প্রতিদিনের কর্মের আত্মপর্যালোচনা করুন -মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত

সাফল্যের পেছনে ছুটে চলা প্রতিটি মানুষই জানেন সাফল্য এমন এক জিনিস যাকে অর্জন করতে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে ব্যাপক লড়াই-সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়। যারা লড়াই-সংগ্রাম করে প্রতিনিয়ত সাফল্য ছিনিয়ে আনেন তারা শুধু লড়াই-সংগ্রাম করেই যে সাফল্য ছিনিয়ে আনেন তা কিন্তু নয় বরং তারা প্রতিদিন তাদের নিজ নিজ কর্মের পর্যালোচনা করেন। কারণ সাফল্য অর্জনে প্রতিদিনের কর্মের আত্মপর্যালোচনার বিকল্প নেই। আত্মপর্যালোচনা না করে সাফল্য কিংবা ভালো কিছু অর্জনের আশা করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস রয়েছে, আবু ইয়ালা শাদ্দাদ ইবন আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি, যে তার নফসের প্রবৃত্তির হিসাব গ্রহণ তথা আত্মপর্যালোচনা করে এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য (নেক) কাজ করে। আর দুর্বল সে ব্যক্তি, যে স্বীয় নফসের কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, আবার আল্লাহর কাছেও (ভালো কিছু প্রাপ্তির) আকাক্সক্ষা পোষণ করে (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।
নিজেকে নিজেই মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়ার নাম আত্মপর্যালোচনা। আরবিতে এটাকে বলা হয় ‘মুহাসাবা’। আর ইংরেজিতে বলে Self-evaluation। ইংরেজিতে আত্মপর্যালোচনাকে Time for review নামেও অভিহিত করা হয়। আত্মপর্যালোচনা হচ্ছে নিজের কাজের হিসাব নিজেই নেয়া। এটি নিজের সাথে নিজের প্রতিযোগিতাও বটে। গতকাল আমি কতটুকু কাজ করতে পেরেছি আর আজকে আমি কতটুকু করতে পারলাম। আজকে যতটুকু কাজ করার পরিকল্পনা আমার ছিল তার কতটুকু আমি করতে পেরেছি। আমার কাজের মধ্যে কোনো ভুল-ক্রটি ছিল কি না, কোনো দুর্বলতা ছিল কি না। আমার আজকের দিনটি গতকালের চেয়ে ভালো হলো কি না সেসব বিষয়ের পর্যালোচনা করা। কারণ ধবংসের পরিবর্তে সফলতাতো তার জন্য যার আজকের দিনটি গতকালের চেয়ে ভালো হলো। এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস রয়েছে, মানবতার মহান শিক্ষক রাসূল (সা:) বলেছেন, ধ্বংস তার জন্য, যার আজকের দিনটি গতকালের চেয়ে উত্তম হলো না। আত্মপর্যালোচনা শুধুমাত্র গতকালের হিসাব-নিকাশ তথা অতীতকেই যাচাই করে না বরং তা আমাদেরকে অতীত এবং আজকের অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তী প্রস্তুতির নির্দেশনাও দেয়। যেমন বলা হয়েছে,self-evaluation directs us to prepare our next performance from the past and today’s experiences.
