পলাশীর গাদ্দারদের পরিচিতি ও পরিণতি -ড. মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন। এদিন পলাশীর আ¤্রকাননে স্বদেশীয় বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তে বিদেশী বেনিয়াদের হাতে বাংলার স্বাধীনতাসূর্য অস্তমিত হয়েছিল। বাংলাদেশের মুসলিম শাসনের প্রতি বিদ্বেষ ও স্বার্থের লোভে পড়ে হিন্দু বিশ্বাসঘাতকরা দেশের স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে দিয়েছিলেন। অবশ্য বাংলার প্রধান সেনাপতি থাকা অবস্থায় মীরজাফরের ষড়যন্ত্রমূলক ভূমিকা, জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতাও জাতির জন্য কলঙ্কজনক এবং তা অবশ্যই ক্ষমার অযোগ্য। জাতি মীরজাফরকে কোনদিন ক্ষমা করেনি এবং করবেও না। কিন্তু ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার মূলনায়ক যে জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, মানিকচাঁদ, রাজভল্লভ, নন্দনকুমার, কৃষ্ণভল্লভ, রাম নারায়ন, সেতাব রায় প্রমুখ একথা অনেকটা চাপা পড়ে গেছে। অথচ এসব বিশ্বাসঘাতক এবং অন্যান্য হিন্দু সহযোগীদের যৌথ ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতিতেই দেশে ঔপনিবেশিক বেনিয়া শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
পলাশী ষড়যন্ত্রের যারা অংশ নিয়েছিল, পরবর্তীকালে তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়েছিল। এদের সকলের ওপর আল্লাহর লানত পড়েছিল। প্রায় সকলেরই মৃত্যু হয়েছিল মর্মান্তিকভাবে। পলাশীর শীর্ষস্থানীয় হিন্দু গাদ্দারদের পরিচিতিও পরিণতি নিম্নরূপ:

১.
মহাতপচাঁদ জগৎশেঠ ও
স্বরূপচাঁদ জগৎশেঠ
পলাশী ষড়যন্ত্রের পিছনে সবচাইতে বেশি ভূমিকা রেখেছিল জগৎশেঠ পরিবার; প্রথমত: তারা ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং পরে মীরজাফরও অন্যদের এতে যুক্ত করেন। শেঠ পরিবার ছিল অগাধ সম্পত্তির অধিকারী। তারা হুন্ডির কারবার করতেন। শেঠদিগের গদিতে দৈনিক টার্নওভার ছিল ১০ কোটি টাকা। জমিদার, মহাজন ও অন্যান্য ব্যবসায়ী সকলেই অর্থের জন্য শেঠদিগের নিকট উপস্থিত হতেন। ইংরেজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি বৈদেশিক বণিকগণ তাদের নিকট হতে টাকা কর্জ নিতেন। শেঠপরিবারের প্রধান ছিলেন জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ। আলীবর্দী খাঁর শাসনামলেই জগৎশেঠের সাথে ইংরেজদের সম্পর্ক অতিগভীর ছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ক্ষমতায় আরোহণ করলে এ সম্পর্ক ষড়যন্ত্রে রূপ নেয়। প্রায় প্রতি রাতেই জগৎশেঠের ‘নশীপুরের’ গদিতে ষড়যন্ত্রকারীদের সভা হতো। পলাশী বিপর্যয়ের পর জগৎশেঠ রাজকোষ লুণ্ঠনে অংশ নেন। ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে মীরজাফর নবাবী হারালে মীর কাশিম ক্ষমতায় আসেন। এসময় বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজদের সাথে স্বাধীনচেতা মীর কাশিমের বিরোধ বাধে। জগৎশেঠ ইংরেজদের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ মীর কাশিমের বিরুদ্ধে কয়েকটি পত্র প্রদান করেন। পত্রগুলো মীর কাশিমের হস্তগত হয়। এজন্য মীর কাশিম জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ ও তার ভাই স্বরূপ চাঁদকে বন্দী করে মুঙ্গের দুর্গে রাখেন। ইংরেজদের সাথে ক্রমেই মীর কাশিমের বিবাদ গুরুতর হয়ে উঠলে প্রধান ষড়যন্ত্রকারী জগৎশেঠ মহাতচাঁদকে মুঙ্গেরের অত্যুচ্চ দুর্গশিখর হতে হাত-পা বেঁধে গঙ্গারগর্ভে নিক্ষেপ করে বিনাশ সাধন করেন। স্বরূপচাঁদও একই প্রক্রিয়ায় ইহজীবনের লীলা সাঙ্গ করতে বাধ্য হন।

২.
