বিশ্বাসের কারণেই ব্যক্তি সবচেয়ে গোপন ও নিরাপদ জায়গাতেও শত প্রলোভন সত্ত্বেও অনৈতিক কোনো কাজে জড়িত হতে পারে না; কিন্তু এ বিশ্বাসের বীজ যার হৃদয়ে বপিত হয়নি তার কাছে নৈতিক শিক্ষা অর্থহীন। ফলে তাকে শত নৈতিক শিক্ষা দেয়া হলেও তা বিস্মৃত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাই আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, ব্যক্তি ও সামষ্টিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা তথা ধর্মীয় শিক্ষা। এখানে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, আচ্ছা, বেশ ভালো কথা! মানলাম, ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে; কিন্তু তা তো পারিবারিক পরিবেশেই দেয়া যায়। কেন এটি আবার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে? হ্যাঁ, উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট ও প্রমাণিত হয়েছে যে, ধর্মীয়-নৈতিক শিক্ষা সবার জন্য প্রয়োজনীয় এবং অতি আবশ্যক একটি বিষয়, যা কোনোভাবেই বাদ দেয়া যায় না। ধর্মীয়-নৈতিক শিক্ষাবিবর্জিত সর্বোত্তম শিক্ষাক্রমও যে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে তা আমাদের সামনে আজ সুস্পষ্ট। ধর্মীয়-নৈতিক শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই আজ জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রতিযোগিতা, জালিয়াতি-কালোবাজারির ছড়াছড়ি। সুতরাং বেঁচে থাকার জন্য যেমন মানুষের খাদ্যের প্রয়োজন, তেমনি সেই মানুষগুলোকে সত্যিকারার্থে আলোকিত মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষা তথা নৈতিক শিক্ষা। আর এর আয়োজন রাষ্ট্রকেই করতে হবে সর্বজনীন প্রয়োজনের ভিত্তিতে। কেননা, অনেক পরিবারের পক্ষে পৃথকভাবে এর ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া এটি শিশুর অধিকার। সুতরাং মা-বাবার অনিচ্ছা বা অলসতার কারণে যেন শিশু এ অধিকার হতে বঞ্চিত না হয়, সে জন্যই প্রয়োজন ধর্মীয়-নৈতিক শিক্ষাকে অন্যান্য জাগতিক শিক্ষার সাথে বাধ্যতামূলকভাবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা।
ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী মানস গঠনের উপযুক্ত সময় শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর। এ সময় শিশুকে যেভাবে শিক্ষা দেয়া হবে সেভাবে তার মানসজগৎ গঠিত হবে; শিশুর গন্তব্যও সেদিকেই নির্ধারিত হবে। আমরা সবাই চাই, আমাদের শিশুরা জ্ঞানে-গুণে, যোগ্যতা-দক্ষতায় হোক অনন্য। সেই সাথে এ-ও চাই যে, তারা তাদের সেই জ্ঞান ও দক্ষতার কল্যাণকর ব্যবহার নিশ্চিত করুক। আর এর জন্য যে উদ্দীপক দরকার তা সরবরাহ করবে ধর্মীয়-নৈতিক শিক্ষা। এ জন্যই পারমাণবিক বোমা আবিষ্কারের পর অধ্যাপক বার্বাস The Philosophy of the Modern Education গ্রন্থে বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘বাধ্যতামূলকভাবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অনুশীলন না করলে মানবসভ্যতাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কারণ, মানুষ ধ্বংসের উপকরণ অনেক বেশি জোগাড় করে ফেলেছে।’
পাশ্চাত্য দার্শনিক বার্নার্ড শ’ বলেছেন- Within One century the hole Europe Particularly England will be embrace Islam to solve their problem.
শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের আলোকে বলা যায়, সাধারণত মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বয়ঃক্রম হলো নানাবিধ টানাপড়েনের সময়। এ বয়সে মনো-দৈহিক বিশেষ পরিবর্তনের ফলে তারা বিপথে পা বাড়ায়, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফলে এ সময়টাতে খুব সহজেই বিকৃতি আর অনাচার বাসা বাঁধে তাদের মনে। এ থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন আত্মনিয়ন্ত্রণ। ধর্মীয় ও  নৈতিক শিক্ষাই ব্যক্তিকে তার চিন্তা-চেতনা, কর্মকাণ্ড ও আচার-আচরণে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে সুপথে পরিচালনা করে। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবই ব্যক্তিকে অন্তঃসারশূন্য করে দেয়। ফলে সে নানারূপ অপরাধ, কপটতা ও দুর্নীতি ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের আজকের সমাজ বাস্তবতা তারই প্রমাণ। কারণ, আমাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অপ্রতুলতা আমাদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছে না। তাই আজকের উত্তপ্ত পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে সব স্তরের জন্যই ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘ ৪৩ বছরেও নেই আমাদের স্বতন্ত্র শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা
একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে এর চাইতে বড় লজ্জার কী থাকতে পারে? অনেক শিক্ষা কমিশন গঠনের পরও কোনো কমিশনই জাতিকে একটি শিক্ষা কাঠামো উপহার দিতে পারেনি। ইংরেজ শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তক লর্ড মেক্লে ১৮৩৫ সালে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করেন যার ভূমিকায় ভুল্লখ ছিল, “We must at present do our best to from a class who may be interpreters betweenus andthe millions who we govern; a class of persons Indian’s blood and colour but English oponions,in moral and in intellect” তাই হচ্ছে! আমাদের জনগণ কেরানি হতে পারবে, শাসক বা প্রকৃত সেবক হতে পারবে না।
সাইয়েদ আ’বুল আলা মওদূদী (রহ) বলেন, “যে জাতির রয়েছে একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও জীবনাদর্শ তাদেরকে তাদের প্রজন্মকে সে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, আকিদা বিশ্বাস, উদ্দেশ্য ও জীবনাদর্শের সংরক্ষণ, বিকাশ ও উন্নয়নের যোগ্য গড়ে তোলা কর্তব্য। আর সে উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলতে হবে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা।” (তালিমাত)
তাই এ উদ্যোগ দেশের কর্তাব্যক্তিদেরকেই নিতে হবে। জাতির আশা-আকাক্সক্ষা, চিন্তা-চেতনার সাথে মিলিয়ে একটি সময়োপযোগী সমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি।
Barnard Russcll বলেন, “The education system we must aim at producing in the future is one which gives every boy and girl an opportunity for the best that exist”

ইসলাম শিক্ষার নামে মাত্র যৎসামান্য নিম্নমাধ্যমিক শ্রেণীতে আছে, তার মধ্যে সর্বজন প্রচলিত ও পরিচিত শব্দগুলোকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসপটে এ সকল শব্দ যথার্থভাবে ভিত মজবুত করতে পারে তার জন্য এ বিকৃত আয়োজন নয় কি। যদি মুদ্রণজনিত ভুল হয় তাহলে এখনো সংশোধন প্রকাশ করা হয়নি কেন? আর যদি পরিকল্পিত প্রমাদ করে থাকেন তাদের বিচারের মুখোমুখি করে উচিত সাজা দিতে হবে। নিম্নে স্কুল ও মাদ্রাসার শ্রেণীভেদে মারাত্মক কিছু বাক্য ও শব্দ তুলে ধরা হল যা ক্ষমার অযোগ্য।
ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
স্কুল : নবম-দশম শ্রেণী
শরীয়তের আহকাম সংক্রান্ত অধ্যায়ের হালাল হারামের সংখ্যা পয়েন্টে ৮২ পৃষ্ঠার ৫ নম্বরে বলা হয়েছে দেবদেবীর বা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গকৃত পশুর গোশত খাওয়া হারাম।
১০৮ নম্বর পৃষ্ঠায় সূরা আনফালের ৩৯ নম্বর আয়াতের অর্থ করা হয়েছে, “তোমরা (ইসলাম ও মানবতা বিরোধী শত্রুর বিরুদ্ধে) লড়াই করবে যতক্ষণ না ফিতনা ফ্যাসাদ ও অশান্তি চিরতরে নির্মূল না হয়।”