পরবর্তী প্রস্তুতির নির্দেশনা পেতে নিজের কর্মের পর্যালোচনা নিজে করার মাঝে অনেক সার্থকতা আছে। ব্যক্তি নিজেই যদি নিজের কাজের হিসাব নিতে পারে তাহলে তা তার সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি তাকে সহযোগিতা করে। অন্য কেউ তার কাজের দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দেয়ার আগেই নিজের ত্রুটিগুলো নিজে চিহ্নিত করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে সমালোচনার হাত থেকে বাঁচা যায়, জবাবদিহিতা সহজ হয়, অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় না। একটি শ্লোগান রয়েছে “নিজের হিসাব নিজেই করি : প্রতিদান দিবসের হিসাবকে সহজ করি”। প্রতিদান দিবসে তথা কাল কেয়ামতের ময়দানে প্রতিটি আদম সন্তানকে তার নিজের কর্মের হিসাব নিজেকেই পেশ করতে বলা হবে। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে, পড় তোমার কিতাব (আমলনামা), আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট। (সূরা বনি ইসরাইল : ১৮) এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘তোমাদের কাছে হিসাব চাওয়ার আগে নিজেরাই নিজেদের হিসাব সম্পন্ন করে নাও, তোমাদেরকে পরিমাপ করার আগেই তোমরাই নিজেদেরকে পরিমাপ করে নাও। কিয়ামত দিবসে পেশ হওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করো। সুসজ্জিত হও সেদিনের জন্য, যেদিন তোমাদের সামনে কোনো কিছু অস্পষ্ট থাকবে না।’ (তিরমিজি)
আমি যদি আজকেই আমার হিসাবটা নিয়ে নিতে পারি তাহলে পরবর্তী দিবসে জবাবদিহিতা করা আমার জন্য সহজ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে আমরা এমন অনেক কাজ করি যার জন্য কারো কাছেই জবাবদিহি করতে হয় না। অথবা যিনি আমার কাছ থেকে আমার কাজের জবাবদিহিতা নেবেন তিনি কোনো কারণে জবাবদিহি করেন না এমনকি কিছু বলেনও না। অথচ আমরা জানি, যে কোন কাজে জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জবাবদিহিতা ছাড়া কাজের শতভাগ সাফল্য আশা করা যায় না। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নেয়ার চমৎকার এবং তাৎপর্যপূর্ণ মাধ্যম হলো আত্মপর্যালোচনা। অর্থাৎ নিজের কর্মের পর্যালোচনা নিজে করে নেয়া। এতে কাজ কতটুকু হলো কতটুকু বাকি থাকল, কাজের মধ্যে ভুল-ভ্রান্তি হলো কি না, সময়ের কাজ সময়েই সম্পন্ন হলো কি না, নিজের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায় হলো কি না তা নিজে নিজেই পরিমাপ করার পাশাপাশি সফলতা অর্জনও নিশ্চিত করা যায়। দুনিয়াবি সফলতার পাশাপাশি পরকালীন সফলতা অর্জনে আত্মপর্যালোচনার বিকল্প নেই। কারণ উভয় জিন্দেগির সফলতা অর্জনে মুত্তাকি বা আল্লাহভীরু হওয়া প্রয়োজন। আর মুত্তাকি হতে হলেও প্রয়োজন আত্মপর্যালোচনার। মায়মুন ইবন মিহরান (রহ:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সে অবধি কোনো ব্যক্তি মুত্তাকি বা আল্লাহভীরু হতে পারবে না যে যাবৎ না সে নিজেই নিজের হিসাব নেয় বা মুহাসাবা করে। যেভাবে সে তার সঙ্গীর সঙ্গে হিসাব করে কোথায় তার আহার আর কোথায় তার পোশাক।’ (তিরমিজি)
