বাংলাদেশের চ্যানেলে হিন্দির প্রভাব শিশু-কিশোর মনের ভাবনা -সীমান্ত আকরাম

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আমরা যা কিছু করি তার সবই সংস্কৃতির অংশ। আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার, আচার-ব্যবহার এসব সবই সংস্কৃতি কর্মকাণ্ডের অংশবিশেষ। আমাদের দেশে মূলত ডিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে হিন্দি এবং ভারতীয় টিভি চ্যানেল বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে সহজলভ্য হওয়ায় আমাদের সংস্কৃতিতে হিন্দি সংস্কৃতির প্রভাব ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের মধ্যে হিন্দি টিভি চ্যানেলের প্রভাব পরিলক্ষিত হলেও মূলত শিশু ও নারীদের মধ্যে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি লক্ষণীয়।
টেলিভিশন সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু যেহেতু শিশু-কিশোররা হলো অনুসরণ ও অনুকরণ প্রিয় তাই তাদের মধ্যে জীবনযাত্রা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচার-ব্যবহারে ভারতের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। আজকের শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের নেতৃত্বের হাতিয়ার। কিন্তু যেসব শিশু-কিশোর হিন্দি চ্যানেল দেখে বড় হচ্ছে- তারা অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, সামাজিক-পারিবারিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বুঝতে ব্যর্থ বলে অনেকে মনে করেন। বাংলাদেশে গত ১০ বছরে শিশু ও নারীদের যেসব পোশাক বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়েছে- তার শতকরা ৯০ ভাগ ভারতীয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে।

বাংলাদেশে বিদেশী চ্যানেলের প্রভাব
২০০৮ সালে সম্পন্ন হওয়া বিশ্বব্যাংক পরিচালিত ‘বৈশ্বিক উন্নয়নধারা’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ০.২% ঘরে টিভিসেট ছিলো। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত মাত্র ১% ঘরে টিভিসেট ছিলো। ৮০ সালের পর টিভি সেটের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে, ডিশ চ্যানেলের বদৌলতে ৮০ দশকের শেষ দিকে ভারতীয় টিভি চ্যানেল উন্মুক্ত হতে থাকে। চক্রাকারে বাড়তে থাকে টিভিসেট। শুরুর দিকে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ছিলো ২-৩টি। ক্রমান্বয়ে ভারতীয় বিশেষ করে হিন্দি চ্যানেলের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বর্তমানে ডিশ চ্যানেলের বদৌলতে ভারতের প্রায় সব হিন্দি ও বাংলা চ্যানেল বাংলাদেশে দেখা যায়। ২০০৬ সালে প্রায় ৪৮% ঘরে টিভি সেট ছিলো বলে উল্লেখ করা হয়। মনে রাখা আবশ্যক, টিভি সেটের সংখ্যা ক্রমানুপাতিক হারে বেড়েছে ও বাড়ছে।
টিভি চ্যানেল মানুষকে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে তার একটি উদাহরণ হতে পারে ‘আরব জাগরণ’। মধ্যপ্রাচ্য প্রধানত পশ্চিম এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে ২০১০-২০১১ সালে মানুষের যে গণজাগরণ দেখা দিয়েছিলো, এতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের চেয়েও টিভি চ্যানেল বেশি ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে আল জাজিরার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সাংবাদিক জ্যোতি রহমান টেলিভিশন ক্ষমতা শীর্ষক এক প্রবন্ধে লেখেন, “আরব বিশ্বের গণজাগরণে ফেসবুক যে রকম ভূমিকা রেখেছিল, আল জাজিরাও সে রকম ভূমিকাই রেখেছিল।”
সাংস্কৃতিক ছাড়াও টেলিভিশন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া টেলিভিশন সববয়সী মানুষের, প্রধানত শিশু-কিশোরদের খাদ্য, পোশাক ও অন্যান্য নিত্য ব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী পছন্দ করার ওপর প্রভাব রাখে। এ ছাড়াও টেলিভিশন সহানুভূতি বা ক্রোধ, ভালোবাসা বা ঘৃণা, সমর্থন বা বিরোধিতা, সহমত বা দ্বিমতসহ সামগ্রিকভাবে আচরণ ও জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব রাখে।
বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে বর্তমান হিন্দি টিভি চ্যানেলের প্রভাব বিদ্যমান। একটি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যে কোনো টিভি চ্যানেলের চাইতে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা, সনি টিভি, জি সিনেমাসহ শিশুদের কাছে হিন্দি কার্টুন চ্যানেলগুলোর অনেক বেশি জনপ্রিয়।

