বাংলাদেশের নভেম্বর বিপ্লব

সাদেক খান

বামতাত্ত্বিক মার্কিন বুদ্ধিজীবী লরেন্স লিপস্যুজ বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহি-জনতা অভ্যুত্থানকে একটা ‘অসমাপ্ত বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের পল্লীসমাজে ঘরে ঘরে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সহায়তাদানের যে সঙ্কল্প ও সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং সেনাচেতনায় জনমনের আশা-আকাক্সক্ষার সহমর্মিতা যে বৈপ্লবিক প্রেরণার জন্ম দিয়েছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ লিপস্যুজ প্রত্যক্ষ করেছিলেন ঐ অভ্যুত্থানে। তাঁর বামতাত্ত্বিক ভাবধারা অনুযায়ী লিপস্যুজ অবশ্য ঐ সিপাহি-জনতা অভ্যুত্থানের অন্তরালে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা কর্নেল তাহেরের ভূমিকাকেই বড় করে দেখেছেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহেরের নেপথ্য প্রভাবে অভ্যুত্থানরত সেনাদল তাদের প্রিয় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতাদখলকারী একটা সেনাগোষ্ঠীর হাতে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেই ক্ষান্ত হবে না। জাগ্রত সেনাশক্তিকে অনিয়মিতভাবে কাজে লাগিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহের তাঁর ধ্যানধারণা অনুযায়ী এদেশে একটা শাসনতান্ত্রিক রূপান্তরও ঘটাতে সক্ষম হবেন। সেটা ঘটেনি।
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহের ও তাঁর সঙ্গী জাসদ তথা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের তরুণ নেতৃবৃন্দ গোপনে একটা ছক তৈরি করেছিলেন যে তারা ৭ নভেম্বর স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাগ্রত জিয়াভক্ত সিপাহিদের উত্তেজনাকে চলতি শাসনব্যবস্থার নিয়মানুবর্তী অন্য সেনাকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও চালিত করবে। জিয়ার ভাবমূর্তিকে শিখণ্ডি হিসেবে ব্যবহার করে সিপাহিদের হাতে সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের রক্তাক্ত নিধনযজ্ঞের দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভক্তি তথা ভয়মিশ্রিত আনুগত্য অর্জন করবে। সেনাবাহিনীকে কার্যত তাদের আজ্ঞাধীন ‘গণবাহিনী’-তে রূপান্তরিত করবে। জিয়াকে তাদের কথাই শুনে চলতে হবে। আর সেই ‘গণবাহিনী ও দলীয় সংঘশক্তির সমন্বিত প্রয়োগে তারা নবগঠিত জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের শাসন কাঠামোতে ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারের অবসান ঘটাতে পারবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রবিপ্লবের একটা শর্টকাট বা লাফ দিয়ে রাষ্ট্রের মাথায় চড়ার একটা উপায় ঠাউরেছিল তারা। লক্ষ্যÑ রাষ্ট্রসম্পদের ব্যবহারে সমাজতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থানির্ভর একটা গোষ্ঠীতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
চলমান বিশ্বব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং তৎকালীন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতার নিরিখে কর্নেল তাহের ও জাসদের সেই পরিকল্পনা ছিল চরম হঠকারিতা। মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজবিবর্তন ও বিধ্বস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের ক্লেশ ইতোমধ্যেই দুঃসহ হয়ে পড়েছিল দেশবাসীর জন্য। তাদের প্রয়োজন ছিল স্থিতাবস্থার। নতুন করে অস্থিতিশীলতা বা আর্থসামাজিক অস্ত্রোপচারের জন্য তারা তৈরি ছিল না। একটা গঠনমূলক সঞ্জীবনী নেতৃত্বের তাগিদ গড়ে উঠেছিল দেশবাসীর মনে। বন্দিদশা মুক্ত হয়ে জিয়া সেই নেতৃত্বের অভাব পূরণ করেছিলেন। সেনাদলকে নিজ নিজ অধিনায়ক বা কমান্ড কর্মকর্তার অবাধ্য হতে দেননি। সেনাদলও জিয়ার নেতৃত্বেই আস্থা স্থাপন করেছিল। তাহের ও জাসদের ডাকে অযথা রক্তপাত ঘটিয়ে অস্ত্রশক্তির বাহাদুরি ও ত্রাসের মাতব্বরি কায়েম করতে তারা প্রলুব্ধ হয়নি। সেনাপ্রধানের আদেশ আর জনসাধারণের ভালবাসাকেই শিরোধার্য করেছিল।
অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে ৭ নভেম্বরের ঘটনার একটা সহজ বিবৃতি এসেছে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মরহুম এম এম রেজাউল করিমের একটা রচনায়। তিনি লিখেছেন : “দেশে ও বিদেশে, আমাদের কূটনৈতিক দূতাবাসগুলোতে, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছরই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়ে এসেছে সভা, সমিতি, আলোচনার মধ্য দিয়ে। স্বৈরতান্ত্রিক একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করার প্রচেষ্টাকে খর্ব করতে এবং জাতির সার্বভৌম সত্তাকে নতজানু (ভারতমুখাপেক্ষী) করার আশঙ্কা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সৈনিক ও জনগণের অভূতপূর্ব যুক্ত প্রচেষ্টার জয়লাভ ঘটে ঐ দিনে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে। ঐ দিন সৈনিক ও জনতার একাত্মতার এক বিরল প্রতিফলনও ঘটে। পূর্ববর্তী কিছু ঘটনা পর্যালোচনা করলে মনে হয় ঐ দিনটির প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা সহজ হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের খণ্ডসেনাবিদ্রোহ ও সপরিবারে রাষ্ট্রপতির হত্যাকাণ্ডের পর বঙ্গবন্ধুর ঘাতক ও বিদ্রোহের নায়ক মেজররা বঙ্গভবনে তাদের সাজোয়া বাহিনীর বহর নিয়ে নিজেদেরকে এক সুরক্ষিত দুর্গের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে। তারা বঙ্গবন্ধুর অন্তরঙ্গ বন্ধু, সহকর্মী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমেদকে রাষ্ট্রপতি বানায় এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা নিযুক্ত করে। নতুন মন্ত্রিসভায় বাকশাল মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্যদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে। নয়া রাষ্ট্রপ্রধান খন্দকার মোশতাক জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান হিসেবে পদোন্নতি দেন কিন্তু মেজররা নয়া রাষ্ট্রপ্রধানের পেছনে থেকে নিজেরা কোনো পদ না নিয়েও দেশ শাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি মোশতাককে মাথায় রেখে বস্তুতপক্ষে নিজেদের ওপর অর্পণ করে।
মেজরদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিল যে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একদলীয় স্বৈরাচারী বাকশাল শাসনব্যবস্থা উৎখাত করার লক্ষ্যেই তারা তাদের এই কর্মকাণ্ডকে বেছে নেয়। তাদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্পূর্ণভাবে অপসারিত না করতে পারলে তাদের মূল উদ্দেশ্য, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সফল হবে না। যেহেতু সেনাপ্রধান, উপ-সেনাপ্রধান এবং তার পরবর্তী কোন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার তরফে তারা কোন সাড়া পায়নি, তাই তারা নিজেরাই সামরিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে এই কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নেয়। তবে বঙ্গবন্ধু পরিবারের মহিলা ও শিশু হত্যার ঘটনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনা প্রতিক্রিয়া আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়ে ঘটেছিল বলে তারা দাবি করে। এ সময়ে কিছুসংখ্যক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বঙ্গভবনের মেজরদের হাবভাব ও কার্যকলাপ দেখে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাদের আপত্তি, এই সকল অধস্তন কর্মকর্তাদের আদেশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সর্বদা