প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য শত সহস্র মিথ্যা সাক্ষ্য উপস্থাপন হামলা ও মামলার সংস্কৃতি চলছে

মো: ফজলুল হক

ছাত্র সংবাদ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ৪০তম বর্ষপূর্তিতে এসে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার অনুভূতি ব্যক্ত করুন।
ফজলুল হক : বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের ৪০তম বর্ষপূতিতে একজন আঞ্চলিক মুক্তিযোদ্ধা  কমান্ডার হিসেবে বলতে হয়,  যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি তা স্বাধীনতাত্তোর সরকার প্রধানদের কারো দুঃশাসন, কেউ স্বৈরশাসক, কারো প্রতিবেশী আগ্রাসী দেশের তোষণনীতির ফলে জাতির মূল সত্তা বিপন্ন। উজানের উৎস আন্তর্জাতিক নদীতে একতরফা অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঁধ নির্মাণে দেশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।   ব্রাহ্মণ্যবাদীর প্রভাব বিস্তারে নাস্তিকতার প্রবর্তন লক্ষণীয়। রাষ্ট্র পরিচালনার নামে শোষক শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে। জাতির জন্য কল্যাণকামী দেশপ্রেমিক  রাজনৈতিক নেতৃত্ব   প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশপ্রেমিক প্রশাসন স্বাধীন দেশের  জন্য অপরিহার্য। জাতির জনগণ তা নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছে।
ছাত্র সংবাদ : স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কী কী অর্জন হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
ফজলুল হক : বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন  ভূখণ্ড, বহুদলীয় রাজনৈতিক  দলের দেশ। জনশক্তি  রফতানিকারক একটি দেশ। শিল্পে কিছুটা উন্নত (পোশাক শিল্পে উন্নত) একটি দেশ। যোগাযোগ ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি অর্জন করেছে। কিন্তু দুর্নীতিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের  অনেক নেতাসহ একশ্রেণীর আমলা সৃষ্টি হয়েছে । ক্ষমতার চেয়ার পাকাপোক্ত করার প্রবণতা লক্ষণীয়, ক্ষমতায় একবার আরোহণ আর নামতে চায় না।
ছাত্র সংবাদ : স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের মৌলিক অধিকারসহ আমরা স্বাধীনতার সুফল কতটুকু পাচ্ছি?
ফজলুল হক : স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকার একেবারেই পাইনি একথা বলা চলে না তবুও স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকের ট্যাক্সের বেতনে লালিত পুলিশের বুট নাগরিকের বুকে চেপে ধরা হয়, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে পুলিশ রাস্তায় লাঠিপেটা করে ফেলে দেয়।  রাজনৈতিক নেতাদেরকে বন্দী করে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে স্বাধীন দেশের কোর্টে হাজির করা হয়। রিমান্ডের নামে মেরুদণ্ড ভেঙে চিরতরে পঙ্গু করা হয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সাবেক প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে তা গুঁড়িয়ে দেয়। জেল-জুলুম দিয়ে  হয়রানি করে। হামলা-মামলার তো অন্তই নেই। ক্ষমতাসীনদের একটু বিপক্ষে মতামত দিলে তো রক্ষাই  নেই। মৌলিক অধিকার আবাসিক বাড়ি বানালে পানি-গ্যাস-বিদ্যুৎ-টেলিফোন-আয়কর সনদ- সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং নম্বরসহ যে কোন সংযোগ পেতে বৈধ ব্যয়ের বহুগুণ ঘুষ না দিলে তা ভোগ করার স্বপ্ন সুদূর  পরাহত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনুমতি থাকলেও বিশেষ বিভাগের উত্তীর্ণদের ভর্তি করবে না। অধিকার আদায়ে কেউ পুলিশ প্রহরায় মিছিল করবে আর কেউ পুলিশের পিটুনিতে রাস্তায় তো দূরের কথা অফিস ঘরেও টেকা দায়। মিছিল হয় পল্টনে, একই সময়ে অন্যত্র এমনকি সুদূর লন্ডনে অবস্থান করেও মিছিলের আসামি হয়ে কাঠগড়ায় আর জেলের প্রকোষ্ঠে দিনাতিপাত করতে হয়। এই হচ্ছে স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা।
ছাত্র সংবাদ : স্বাধীনতার চেতনা ঐক্যের বিভক্তির নয়Ñ এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
ফজলুল হক :   স্বাধীনতার চেতনা ঐক্যের বিভক্তি হওয়ার কথা নয়। স্বাধীনতার চেতনা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়া, উন্নতির শিখরে আরোহণ করা, কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে সুখ শান্তিতে বসবাস করা। আমাদের স্বাধীন দেশে বিভাজনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু যার ফলে প্রায় অর্ধশত বছর পরও  স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ,  প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য শত সহ¯্র মিথ্যা সাক্ষ্য উপস্থাপন হামলা ও মামলার সংস্কৃতি চলছে।
ছাত্র সংবাদ : দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোন বিষয়গুলোকে আপনি প্রতিবন্ধক মনে করছেন?
ফজলুল হক  : দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেম না থাকা, রাজনৈতিক অঙ্গনে পরমত সহিষ্ণু না হওয়া, দেশ পরিচালকদের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সংশোধন পদ্ধতি চালু না রাখা, প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসী ভূমিকার জোরালো প্রতিবাদ যথাযথ অঙ্গনে তুলে ধরে তার প্রতিকার না করা, সীমান্তে বলিষ্ঠ সীমান্ত রক্ষী না থাকা।
ছাত্র সংবাদ : স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের রাজনীতিবিদদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
ফজলুল হক :  স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সৎ ও যোগ্যতাসম্পন্ন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন জাতির প্রত্যাশা।
ছাত্র সংবাদ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষণœ রাখা ও দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে তরুণ ছাত্র ও যুব সমাজের কাছ থেকে আপনি কেমন ভূমিকা প্রত্যাশা করেন ?
ফজলুল হক : বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অক্ষণœ রাখতে ও দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ছাত্র ও যুবসমাজকে সততা অর্জন করে যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিকের ভূমিকা জাতি প্রত্যাশা করে।
ছাত্র সংবাদ : একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের সমৃদ্ধি আনয়নে আপনার পরামর্শ কী?
ফজলুল হক :  একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্বশীল পরামর্শ হলো সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের হানাহানি, পক্ষ-বিপক্ষ, বিভক্তি-বিভাজন নয়, নিজেকে সৎ ও যোগ্যতা অর্জন, পরমত সহিষ্ণু, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির প্রতিটি নাগরিকের সুখ সমৃদ্ধির অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে হবে।

SHARE

Leave a Reply