উমিচাঁদ
উমিচাঁদ ছিলেন অত্যন্ত বড় ষড়যন্ত্রকারী। কলকাতার দেশীয় বণিকদের মধ্যে উমিচাঁদ ছিলেন সর্বপ্রধান। এ বণিক প্রধানের আসল নাম ছিল আমিন চাঁদ রুঢ়ি। আমিন চাঁদ ছিলেন শিখ। ইংরেজরা তাকে ‘অমিচাঁদ’ বলতো। কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে উমিচাঁদ বলেই এ বিশ্বাসঘাতক শিখ সওদাগরগণ পরিচিত হলেন। নবাব আলীবর্দী খানের দয়ায় তিনি কলকাতার বড় ব্যবসায়ী হতে পেরেছিলেন। আলীবর্দী খানের উদ্দেশ্য ছিল যে উমিচাঁদ কলকাতায় থেকে ইংরেজদের গতিবিধির উপর নজর রেখে মুর্শিদাবাদের দরবারে আপনে সংবাদ সরবরাহ করবেন। কিন্তু নিমকহারাম এ উমিচাঁদ গোপনে ইংরেজদের সাথেই হাত মিলালেন। উমিচাঁদ ক্লাইভ কর্তৃক প্রতারিত হয়েছিলেন। সিরাজ উৎখাতের পর নবাব পদে ইয়ার লতিফ খান ছিলেন উমিচাঁদের মনোনীত প্রার্থী। কিন্তু যখন অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারী এক্ষেত্রে মীরজাফরের নাম প্রস্তাব করলেন। তখন উমিচাঁদ বেঁকে বসলেন এবং বললেন, তোমাদের প্রস্তাব মানতে পারি এক শর্তে, তাহলো যুদ্ধের পর নবাবের রাজকোষের ৫ ভাগ সম্পদ আমাকে দিতে হবে। ক্লাইভ এতে সম্মত হলো বটে কিন্তু যুদ্ধের পরে তাকে তা দেয়া হয়নি। যদিও এ বিষয়ে একটি মিথ্যা চুক্তি হয়েছিল। ওয়ারস রমণী সেজে মীরজাফরের বাড়িতে গিয়ে লাল ও সাদা কাগজে দুটি চুক্তিতে তার সই করান। লাল কাগজের চুক্তিতে বলা হয়েছে নবাবের কোষাগারের ৫% উমিচাঁদ প্রাপ্য হবে। এটি ছিল প্রবঞ্চনা মাত্র। যুদ্ধের পর ক্লাইভ সরাসরি বলেন, তোমাকে কিছুই দিতে পারব না। এ কথা শুনে উমিচাঁদ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং পাগল অবস্থায় রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতেই এই গাদ্দারের মৃত্যু ঘটে।
৩.
রায়দুর্লভ
রায়দুর্লভ ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার একজন সেনাপতি। পলাশীর ষড়যন্ত্র অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। ইংরেজদের তিনি গোপনে সাহায্য করতেন এবং পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে নিজ বাহিনীকে নিয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই কুখ্যাত রায়দুর্লভই বন্দী মোহন লালকে হত্যা করে তার সমস্ত ধন সম্পদ আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীকালে বিশ্বাসঘাতক রায়দুর্লভকে তহবিল তসরুপের অপরাধে কারাগারে নিক্ষেপ করে প্রচণ্ড নির্যাতন করা হয়। যার ফলে করুণ অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

৪.