পালন করতে হয় যা সামরিক বাহিনীর নিয়মবিরুদ্ধ। তারা মনে করেন, মেজরদের স্ববর্ণিত উদ্দেশ্য সাধন হয়ে যাওয়ার পর তাদের নিজ নিজ পদানুযায়ী স্থানে ক্যান্টনমেন্টের ব্যারাকে ফিরে আসা উচিত। কিছুসংখ্যক অতিষ্ঠ সেনাকর্মকর্তা মনে করেন, তারা সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে খোলাখুলিভাবে না হলেও প্রকারান্তরে তাদের এই মনোভাব ব্যক্ত করেন। কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি। আর সেনাকর্মকর্তাদের একাংশের মনে এই বিশ্বাসও জন্মেছিল যে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাকল্পে যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারচেয়ে অনেক বেশি ও অনেক নির্মমভাবে সংঘটিত হয়েছিল ১৫ আগস্টের ঘটনাবলি।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের শেষ রাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের এমন কতিপয় কর্মকর্তা চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে বঙ্গভবনের মেজরদেরকে শায়েস্তা করে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় নিজেরাই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়। বিমান বাহিনীর কিছুসংখ্যক পাইলট জেট বিমান ও হেলিকপ্টার নিয়ে বঙ্গভবনের ওপর দিয়ে উড়ে যায়-শক্তি পরীক্ষায় তাদের শ্রেষ্ঠতার হুঁশিয়ারি দিয়ে যায়। ইতোমধ্যে খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াকে গৃহবন্দী করে ক্যান্টনমেন্টেই রাখার ব্যবস্থা করে। মেজরদের কাছে প্রতিনিধিদল পাঠানো হয় আত্মসমর্পণের জন্য। অনেক দরদস্তুর করার পর সাব্যস্ত হয় যে, মেজরদেরকে সপরিবারে দেশত্যাগ করার অনুমতি দেয়া হবে। খালেদ মোশাররফ পদোন্নতি পেয়ে সেনাপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত হলেন। তিনি চেয়েছিলেন যে, খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকেন এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও শাসনব্যবস্থাও পূর্বের মতোই চলুক প্রথম পর্যায়ে। কিন্তু পরবর্তী কয়েকদিনের ঘটনায় এসব পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যায়। খালেদ মোশাররফ দু’দিন পরই বিপদ আশঙ্কায় পালাতে যাওয়ার পথে ঢাকায় আগমনরত সেনাদলের হাতে বন্দী এবং তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডিত ও নিহত হন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই কালুরঘাট রেডিও থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দান ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় নেতৃত্বের জন্য জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাসদস্যদের প্রিয় ব্যক্তি। জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান পদ থেকে সরিয়ে তাকে গৃহবন্দী করার পর সৈন্যশিবিরে যে পুঞ্জীভূত অসন্তোষ জমে উঠেছিল, তার মধ্যেই অনেকাংশে নিহিত ছিল ৭ নভেম্বরের ঘটনার বীজ। এটা শুধুমাত্র সশস্ত্রবাহিনীর চেইন অব কমান্ড বা আদেশ অমান্যকারী শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রশ্নই ছিল না। সৈন্যদের অনেক অসন্তোষ একটু একটু করে জমে উঠেছিল অনেক আগে থেকেই। বঙ্গবন্ধুর সময় রক্ষীবাহিনী সৃষ্টি হয় এবং এর পেছনে অনেক অর্থ ব্যয় হয়। আর অন্য দিকে, বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র, সাজসরঞ্জাম ও সুযোগ-সুবিধার দাবি দাওয়া মেটানো হয়নি। অনেকে বলে, তাই ১৫ আগস্টের পর সেনাবাহিনীর ন্যায্য দাবি-দাওয়া ক্রমান্বয়ে মেটানো সম্ভব হয় এবং তারা তাদের মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। আর ৩ নভেম্বরের ঘটনার পর অনেক সামরিক কর্মকর্তা মনে করেছিলেন যে, তারা তাদের নবলব্ধ ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা হারাতে বসেছেন। এ ছাড়াও সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের অনেকেরই সন্দেহ জাগে যে, খালেদ মোশাররফের রাষ্ট্র পরিচালনায় বিদেশী কোন শক্তির (তথা ভারতের) প্রভাব বিস্তার ঘটতো।
