বাংলাদেশের রাজনীতি স্বাধীনতা ও মতলবি আকাক্সক্ষা

আবুল ফারাহ মাসুম

csবাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক যুগসন্ধিক্ষণে। এ দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সব কিছুর ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়াস অনেক দূর এগিয়ে নেয়া হয়েছে সুকৌশলে। সার্বভৌমত্ব বিসর্জনের জন্যই এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনার নামে। এ জন্য প্রথমে করা হয়েছে জাতিকে বিভক্ত। জনগণের একটি অংশকে আরেকটি অংশের বিরুদ্ধে এমনভাবে উসকে দেয়া হয়েছে যাতে তাদের মধ্যে চার দশকের বেশি সময় ধরে যে সহাবস্থান ও সহনশীলতা ছিল সেটি বিদায় নেয়। হানাহানি, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা জায়গা করে নেয় সর্বত্র।

ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করা
বাংলাদেশ যে ভূখন্ড নিয়ে গঠিত এর ইতিহাস হাজার বছর আগের। এখানে পাল ও সেন বংশের শাসকদের দীর্ঘ রাজত্বের পর বখতিয়ার খিলজির নেতৃত্বে আসে মুসলিম শাসন। শত শত বছর ধরে চলে সে শাসন। এর পর ১৭৫৭ সালে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে শুরু হয় ঔপনিবেশিক আমল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে এ ভূখন্ড স্বাধীনতা লাভ করে। ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে সৃষ্টি হয় পাকিস্তান ও ভারত। ১৯৭১ সালে সাম্য, ন্যায়বিচার ও শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এক মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশভুক্ত অখন্ড ভারতের সময় বাংলা ভাষাভাষীদের এই অঞ্চল ছিল একটি পৃথক প্রদেশ। এই প্রদেশের মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে ছিল মুসলিম ও হিন্দু এই দুই ভাগে প্রধানত বিভক্ত। অভিন্ন বাংলার রাজধানী এক সময় গৌড় বা ঢাকা থাকলেও ঔপনিবেশিক আমলে সেটি চলে যায় কলকাতায়। ১৯০৫ সালে বাংলাকে পূর্ব ও পশ্চিম এ দুই ভাগে ভাগ করা হলে কলকাতার বর্ণ হিন্দুরা সেটি মেনে না নিয়ে বাংলাকে অখন্ড রাখার জন্য দাবি জানায়। তাদের দাবির মুখে ১৯১১ সালে বঙ্গবঙ্গ রদ করে আবার দুই বাংলাকে অভিন্ন করে বাংলার রাজধানী কলকাতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় বাংলা-আসামকে নিয়ে পৃথক স্বাধীন দেশ করা অথবা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে অখণ্ড বাংলা পাকিস্তানের অংশ হওয়ার প্রশ্ন এলে এক সময় যারা বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তারাই বাংলাকে হিন্দু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভাগ করার চেষ্টা চালিয়ে সফল হন। হিন্দু-মুসলিম এক জাতি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে যারা অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তারাই কার্যত দ্বিজাতি তত্ত্ব সমর্থন করে বাংলাকে ভাগ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
১৯৭১ সালে যে ভূখন্ড নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ হয় সে ভূখন্ডের নিকট ভবিষ্যতের এই ইতিহাসকেও ভুলিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে দু’টি কারণে। প্রথমত, বাংলাদেশের মানুষের ভাষাভিত্তিক বাঙালি যদি একমাত্র পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের একক বিষয় হয় তাহলে এ দেশটি স্বাধীন দেশ হিসাবে টিকে থাকার মূল যুক্তি হারিয়ে ফেলবে। দ্বিতীয়ত,  ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পথ ধরে সাবেক পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ১৯৭১ সালে। ’৪৭ সালের বিভক্তিকে ভুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলে ’৭১ সালের বিভক্তি-উত্তর স্বাধীন অস্তিত্ব তার যুক্তি হারায়। স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশের টিকে থাকার এই যুক্তি না থাকলে এর পর যে প্রশ্ন এসে যাবে সেটি হলো কেন আমরা আলাদা হয়ে থাকবো? প্রতিবেশী ভারতের সাথে মিশে যাওয়াই তো হবে আমাদের জন্য উত্তম। গত কয়েক বছর ধরে সুকৌশলে একটি গোষ্ঠী সেদিকে জাতিকে নিয়ে যেতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকালে তার সফরসঙ্গী সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক দেব দুই বাংলার সীমানা মুছে দিয়ে এক হবার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে দুই বাংলা এক হয়ে কি একটি অভিন্ন স্বাধীন বাংলা হবে, নাকি বাংলাদেশকে তার স্বাধীন অস্তিত্ব মুছে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাথে মিলে ভারতের অখন্ড রাজ্যে পরিণত হতে হবে। দেব বা তার সহযোগী মমতার আরেক সফরসঙ্গী  প্রথমটি চাইছেন নাকি শেষটি কামনা করছেন সেটি স্পষ্ট করেননি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে মিশে অভিন্ন স্বাধীন দেশ গড়ার কোনো বক্তব্য এ যাবৎ শোনা যায়নি। সেখানকার যেসব কবি-সাহিত্যিক দু’বাংলার সীমানা তুলে দিতে বক্তব্য রেখেছেন তাদের ইঙ্গিত অখন্ড ভারতের অংশ অভিন্ন বাংলা হবার প্রতি। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূল দু’টি যুক্তিকে মুছে দিয়ে এখানে যে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে তাকে দুই বাংলার সীমানা মুছে দেয়ার দাবির সাথে মিলিয়ে দেখলে কি দাঁড়ায় সেটি ভাবার বিষয়। এর অর্থ দাঁড়ায় স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়ে পশ্চিমবাংলার সাথে মিলে ভারতের অংশ হয়ে যাওয়া। সেটি কোনভাবে এ দেশের মানুষ মেনে নিতে পারে না। আর এ ভূখন্ডের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়ও কোনভাবে মুছে দেয়া যেতে পারে না।