মানিক চাঁদ
মানিক চাঁদ ছিলেন নবাব সিরাজের অন্যতম সেনাপতি। কলকাতা দখলের পর নবাব তাকে সেখানকার শাসনভার দেন। কিন্তু নবাবের বেতনভুক্ত কলকাতা প্রশাসক মানিক চাঁদও গাদ্দারি করলেন। উৎকোচ প্রাপ্তির লোভে প্রলুব্ধ হয়ে ইংরেজ বাহিনী প্রতিরোধের মিছিমিছি ভান করে পরাজয় স্বীকার করলেন। ফলে ১৭৫৭ সালের ২রা জানুয়ারি ক্লাইভ কলকাতায় বিজয় পতাকা উড়ালেন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে মানিকচাঁদ গোপনে ইংরেজ কোম্পানির নৌসেনাপতি ওয়াটসন আর পদাতিক বাহিনীর সেনাপতি কর্নেল রবার্ট ক্লাইভের সাথে গোপন চুক্তি করে সুদখোর উর্মিচাঁদের প্ররোচনায় কলকাতা ত্যাগ করে মুর্শিদাবাদে পলায়ন করেন। নবাব সিরাজ তাকে কারাদণ্ড দেন। পরে মানিকচাঁদ ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে পলাশীর ষড়যন্ত্রে অংশ নেন। এই গাদ্দারও গঙ্গা গর্ভে ডুবে মারা যান।

৫.
রাজবল্লভ
রাজবল্লভ ঢাকার নায়েব নাজিম সরফরাজ খাঁর দেওয়ান ছিলেন মুর্শিদকুলি খানের এককালের মুন্সি যশোবন্ত রায়। সিরাজউদ্দৌলা হত্যা চক্রান্তের অন্যতম নায়ক কুখ্যাত বৈদ্যরাজা রাজবল্লভ ছিলেন এই দেওয়ান যশোবন্ত রায়ের সেরেস্তার পেশকার। পরবর্তীতে নায়েব নাজিম নোয়াজিশ খাঁর দেওয়ান হোসেন কুলি খাঁ নিহত হওয়ার পর রাজবল্লভ সর্বসের্বা হয়ে ওঠেন। ক্ষমতার দাপটে তিনি জুলুম করে প্রচুর নজরানা আদায় করেন। নোয়াজিশ খাঁও দেওয়ান হোসেন কুলি খাঁ উভয়ই বেশির ভাগ সময় থাকতেন মুর্শিদাবাদে। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ ধূর্ত রাজবল্লভ প্রচুর ধন-সম্পদ সঞ্চয় করার সুযোগ পেলেন।
নোয়াজিশ খাঁও তার পত্নী ঘসেটি বেগমের সুপারিশে রাজবল্লভ বৃদ্ধ নবাব আলীবর্দী খাঁরও স্নেহভাজন ছিলেন। কিন্তু রাজবল্লভ সিরাজউদ্দৌলার সতর্ক দৃষ্টি এড়াতে পারলেন না। একমাত্র সিরাজের অভিযোগেই রাজবল্লভ মুর্শিদাবাদের দরবারের এসে হিসাব দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তখন থেকেই রাজবল্লভ সিরাজের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করতেন। পরবর্তীকালে তিনি পলাশী ষড়যন্ত্রের অংশ নিয়ে সিরাজের ওপর নিষ্ঠুরভাবে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন। ষড়যন্ত্রকারী মৃত্যু মর্মান্তিকভাবে হয়েছিল। জানা যায় গাদ্দার রাজবল্লভের কীর্তিনাশ করেই পদ্মা হয় কীর্তিনাশা।
৬.