প্রভাবসমূহ
এক. শিশু-কিশোরদের মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব হিন্দি টিভি সিরিয়াল বা রিয়েলিটি শো বা সিনেমা কিংবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে মেয়েদের যেসব পোশাকে দেখানো হয়, তা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অন্যভাবে বললে বলা যায়, বাঙালি সংস্কৃতির সাথে তুলনা করলে অধিকাংশই অশ্লীল পোশাক। মূলত নারীকে মানুষ হিসেবে উপস্থাপনের চাইতে অধিকাংশ টিভি সিরিয়াল বা রিয়েলিটি শো বা সিনেমায় নারীকে ভোগ্যপণ্য বা যৌন অনুষঙ্গ করে উপস্থাপন করা হয়। এর প্রভাবে শিশু-কিশোর এবং তরুণদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মানসিকভাবে তারা মনস্তাত্ত্বিক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝে ভোগে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শিশু-কিশোর বয়সের মেয়েরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং এর প্রবণতা ক্রমবর্ধমান।
টেলিভিশন দর্শকদের আচরণ পরিবর্তন করতে সক্ষম। হিন্দির প্রভাবে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাব আমাদের জনজীবনে লক্ষণীয়। বিশেষ করে আমাদের শিশু-কিশোরদের মনোজগতে এর প্রভাব বেশি। এর ফলে দেখা যায়, তাদের চিন্তভাবনার পরিবর্তন ঘটে। টেলিভিশনে শিশু-কিশোর ও নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন রকম নেতিবাচক ধ্যান-ধারণার প্রভাব দিন দিন এদের মাঝে বিস্তার লাভ করে। কারণ শিশু-কিশোররা বাস্তব জীবনে এসব অনুষ্ঠানের পার্থক্যের মাপকাটি নির্ণয় করতে পারে না। যে কারণে তারা খুব সহজেই নানামুখী অপরাধ কর্মকাণ্ড ও সহিংসতাসহ নেতিবাচক বিষয়গুলো শিখে নেয়।

দুই. ঘুম ও লেখাপড়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি : টিভি দেখার কারণে শিশুসহ সব বয়সীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। মধ্যরাতে এমন অনেক অনুষ্ঠান হয়, যা দেখে শেষ রাতে ঘুমাতে যান অনেকেই। দেখা যে বাসায় টিভি থাকে, তারা মধ্যরাতে দেরিতে ঘুমায় এবং সকালে ঘুমচোখে তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে দেখা যায়।
শিশু-কিশোর বয়সের অনেককেই দেখা যায়, টিভির প্রতি আসক্তি থাকার কারণে পূর্ণ মনোযোগ ছাড়াই দ্রুত পড়ালেখা শেষ করে টিভি দেখতে বসে যায়। যা তাদের শিক্ষাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, সামগ্রিকভাবে শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। টিভির এ নেশায় শিশুরা দীর্ঘদিন আসক্ত থাকায় পরবর্তী সময়ে ঘুম, লেখাপড়া ছাড়াও খেলাধুলা ও অন্যান্য সামাজিক কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

তিন. খাবার-দাবারে নেতিবাচক প্রভাব : খাবার-দাবারে বাঙালির একটা ঐতিহ্য ছিলো। বাঙালিরা বাসায় তৈরি খাবার গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। আমাদের খাদ্যাভ্যাসেও হিন্দি টিভি চ্যানেলের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। যদিও পাস্তা, পিৎজা, বার্গার ইত্যাদি ফাস্টফুড খাবার হিন্দি সংস্কৃতির অংশ নয়। তবে বহুজাতিক খাদ্য ব্যবসায়ীরা মূলত হিন্দি সিরিয়ালের মাধ্যমেই এসব খাবার আমাদের শহরে মধ্যবিত্ত সমাজে জনপ্রিয় করে তুলছে। যা আমাদের শিশু-কিশোরেরা পারিবারিক খাবারের চেয়েও এসব খাবার বেশি পছন্দ করে। এর ফলে নানান জটিলতাসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বেড়ে চলেছে।

