বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপথ

রাফিউল ইসলাম|

অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করতে গেলে স্বভাবতই যে জিনিসটি আমাদের মাথায় রাখতে হয় তা হলো, আমরা কোত্থেকে শুরু করছি। এই প্রসঙ্গে গত অর্থবছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কী ছিল এবং তার আগের বছরের তুলনায় গত অর্থবছরের পরিস্থিতি কী ছিল সেটাও ভাবতে হবে। সেটা বিবেচনায় আনলে আমরা দেখতে পাবো, বেশ অনেকগুলো সূচকেই অর্থনীতির ধারায় একটা নিম্নগতি প্রতিয়মান হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রথমে বলা দরকার, যেকোনো অর্থনীতিরই মূল্যায়ন করতে গেলে আমাদের চিন্তা করতে হয় কোন্ লক্ষ্যে পৌঁছানো আমাদের অভীষ্ট। এবং এই লক্ষ্য নির্ধারণ সাধারণত করা হয় জাতীয় উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির মাপকাঠিতে। সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২০১১-১২ অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। আবার ২০১১-১২ অর্থবছরে ২০১০-১১ এর তুলনায় কম হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে এটা দাঁড়িয়েছে ৬.৩ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬ শতাংশ। এবং এর পেছনের কারণগুলো অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে বেশ কিছু সূচকে অর্থনীতির যে গতি সেটা নি¤œগামী।
যেকোনো অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মতো একটি দেশ, যেখানে এখনো সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগের হার অনেক কম। আমাদের পাশের দেশ ভারত, চীন বা ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশের সাথে যদি আমরা তুলনা করি তাহলে দেখব যে আমাদের দেশে বিনিয়োগের হার অত্যন্ত কম। এবং যে বিনিয়োগই হয় তার প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ আসে বেসরকারি খাত থেকে। গত দুই অর্থবছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে গেছে। জিডিপির শতকরা হার হিসেবে দেখলে এটা নেতিবাচক। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এটা দাঁড়িয়েছে ১৮.৯ শতাংশ, যেটা আগের বছরে ছিল ১৯ শতাংশের কিছু ওপরে। এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেসরকারি খাত থেকে যে এস্টিমেট করা হচ্ছে তাতে বলা হচ্ছে আরো কম হবে। কাজেই এটা একটা নি¤œগামিতার সূচক। এর সমর্থনে আরো যেটা লক্ষণীয় সেটা হচ্ছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহমাত্রা অনেক কমে গেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বেড়েছে মাত্র ৮.৪ শতাংশ। যেটা একসময় ২৩-২৪ শতাংশ ছিল। ক্রমেই কমতে কমতে গত অর্থবছরে এটা দাঁড়িয়েছে ৮.৪ শতাংশে। এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সম্ভবত আরো কম হবে।
আমাদের দেশে যে বিনিয়োগ হয় তার একটা বড় অংশ ব্যাংক লোন থেকে আসছে। কাজেই ব্যাংক থেকে যদি বেসরকারি খাত ঋণ না নেয় তাহলে বিনিয়োগ কমে যায়। এবং আমরা সেটাই দেখতে পাচ্ছি। আর এর সাপোর্টিং স্ট্যাটেস্টিক হিসেবে আমরা দেখতে পাচ্ছি বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে গেছে। প্রবাহের যে গতি সেটাও কমে গেছে। অন্য দিকে মূল্যস্ফীতির কথা যদি চিন্তা করি, সেখানে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যেমন, এটা একসময় ১০.৬ ছিল ২০১১-১২-তে; ২০১২-১৩-তে এটা ৭.৭-৭.