কৃষ্ণবল্লভ
কৃষ্ণবল্লভ ওরফে কৃষ্ণচন্দ্র রাজবল্লভের ছেলে। পিতার দাপটের সুযোগে কৃষ্ণচন্দ্র প্রচুর নজরানা আদায় করেছিলেন। বৃদ্ধ নবাব আলীবর্দী খান যখন রোগাক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী তখন বৈদ্যরাজা রাজবল্লভর পুত্র কৃষ্ণচন্দ্রের সাথে যোগসাজশ করে রাজকোষ থেকে লুণ্ঠিত অর্থ ঢাকা থেকে সরিয়ে ফেলতে তৎপর হলেন। গোপনে কাশিমবাজার কুঠিতে এলেন রাজবল্লভ। কুঠিয়াল ওয়াটসনকে অনুরোধ করলেন তার পুত্রের জন্য কলকাতায় কোম্পানির কাউন্সিলরদের কাছে একটিখানি সুপারিশপত্র লিখে দিতে। পত্রের সারমর্ম হলে: ‘কৃষ্ণবল্লভ ঢাকা থেকে সস্ত্রীক পুরী যাচ্ছে শ্রী শ্রী জগন্নাথজীর মন্দির দর্শনে। যাত্রাপথে তার আশ্রয়ের প্রয়োজন হলে তাকে যেন কলকাতায় আশ্রয় দেয়া হয়।’ ওয়াটসন সাহেবের সুপারিশপত্রখানা নিয়ে কৃষ্ণবল্লভ সস্ত্রীক ধনরতœ বোঝাই করা নৌকাগুলো ভাসিয়ে দিলেন কলকাতার অভিমুখে। তখন কলকতায় ইংরেজ কোম্পানির অধ্যক্ষ ছিলেন ড্রেক সাহেব। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি উড়িষ্যার বালেশ^র বন্দরের কুঠিতে বাস করেছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে কলকাতার অন্যান্য কাউন্সিলরগণ ওয়াটসনের সুপারিশ পত্রের ভিত্তিতে কৃষ্ণবল্লভকে কলকাতায় আশ্রয় দিলেন। এ ব্যাপারে কৃষ্ণবল্লভকে সাহায্য করেছিলেন কলকাতার অন্যতম কাউন্সিলর কুখ্যাত ঐতিহাসিক হলওয়েল। ক্ষমতা লাভ করেই সিরাজ কলকাতার অধ্যক্ষকে আদেশনামা পাঠালেন অবিলম্বে দস্যু ঢাকার ধনরতœ লুণ্ঠনকারী কৃষ্ণবল্লভকে মুর্শিদাবাদের দরবারে পাঠাও। ইংরেজরা তাকে পাঠালেন না। কলকাতা কৃষ্ণবল্লভকে নবাবের বিরুদ্ধে সকলকে কুমন্ত্রণা প্রদান করত। কিন্তু ইতিহাসের শাস্তি থেকে রক্ষা পায়নি কৃষ্ণবল্লভ। নতুন করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মীরজাফর কৃষ্ণবল্লভকে তার পিতার সাথে গলায় বালির বস্তা বেঁধে গঙ্গায় নিক্ষেপ করে। এভাবেই গঙ্গায় সলিল সমাধি ঘটে বিশ্বাসঘাতক পিতা-পুত্রের।

৭.