চার. ফ্যাশন স্টাইলে নেতিবাচক প্রভাব : আমাদের দেশে ছেলে-মেয়েদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য স্যালুন-পার্লার রয়েছে। এখানে অধিকাংশ ভারতীয় নায়ক-নায়িকার চুলের ডিজাইন অনুসরণ করা হয়। স্যালুনে ছেলেদের চুলের স্টাইল করা হয়- শাহরুখ স্টাইল, ঋত্বিক স্টাইল, শহিদ কাপুর স্টাইল, জন আব্রাহাম স্টাইল, সালমান খান স্টাইল ইত্যাদি খুব জনপ্রিয়। মেয়েদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন হিন্দি সিরিয়াল দেখে চুলের ডিজাইন করে থাকে। হিন্দি টিভি সিরিয়াল বা চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকাদের পোশাক ডিজাইন নির্ভর করে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের পোশাক ক্রয়ে। শুধু পোশাক ক্রয়ে নয়, পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রেও হিন্দি চলচ্চিত্র ও সিরিয়ালের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
পাঁচ. ভাষার ওপর প্রভাব : উইলিয়াম ক্রাউকি ও ডেভিড বলেন, স্যাটেলাইট টেলিভিশন মূলত বিনোদন, সংবাদ ও ক্রীড়াজগৎ তুলে ধরতে এমন ভাষা ব্যবহার করে, যা হিন্দিও নয়, ইংলিশও নয়। হিন্দি ও ইংলিশের সংমিশ্রণে একটি হিংলিশ। এ নতুন বিকৃত ভাষা এ অঞ্চলের অনেক শিক্ষিত মানুষের মুখের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪ জুলাই ২০১২ সালে ‘প্রথম আলোর’ একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারা একটি তথ্যচিত্র দেখায়, যা নিম্নরূপ : কেবল টিভির দ্রুত প্রসারে শিশু বিনোদন নির্ভরতা তীব্র আঘাত হেনেছে আমাদের ভাষাগত মূল্যবোধে। শিশুদের ভাষার পরিবর্তন ঘটেছে। তারা মাতৃভাষা রপ্ত করার আগেই অনায়াসে শিখে ফেলছে হিন্দি ভাষা। তারা বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইছে না বা পারছে না। সমস্যার উৎস হিসেবে সবাই চিহ্নিত করেছেন ডিজনি নামে একটি চ্যানেলকে, যেখানে ডোরেমন নামে একটি জাপানি কার্টুন হিন্দি ভাষায় ডাবিং করে সারাদিন দেখানো হয়।
ভাষা ও সংস্কৃতি হলো জাতির দর্পণ ও গঠনকাঠামো। ভাষা জ্ঞান সংরক্ষণ করে। শিক্ষার মাধ্যম হওয়ায় ভাষার গুরুত্ব অমূল্য। বাংলা ও হিন্দি দুটো সম্পন্ন আলাদা ভাষা। দুটো ভাষাই ভিন্ন দুটি সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে বিরাজমান। খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও ভাষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘ভারতীয় টিভি চ্যানেলের বদৌলতে হিন্দি ভাষা আমাদের শোবার ঘরসহ বাড়িতে প্রবেশ করেছে। এতে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে, শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। হিন্দির চাইতে উর্দু অনেক সমৃদ্ধ ভাষা। তবু শুধু মাতৃভাষাকে রক্ষা করার জন্য আমরা উর্দুকে প্রতিহত করেছি। কিন্তু আমরা নতুন অতিথির জন্য (হিন্দি ভাষা) দরজা-জানালা সব খুলে দিয়েছি, যে অতিথি কোনোভাবেই আমাদের বন্ধু হতে পারে না।’
বর্তমান বিশ্বব্যাপী ২৬ থেকে ২৭ কোটি বাঙালি রয়েছে। এ ভাষায় কথা বলা জনসংখ্যার দিক থেকে ষষ্ঠ ভাষা। বাংলাভাষীদের মধ্যে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস বাংলাদেশে হলেও মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছি প্রতিনিয়ত।

ছয়. সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি : ভারতীয় হিন্দি টিভি চ্যানেলের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি এসব হিন্দি সিরিয়াল দেখার কারণে অনেকেই পরিবারের জন্য বা সামাজিক কাজে প্রয়োজনীয় সময় পান না। অধিকাংশ পরিবারেই ছেলে-মেয়েসহ একসঙ্গে একই রুমে বসে হিন্দি সিরিয়াল একসাথে উপভোগ করার কারণে তাদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়। এর ফলে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের যে দায়িত্ববোধ থাকে তা দিন দিন উঠে যাচ্ছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের মাঝে ফারাক তৈরি হচ্ছে।

আজকের শিশু-কিশোররা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই হবে আগামীর সমৃদ্ধ দেশ গড়ার কারিগর। তাই এখন থেকেই আমাদের সচেতন হওয়া অত্যাবশ্যক। আমাদের শিশু-কিশোরদের লালন-পালনসহ যাবতীয় কার্যক্রমে তাদেরকে মানবিক মূল্যবোধ সম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে না পারলে তারা ভিন্ন প্রভাবে প্রভাবিত হবে এবং মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়বে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে ব্যর্থ হলে তারা আমাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিতে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হবে। যার ফলে আমরা আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলবো এবং স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ একদিন ভিনদেশীয় চক্রান্তের গহ্বরে তলিয়ে যাবে।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply