প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আত্মশুদ্ধির রমজান মাস

imagesমিয়ানমারের সামরিক জান্তার অত্যাচার-নির্যাতন থেকে আত্মরক্ষা করতে আরাকান থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানরা আশ্রয়ের সন্ধানে বাংলাদেশে আসে। নির্যাতিত এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনেকেই আরো উন্নত জীবনযাপনের আশায় পাড়ি জমায় সুদূরের সৌদি আরব আর অদূরের মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়। সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে শত শত গণকবর আবিষ্কার এবং সাগরপথে নৌকায় করে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক বনি আদমের মৃত্যু এবং খাদ্য-বস্ত্রহীন অবস্থায় সাগরে ভেসে বেড়ানোর ঘটনায় নতুন এক প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কেন বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য দেশে যাচ্ছে? যদিও কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, এরা রাষ্ট্রহারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া সরকার ও বিশ্বমিডিয়া বলছে, এদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের নাগরিক। অনেক গবেষকই বলছেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাব এবং বর্তমান সরকারের বিরোধীদল নির্মূল অভিযানের শিকার হয়ে অত্যাচার-নির্যাতন থেকে বাঁচতে এই অসহায় মানুষগুলো মাতৃভ‚মির মায়া ত্যাগ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে নৌকায় করে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই বিষয়ে আশু সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। নতুবা মানবিক বিপর্যয়ের এই ধারা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করাবে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে।
বাংলার ইতিহাসের ঐতিহাসিক আলোচিত অধ্যায় পলাশীযুদ্ধ। আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গ্লানিকর এবং কলঙ্কিত ঐতিহাসিক দিন ২৩ জুন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধ নামের মর্মস্পর্শী যে নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল তাতে সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় কেবল বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবেরই পতন হয়নি, অবসান হয় বাংলার স্বাধীনতার। তার পরাজয় ও নির্মম হত্যার পরিণতিতে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সূচিত হয়। এরপর ব্রিটিশরা এই উপমহাদেশে দুই শত বছর আধিপত্য বিস্তার করেছে। পলাশীর যুদ্ধ সম্পর্কে ঐতিহাসিক নিখিলনাথ রায় লেখেন, ‘বিশ্বাসঘাতকতার জন্য পলাশীতে যে ইংরেজরা জয় লাভ করিয়াছিল, এটা নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক মাত্রেরই এক মত।’ একজন ইংরেজ লেখকের উক্তি- ‘Truth will ascribe the achievement to treachery.’ পলাশী প্রান্তর বারবার এ জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় মর্যাদাহীন গ্লানির কথা, পরাজয়ের কথা, ষড়যন্ত্রের কথা। সেই গ্লানি আর পরাজয় থেকে ’৪৭ আর ’৭১-এ দুই দুইবার মুক্ত হলেও ষড়যন্ত্র থেকে জাতি কতটুকু মুক্ত সে প্রশ্ন আজও দেশপ্রেমিক মানুষকে ভাবায়।
অসীম রহমত আর নিয়ামতে পূর্ণ রমজান মাস। বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বাণী নিয়ে এলো রমজান। রমজান আত্মগঠন, প্রশিক্ষণ, তাকওয়া ও ধৈর্যের মাস। এ মাসে একদিকে মুমিন বান্দারা যেমন আত্মিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তোলার সুযোগ পায়, অপর দিকে পায় মহান আল্লাহর কাছ থেকে বেশুমার রহমতের মওকা। হক ও বাতিলের ফয়সালাকারী প্রথম যুদ্ধ বদর সংঘটিত হয় এ মাসে, মানবতার পথপ্রদর্শক আল কুরআনও নাজিল হয় এ মাসেই। এভাবে অশেষ ফজিলতের মাস রমজান। কিন্তু এ ফজিলত ও কল্যাণ থেকে ব্যক্তি হিসেবে আমরা কতটুকু অর্জন করতে পারি সেটাই হিসাবের বিষয়, ভাববার বিষয়। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকেই এই বরকত মাস-মাহে সিয়াম থেকে যাবতীয় কল্যাণ, বরকত, রহমত এবং মাগফিরাত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

SHARE

Leave a Reply