১০৮ পৃষ্ঠায় কাজ- শিক্ষার্থীরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদের পার্থক্য আলোচনা করবে।
স্কুল : পঞ্চম শ্রেণী
“ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা” বইতে বলা হয়েছে ৫৬ পৃষ্ঠায় ইসলাম এত উদার যে, মহানবী (সা) ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের মদীনার মসজিদে এবাদত করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
মাদরাসা : দাখিল বাংলা সাহিত্য
নবম-দশম শ্রেণী
এই বইয়ের গদ্যাংশের ৯৬ পৃষ্ঠায় ‘বিদায় হজ্জ’-এ লেখা হয়েছে “আল্লাহর সকল সন্তানকে আরাফাত ময়দানে সমবেত হইবার জন্য আহবান করিয়াছিলেন।”
মাদরাসা : আল আকায়েদ ওয়াল ফিক্হ
এখানে প্রথম শ্রেণীঅষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শব্দের ব্যবহারের ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। ইসলামের মৌলিক শব্দগুলোর ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন, কোরান-কুরান-কুরআন-কোরআন (৪ ভাবে লেখা হয়েছে)।
নবি-নবী-নাবি, রসুল-রাসুল, তয়ম্মুম-তায়াম্মুম, তওহিদ-তাওহীদ, সওম-সাওম, হজ্জ-হজ-হাজ্জ, তহারাত-তাহারাত, মকরুহ, তরাবি, তসবিহ, তকদির, নকির, মযহাব, তসমিয়া, তরতিব, কলমা এভাবে তারা পরিকল্পিতভাবে শব্দ বিকৃতি করে লিখেছে।
পাশাপাশি তারা নিজেদের কিছু মনগড়া ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যায় যা স্পষ্টভাবে নিম্নে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন কুরআনে নবীর নাম আছে ২৬ জনের, অন্য জায়গায় ২৫ জন, রাসুল ছিলেন ৩১৩ জন, আল্লাহ বান্দাহকে সরাসরি কিছু দেন না অলির ওসিলা ব্যতীত, সৃজনশীল প্রশ্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপন ইত্যাদি।

বিকৃত শব্দসমূহ নিম্নে পৃষ্ঠার নম্বরসহ উল্লেখ করা হয়েছে
পঞ্চম শ্রেণী
১. তওহিদ, ২. আল আসমাউল হুস্না (৩ নং পৃষ্ঠা), ৩. বিদ’আত-১০, ৪. শিরক-১০, ৫. নবি ও রসূল-১৭, ৬. তকদির-২৬, ৭. কোরান-৩১, ৮. তাহারাত-৩২, ৯. তায়াম্মুম-৩৫, তয়ম্মুম- ৩৬, ১০. নাজাসাত-৩৭, ১১. এবাদাত-ইবাদত-৪৩, ১২. জমায়াত-জামা’আত-৪৭, ১৩. জুমআর-জুম’আর-৪৮, ১৪. তারাবি-ওয়াজেব-ওয়াজিব-৫৫ ১৫. হজ্জ-৬১, ১৬. ইসতিন্জা-ইসতিনজা-৭৩
ষষ্ঠ শ্রেণী
১২ নং পৃষ্ঠার সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা
২. শাহেদ সব সময় পাঞ্জাবি পরিধান করে থাকে, কিন্তু প্রায়ই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে। একজন লোক তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখে বলল, ইসলাম তো মানুষকে সন্ত্রাস শিক্ষা দেয় না, তুমি কেন এ অন্যায় করছ?
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ এর তৃতীয় পাঠে দরুদ শরিফ পাঠের ফযিলত নিয়ে সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা….২৯ নং পৃষ্ঠায়
৩. মসজিদে কয়েকজন মুসল্লি সালাতে একত্রিত হয়ে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর শানে দরুদ শরিফ পড়া শুরু করে। আব্দুল্লাহ এ মজলিশ থেকে উঠে যেতে উদ্ধত হলে আব্দুর রহমান সাহেব তাকে বললেন, কিয়ামতে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম-এর শাফায়াত পেতে হলে অবশ্য তার শানে দরুদ শরিফ পড়তে হবে।
ইলমুল ফিকহের সূচনা সম্পর্কে ৪৬ নং পৃষ্ঠায় সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা….
খালেদ ফিকহের ক্লাসে শ্রেণি শিক্ষক মাওলানা আজাদ সাহেবকে প্রশ্ন করে ইলমুল ফিকহের প্রসার কোন যুগে হয়? জবাবে তিনি বলেন, চার মযহাবের মাধ্যমে ইলমুল ফিকহের প্রসার ঘটে। এ কথা শুনে সালাম বলল, কুরআন সুন্নাহর ব্যাখ্যাগত ভিন্নতার কারণে নানাপথ ও মতের সৃষ্টি হয়।
বানানের তারতম্য :
১. কালেমাতুশ শাহাদাহ-১৫, ২. তহারাত-৪৮, ৩. মকরুহ-৫৯, ৪ সওম-১০১

সপ্তম শ্রেণী
তাযকিয়ার পরিচয়ে বলা হয়েছে “মানুষের শারীরিক রোগ চিকিৎসার জন্য যেভাবে ডাক্তার প্রয়োজন, তদ্রপ আত্মিক রোগের জন্য শায়খের প্রয়োজন, যিনি আল্লাহ-রসূল ও সালেহ বান্দাগণের তরিকা মোতাবেক তাযকিয়ার জ্ঞান দান করবেন (পৃষ্ঠা-১১)।
৩৪ নং পৃষ্ঠায় নবী রাসূলগণের প্রতি ঈমান অধ্যায়ে…. ২৬ জন নবি রসুলের বর্ণনা কুরআন মজিদে আছে বলে বলা হয়েছে এবং ২৬ জনের নাম দেয়া হয়েছে।
৩৯ নং পৃষ্ঠায় সৃজনশীল প্রশ্ন নমুনা….
শাহেদ ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র। সে নিয়মিত সালাত আদায় ও সওম পালন করে এবং রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত পন্থায় জীবন গড়ার চেষ্টা করে। একদিন তার সাথে ডেভিড নামের এক খ্রিষ্টান ছাত্রের পরিচয় হয়। অতঃপর সে তার বন্ধুত্ব গ্রহণ করে এবং নিজের আদর্শ বাদ দিয়ে ডেভিডের আদর্শ গ্রহণ করে।
নবগ্রামে একজন মুসাফির এসে বসবাস করেন। তিনি নিজে ধর্ম-কর্ম পালন করেন এবং মানুষকে ভালো কাজের উপদেশ দেন এবং পরোপকারে ব্যস্ত থাকেন। কয়েকদিন পর লোকটি নিজেকে নবি হিসেবে দাবি করেন। নবগ্রামের লোকজন তাকে মারতে উদ্যত হলে সে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।
৪৭ নম্বর পৃষ্ঠার তৃতীয় পাঠে আল কুরআনের বিধান অস্বীকার করার পরিণাম বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয় দীর্ঘ ২৩ বছরে, নূরের ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে, নূরানী কিতাব, নূরে মুজাস্সাম রসূলে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর কাছ অবতীর্ণ হয়েছে।
৫০ পৃষ্ঠায় সাহাবীগণের পরিচয়ে বলা হয়েছে, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন : আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রের মত, তাদের যাকেই অনুসরণ করবে পথ পেয়ে যাবে।
১১৮ পৃষ্ঠায় মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয় একটি চওড়া তক্তা বা খাটের চতুর্দিকে ৩/৪/৫ বার লুবান অথবা আগরবাতি দিয়ে ধোঁয়া দিতে হবে। ৫১ পৃষ্ঠায় বলা হয় কর্পূরের পানি মুর্দারের মাথা হতে পা পর্যন্ত তিনবার ঢালবে।
বানানের তারতম্য :
১. তওহিদ-(২৩ নং পৃষ্ঠা), ২. হজ-৪৩, ৩. নাকির-৪২, নকির-৪৩, ৪. মযহাব-৬৫, মাযহাব-৬৫, ৫. জায়িয-জায়েয-৭৫, ৬. তসমিয়া-৮৮, ৭. তরতিব-১০০, ৮. তসবিহ-১০৩, ৯. তকবির-১১৭, ১০ তারাবিহ-১৩৭

অষ্টম শ্রেণী
৪২ নং পৃষ্ঠায় ইবাদতের ক্ষেত্রে ওসিলা গ্রহণ….. এখানে সূরা মায়িদার ৩৫ নম্বর আয়াত ওয়াবতাগু ইলাইহিল ওসিলা এবং সূরা ইসরার ৫৭ নম্বর আয়াতের ওসিলার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে কোন ভালো কাজ, কুরআন মজিদ, নবি সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম, বুযর্গানেদীন, এসবের মাধ্যমে তাঁদের দিকনির্দেশনা ও ফয়েজ দ্বারা মানুষ কল্যাণ লাভ করতে পারে।
আরো বলা হয়….নবি ও ওলিগণের ওসিলা করা জায়িয, যদি চাওয়া পাওয়া আল্লাহর কাছে হয় আর নবি এবং ওলিগণকে শুধু মাধ্যম বা উপায় হিসেবে মেনে নেয়া হয়।
৪৪ নং পৃষ্ঠায় ওসিলার ব্যাখ্যায় বলা হয় আল্লাহ তায়ালার নিয়মই হলো তিনি সরাসরি সবকিছু করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোন মাধ্যম ছাড়া কিছু দেন না। তাই নিজেই ওসিলা অন্বেষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
৫৭ নং পৃষ্ঠায় নবি ও রসুলের পরিচয় নিয়ে বলা হয়… লক্ষাধিক নবি ও রসুল আল্লাহর দীনের প্রচার ও দীন বাস্তবায়নের দাওয়াত দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩১৩ জন ছিলেন রসূল।
৬৬ নং পৃষ্ঠায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হায়াতুন্নবি এ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় এবং সর্বশেষ বলা হয় “আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, প্রিয়নবি রওযা পাকে সশরীরে জীবিত। তিনি উম্মতের সালামের জবাব দিচ্ছেন।”