৮ এ রকম একটা অবস্থায় আছে। এখানে সরকারের টার্গেট ছিল ৭ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশ। তারপর টাকার যে মান ডলারের হিসাবে, সেখানেও সম্প্রতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রথমত, এখন ৭৮-৭৯ টাকার মধ্যে ইন্টার ব্যাংক রেট চলছে। যেটা অনেক দিন ধরেই ৭৯ টাকা প্রতি ডলার ছিল। তার পরে একসময় এটা অবমূল্যায়িত হয়ে প্রায় ৮৪ টাকায় চলে গিয়েছিল। এখন আবার কিছুটা উন্নতি হয়ে ৭৮-৭৯ টাকায় বিনিময় হচ্ছে। কিন্তু এর সাথে সাথে আর একটা লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশে অনেক দিন ধরে যে ইন্টার ব্যাংক এক্সচেঞ্জ রেট এবং বাজারের যে এক্সচেঞ্জ রেট, মানে কার্ব মার্কেট বা যে মার্কেটই বলি, আনঅফিসিয়াল মার্কেট যেটা এটার মধ্যে পার্থক্যটা অপেক্ষাকৃত কম ছিল। এখানে হয়তো ১ টাকা ১.২৫ টাকা এ রকম ছিল। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, এটা বিশ্বব্যাংকের একটা প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, বিশ্বব্যাংকের যে বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট আপডেট যেটা সাম্প্রতিক কালে বের হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে যে, এই কার্ব মার্কেটের রেটটা বেড়ে গেছে। তার মানে হচ্ছে সম্ভবত কার্ব মার্কেটের মাধ্যেমে বেশ ফাইট অব ক্যাপিট্যাল হচ্ছে। অর্থাৎ লোকে এখন টাকার উপার্জন ডলারে কনভার্ট করে সেটা তারা বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। নইলে এই দুটো মার্কেটে ফোটিং এক্সচেঞ্জ রেট পার্থক্যটা এত বেশি হওয়ার কথা না। অনেক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছিল এটা ১-১.২৫ টাকার মধ্যেই স্থির ছিল। কাজেই এটাও কিন্তু সমর্থন করে যে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে দেশে। এর ফলে যাদের বিনিয়োগ করার মতো সামর্থ্য আছে, তারা দেশে বিনিয়োগ না করে টাকার উপার্জনটা ডলারে কনভার্ট করে বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। অন্য দিকে ক্যাপিটাল মার্কেটে ২০১০ থেকে যে অবনতি চলছে এটা অব্যাহত রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে এখানে দুটো জিনিস লক্ষণীয়। একটা হচ্ছে- শ্রেণীকৃত ঋণের হার মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। জুন ’১১-তে ছিল ৭.১ শতাংশ। জুন ’১২-তে ছিল ৭.২ শতাংশ। জুন ’১৩-তে এসে দাঁড়িয়েছে ১১.৮-১১.৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে এসে এটা আরো বেড়েছে। সেটাও অর্থনীতির একটা নেতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। কারণ, যখন এই শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ বাড়ছে তার পেছনে একটা কারণ অবশ্যই যারা আগে ঋণ নিয়েছে তারা ব্যবসায়-বাণিজ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব সুবিধা করছে পারছে না। সুতরাং তাদের মুনাফা হচ্ছে না এবং তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। অবশ্যই অন্য কারণও থাকতে পারে এর সাথে। কিন্তু এটা একটা বড় কারণ। এবং অন্য কারণ যেটা হতে পারে, যেহেতু দেশে একটা অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজমান, সুতরাং সেটার সুযোগ নিয়ে তারা কেউ কেউ হয়তো মুনাফা অর্জন সত্ত্বেও ব্যাংককে বলছেÑ আমরা ঠিকমতো ব্যবসায় করতে পারছি না। সুতরাং আমি ঋণ পরিশোধ করতে পারছি না। আমাদের দেশে এমনিতেই ঋণ পরিশোধ না করার একটা সংস্কৃতি আছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জেনুইনলি ব্যবসায়ীদের জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করছে, যার ফলে তারা ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না। এবং এর সাথে সাথে এই পরিস্থিতিটা ঋণ পরিশোধ না করার যে সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতিটাকে আরো জোরদার করছে। কাজেই সেটাও অর্থনীতির জন্য খুব একটা ভালো লক্ষণ নয়।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির যে সূচকগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে সূচকগুলো নি¤œমুখী। বহিঃখাতের আবস্থা মোটমুটি ভালো। গত অর্থবছরে এক্সপোর্ট গ্রোথ হয়েছিল প্রায় ১১ শতাংশের একটু ওপরে। সেটা খুব একটা খারাপ না। কিন্তু আমাদের যে টার্গেট ছিল এক্সপোর্ট গ্রোথের প্রায় ১৪ শতাংশের মতো তার চেয়ে কম। অন্য দিকে আমদানি কমে গেছে। কেননা আমাদের দেশের যে সার্বিক আর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড; বিনিয়োগ ও উৎপাদন এ দুটোই কিন্তু অনেকটা আমদানিনির্ভরশীল। আমাদের দেশের যে আমদানি হয় তার প্রায় ৮০ ভাগের ওপরে হচ্ছে মূলধনী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য। প্রায় সব ধরনের ক্যাটাগরিতেই আমদানি কমে গেছে। আমদানি হ্র্রাস পাওয়ার ফলে বিনিয়োগ কমছে, উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। যার ফলে জাতীয় উৎপাদনের বা জাতীয় আয়ের গ্রস সাফিস্টিক প্রোডাক্টের প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে। একমাত্র সুখের বিষয় বলতে মোটামুটি রেমিট্যান্সের অবস্থানটা এখনো ভালো আছে। তবে জুলাই থেকে আগস্ট প্রিয়ডে কিছুটা কমে গিয়েছিল। আবার জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে কিছুটা বেড়েছে। ঠিক এ সময়ে দু-একটি আনফেভারেবল ইনডিকেটর দেখা যাচ্ছে এখানে। একটা হলো সৌদি আরবে সাম্প্রতিক কালে যে ক্র্যাকডাউন চলছে, তার ফলে বাঙালিরা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটা এখনো অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। এটার একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মালয়শিয়ায় যে পরিমাণ লোক যাওয়ার কথা ছিল সেই সংখ্যক লোক এখনো যায়নি। তারা খুব সামান্য অংশই এখন পর্যন্ত গিয়েছে। কাজেই ভবিষ্যতে দেখতে হবে যে রেমিট্যান্সের অবস্থানটা কী থাকে।
তবে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তো আর একটা অর্থনীতি চলতে পারে না। এখন এই দুর্বল ভিত্তির সাথে সংযোজন হচ্ছে সাম্প্রতিক কালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা। এতে উৎপদন ব্যাহত হবে। পরিবহন ব্যাহত হবে। বন্দর সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না। সুতরাং আমাদের রফতানির ক্ষেত্রে এমনিতেই বিশ্ববাজারে যে ঘটনা, এতে আমাদের ভাবমূর্তি যথেষ্ট ক্ষুণœœ হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এক্সপোর্টের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু বর্তমান যে পরিস্থিতি এর ফলে ভাবমূর্তির সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। তার সাথে সাথে আমরা যদি সময়মতো ডেলিভারি দিতে না পারি, ঠিকমতো ট্রান্সপোর্টেশন করতে না পারার কারণে বা পোর্টে ঠিকমতো কাজ না করতে পারার কারণে ডেলিভারি সমস্যা হয় তাহলে রফতানির ওপর একটা বিরাট প্রভাব পড়বে। কাজেই বহির্খাতে যে মোটামুটি একটা স্ট্রং পয়েন্ট সেটাও হুমকির সম্মুখীন হবে।
