পরাজয়ের আগেই পরাজয় রিপাবলিকানদের -নেকবখ্ত আব্দুল্লাহ

ডোনাল ট্রাম্পকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন দিলেও পরাজয়ভীতি পিছু ছাড়ছে না রিপাবলিকানদের। দলীয় প্রার্থীর বিশেষ ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর প্রতি বিদ্বেষ, বিতর্কিত এবং বেফাঁস মন্তব্য মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনেকটাই ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে। ফলে নিজ দলের মধ্যেই ব্যাপক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনিয়ন্ত্রিত ও অমার্জিত সমালোচনাও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী-লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। ফলে দলীয় প্রার্থীর আসন্ন নির্বাচনে যথেচ্ছ পরাজয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ শুভাকাক্সক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
প্রাকনির্বাচনী বিভিন্ন বক্তৃতায় তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। তার উল্লেখযোগ্য বিতর্কিত বক্তব্য, ‘আমি ওখানেই ছিলাম, আমি দেখছিলাম পুলিশ আর দমকলবাহিনী ছোটাছুটি করছে। ৭/১১ এ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক পর মুহূর্তেও ঘটনা।’ ট্রাম্প আসলে ৯/১১-র কথা বলতে গিয়ে ভুল তারিখ বলেছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টেড ক্রুজের উদ্দেশ্যে টুইট করেন, ‘টেড আমার স্ত্রী মেলানিয়ার একটি ছবি তার প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন। সাবধান টেড, আমিও তোমার স্ত্রীর ঢাক পেটাতে পারি।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হিলারি যেখানে নিজের স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে পারেন না, সেখানে পুরো অ্যামেরিকার জনগণকে কিভাবে সন্তুষ্ট করবেন?’ ট্রাম্পের ইশারা বিল ক্লিনটন আর মনিকা লিউনস্কির সেই স্ক্যান্ডালের প্রতি। তার সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘হিলারি ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা আসলে ‘নারী’ স্ট্যাম্প এর জন্য। সত্যি কথা হলো, তিনি যা অঙ্গীকার করছেন, তার কিছুই দিতে পারবেন না। যদি হিলারি পুরুষ হতেন, তাহলে ৫ ভাগও ভোট পেতেন না। তিনি নারী বলেই এত ভোট পাচ্ছেন। আর মজার ব্যাপার হলো, নারীরা তাকে একদম পছন্দ করেন না।’
তিনি বারাক ওবামার জন্মনিবন্ধন সম্পর্কে বলেন, ‘একটা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছে, বারাক ওবামার জন্ম নিবন্ধন আসলে জাল-’ ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ওবামার জন্ম যে যুক্তরাষ্ট্রে নয় তা খুঁজে বের করা এবং মানুষকে জানানো। নিজের আইকিউ সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমার আইকিউ সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি। দুঃখিত, এ নিয়ে আপনাদের দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই, কারণ, এতে আপনাদের কোনো হাত নেই।’ ট্রাম্পের প্রকাশ করার মত নয় এমন কিছু অশ্লীল বক্তব্য নিজ দলেই ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।
তিনি নিজের মেয়ে সম্পর্কে বলেন, ‘ইভাঙ্কা যদি আমার মেয়ে না হতো তাহলে আমি তার সঙ্গে হয়ত প্রেম করতাম।’ ইভাঙ্কা ট্রাম্পের বয়স ৩৪ বছর। তিনি ম্যাক্সিকোর মানুষ সম্পর্কে বলেন, ‘যখন মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ পাঠায়, তারা তাদের সেরা মানুষদের পাঠায় না। এমন মানুষদের পাঠায় যাদের সমস্যা রয়েছে আর সেই সমস্যাগুলো তারা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। সেইসব মানুষ মাদক আনে, অপরাধ আনে, পাশাপাশি তারা ধর্ষক। কেবল অল্প কয়েকজন ভালো মানুষ।’
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ও বিশেষ ধর্মের প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তার জনসমর্থনে ব্যাপকভাবে ভাটার টান পড়েছে। আর এই ভাটার টানকে ক্রমবর্ধমানই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রিপাবলিকানরা। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কাক্সিক্ষত ফলাফল না পাওয়ার আশঙ্কায় দলের নীতিনির্ধারকেরা এমন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। অপরপক্ষে কংগ্রেসেও রিপাবলিকানরা পরাজিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে কোনো কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটিকে ট্রাম্পের পেছনে আরও বেশি সময় ব্যয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, যদি এটা করা না হয় তাহলে দলের করুণ পরিণতির বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না।
সিএনএন প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান দলের সিনিয়র সদস্যরা আরএনসিকে পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পেছনে অর্থ সহায়তা অব্যাহত রাখতে, যাতে করে যথেচ্ছ পরাজয়টা এড়ানো সম্ভব হয়।
