পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন দেশ বানানোর নেপথ্যে -মুহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিদেশী মিশনারি সংস্থাগুলো একটা বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, যা বাংলাদেশের জন্য হুমকি বলা যায়। দাতা সংস্থা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ) পাহাড়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করার পর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ইউএনডিপির প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে তার বিপরীত। অগ্রাধিকারের নামে ইউএনডিপির বিভিন্ন উচ্চপদে বসে চাকমা সম্প্রদায়ের একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী চালিয়ে যাচ্ছে তাদের নানামুখী ভয়াবহ বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। পাহাড়ের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা সম্প্রদায়ের লোকরাই অন্যান্যদের চেয়ে অধিক সচেতন, শিক্ষিত ও সচ্ছল। অথচ দেখা গেছে উন্নয়নবঞ্চিত বাঙালিসহ অন্যান্য উপজাতীয় জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে ইউএনডিপি একচেটিয়া চাকমা সম্প্রদায়ের কিছু গোত্রের সার্বিক উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত ইউএনডিপির বড় থেকে ছোট সকল কর্তাই চাকমা সম্প্রদায়ের। ফলে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নেয়া হয় বৈষম্যনীতি। পাহাড়ের অন্যান্য সম্প্রদায়, যেমনÑ ত্রিপুরা, মার্মাসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মানুষদের জীবন-জীবিকার মান দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উপজাতীয়দের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ পূর্বে যেমন ছিলো বর্তমানে আরো অধিক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বড়কর্তা চাকমা বাবুদের ইশারায় ইউএনডিপির বিভিন্ন প্রজেক্টে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯০ ভাগই নিয়োগ পেয়ে থাকে চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন।
ইউএনডিপি পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেয়ার কথা প্রচার করলেও বাস্তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ইউএনডিপির প্রতিটি প্রজেক্টের অর্ধেক বরাদ্দ খরচ হয়ে থাকে জনবল, যোগাযোগ ও যানবাহন খাতে। অবকাঠামোগত দু-চারটি প্রকল্প ছাড়া অধিকাংশই সভা, সেমিনার, বিদেশ ভ্রমণ, কনসালট্যান্সি, ওয়ার্কশপসহ অদৃশ্য খাতে। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হয়ে থাকে চাকমাদের নিয়ন্ত্রিত হাতেগোনা কয়েকটি স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে। এভাবেই ইউএনডিপির পরিকল্পিত সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে শুধু চাকমা সম্প্রদায় আর স্বপ্ন দেখছে জুম্ম ল্যান্ড নামে একটি স্বাধীন পৃথক রাষ্ট্রের। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী ভয়াবহ গোপন মিশন ‘ভিশন-২০৩০’। সুদূরপ্রসারী এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ভারতের অরুণাচল থেকে দেড় লাখ উপজাতীয়কে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশইন করার গোপন তৎপরতা চলছে। ইউএনডিপির বিভিন্ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জায়গা করে নেয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা সম্প্রদায়ের এক শ্রেণীর উচ্চ শিক্ষিত স্বাধীনতা লোভী চাকমা বাবুদের অতীত বাসনারই নতুন ফসল পুশইন করার এই ষড়যন্ত্র। ইউএনডিপিতে কর্মরত উচ্চ ও নিম্ন পদস্থ নির্ভরযোগ্য অনেক সূত্রেই এই তথ্য পাওয়া গেছে।
এই কর্মকর্তারাই উপজাতীয়দের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সুযোগ সুবিধার কথা বলে ভারতের অরুণাচল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আনার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা সম্প্রদায়ের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, আধিপত্য এবং কোন এক সময় পৃথক রাষ্ট্রের স্বপ্নই তাদের ষড়যন্ত্রের এই পথে বেগবান করে তুলছে প্রতিদিন। এই স্বপ্ন দেখার পেছনে রয়েছে বহুমুখী উপাদান। নানামুখী সুযোগসুবিধা আর সাহায্য-সহযোগিতা পেয়ে সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে উপজাতীয়দের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম (বিশেষ করে চাকমা সম্প্রদায়ের একটি অংশ)।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, ইউএনডিপির উঁচু পদে থাকা চাকমা কর্তারাই গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিয়ে টেলিফোন সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে আসছে অরুণাচলে থাকা উপজাতীয়দের পার্বত্য চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনতে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আলোচনা করে এবং বাংলাদেশী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে অবশেষে ইউএনডিপির চাকমা কর্তাদের যোগসাজশে সেখানকার উপজাতীয়দের অনেকটা স্বেচ্ছায় পুশইনের পরিকল্পনা করা হয়।