সব মিলিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যে প্রবৃদ্ধি তা ২০১২-১৩ অর্থবছরের চেয়েও কম হবে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬ শতাংশ ছিল। এবার ৬ শতাংশের নিচে নিশ্চয়ই হবে। বিশ্বব্যাংক এক সময় বলেছিল ৫.৮ শতাংশ থেকে ৫.৭ শতাংশ। এবং বলেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে এটা এর চেয়েও কমে যেতে পারে। কাজেই, অদূর ভবিষ্যতে অর্থনীতির যে চিত্র সেটা খুব একটা উৎসাহব্যঞ্জক নয়। তবে এখন কেউ কেউ বলতে পারেন এবং মোটামুটি যৌক্তিকভাবেই বলতে পারেন ৫.৭ শতাংশ বা ৫.৬ শতাংশ যদি প্রবৃদ্ধি হয় সেটা পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় যথেষ্ট ভালো। এ ধরনের বক্তব্য এক দিক থেকে সঠিক। কিন্তু অন্য দিক থেকে যদি বিচার করি তাহলে প্রথমেই আমাদের যেটা দেখতে হবে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী এক পরিকল্পনা করেছি আমরা। এবং সেখানে আমাদের কিছু টার্গেট আছে গ্রোথের। তিন বছর ধরেই আমরা সেই টার্গেটের চেয়ে নিচে আছি। ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১০-১১ থেকে শুরু করে। ২০১৩-১৪তে আরো নিচে নেমে যাবে। কাজেই সেই টার্গেট আমাদের অর্জিত হচ্ছে না।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে যে, আমাদের যে সম্ভাবনা সেটা যা অর্জন করছি তার থেকে অনেক বেশি। এবং এই সম্ভাবনার কতগুলো উজ্জ্বল দিক আছে। প্রথমত, আমাদের দেশে একটা ইয়াং এন্টার প্রিমিয়ার প্লাস এখন ইমার্জ করছে। যারা বিনিয়োগের সুযোগ পেলে এবং যদি একটা উপযুক্ত পরিবেশ যদি সৃষ্টি করা যায় তাহলে তারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী এবং এর জন্য তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা আছে। দ্বিতীয়ত কৃষি খাতে চাষি ভাইদেরকে একটা ভালো টেকনোলজি দিলে তারা সাদরে গ্রহণ করে এবং তারা ব্যবহার করতে আগ্রহী। এটা কিন্তু এক সময় ছিল না। এখন যে ফসলের দাম ভালো পায় বা ফলের দাম ভালো পায় তারা সেটার দিকে আগ্রহী। এটা আরেকটা উজ্জ্বল দিক। তৃতীয়ত, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, আমাদের একটা লেভার ফোর্স অত্যন্ত ইয়াং, যেটাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হিসেবে অর্থনীতিবিদেরা আখ্যায়িত করে থাকেন। ইয়াং পপুলেশনের অনুপাত আমাদের দেশে অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এবং তাদেরকে অতি সহজেই উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যায়। কিছু শিক্ষার ব্যবস্থা, কিছু ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। চতুর্থত, আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি আমাদের অবস্থান। ভারত ও চীনের মতো দ্রুত উন্নয়নশীল বিরাট দেশগুলো আমাদের প্রতিবেশী। এই ভৌগোলিক অবস্থানকে আমরা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে সেটাও আমাদের উন্নয়নের ধারাকে আরো এক্সচেঞ্জ করবে। কাজেই এই সম্ভাবনাগুলোর সদ্ব্যবহার করতে পারলে আমাদের যে অর্জন তা বর্তমানের অর্জন থেকে অনেক বেশি হতে পারে।
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর সেই পরিবেশের মূল স্তম্ভ হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো দেশে দেশী বিনিয়োগ এবং বিদেশী বিনিয়োগ উভয় ধরনের বিনিয়োগেরই একটি মৌলিক পূর্বশর্ত। বর্তমান যে ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে  অদূরভবিষ্যতে রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে কি না সে বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যদি না আসে তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতির সাম্প্রতিক কালের যে নি¤œমুখী ধারা সে ধারা অব্যাহত থাকবে; যা আমাদের জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়।

SHARE

Leave a Reply