তারা বলছেন, হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দি¦তা গড়ে তুলতে কমিটিকে এ কাজটি অবশ্যই সফলতার সাথে করতেই হবে। অন্যথায় নির্বাচনে এক করুণ পরিণতি আসতে পারে। তাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও হাত ফসকে যেতে পারে। আবার দলের সাবেক ও বর্তমান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দলীয় চেয়ারম্যান রেইনস প্রিবাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি যেন ট্রাম্পকে ত্যাগ করেন।
দলের শুভাকাক্সক্ষীরা বলছেন, বিশাল ব্যবধানে নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে কমিটিকে। যদি দলীয় প্রার্থী বিশাল ব্যবধানে হেরে যান তাহলে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আসনগুলো ঝুঁকিতে পড়বে। রিপাবলিকানরা তাদের পেনসিলভ্যানিয়া, উইসকনসিন, ফ্লোরিডা, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের সব আসন অক্ষুন্ন রাখতে চায়। সেখানে হিলারির বিরুদ্ধে কিভাবে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করা যায় তা নিয়ে দলের ভেতর ক্রমেই বিভক্তি দেখা দিচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে নেতিবাচক ফলাফল হওয়ার আশঙ্কায় রিপাবলিকানরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেই মনে হচ্ছে।
দলের শীর্ষ স্থানীয়রা বলছেন, যদি এসব রাজ্যে ১০ পয়েন্ট বা তারও বেশি ব্যবধানে ডোনাল্ড ট্রাম্প হেরে যান তাহলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ তারা হারাতে পারে। তবে যদি ট্রাম্প ৪ থেকে ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হন তাহলে তিনি শক্তিশালী অবস্থানে থাকবেন। এমনটা ধরে নিয়ে সিনেট মেজরিটি নেতা মিশ ম্যাককনেলের সঙ্গে যুক্ত একটি গ্রুপের মুখপাত্র ইয়ান প্রিয়র। এই গ্রুপটি সিনেট নির্বাচনে প্রায় ৩ কোটি ডলার খরচ করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও এনবিসির এ মাসের শুরুর দিকে চালানো জরিপের ফলাফল মতে নর্থ ক্যারোলাইনায় হিলারির চেয়ে ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি নিয়েই রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ। এখানে বিজ্ঞাপন খাতে ডেমোক্রেটরা বরাদ্দ রেখেছে ২ কোটি ডলার। তারা মনে করছেন, এখানে প্রচারণায় এখনই বিজ্ঞাপনী প্রচারণা চালাবেন ট্রাম্প। আর তার মধ্য দিয়ে জরিপের ফল উল্টে দেবেন। তবে অনেক রিপাবলিকানের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে যে, এ রাজ্যটি বুঝি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। হয়তো পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সে দিকেই মোড় নিচ্ছে।
গত ১৭ আগস্ট দলীয় প্রধান কার্যালয়ে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের প্রধানদের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী সিনিয়র কর্মকর্তারা প্রাইভেট বৈঠক করেছেন। বেঠকের পরে যে বার্তা পাওয়া গেছে তা পরিষ্কার। তা হলো তারা চান সবল ট্রাম্পকে, যিনি কংগ্রেসকে ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারেন। এখন পর্যন্ত দলের অবসরপ্রাপ্ত দুজন কংগ্রেসম্যান স্কট রাইজেল ও রিড রিবলসহ কমপক্ষে ১১০ জন রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্পই হলেন পরাজয়ের কারণ। তাই তারা দলীয় কমিটির কাছে ট্রাম্পকে বাদ দিতে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করছেন। যদিও এর তেমন একটা কার্যকারিতা আছে বলে মনে হয় না।
এদিকে জনমত জরিপের ফলাফলও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে মোটেই সায় দিচ্ছে না। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জনমত জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। ভোটের তিন মাস আগে ১৯ আগস্ট রয়টার্সেও এক প্রতিবেদনে জরিপ সংস্থা ইপসসের সঙ্গে করা ওই জরিপের তথ্য প্রকাশিত হয়।
৫০টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে ১৪-১৮ আগস্ট পর্যন্ত চালানো নতুন এ জরিপে দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ ভোটার নভেম্বরের নির্বাচনে হিলারিকে ভোট দিতে আগ্রহী। ট্রাম্পের পক্ষে জনসমর্থন ৩৪ শতাংশ। জরিপে অংশ নেয়া বাকি ২৩ শতাংশ ভোটার এ দুজনের কাউকেই ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
জরিপের এই তথ্য হিলারিকে বেশ স্বস্তি দেবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আগের নির্বাচনে বারাক ওবামা ও রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনির মধ্যে সমর্থনের ব্যবধান দুই পয়েন্টেরও কম ছিল। রয়টার্স ও ইপসসের করা আলাদা এক জরিপেও হিলারিকে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ‘প্রার্থীদের মধ্যে কাকে পছন্দ’- এ প্রশ্নের জবাবে জরিপে অংশ নেয়া ৪১ শতাংশ হিলারির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ৩৪ শতাংশ ভোট নিয়ে ট্রাম্প দ্বিতীয়, ৭ শতাংশের ভোট নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গ্যারি জনসন তৃতীয় হয়েছেন। দুই শতাংশের পছন্দের তালিকায় আছেন গ্রিন পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জিল স্টেইন। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই জনমত জরিপগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি এগিয়ে ছিলেন। রয়টার্স ও ইপসসের জরিপে সবসময়ই তার পক্ষে ৪১ থেকে ৪৪ শতাংশ সমর্থনের দেখা মিলেছে।