নন্দকুমার
ব্রাহ্মণ নন্দকুমার ছিলেন সিরাজ নিযুক্ত বঙ্গীয় ফৌজদার। ক্লাইভ অর্থ উৎকোচ দিয়ে তাকে বশীভূত করেছিল। নন্দকুমারকে উৎকোচ গ্রহণে উৎসাহিত করেছিল উমিচাঁদ। মুর্শিদাবাদ কাহিনী গ্রন্থে নিখিলচন্দ্র রায় লিখেছেন, নন্দকুমার অনেক বিবেচনার পর সিরাজের ভবিষ্যৎ বাস্তবিকই অন্ধকার দেখে ইংরেজদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করলেন। ইংরেজ ঐতিহাসিক লেখেছেন যে, ইংরেজরা সেই সময়ে আমির চাঁদকে দিয়ে নন্দনকুমারকে ১২ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে ড. মেহের আলী লিখেছেন; ‘ইংরেজদের চন্দননগর আক্রমণের প্রাক্কালে নবাব সিরাজ তাদের প্রতিরোধে ছিলেন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ ঘুষের বিনিময়ে প্রতিরোধ বাহিনীর নেতা নন্দনকুমার বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং ইংরেজদের সাথে হাত মিলান।’ বস্তুত নন্দনকুমার চন্দননগরের প্রবেশপথ থেকে যদি নবাবের সৈন্য সরিয়ে না দিতেন, তাহলে ইংরেজরা ফরাসিদের যুদ্ধে হারাতে পারত না। যাইহোক পলাশী ষড়যন্ত্রের সফল হওয়ার পর মীরজাফর নন্দনকুমারকে স্বীয় দেওয়ান নিযুক্ত করে সব সময় তাকে নিজের কাছে রাখতেন। পরবর্তীতে এ বিশ্বাসঘাতক হন মহারাজা নন্দকুমার। মীরজাফর দ্বিতীয়বার নবাব হলে নন্দনকুমার হন প্রধানমন্ত্রী। এ বিশ্বাসঘাতক পরবর্তীতে উপযুক্ত শাস্তিই পেয়েছিলেন। দলিল জালকরণ, তহবিল তছরুপ ও অন্যান্য অভিযোগে ইংরেজ আদালতে বিচারে নন্দনকুমার ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে জীবন লীলা সাঙ্গ করে।

৮.
রাজা রাম নারায়ণ
রাজা রাম নারায়ণ পলাশী ষড়যন্ত্রের অন্যতম হোতা। তিনি ছিলেন বিহারের ডেপুটি গভর্নর। পলাশীর ষড়যন্ত্র সফল হওয়ার পর মীরজাফর নিজপুত্র মিরনকে উক্ত পদে নিয়োগ দান করলে রাম নারায়ণ মিরনের সরকারি রূপে কাজ করছিলেন। রাজস্বের হিসাব না দেয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নবাব মীর কাশিম তাকে বন্দী করেন এবং তার বাসভবন তল্লাশি করেন। তল্লাশি করে ৭ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। পরে ইংরেজদের সাহায্যকারী রাজা রাম নারায়ণকে গলায় পাথর বেঁধে ভাগীরথীর গর্ভে নিক্ষেপ করা হয়।

৯.
সেতাব রায়
সেতাব রায় পলাশীর অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী। ষড়যন্ত্রের পুরস্কারস্বরূপ পরবর্তীতে পাটনার নায়েব নাজিম (ডেপুটি গভর্নর) পদ লাভ করেন। তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। ইংরেজদের খুশি করার জন্য সেতাব রায় নাগরিকদের ওপর অত্যাচার করতেন। ওয়ারেন হেস্টিংস তাকে বন্দী করেন এবং কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।

১০.
দুর্লভ রায়
দুর্লভ রায় সিরাজউদ্দৌলার পতন ষড়যন্ত্রের অন্যতম গাদ্দার। দুর্লভ রায় তার বিশ্বাসঘাতকতার জন্য উত্তম পুরস্কারই পেয়েছিলেন। তিনি নবাব মীরজাফর ও মীরনের অত্যাচারে সর্বস্বান্ত হয়ে কলকাতায় মানবেতর জীবন যাপন করে ইহলীলা শেষ করেন। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন: ‘মীরজাফরের দেশদ্রোহিতার ফলেই যে, বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষ ইংরেজদের অধীন আনা এ অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। রাজ্য লাভের জন্য, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য, প্রভুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তখন আরো অনেকেই করেছিলেন।’
লেখক : বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply