পলাশীর শিক্ষা -এবনে গোলাম সামাদ

ক্লাইভ তার ডায়েরিতে লিখেন: মুর্শিদাবাদের রাস্তায় অনেক লোক জড়ো হয়েছিল আমাদের দেখতে। এত লোক যে, যদি তাদের সামান্য কয়েকজন আমাদের দিকে রুখে আসত, তবে আমরা কেউ রক্ষা পেতাম না। কিন্তু তারা তেমন কিছুই করল না। কারণ তারা জড়ো হয়েছিল কেবল তামাশা দেখবারই জন্য।  ক্লাইভের ডায়েরিতে অনেক কিছুই আছে, যা পড়লে আমরা সেদিনের ইতিহাস লেখবার অনেক উপাদান পেতে পারি। আর অনেকে এসব উপাদান নির্ভর করে ইতিহাস লিখবার চেষ্টাও করেছেন। ভাবা দরকার, কেন সেদিন কেউ সিরাজের হয়ে ইংরেজদের বিরোধিতা করতে এগিয়ে আসেনি। ক্লাইভ নিজেই তার উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন: স্বদেশ চেতনার অভাব।
আজ আমরা পলাশীর যুদ্ধকে যেভাবে দেখি, সেদিন দেশবাসী আদৌ সেভাবে দেখেনি। রাজ্য শাসন ও রাজনীতিতে জনগণ ছিল অনুপস্থিত। রাজনীতি ছিল কেবলই মসনদের লড়াই। আর তাকে ঘিরে একদল সুযোগসন্ধানীর কার্যকলাপ। মানুষ ভেবেছে, এক রাজা যাবেন, পুনরায় অন্য রাজা আসবেন। সিংহাসন শূন্য রবে না।  সাধারণ জনগণ থাকতে চাইত রাজনীতি থেকে দূরে। ভাবত, এতে তাদের কোনো লাভ নেই। এ রকম অবস্থায় বিদেশীদের পক্ষে দেশ দখল কিছু কঠিন ব্যাপার ছিল না। বারে বারেই এদেশে বিদেশীরা এসেছে, রাজ্য স্থাপন করেছে। কিন্তু ইংরেজদের ব্যাপার ছিল কিছুটা আলাদা। তারা স্থলপথে আসেনি। এসেছিল বহুদূর থেকে, সমুদ্রপথে। এদেশে তারা বসতি করে এদেশের মানুষের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ গড়েনি। চিরদিনই থেকেছে পৃথক।
ইংরেজরা পলাশীর যুদ্ধে জিতেছিল। আমরা বলি এ যুদ্ধে জিতেছিল মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য। কিন্তু এরপর ইংরেজরা এই উপমহাদেশে অনেক যুদ্ধই করেছে, আর জিতেছে। এর জন্য কোন মীরজাফরের প্রয়োজন পড়েনি। ইংরেজদের রণনীতি ছিল ভিন্ন; আর আমাদের তুলনায় উন্নত। পলাশীর যুদ্ধে ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে ৫০০ তামিল সৈন্য এনেছিল। মাদ্রাজে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাকর্তাদের কাছে এরা পেয়েছিল বিশেষ প্রশিক্ষণ। বহু যুদ্ধেই এই উপমহাদেশ থেকে সংগৃহীত সৈন্যের সাহায্যে ইংরেজ সেনাপতিরা করেছে লড়াই, জিতেছে যুদ্ধে। আমাদের রাজা বাদশারা সৈন্যদের কখনও এভাবে প্রশিক্ষিত করবার কথা চিন্তা করেননি। ইংরেজের রণকৌশল ছিল অনেক উন্নত। কেবল বাংলা জয় করেই ইংরেজের যুদ্ধ-বিজয় শেষ থাকেনি। তারা এই উপমহাদেশে স্থাপন করতে পেরেছিল তাদের আধিপত্য। একমাত্র রণজিত সিংহের বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে তারা কিছুটা বেকায়দায় পড়েছিল। কারণ, এই সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণ পেয়েছিল ফরাসি ও ইতালির সেনাপতির কাছে।  সেনাবাহিনীর অন্যতম গোড়ার কথা হলো শৃঙ্খলা। তাতে থাকতে হয় একটা ‘চেইন অব কমান্ড’। এই চেইন অব কমান্ড ছিল না সেভাবে এই উপমহাদেশের কোনো নৃপতির সেনাবাহিনীর মধ্যে। আমাদের রাজারা দেশ শাসন করেছেন; কিন্তু দেশের কোন মানচিত্র অঙ্কনের চেষ্টা করেননি। বাংলার প্রথম মানচিত্র অঙ্কন করান চুচুড়ার ওলন্দাজ কোম্পানির প্রধান ফান ডেন ব্রুক। নবাবি আমলে মানচিত্র ছিল না। ওলন্দাজরা চাচ্ছিল এদেশ দখল করতে। এদেশে দখল করতে চাচ্ছিল ফরাসিরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয় ইংরেজরা।
আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে ভয়ঙ্কর রকম পিছিয়ে পড়েছিলাম। বিলাতে যখন জন্মেছেন নিউটন, আমরা তখন করছি কেবল সাধারণ যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ।  বিলাতে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য স্থাপিত হয় রয়েল সোসাইটি। ১৬৬২ খ্রিস্টাব্দে বিলাতের রাজার কাছ থেকে তা পায় বিশেষ সনদ। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার উৎসাহ প্রদানের জন্য এ রকম কোন সমাজ গড়বার কথা আমাদের দেশে কেউ ভাবেননি। আমরা বিজ্ঞান চর্চায় ব্রতী হইনি। কোন নতুন কিছু আমরা ভাবতে চাইনি। পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান ছিল আমাদের কাছে একেবারেই অজানা। আমাদের চিকিৎসকেরা ছিলেন প্রাচীন শাস্ত্রকে আঁকড়ে। পুরাতন পথেই তারা চলেছিলেন। আর চলেছিলেন সচেতনভাবে ভাবনা-চিন্তা না করে। ইংরেজরা এই উপমহাদেশে প্রথম রেলগাড়ি চালায় ১৮৫৩ সালে। ঐ একই সালে স্থাপন করে বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ। ইংরেজ যতগুলো কারণে ১৮৫৭ সালের সিপাহি অভ্যুত্থানকে দমন করতে পেরেছিল, তার একটি কারণ হল টেলিগ্রাফ মারফত সংবাদ পাওয়া ও নতুন আবিষ্কৃত রাইফেল ব্যবহার করতে পারা।
বর্তমান সময়ে পলাশী দিবস পালনের সময় কোন না কোন পক্ষ থেকে বলা হয়, সিরাজের বাংলায় মীরজাফরের ঠায় নাই। এভাবে দেশপ্রেম জানানো যেতে পারে। কিন্তু সেই সঙ্গে আমাদের ভেবে দেখা উচিত, সেদিন মীরজাফর সৃষ্টি হতে পেরেছিল কেন। আর কী ছিল সেদিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আজকের পরিস্থিতি আর সেদিনের পরিস্থিতিতে পার্থক্য কতটা। কেবল আবেগনির্ভর রাজনীতি আমাদের বেশি দূর নিশ্চয় নিয়ে যেতে পারবে না। আজকের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে হবে আজকের যুগোপযোগী চিন্তা-ভাবনা দিয়েই।
আজ আমাদের সম্মুখে যে সমস্যাটা বড় হয়ে উঠছে, তা হলো স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার সমস্যা। আমাদের দেখতে হবে বিপদে কোন কোন দেশ আমাদের বন্ধু হতে পারে। সেসব দেশের সঙ্গে গড়বার চেষ্টা করতে হবে বন্ধুত্ব। কেন এই উপমহাদেশে পাকিস্তান হয়েছিল, আর কেন বাংলাদেশের উদ্ভব ঘটেছে, সে সম্বন্ধে হওয়া উচিত ব্যাপক আলোচনা। যাতে করে আমরা জানতে পারি বাংলাদেশের জন্মের যথাযথ প্রেক্ষিত। যেটা আমাদের নবীন প্রজন্মের অনেকের কাছেই সুস্পষ্ট নয়। ইসলামের চাইতে এই উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসের পটভূমিতেই বোঝাতে হবে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ও সাবেক পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টি হবার কারণ; আর স্বাধীন বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখবার যৌক্তিকতা।