অন্য দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন ৩৩ থেকে ৩৯ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে তরুণদের মধ্যে হিলারি ও ট্রাম্প দুজনেরই অবস্থান নাজুক বলে জানিয়েছে রয়টার্স। জরিপে দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ জানিয়েছেন, এ দুজনের কেউই আমেরিকান ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে পারছেন না। এদের হাত ধরে দেশ ভুল পথে এগিয়ে যাবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে রাষ্ট্রীয় গোপন ই-মেইল পাঠানোর কারণে প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে হিলারিকে। নভেম্বরের নির্বাচনে হিলারিকে সমর্থনের ক্ষেত্রেও এটি ভোটারদের প্রভাবিত করছে বলে ধারণা রয়টার্সের। অন্যদিকে অভিবাসী, মুসলমান ও নারীদের নিয়ে ‘কটাক্ষ’ ও ‘বাজে মন্তব্য’ করায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক জ্ঞান নিয়েও সমালোচনা চলছে। দলটির অনেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক কংগ্রেস সদস্যরা রিপাবলিকান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ট্রাম্পকে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প তার প্রচারশিবির নিয়েও বেশ ঝামেলায় আছেন। ১৯ আগস্ট পল ম্যানাফোর্ট ট্রাম্পের প্রচার ম্যানেজারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ইউক্রেনের রাশিয়াপন্থী দলের সঙ্গে ম্যানাফোর্টের সংযোগ রয়েছে এ অভিযোগ ওঠার পর ট্রাম্প নিজেও তার প্রচার দলে ব্যাপক রদবদল করেছেন।
অপর দিকে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে বন্যা রাজনীতি। রিপাবলিকান প্রার্থী নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও নিজেকে আরও বেশি আলোচনায় থাকতে চান বলেই মনে হচ্ছে। তিনি গত ১৯ আগস্ট বন্যাকবলিত লুইজিয়ানা সফর করেছেন। এ সময় তিনি লুইজিয়ানায় না যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কঠোর সমালোচনা করেছেন। সেখানে স্মরণকালের ভযাবহ দুর্যোগের ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্প ও তার মনোনীত ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স স্থানীয় রিপাবলিকান দলের নেতা ও জরুরি কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ এবং বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। কয়েকদিন আগেও এসব এলাকা কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে ছিল।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগামী ২৩ আগস্ট লুইজিয়ানা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। সপ্তাহব্যাপী এ দুর্যোগ চলাকালে এ রাজ্য ওবামা সফর না করায় ট্রাম্প তার কঠোর সমালোচনা করার পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন। ট্রাম্প সমালোচনা করে বলেন, সেখানে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গেলেও প্রেসিডেন্ট এখন অবকাশযাপনে ব্যস্ত রয়েছেন।
মিশিগানে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি ওবামাকে এখন গলফ কোর্স থেকে বেরিয়ে সেখানে যাওয়া উচিত।’ উল্লেখ্য, আগামী ২৪ আগস্ট প্রেসিডেন্টের গলফ খেলার কথা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সেখানে প্রায় ৪০ হাজার ঘরবাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৮৬ হাজারের বেশি লোক কেন্দ্রীয় সাহায্যের জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওবামার লুইজিয়ানা সফরের পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়ার পর হোয়াইট হাউজ জানায়, প্রেসিডেন্ট তার সফরের প্রভাবের ব্যাপারে সজাগ রয়েছেন এবং তিনি চান না ‘চলতি উদ্ধার প্রচেষ্টা কোনোভাবে ব্যাহত হোক।’
লুইজিয়ানার গভর্নর জন বেল এডওয়ার্ডস আগেই ইঙ্গিত দেন যে, তিনি চান এ অঞ্চল সফরের ক্ষেত্রে ওবামা কমপক্ষে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করবেন। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাস্তবায়নের উদ্ধার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সেখান থেকে তুলে নেয়া এড়াতে তিনি এটা চান।
এডওয়ার্ডস’র যুক্তিকে সমর্থন করে রাজ্যের লে. গভর্নর নানগেসার এমএসএনবিসিকে বলেন, ‘আমাদের সকলের উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।’ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের লুইজিয়ানা সফরের ব্যাপারে জানতে চাইলে এডওয়ার্ডস তা এড়িয়ে যান।
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ও বেফাঁস মন্তব্যের কারণেই নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের আশঙ্কায় ভোগছেন রিপাবলিকানরা। ফলে নির্বাচনী জনমত জরিপের ফলাফলও রীতিমত তার প্রতিকূলে। আসলে রিপাবলিকানদের পরাজয়ভীতিটা কোনভাবেই পিছু ছাড়ছে না। ফলে আগামী দিনে মার্কিন রাজনীতিতে দলটির প্রভাব প্রতিপত্তিও রীতিমত হুমকির মুখে পড়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তাই বিশ্ববাসীকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্যই অপেক্ষা করতে হবে।

SHARE