এতে পাহাড়ের উপজাতীয় ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ কোটার সুবাদে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে সহজ পরিশ্রমে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছে উপজাতীয় ছাত্ররা। এভাবে বিভিন্ন দেশে লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা সম্প্রদায়ের ‘অবহেলিত নির্যাতিত ও নিগৃহীত জীবনযাপনের’ কল্পকাহিনী ছড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা ও সহানুভূতি‘ আদায় করছে। বাস্তবতা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিসহ অন্য সকল সম্প্রদায় চাকমা কর্তৃক শোষিত, নিগৃহীত, নির্যাতিত। চাকমা উপজাতীয়দের উচ্চশিক্ষিত এই অংশটিই একসময় ইউএনডিপিতে মোটা বেতনের চাকরি পাচ্ছে অনায়াসে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশের চীনের সাথে বিরোধীয় সীমান্ত এলাকা অরুণাচল রাজ্যে বসবাসকারী প্রায় আড়াই লাখ উপজাতীয়দের মধ্য থেকে দেড় লাখ উপজাতীয়কে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশব্যাক করতে জোর তৎপরতা শুরু করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউএনডিপিতে কর্মরত কিছু উপজাতীয় ব্যক্তিত্ব এবং কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে এমন কয়েকজন বিশিষ্ট উপজাতীয় ব্যক্তি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ কাজে সহযোগিতা করছে। ভারত সরকার এসকল নাগরিককে একসময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকোবরে পাঠাতে জোর চেষ্টা চালিয়েছিলো। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা আন্দামানে না গিয়ে অরুণাচল রাজ্যেই বসবাস করছে। এসব উপজাতীয়দেরকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশইন করতে গোপন তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেশকিছু পরিবার ইতোমধ্যে ভারত বাংলাদেশের অরণ্যঘেরা সীমান্ত এলাকা খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার দুদুকছড়া এবং রাঙ্গামাটি জেলার সাজেক ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এসকল পরিবার স্থানীয় উপজাতীয় বাসিন্দাদের সাথে মিশে যাচ্ছে নিকট আত্মীয় স্বজনের নাম দিয়ে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভারত দাবি করছে, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময়, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধে উদ্বাস্তু হওয়া এবং ১৯৮৬ সালে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর এসকল নাগরিক বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে গোপন পথে কয়েক দফায় এসে অরুণাচল রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বসতি শুরু করে। ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসকল পরিবারকে চীনের সাথে সীমান্ত বিরোধ আছে এমনসব এলাকাতে বসতি স্থাপন করায়। এক পর্যায়ে এসকল পরিবারকে ভারত সরকার আন্দামান দ্বীপে নিতে চাইলে এসকল নাগরিক অস্বীকিৃত জানায়। এ ছাড়া এসকল পরিবার ভারতের নাগরিকত্ব পেতে আশির দশকে ভারতীয় আদালতে আবেদন করলে আদালত দীর্ঘ শুনানির পর এসকল নাগরিকের মধ্যে যারা ভারতে জন্ম নিয়েছেন তাদেরকে নাগরিকত্ব দিতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকার কিছু লোককে নাগরিকত্ব দিয়ে নামমাত্র আদালতের নির্দেশ পালন করেন।
অপর দিকে, আন্দামানে নিতে কয়েক দফায় ব্যর্থ হয়ে ভারত সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু উপজাতীয় ব্যক্তির পরামর্শে এসব পরিবারকে ভারতের নাগরিকত্ব না দিয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশব্যাক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এসকল উপজাতীয় পরিবার কয়েক যুগেও ভারতের নাগরিকত্ব না পাওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে আসলে ইউএনডিপির মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে এবং ভারতীয় বাহিনীর বিভিন্ন রকমের চাপে তারা নিজেরাই সংগঠিত হয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে আসতে বিভিন্ন গোপন কৌশলে কার্যক্রম শুরু করেছে। জনৈক মৃণাল ভিক্ষু এই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। তার পরিচালনায় “ওয়ার্ল্ড চাকমা নেটওয়ার্ক” নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান, পরামর্শ ও সহযোগিতা চাওয়াসহ যাবতীয় কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও ভারতের বহুল প্রচারিত আনন্দবাজার পত্রিকায় এ সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কয়েকবার রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। ২০১৬ সালে দেখা যাচ্ছে ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ এর সৃষ্টিকৃত এবং দাতা সংস্থার ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ অর্থে পরিচালিত হিলটেক্স হেডম্যান নেটওয়ার্ক নামের সংগঠনটি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে। বিষয়টি ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ অস্বীকার করছে।
উল্লেখ্য, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর ভারতে আশ্রিত শরণার্থীদের একটি অংশ অর্থাৎ সন্তু লারমার বিরোধী উপজাতি প্রীতি গ্রুপের সমর্থকরা চুক্তিকেও সমর্থন দেয়নি এবং বাংলাদেশেও প্রত্যাবর্তন করেনি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তৎকালীন সময়ে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা করলে দ্বিতীয় দফায় এসকল পরিবারকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নেবে মর্মে প্রতিশ্রুতি ছিলো। বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যের কোনো তথ্য প্রমাণ অদ্যাবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো দাবি করছে, সে সময়ে জনসংহতি সমিতি কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া ভারতে আশ্রিত শরণার্থী পরিবারের সংখ্যাও সঠিক ছিল না। সরকারকে দেয়া শরণার্থী পরিবারের সংখ্যা প্রত্যাবর্তনকালীন ভারত ছেড়ে না আসায় জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়নি এমন অনেক পরিবারকে ভারতে আশ্রিত দেখিয়ে অভিনব কায়দায় শরণার্থী বানিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করিয়েছেন। এ সকল পরিবারকে ভারত মানবিক কারণে আশ্রয়ের কথা বললেও মূলত ভারতের সাথে চীনের বিরোধীয় সীমান্ত এলাকা অরুণাচল রাজ্যে যুগ যুগ ধরে বসবাস করতে দিয়ে এসব উপজাতীয়দের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে মাত্র। তবে দীর্ঘ কয়েক যুগের ব্যবধানেও এসকল নাগরিককে সে দেশের নাগরিকত্ব দেয়নি ভারত।
এ ছাড়াও সেখানে বসবাসকারীদের অধিকাংশই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্নভাবে কর্মরত আছেন। আবার অনেকেই বছরের কোন কোন সময় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার কোন কোন সময় থাকেন অরুণাচল রাজ্যে। অনেকেই রয়েছেন এপার ওপারের চোরাচালানের ব্যবসার সাথে জড়িত। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি স্থানীয় রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফের অস্ত্র কেনা বেচা, চাঁদাবাজি, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগসহ বিবিধ অনৈতিক কাজেও সম্পৃক্ত রয়েছেন এদের অনেকেই। আবার বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের কারণেও এদের অনেকের বাসভূমির পরিবর্তন ঘটে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে অনৈতিক কাজে জড়িত এসকল উপজাতি পাড়ি জমায় ভারতে, আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এলে আবার পাড়ি দেয় বাংলাদেশে। তাদের অনেকেরই রয়েছে দুই দেশেই বসতবাড়ি, জায়গা জমি।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত উপজাতীয় পরিবারের অনেক ছেলেমেয়ে এসকল পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে লেখাপড়া করছে ভারতের বিভিন্ন নামীদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কারো কারো নাগরিকত্বসহ নিজবাড়িও রয়েছে ভারতে।
এ দিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) দু’টি স্থানীয় রাজনৈতিক দলই অরুণাচলের এসকল উপজাতীয়কে বাংলাদেশে আনতে গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইউপিডিএফ এ কাজে তাদের জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। একইভাবে জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমার দলও তাদের সমর্থন বাড়াতে এসকল নাগরিকদের বাংলাদেশে আসতে বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা আর প্রলোভনের কথা বলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে বসবাসকারী উপজাতীয়দের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশইন করার গোপন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা, পার্বত্যাঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নেয়া এবং ইউএনডিপির উচ্চপদে কর্মরত চাকমা বাবুদের কার্যক্রম সরকারের শতভাগ নজরদারিতে না আনলে পাহাড়ের বিশাল অঞ্চল অরুণাচলবাসীদের সুযোগ সুবিধার নতুন ঠিকানা হবে। স্বাধীনতার লোভে বিদেশী ইশারায় এরাই বিভিন্ন সময়ে অশান্ত করে তুলবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে- যা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সমস্যাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলবে। কাজেই সরকারকে অতি গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ লক্ষ্যে সরকারকে যেসকল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে তা হলো :
১.    পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড আরো জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে কাপ্তাইসহ যেসকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে আনা হয়েছে তা ফিরিয়ে নিতে হবে।
২.    সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধে তিন পার্বত্য জেলায় র‌্যাবের ব্যাটালিয়ন স্থাপন করতে হবে।
৩.    দ্রুততার সাথে অচিহ্নিত সীমানা নির্ধারণ করতে হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে।
৪.    বিজিবির সংখ্যা ও সাপোর্ট বাড়াতে হবে এবং বিজিবির অবস্থান সীমান্তের কাছাকাছি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৫.    এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কোনো স্বীকৃতি নেই। কাজেই তাদের ব্যাপারে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬.    কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাঙালির অবস্থান ছড়িয়ে দিতে হবে।

SHARE

Leave a Reply