‘আমরা না হয় তারা’
এখনকার বিশ্বে যে নানা ধরনের জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা রয়েছে তার মূল কথা হলো ‘হয় আমরা থাকবো, না হয় তারা’। জার্মানির হিটলার ও ইতালির মুসোলিনির আদর্শও ছিল এটি। নাৎসিবাদী ও ফ্যাসিবাদীরা বলতেন তাদেরই কর্তৃত্ব থাকবে দেশে। এর প্রতিপক্ষ কোন শক্তি সেখানে থাকবে না। দেশে যারাই থাকতে চায় তাদের মেনে নিতে হবে শাসকদের শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব। এর সামনে কোন চ্যালেঞ্জ করা মানে হলো তাদের বেঁচে থাকার অধিকার হারানো।
যুগে যুগে এ ধরনের ধারণা বিশ্বসভ্যতার জন্য বিপজ্জনক বিবেচিত হয়েছে। বর্তমান সরকার হিটলার-মুসোলিনির এ ধারণাকে বাস্তবে রূপ নিতে স্বাধীনতার পক্ষ বা বিপক্ষ শক্তির ধারণা নিয়ে এসেছেন। শাসকদের ধারণাটি এমনÑ কেউ স্বাধীনতার যুদ্ধ করলে বা দেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাখার জন্য রক্ত দিলেও তিনি স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি হবেন না। স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি হতে হলে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র দলগুলোর সদস্য হতে হবে। এই অক্ষের বাইরে যারা থাকবেন তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না। তারা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার পাবে না। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনী পাসের মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে সরকারি দলের বাইরের বাকি সব মত-পথকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ জোট সরকার আইন না করে কেবল প্রশাসনিক শক্তির প্রয়োগ করে বিরোধী রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করতে চাইছে।
প্রশ্ন হতে পারে আওয়ামী লীগ কেন এটি চাইছে? এর উত্তর হতে পারে কয়েকটি। প্রথমত, আওয়ামী লীগের আকাক্সক্ষা তাদের রাজনীতির বাইরে আর কোন রাজনীতি বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। এ জন্য স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের আদর্শÑ সাম্য, ন্যায়বিচার ও শোষণমুক্তির ব্যবস্থাসংবলিত গণতান্ত্রিক শাসন কায়েমের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে সরে এসে ভারতের চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতিকে বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি করা হয়। আর এটাকে স্বাধীনতার চেতনা ও আদর্শ হিসেবে প্রচার করছে দলটি। প্রকৃতপক্ষে ১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে সংবিধানের খসড়া প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তাতে এ সব আদর্শের কোন উল্লেখ ছিল না। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে সেকুলারিজম ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে এমন কোন কথা বলা হয়নি। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ যেসব আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করছে জনগণের মধ্যে তার কোন আবেদন সেভাবে নেই বলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে আদর্শ দিয়ে মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ও পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভয়ভীতির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রাজনীতি নির্মূল করতে চাইছে। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ দ্বিজাতিতত্ত্ব তথা বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের মূল যুক্তি মুসলিম স্বাতন্ত্র্যে বিশ্বাস করে না। তাদের নেতারা প্রকাশ্যে বলেন দ্বিজাতিতত্ত্ব ভুল ছিল। এর অর্থ হলো উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই এক জাতি। আর এটিই হলো অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার মূল যুক্তি। এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত হলে এক সময় ভারতের সাথে বাংলাদেশের একীভূত হয়ে পড়ার পথে আর কোন আদর্শিক বাধা থাকবে না। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের মতো অধিক জনসংখ্যার স্বল্প সম্পদের দেশে বিপুল সেনা সংবলিত প্রতিরক্ষা বাহিনী লালন সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ কারণে এ ধরনের অনেক দেশে বেসামরিক নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আনসার ভিডিপির মতো স্বল্প খরচের বিপুল সদস্য সংবলিত সহায়ক মিলিশিয়া ধরনের বাহিনী গড়ে তুলে স্বাধীনতা রক্ষায় এক ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করছিলেন। এর বাইরে তিনি জনগণের মধ্যে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার চেতনা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এখনকার ক্ষমতাসীনরা আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীগুলোতে ব্যাপকভাবে দলীয় ক্যাডার অনুপ্রবেশের পাশাপাশি যারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার মূল চেতনায় বিশ্বাস করে তাদের নির্মূলে মেতে উঠেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দেশ ভৌগোলিকভাবে আক্রান্ত হলে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।