৭ নভেম্বরের মধ্যরাতের পর পরই সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিজেরা জমায়েত হয়ে জেনারেল জিয়াকে তার বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে তাকে সেনাপ্রধান হিসেবে পুনর্বহাল করে রাস্তায় নেমে আসে। সৈন্যরা যখন ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আসে তখন জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিজয় উল্লাস করে। এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা লাভের পথ প্রশস্ত হয়।”
ক্ষমতার পটপরিবর্তন ছিল ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক ঘটনার আনুষঙ্গিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। সিপাহি-জনতা অভ্যুত্থানের মর্মার্থের বহিরাবরণ। ঐ অভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কেও কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন মরহুম রেজাউল করিম। জাতিরাষ্ট্রের কর্তৃত্বের ওপর বৈদেশিক প্রভুত্বের ছায়া সম্পর্কে জনমনের আশঙ্কার কথা সামান্য উল্লেখ করেছেন।
৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা অভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য শাসক সমাজের ওপর বৈদেশিক মুরুব্বিয়ানার বাধ্যতা প্রত্যাখ্যান করে গণচেতনায় জাতিরাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার। দেশবাসীর মনে সার্বভৌমত্বের গর্ববোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা। পঁচিশ বছর মেয়াদি শান্তি ও মৈত্রী চুক্তির অসম সম্পর্কের মায়াজাল এদেশের অভিজন সমাজে যে ভারতমুখাপেক্ষিতা ও হীনম্মন্যতার প্রসার ঘটিয়ে চলেছিল, তার বজ্রআঁটুনি ছিন্ন করেছিল দৃপ্ত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ও আত্মস্থশক্তির বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়েছিল দিল্লির প্রাসাদকামী পরগাছার জঞ্জাল।
এভাবে জাতিরাষ্ট্রের আত্মমর্যাদাবোধ ঐ দিন থেকে যে স্বকীয়তা, স্বনির্ভরতা ও আত্মোন্নতির উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল, আজও তা জাতিকে প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। যদিও ভূরাজনৈতিক চক্রান্তে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দিল্লির পদলেহি একটা পরিবারতন্ত্রের সংঘশক্তির করায়ত্ত, জাতিরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও সংবিধানকে সাবোটাজ করে ঐ সংঘশক্তির পঞ্চম বাহিনী এদেশকে বিশ্বের চোখে স্বশাসনের অযোগ্য প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে, প্রকারান্তরে বাংলাদেশের ভারতভুক্তির একটা নীলনকশা অনুসরণ করে চলেছে, নভেম্বর বিপ্লবে জাগ্রত দেশবাসী পদে পদে নতজানু ভারতমুখাপেক্ষী সরকারি উদ্যোগগুলোকে জনমতের প্রাচীর দিয়ে অবরুদ্ধ করেছে। জনস্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রের বিকলাঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর খর্বশক্তি দিয়েও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। চলমান বিশ্বব্যবস্থার সংঘাতসঙ্কুল আবর্তে, আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের হুমকিতে কিংবা বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার গোলকধাঁধায় পথ হারায়নি। রাষ্ট্রঘাতী চক্রান্তের মোকাবেলায় রাজপথে নেমে এসেছে, প্রতিবাদে প্রতিরোধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রঘাতী চক্রের কবল থেকে অচিরে আবার রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নেবে জাগ্রত জনতা, এ কথা সুনিশ্চিত।

SHARE

Leave a Reply