বন্যাকবলিত অঞ্চলের মানবেতর অবস্থা ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা -সাদিক বিন তানহার

জলবায়ু পরিবর্তন চিরন্তন সত্য। প্রতিনিয়ত এ পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন কখনো আশীর্বাদ হতে পারে আবার ভয়ঙ্কর অভিশাপও হতে পারে। সেটা যাই হোক তবে মানুষের পক্ষে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রকৃতির পরিবর্তন সাধিত হয় তার সাধারণ নিয়মে। কিন্তু সম্প্রতি মনুষ্যসৃষ্ট নানাবিধ কারণে প্রকৃতির অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকা একটি। এই মহাদেশ প্রায় (৯০ ভাগ) সম্পূর্ণটাই বরফে ঢাকা। কিন্তু সম্প্রতি ‘নাসা’ সেটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও তাদের গবেষণা থেকে তারা বলছে যে, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ স্তরে ফাটল ধরছে। মূল কারণ হিসেবে তারা জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তনকেই দায়ী করছে। এখন কথা হচ্ছে ‘নাসা’ প্রদত্ত পূর্বাভাস যদি সত্য হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী যে পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি হবে তা ঠেকাতে কতটা প্রস্তুতি আছে ? তবে সম্প্রতি ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’ থেকে আমেরিকা তাদের অনুদান প্রত্যাহার করে নেয়। এ থেকে এটা স্পষ্ট যে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে যে প্রস্তুতি থাকা দরকার তা আর ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’র নেই। তাই বিশ্ববাসী জলবায়ুর বিদ্রোহ থাবায় পতিত হতে পারে, যা থেকে উত্তরণ কঠিন হবে।
পৃথিবীর ৭১ (প্রায়) ভাগ হলো জল আর বাকি ২৯ ভাগ হলো স্থল। তার মানে জলস্থলের অনুপাত হলো ৩:১। বিশাল এই জলরাশির নি¤œভূমি ক্রমশ উপরে ভরাট হয়ে আসছে। সেটা শিলাস্তরে অস্বাভাবিক ভাঁজ বা মনুষ্যসৃষ্ট নানাবিধ কারণেও হচ্ছে। সম্প্রতি মহাসমুদ্র গবেষণা থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। জলভাগের এমন বিরূপ পরিবর্তন বিশ্ববাসীর জন্য এক ভয়ানক বিপদের পূর্বাভাস। আমাদের বাসভূমি বাংলাদেশও এই বিপদের আওতামুক্ত নয়। ক্লাইমেট চেঞ্জ বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারণে আমাদের দেশের সমুদ্রতল ক্রমান্বয়েই উঁচু হয়ে যাচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পুরো উপকূল অঞ্চল একসময় সমুদ্রতলে হারিয়ে যাবে বলে সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। উন্নয়নের নামে শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরিতে খামখেয়ালিপনার জন্য, অপরিকল্পিত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে আমাদের নিকটতম বায়ুমন্ডলে স্তর (ওজোন স্তর) চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে সূর্যে ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারছে না। যার ফলে বায়ুমন্ডলে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। ফলে স্বাভাবিক ঋতুবৈচিত্র্য আর থাকছে না। তাই অসময়ে সৃষ্টি হচ্ছে খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টির ফলে মানবজীবনের স্বাভাবিক গতি আর থাকছে না। জলবায়ুর এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের শিকার বাংলাদেশ। কর্কটক্রান্তি রেখার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই ছোট দেশটি নানাভাবেই দুর্যোগকবলিত দেশ। কিন্তু সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঠার মতো লেগেই আছে।
সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ চরমভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। তবে এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব অন্যান্য বছরগুলোর তুলনায় একটু নয় অনেকাংশেই বেশি। এ বছর যে তাপমাত্রা ছিলো তা গত ৩২ বছরের মধ্যে দেখা যায়নি বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। খরার প্রভাবে কৃষিতে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ক্ষতি। সে রেশ কাটতে না কাটতেই অসময়ে বন্যায় দেশের মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় ফসলি জমিতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। ৮ লক্ষ হেক্টর ধানি জমির সম্পূর্ণ ফসল তলিয়ে গেছে। মাছ চাষীদের ঘের থেকে মাছ বেরিয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্যার প্রভাবে গবাদিপশুর খাদ্যসংকটে খামারিরা গবাদিপশু নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন। গ্রামের ৯০ ভাগ মানুষ সম্পূর্ণভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অসময়ে এই বন্যায় ৯০ ভাগ মানুষই চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তারা এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গত ৩ মাস ধরে সরকারি, বেসরকারি, এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ত্রাণে হাওর এলাকার মানুষ তাদের জীবন নির্বাহ করছে। অসময়ে বন্যার এই রেশ কাটতে না কাটতেই সময়ের বন্যার করাল থাবায় পতিত হয়েছে মানবেতর জীবন-যাপনকারী এই মানুষগুলো।