প্রতিদিনের কর্মের আত্মপর্যালোচনার কিছু পদ্ধতিও রয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ পদ্ধতিটি ইমাম গাযযালী রহ: নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করেছেন। প্রথম কাজ হলো, ‘সকালে ঘুম থেকে জেগে নফসের কাছে এ মর্মে অঙ্গীকার করা যে, আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো খারাপ কাজ করব না। আমার ওপর দায়িত্ব যত আছে সব ঠিকমতো আদায় করব। আমার ওপর আল্লাহর যত হক আছে, বান্দার যত হক আছে সব পুরোপুরি আদায় করব। হে নফস! মনে রেখ, ভুলক্রমে অঙ্গীকারের বিপরীত কোনো কাজ করলে তোমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।’ পাশাপাশি এ অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক কামনা করা। এই হলো প্রথম কাজ আর এর নাম দিয়েছেন তিনি ‘মুশারাতা’ বা ‘আত্ম অঙ্গীকার’। দ্বিতীয় কাজটি হলো পুরো দিনের কাজের মাঝে সকালে কৃত অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না তা দেখা। মানুষ যখন জীবিকার জন্য কর্মক্ষেত্রে বেরিয়ে যায়, চাকরি করলে চাকরিতে, ব্যবসা করলে ব্যবসায়, দোকান করলে দোকানে, পড়াশোনা করলে ক্যাম্পাসে চলে যায়। সেখানে প্রতিটি কাজ শুরু করার আগে একটু ভেবে দেখা, এ কাজটি প্রতিজ্ঞার খেলাফ কি না। এ আচরণ বা এ শব্দ যা উচ্চারণ করছি তা প্রতিজ্ঞা পরিপন্থী কি না। যদি প্রতিজ্ঞা পরিপন্থী মনে হয় তাহলে তা থেকে বাঁচার চেষ্টা করা এবং সে কাজটি না করা। এটাকে তিনি বলেছেন ‘মুরাকাবা’। তৃতীয় কাজটি করতে হবে শোয়ার আগে, আর তা হলো ‘মুহাসাবা’ অর্থাৎ আত্ম-পর্যালোচনা। নফসকে বলবে, তুমি সারাদিন খারাপ কাজ করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলে। প্রতিটি কাজ সঠিকভাবে করবে। আল্লাহর হক ও বান্দার হক ঠিকমত আদায় করবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলে। এখন বলো কোন কাজ তুমি প্রতিজ্ঞামত করেছ, আর কোন কাজ প্রতিজ্ঞামত করনি? এভাবে সারাদিনের সকল কাজের হিসাব গ্রহণ করা আত্মপর্যালোচনার উত্তম পদ্ধতি। আত্মপর্যালোচনার সঠিক পদ্ধতির পাশাপাশি তা করার জন্য একটি ভালো সময়ও বেছে নেয়া আবশ্যক। সঠিক সময় হচ্ছে শোয়ার পূর্বমুহূর্ত। এর চেয়ে ভালো সময় হচ্ছে ফজর নামাজের পর। সবচেয়ে ভালো সময় এশার নামাজের পর।
আত্মপর্যালোচনার সময় নিম্নোক্ত বিষয়ে আরো গভীরভাবে ভাবার সুযোগ রয়েছে। তাহলো, প্রথম পর্যায়ে আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে জায়নামাজে বসে মনে মনে এ চিন্তার উদ্রেক করা যে আল্লাহ আমাকে দেখছেন। আমি সেই রাব্বুল আলামিনের সামনে বসে আছি; যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর হাতেই আমার জীবন ও মৃত্যু। তিনি রহমান, রহিম ও কাহ্্হার। আমার অন্তরের নিভৃত কোণের খবরও তিনি রাখেন। মস্তিষ্ক দিয়ে আমি কি চিন্তা করছি তা তিনি ভালোভাবে জানেন। তিনি ইনসাফগার। আমার ওপর তিনি কখনও জুলুম করেন না। দ্বিতীয় পর্যায়ে নিজের সারাদিনের কর্মব্যস্ততা স্মরণ করা। যে সমস্ত ভালো কাজ করা হয়েছে তার জন্য শুকরিয়া আদায় করা এবং যা ভুল হয়েছে তার জন্য তওবা করা। তৃতীয় পর্যায়ে আজকের দিবসে আদায়কৃত ফরজ ওয়াজিবসমূহ নিয়ে চিন্তা করা। এসব আদায়কালে আন্তরিকতা এবং মনোযোগ যথার্থই ছিলো কি না ভেবে দেখা। চতুর্থ পর্যায়ে আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত ছিল তা পালন করেছি কি না? এ জন্য আমার সময় ও সামর্থ্য যা ছিল তা পুরাপুরি ব্যয় করেছি কি না? পঞ্চম পর্যায়ে আজকের ব্যবহারিক জীবন (মুয়ামেলাত) সম্পর্কে চিন্তা করা। শেষ পর্যায়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
এভাবে প্রতিদিন কিছু সময় বের করে নিজের আত্মপর্যালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে সময়তো ফুরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যে কাজটুকু করার আমি কি তা সম্পন্ন করতে পেরেছি? পরিকল্পনার কতটুকু কাজ করতে পারিনি অথচ আমার কতটুকু কাজ করার কথা ছিল। প্রচলিত একটি প্রসিদ্ধ উদ্ধৃতি আছে, ‘ওভ ুড়ঁ ঃযরহশ বধপয ফধু ঃযব ষধংঃ ফধু ড়ভ ুড়ঁৎ ষরভব, ঃযবহ ড়হব ফধু ুড়ঁ ৎবধষষু রিষষ নব ংঁপপবংংভঁষ’ অর্থাৎ ‘তুুমি যদি প্রতিটি দিনকেই তোমার জীবনের শেষ দিন ভাব, তাহলে একদিন তুমি সত্যি সত্যিই সফল হবে।’ তাই প্রতিদিন ভোরে উঠেই আমাদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত- আজকের দিনটাকে আমি সফল ও সার্থক করে তুলবো। আমার আজকের কাজ যেন কল্যাণের পথে হয়। প্রতিটি মুহূর্তেই যেন সত্য ও সুন্দরের সাথে অতিবাহিত হয়। আমাদের আত্মপর্যালোচনায় এ উপলব্ধি জাগ্রত হওয়া উচিত যে, প্রতিদিন কত পাপ, অন্যায় পঙ্কিলতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে অপবিত্র করে, আত্মাকে মলিন করে। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে আমরা কত না মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করি। হিংসা, প্রতিহিংসা, কিংবা প্রতিশোধের কত বীজ আমরা প্রতিদিন বপন করি। এসব অকল্যাণের বিষয় নিজের পর্যালোচনায় নিয়ে এসে এসবের মধ্যে আর নিজেকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি নেয়াটাই আমাদের পরবর্তী দিনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলবে আর কাজের মধ্যে গতিশীলতা এনে সাফল্যকে নাগালের মধ্যে এনে দেয়ার চেষ্টা করবে। হযরত ওমর (রা.) বলেন, প্রকৃত কর্মী সেই ব্যক্তি যে দিবসের কাজ পরদিনের জন্য মুলতবি করে রাখে না। প্রতিটি দিনের, প্রতিটি কাজের অভিজ্ঞতাকে পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে ভুল ভ্রান্তি দূর করে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এসেছে, প্রত্যকেই (খতিয়ে) দেখা উচিত যে আগামী কালের (প্রতিদান দিবসের) জন্য সে কী প্রেরণ করেছে। (সূরা আল হাশর-১৮)
কিছু নেতিবাচক কাজ পরিত্যাগ করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করি, কিন্তু পারি না। বার বার করে ফেলি, অনুতপ্ত হই, কিন্তু আবার করি। নিজের ভেতরটাকে শোধরানোর চেষ্টা করি কিন্তু সফল হই না। এ ক্ষেত্রে আত্মপর্যালোচনার মাধ্যমেই আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যতবার ভুল হবে, ততবারই চেষ্টা করতে হবে। সে জন্য আমাদের প্রতিদিনের কর্মতৎপরতার আত্মপর্যালোচনাপত্র পূরণ করা যেতে পারে। প্রত্যেকদিন আত্মপর্যালোচনাপত্র নিজে পূরণ করে নিজের কাছে রাখা এবং নিজের হিসাব নিজেই যাচাই করা। নিজের সাথে নিজের প্রতিযোগিতা এই মর্মে করা যে, গতকাল আমি কতটুকু করতে পেরেছি আর আজকে আমি কতটুকু করতে পারলাম। এই আত্মপর্যালোচনা বা আত্মমূল্যায়নপত্র যদি নিয়মিত রাখা যায় তাহলে নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে এবং সাফল্যের দ্বার উন্মোচিত হবে।
প্রকৃতপক্ষে, আত্মপর্যালোচনা নিজের কাছে নিজ কাজের সামগ্রিক খতিয়ান। কোন ব্যক্তি যদি প্রতিদিন নিজকর্মের পর্যালোচনা নিজে করেন তার জীবন ক্রমাগত উন্নত না হয়ে পারে না। বিশেষ করে যারা আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে নিজ নিজ কাজের পর্যালোচনা করেন, তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য দেখাতে পারে না। আখেরাতের সাফল্য যাদের একমাত্র কাম্য, খোদার সন্তুষ্টির আশা এবং অসন্তোষের ভীতির মাঝপথে যারা দন্ডায়মান, তাদের জীবনে প্রতিদিনের কর্মের আত্ম-পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নেয়া ভালো। আত্ম-পর্যালোচনার সময় নিজের মনে এ অনুভূতি সৃষ্টি করতে হবে যেন রোজ কেয়ামতে পরম পরাক্রমশালী হাকিমের সামনে নিজের কাজের (আমলের) পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিদিনের কর্মের আত্মপর্যালোচনার মাধ্যমে একটি পরিশুদ্ধ ও সুন্দর জীবন গঠন করার তাওফিক দিন, আমিন।
লেখক : সম্পাদক, মাসিক ছাত্র সংবাদ

SHARE