প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রেরণা হোক অবৈধ সরকারের পতন

images2ফেব্রুয়ারি মাস, ভাষার মাস। এ মাসে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর অনেক প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাভাষা। সেইসব শহীদের রক্ত আজও বৃথা যায়নি। কেননা বাংলাভাষা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বীরদর্পে সমাদৃত হয়েছে। সমৃদ্ধ হয়েছে এ ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতি। কবি বলেছেন- মাতৃভাষা বাংলা ভাষা, খোদার সেরা দান।
এ মাসটি বহু দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ মাসেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সত্যের সন্ধানে নিরন্তর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি এবার ৩৮ বছর পেরিয়ে ৩৯ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও রাসূল (সা)-এর জীবনাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সংগঠনটি। তরুণ প্রাণের অদম্য স্পৃহা আর ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক ও নির্ভীক মানুষ গড়ার লক্ষ্যে সংগঠনটির কার্যক্রম আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। অন্ধকার-বিভীষিকাময় পথ অতিক্রম করে সুনাগরিক তৈরিতে সংগঠনটি যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। সত্য সন্ধানের নিরন্তর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত সংগঠনের লাখ লাখ কর্মী দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদেরকে ব্যাপৃত রেখেছে সারা দেশব্যাপী। কোনো ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নয়, নিছক পরকালে মুক্তি পাওয়ার আশায় এবং মানুষের কল্যাণে এই নিরন্তন ছুটে চলা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
ছাত্রশিবিরের এই পথচলা সবসময় সুখকর ছিল না; এই সত্যের কাফেলার পথপরিক্রমায় জীবন দিয়েছেন শত শত তরুণ, বিভিন্ন পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন লাখো কর্মী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সব সময়ই এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে শাসকগোষ্ঠী। ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায় ও নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের কথা বলতে গিয়ে সংগঠনটি বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের রোষানলে পড়েছে। শুধু তাই নয়, এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বিচারে হত্যা করছে ছাত্রশিবিরের নিরপরাধ নেতাকর্মীদের। এই সত্যের কাফেলাকে উৎখাত করতে এমন কোন কাজ নেই যা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার করেনি। এতো অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেও সত্য পথে ছুটে চলছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের লাখ লাখ কর্মী।
দেশ আজ গভীর সঙ্কটে পতিত। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বৈরাচারী, গণভিত্তিহীন, অনির্বাচিত সরকার। এই ফ্যাসিবাদী সরকারের সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তাই ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রেরণা হবে এই বাকশালী সরকারে পতন। এটি আজ গণমানুুষের দাবিতেও পরিণত হয়েছে। গণমানুষের জানমালের নিরাপত্তা আর তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংগ্রামী ভূমিকা বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসিত হয়েছে। মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য যেমন প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক ঠিক তেমনি মানুষের অধিকার আদায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাণ দিয়েছেন ছাত্রশিবিরের শত শত কর্মী। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রেরণা হবে আওয়ামী বাকশালী সরকারের পতন। এই দাবি শুধু ছাত্রশিবিরের নয়, আপামর জনসাধারণের। সবাইকে ভাষার মাসের শুভেচ্ছা, আল্লাহ হাফেজ।

SHARE

Leave a Reply