সারা দেশেই বন্যার পরিস্থিতি নাজুক। তবে পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ বেশি। গত বছর দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার প্রভাবে যে ক্ষতি হয়েছিলো তা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এ বছর অস্বাভাবিক বন্যা পরিস্থিতি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। দেশের ১৩টি জেলার সাড়ে ৬ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া। (যুগান্তর ১৩ জুলাই ’১৭) তিনি আরো জানান, ১৩টি জেলায় গত ৩ জুলাই থেকে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৪ হাজার মেট্রিকটন চাল, ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৯ ধরনের শুকনো খাবার সমন্বয়ে সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সিলেটের মৌলভীবাজারে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলেও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করার কথা জানিয়েছেন তিনি। ৯৮ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট করে রাখা হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান। যেন বন্যাকবলিত অঞ্চলের মানুষ কষ্ট না করে। এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকাতে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ ঠেকাতে সরকারের প্রস্তুতির কথা তিনি জানিয়েছেন। হ্যাঁ, সত্যিই এমন প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সরকারের প্রশংসা করতে হয়। করিও বটে। তবে প্রশংসাটা অন্তর থেকে আসতো যদি কথা আর কাজের মিল থাকতো।
আমি আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলোকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ তারা দায়িত্ববোধ হোক আর নৈতিকতা বোধ থেকেই হোক বন্যাকবলিত এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি সুন্দর করে তুলে ধরেছে এবং নিয়মিত তা প্রকাশ করছে। তা না হলে কোন দিন হয়তো জানতেও পারতাম না যে, বানভাসি মানুষ খাদ্যাভাবে সামান্য ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। শত শত মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। আশ্রয়কেন্দ্রর অভাবে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করছে। কেউ বা আবার রাস্তার পাশে গাছতলাতে আছে। ত্রাণ দিক আর না দিক এ নিয়ে আর কথা বলবো না।
‘ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়’ কিন্তু আমরা যাই বার বার। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানছে, কিন্তু আমরা দুর্যোগ মোকাবেলা পূর্বাপর প্রস্তুতিতে বরাবরই অনীহা প্রকাশ করছি। তা না হলে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির মহোৎসব চলে? নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সংবলিত, টেকসই ও মজবুত বাঁধ নির্মাণে এতো পিছুটান কেন তা বুঝে আসে না। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলা, টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহীতে পদ্মার তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে প্রতি বছরই শত শত মানুষ ঘরবাড়ি হারা হয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ আর হয় না। হাওর এলাকাতে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি, অনেক জায়গায় বাঁধ নির্মাণই হয়নি আবার হলেও সেটা হয়নি প্রতিরোধ শক্তিসম্পন্ন। প্রতি বছর বন্যা হবে আর আমরা ক্যামেরা নিয়ে ফটোসেশন-সর্বস্ব ত্রাণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে যাবো? জাপানের মতো ভূমিকম্পকবলিত দেশ পৃথিবীতে আর নেই। ভূমিকম্প এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার কোনো পূর্বাভাস নেই। আর জাপান প্রায়শই এই দুর্যোগের শিকার। কিন্তু তারা কখনো সাহায্য বা ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে এমন খবর বিরল। তাহলে তাদের কেমন প্রস্তুতি আছে? কিভাবে তারা শত ভূমিকম্পের থাবার মুখেও টিকে আছে? আমাদেরকেও সেভাবে টিকে থাকার পদক্ষেপ নিতে হবে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের প্রদত্ত ত্রাণের হিসাবই দুর্যোগ মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়। পানির তোড়ে তাদের ঘরবাড়ি, ফসল, উপার্জনের মাধ্যম সব নষ্ট হবে আর আমরা নামমাত্র ত্রাণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করি।
বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোয় প্রায় প্রতি বছর বন্যার মহামারী দেখা যায়। আর বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হিসেবে বন্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই বলে সব ছেড়ে দিয়ে বসে থাকা যাবে না। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রতি বছরই বন্যা হয় এবং এ এলাকাগুলো নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। বন্যা হলে ত্রাণ নিয়ে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এটাই হলো প্রচলিত কথা। কিন্তু এ বছর সারা দেশেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। হাওর এলাকাতে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধসে, এখন আবার বন্যায় সারা দেশে বৃহত্তম একটা অংশ মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে সরকারি মজুদখাদ্য পরিমাণ অর্ধেকেরও কম আছে। প্রতিকূল পরিবেশ ও অসময়ে বন্যায় ধানের ফলনও হয়েছে তুলনামূলক অনেক কম। সব দিকে থেকেই চলছে খরা। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে মহামারী আকারের দুর্ভিক্ষ হয়তো বেশি দূর নয়। তখন বানভাসি মানুষের জন্য ত্রাণ আকাশ থেকে নাজিল হবে না। তাই বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় আগে থেকেই মজুদ খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা প্রয়োজন। আক্রান্ত হলে যেন উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে বা দক্ষিণ থেকে উত্তরে ত্রাণ নিয়ে দৌড়াতে না হয়। মজুদখাদ্যের দিক থেকে দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোকে আগে থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ করে রাখা জরুরি। অপর দিকে আশ্রয়কেন্দ্রের কথা বললে বলতে হয়, সরকারি, বেসরকারি ভাবে দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে পূর্ব থেকেই আশ্রয়কেন্দ্র ও চিকিৎসাব্যবস্থা করে রাখলে একদিক থেকে যেমন; পূর্ব থেকে প্রস্তুত থাকায় ক্ষয়ক্ষতি মহামারী রূপ ধারণ করবে না। অন্য দিকে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে রোগের যে প্রাদুর্ভাব তা থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু যে কথাগুলো বললাম তা আদৌ কি বাস্তবায়ন হবে?
আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় (মোফাজ্জাল হোসেন মায়া) ত্রাণের অভাব নেই বলে যে অভয়বাণী দিয়েছেন তার জন্য তাকে অনেক ধন্যবাদ। কথায় পেট ভরে না। সেটার জন্য খাদ্য প্রয়োজন। তিনিই হিসাব দিয়েছেন ১৩টি জেলার ৪৫টি উপজেলায় মোট সাড়ে ৬ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। তাহলে ৯৮ হাজার খাবার প্যাকেট করে তিনি যে সাহস করে এতো বড় অভয়বাণী দিয়েছেন তার জন্য তার সাহসের তারিফ করতে হয়। সেটা যাই হোক। কথায় না বড় হয়ে কাজেও তার প্রমাণ দিতে আমি আহ্বান রাখি। গত বছর বন্যার সময় বিভিন্ন সমাজসেবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ ও সাহায্য নিয়ে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। অনেক কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে। অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কাজ করেছে। অনেক এনজিও সংস্থা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। এবারো সে আশা-ই রাখি। আমরা এই অসহায় ভাসমান মানুষগুলোকে ছেড়ে দেবো না। আমাদের মনুষ্যত্ব ও মানবতাবোধ যেন হেরে না যায়।
শুধু খাদ্য আর বাসস্থানই শেষ কথা নয়। সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিনিয়ত দেখছি সে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যার জন্য বন্ধ হয়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার মতো ক্ষমতা হারিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ইতি টানতে বাধ্য না করে, সেদিকে সরকারি মহলসহ সবার দৃষ্টি কামনা করছি। গত ১৫ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে দেখলাম, কুড়িগ্রাম ও বগুড়ায় ২৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বন্যার কারণে। এমন করুণ পরিস্থিতি বন্যাকবলিত সব এলাকাতেই। বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগবালাই দ্রুত ছড়ায়। ৭ জুলাই দৈনিক যুগান্তরে দেখলাম, সিলেট ও মৌলভীবাজারসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে পানিবাহিত রোগ ক্রমেই বাড়ছে। তবে চিকিৎসাসেবা বাড়েনি, কিন্তু এটা কাম্য নয়। সারা দেশে রয়েছে ১১ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক সেন্টার। তাহলে চিকিৎসাসেবা নিয়ে এতো উদগ্রীব হওয়ার দরকার পড়ে না। তবে আমরা উদগ্রীব হতামও না যদি নামে ১১ হাজার ক্লিনিক না হয়ে কাজের হতো। বেশ কয়েকটা জাতীয় দৈনিকে দেখলাম যে হাওর এলাকাতে ত্রাণ বিতরণ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন? হাওরে যে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে তার রেশ না কাটতেই আবার বন্যার প্রভাবে অবস্থা চরমে পৌঁছেছে। শুধু হাওরেই নয়, গত ১৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে দেখলাম যে গত তিন দিনে (১০, ১১ ও ১২ জুলাই) ৩ জেলায় (সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও গাইবান্ধা) কেউই কোনো প্রকার ত্রাণ সাহায্য পায়নি। তাই এ সময় ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া মানে তাদেরকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ছেড়ে দেয়া। শুধু হাওর এলাকায় নয়, বন্যাকবলিত সব এলাকাতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ, খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীসহ যাবতীয় সাহায্য অব্যাহত রাখতে হবে।
লেখক : বিশিষ্ট কলামিস্ট

SHARE

Leave a Reply