দেশ রক্ষার মূল রাজনীতি
বাংলাদেশেকে স্বাধীন সার্বভৌম ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো শক্তিমান একটি দেশে পরিণত করতে হলে এমন রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে যার মূলনীতি হবে প্রথমত, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি জামায়াত, জাতীয় পার্টি যে যেই দলকে সমর্থন করুক না কেন তাদের মধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের তিনটি মৌলিক বিষয় সাম্য, ন্যায়বিচার ও শোষণমুক্ত ব্যবস্থা সংবলিত গণতান্ত্রিক শাসনের ব্যাপারে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। স্বাধীনতার এই ঘোষণার ব্যাপারে সবারই একমত হতে কোন বাধা থাকার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে কোন বিতর্কও কোন দলের মধ্যে নেই। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলনে যে নেতার যতটুকু অবদান তার স্বীকৃতি দিতে হবে এক্ষেত্রে। দ্বিতীয়ত, সহাবস্থান নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের যে কোন ব্যক্তি যে কোন দলের সমর্থক কর্মী বা নেতা হতে পারেন কিন্তু তাদের অন্য মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। একই পরিবার সমাজ রাষ্ট্র অফিস আদালতে যারা কাজ করবে তাদের মধ্যকার বিরোধ দায়িত্ব পালনে মূল বিষয় হবে না, যেসব ইস্যুতে ঐক্য রয়েছে সেগুলো নিয়েই অগ্রসর হতে হবে সবাইকে। হিংসা-বিদ্বেষ-বিভক্তি ছড়ানোর রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। তৃতীয়ত, সাংবিধানিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যাতে কোন দল ক্ষমতায় গিয়ে একনায়কতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী ধরনের রাজ কায়েম করতে না পারে। এ ক্ষেত্রে দলের সমর্থনভিত্তিক আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। চতুর্থত, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। কোন দল ক্ষমতায় এলে তারা নিজেদের আদর্শের আলোকে সরকারের নীতি প্রণয়ন করবে কিন্তু প্রশাসনকে দলবাজ বানাবে না। পঞ্চমত, প্রতিটি দল তাদের আদর্শ প্রচারে শক্তি প্রয়োগ না করে গঠনমূলক পথ অনুসরণ করবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যে পর্যায়ে এসে উন্নীত হয়েছে তা কোনভাবে আর চলতে পারে না। ঘরে ঘরে হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি সঙ্ঘাত চলতে থাকলে এ দেশের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বকে বিকিয়ে দিয়ে এখানে ভিনদেশের একটি প্রক্সি ধরনের শাসন বজায় রাখতে চান তারা তাদের হীন মতলব বাস্তবায়নের জন্য এখানে প্রতিহিংসা ও  হানাহানির রাজনীতি সৃষ্টি এবং তা অব্যাহত রাখতে চাইছে। এখনকার দলবাজ প্রশাসনিক কাঠামো এ জন্য তৈরি করা হয়েছে। দেশের মানুষ কোনভাবেই এ ব্যবস্থা চলতে দিতে পারে না। তাদের এমন এক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে যেখানে জনমতই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।  গণতন্ত্র ও পরমত সহিষ্ণুতা হবে যার মূল ভিত্তি।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

SHARE

Leave a Reply