১০১-১০৩ পৃষ্ঠায় ওলির পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, কারামত সম্পর্কে বলা হয় এক মুহূর্ত ওলির সাহচর্য একশ বছরের রিয়াহীন এবাদতের চেয়েও উত্তম।
ওলিগণের মর্যাদা শিরোনামে : ওলিগণের মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই বলেছেন…ভালভাবে জেনে নাও, আল্লাহর ওলিগণের না আছে ভবিষ্যতের ভয় এবং না আছে অতীতের কোন দুশ্চিন্তা। (সূরা ইউনুস-৬২)
১০৪ পৃষ্ঠায় ওলিগণের মাজার জিয়ারত সম্পর্কে বলা হয় “ওলিগণ যেহেতু দুনিয়া ও আখেরাতে সুসংবাদপ্রাপ্ত তাদের মাযার শরিফে গিয়ে তাদেরকে ওসিলা করে দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয়বন্ধুর সম্মানে দোয়া কবুল করেন।”
২৩৪ পৃষ্ঠায় তওবার ব্যাপারে বলা হয় : নিজে না জানলে কোন একজন রুহানী আলেমের কাছে গিয়ে এমনভাবে তওবা শিখতে হবে যেন বুঝতে পারে তওবা কবুল হয়েছে।
বানানের তারতম্য
১. তেলাওত-১৩ তিলাওত-৮১, ২. হাজ্জ-হজ-৩৯, ৩. শেরক-৪৬, ৪.সর্বভৌম-৪৮, ৫. নবী-নবি-৫৭, ৬. রসুল-রসূল-রাসুল-৫৭ ৭. মযহাব-১১১, ৮. তহারাত-১২১, ৯.জামাত-জামাআত-১৩৮, ১০. ইদ-১৪২, ১১. মুসাফের-১৪৯, ১২. শুকর-২০৮, ১৩. মককা-২১১, ১৪. ধৈর্য্য-ধৈর্য-২১০, ১৫. তসবিহ-তাসবিহ-২৩৬, ১৬. বরাত-বারাআত-২৪২।

পরিশেষে বলা চলে, বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোন জো নেই। অপকর্ম কাউকে ক্ষমা করে না। যে কেউ যে কোনো মতবাদে বিশ্বাসী হতে পারে কিন্তু সে বিশ্বাস বা মতবাদকে জোর করে চাপিয়ে দিলে কালের পরিক্রমায় তা হয় হিতে বিপরীত। যারা সেক্যুলারিজমে বিশ্বাসী তারা মনে করেন এই দুনিয়াই শুরু এই দুনিয়াই শেষ। ভালো-মন্দের জবাবদিহিতা বলতে কিছু নেই পরপারে। যারা এ মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে গলদঘর্ম করে কালমার্কস, লেনিনের মতাদর্শকে বাস্তবায়নে নিজের আত্মপরিচয়ের জলাঞ্জলি দিচ্ছেন তাদের সামনে শেষ বিচারের দিন নামক কোনো দিন হাজির হয়, রাজাদের মহারাজা বিচার ফয়সালা শুরু করেন তাহলে পরিস্থিতি কী হতে পারে? যারা ইসলামকে সেকেলে বলে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায় তারা মূলত ইসলামকে না জেনে অথবা ইসলামের অপপ্রচারকে মিশন হিসেবে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। অথচ পৃথিবীতে একমাত্র অবিকৃত গ্রন্থ হলো আল কুরআন। যেটি পৃথিবীর উন্নতি-অগ্রগতি সাফল্যের চাবিকাঠি। এর ধারক বাহকদের এর সুমহান নির্দেশনা প্রমাণের জন্য কাজ করে যেতে হবে নিরলসভাবে। যেখানে অশান্ত ধরায় খুঁজে পাবে মানুষ শান্তির বারতা। শান্তি, নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তাই হবে ধরণীর একমাত্র ঠিকানা। পৃথিবীতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে আল্লাহর নির্দেশিত আলোকে নির্বাপিত করার জন্য। কিন্তু আল্লাহ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “তারা আল্লাহর দ্বীনকে নির্বাপিত করতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সকল মতাদর্শের ওপর বিজয়ী করবেন।” (আল কুরআন)

লেখক : সেক্রেটারি জেনারেল
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
zabbarics@gmail.com

SHARE

Leave a Reply