লেখক : বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষকক্লাইভ তার ডায়েরিতে লিখেন: মুর্শিদাবাদের রাস্তায় অনেক লোক জড়ো হয়েছিল আমাদের দেখতে। এত লোক যে, যদি তাদের সামান্য কয়েকজন আমাদের দিকে রুখে আসত, তবে আমরা কেউ রক্ষা পেতাম না। কিন্তু তারা তেমন কিছুই করল না। কারণ তারা জড়ো হয়েছিল কেবল তামাশা দেখবারই জন্য।  ক্লাইভের ডায়েরিতে অনেক কিছুই আছে, যা পড়লে আমরা সেদিনের ইতিহাস লেখবার অনেক উপাদান পেতে পারি। আর অনেকে এসব উপাদান নির্ভর করে ইতিহাস লিখবার চেষ্টাও করেছেন। ভাবা দরকার, কেন সেদিন কেউ সিরাজের হয়ে ইংরেজদের বিরোধিতা করতে এগিয়ে আসেনি। ক্লাইভ নিজেই তার উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন: স্বদেশ চেতনার অভাব।
আজ আমরা পলাশীর যুদ্ধকে যেভাবে দেখি, সেদিন দেশবাসী আদৌ সেভাবে দেখেনি। রাজ্য শাসন ও রাজনীতিতে জনগণ ছিল অনুপস্থিত। রাজনীতি ছিল কেবলই মসনদের লড়াই। আর তাকে ঘিরে একদল সুযোগসন্ধানীর কার্যকলাপ। মানুষ ভেবেছে, এক রাজা যাবেন, পুনরায় অন্য রাজা আসবেন। সিংহাসন শূন্য রবে না।  সাধারণ জনগণ থাকতে চাইত রাজনীতি থেকে দূরে। ভাবত, এতে তাদের কোনো লাভ নেই। এ রকম অবস্থায় বিদেশীদের পক্ষে দেশ দখল কিছু কঠিন ব্যাপার ছিল না। বারে বারেই এদেশে বিদেশীরা এসেছে, রাজ্য স্থাপন করেছে। কিন্তু ইংরেজদের ব্যাপার ছিল কিছুটা আলাদা। তারা স্থলপথে আসেনি। এসেছিল বহুদূর থেকে, সমুদ্রপথে। এদেশে তারা বসতি করে এদেশের মানুষের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ গড়েনি। চিরদিনই থেকেছে পৃথক।
ইংরেজরা পলাশীর যুদ্ধে জিতেছিল। আমরা বলি এ যুদ্ধে জিতেছিল মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য। কিন্তু এরপর ইংরেজরা এই উপমহাদেশে অনেক যুদ্ধই করেছে, আর জিতেছে। এর জন্য কোন মীরজাফরের প্রয়োজন পড়েনি। ইংরেজদের রণনীতি ছিল ভিন্ন; আর আমাদের তুলনায় উন্নত। পলাশীর যুদ্ধে ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে ৫০০ তামিল সৈন্য এনেছিল। মাদ্রাজে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাকর্তাদের কাছে এরা পেয়েছিল বিশেষ প্রশিক্ষণ। বহু যুদ্ধেই এই উপমহাদেশ থেকে সংগৃহীত সৈন্যের সাহায্যে ইংরেজ সেনাপতিরা করেছে লড়াই, জিতেছে যুদ্ধে। আমাদের রাজা বাদশারা সৈন্যদের কখনও এভাবে প্রশিক্ষিত করবার কথা চিন্তা করেননি। ইংরেজের রণকৌশল ছিল অনেক উন্নত। কেবল বাংলা জয় করেই ইংরেজের যুদ্ধ-বিজয় শেষ থাকেনি। তারা এই উপমহাদেশে স্থাপন করতে পেরেছিল তাদের আধিপত্য। একমাত্র রণজিত সিংহের বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে তারা কিছুটা বেকায়দায় পড়েছিল। কারণ, এই সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণ পেয়েছিল ফরাসি ও ইতালির সেনাপতির কাছে।  সেনাবাহিনীর অন্যতম গোড়ার কথা হলো শৃঙ্খলা। তাতে থাকতে হয় একটা ‘চেইন অব কমান্ড’। এই চেইন অব কমান্ড ছিল না সেভাবে এই উপমহাদেশের কোনো নৃপতির সেনাবাহিনীর মধ্যে। আমাদের রাজারা দেশ শাসন করেছেন; কিন্তু দেশের কোন মানচিত্র অঙ্কনের চেষ্টা করেননি। বাংলার প্রথম মানচিত্র অঙ্কন করান চুচুড়ার ওলন্দাজ কোম্পানির প্রধান ফান ডেন ব্রুক। নবাবি আমলে মানচিত্র ছিল না। ওলন্দাজরা চাচ্ছিল এদেশ দখল করতে। এদেশে দখল করতে চাচ্ছিল ফরাসিরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয় ইংরেজরা।
আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে ভয়ঙ্কর রকম পিছিয়ে পড়েছিলাম। বিলাতে যখন জন্মেছেন নিউটন, আমরা তখন করছি কেবল সাধারণ যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ।  বিলাতে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য স্থাপিত হয় রয়েল সোসাইটি। ১৬৬২ খ্রিস্টাব্দে বিলাতের রাজার কাছ থেকে তা পায় বিশেষ সনদ। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার উৎসাহ প্রদানের জন্য এ রকম কোন সমাজ গড়বার কথা আমাদের দেশে কেউ ভাবেননি। আমরা বিজ্ঞান চর্চায় ব্রতী হইনি। কোন নতুন কিছু আমরা ভাবতে চাইনি। পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান ছিল আমাদের কাছে একেবারেই অজানা। আমাদের চিকিৎসকেরা ছিলেন প্রাচীন শাস্ত্রকে আঁকড়ে। পুরাতন পথেই তারা চলেছিলেন। আর চলেছিলেন সচেতনভাবে ভাবনা-চিন্তা না করে। ইংরেজরা এই উপমহাদেশে প্রথম রেলগাড়ি চালায় ১৮৫৩ সালে। ঐ একই সালে স্থাপন করে বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ। ইংরেজ যতগুলো কারণে ১৮৫৭ সালের সিপাহি অভ্যুত্থানকে দমন করতে পেরেছিল, তার একটি কারণ হল টেলিগ্রাফ মারফত সংবাদ পাওয়া ও নতুন আবিষ্কৃত রাইফেল ব্যবহার করতে পারা।
বর্তমান সময়ে পলাশী দিবস পালনের সময় কোন না কোন পক্ষ থেকে বলা হয়, সিরাজের বাংলায় মীরজাফরের ঠায় নাই। এভাবে দেশপ্রেম জানানো যেতে পারে। কিন্তু সেই সঙ্গে আমাদের ভেবে দেখা উচিত, সেদিন মীরজাফর সৃষ্টি হতে পেরেছিল কেন। আর কী ছিল সেদিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আজকের পরিস্থিতি আর সেদিনের পরিস্থিতিতে পার্থক্য কতটা। কেবল আবেগনির্ভর রাজনীতি আমাদের বেশি দূর নিশ্চয় নিয়ে যেতে পারবে না। আজকের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে হবে আজকের যুগোপযোগী চিন্তা-ভাবনা দিয়েই।
আজ আমাদের সম্মুখে যে সমস্যাটা বড় হয়ে উঠছে, তা হলো স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার সমস্যা। আমাদের দেখতে হবে বিপদে কোন কোন দেশ আমাদের বন্ধু হতে পারে। সেসব দেশের সঙ্গে গড়বার চেষ্টা করতে হবে বন্ধুত্ব। কেন এই উপমহাদেশে পাকিস্তান হয়েছিল, আর কেন বাংলাদেশের উদ্ভব ঘটেছে, সে সম্বন্ধে হওয়া উচিত ব্যাপক আলোচনা। যাতে করে আমরা জানতে পারি বাংলাদেশের জন্মের যথাযথ প্রেক্ষিত। যেটা আমাদের নবীন প্রজন্মের অনেকের কাছেই সুস্পষ্ট নয়। ইসলামের চাইতে এই উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসের পটভূমিতেই বোঝাতে হবে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ও সাবেক পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টি হবার কারণ; আর স্বাধীন বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখবার যৌক্তিকতা।
লেখক : বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply