বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসার এবনে গোলাম সামাদ

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারিত হয়েছে প্রধানত তুর্কি মুসলমানদের দ্বারা। যারা প্রধানত এসেছিলেন মধ্য-এশিয়া থেকে। মধ্য এশিয়ায় গড়ে উঠেছিল একটি বৈশিষ্ট্যময় উন্নত মুসলিম সভ্যতা। এরা ছিলেন এই উন্নত মুসলিম সভ্যতার ঐতিহ্যবহ। মধ্য এশিয়ায় জন্মেছিলেন ইমাম বুখারি। বুখারির সংকলিত হাদিস সমগ্র সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশেষভাবে আদ্রিত। যেহেতু তুর্কি মুসলমানদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রচারিত হয়েছে ইসলাম, তাই তুর্কি মানবধারা সম্পর্কে কিছু আলোচনা হবে প্রাসঙ্গিক। তুর্কিদের গায়ের রং হল হরিদ্রাহ সাদা। এদের মাথার আকৃতি চওড়া। মুখমণ্ডলের আকৃতি ডিম্বাকৃতি-লম্বা। নাক সোজা এবং উন্নত। এদের চোখের গড়ন আয়ত। চোখের পাতায় কোন মঙ্গলীয় বৈশিষ্ট্যসূচক ভাঁজ থাকে না। তাই এদের বলা চলে না মঙ্গলীয় মানবধারাভুক্ত। এখন এদের সাধারণত উল্লেখ করা হয় তুরানি বা তুর্কি মানবধারা হিসাবে। এই উপমহাদেশের উত্তরভাগের বিরাট অংশ এক সময় জয় করেছিল কুশানরা মধ্য-এশিয়া থেকে এসে। কুশানরাও মানবধারার দিক থেকে ছিল তুর্কি। বাংলাদেশে কুশান রাজাদের মুদ্রা পাওয়া গেছে। কিন্তু কুশান রাজারা বাংলাদেশে রাজত্ব করেছিলেন কি না, সেটা বলা চলে না। কুশানরা মিশে গিয়েছে ধীরে ধীরে এই উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে। কিন্তু মধ্য-এশিয়া থেকে আগত তুর্কিরা ছিলেন মুসলমান। তাদের পক্ষে ঠিক কুশানদের মত মিশে যাওয়া সম্ভব হয়নি ধর্মীয় কারণে। তবে মধ্য-এশিয়া থেকে যেসব মুসলমান তুর্কি এদেশে এসেছিলেন, তারা বিবাহ করেন উত্তর-ভারতের হিন্দু কন্যাদের। কারণ তারা মধ্য-এশিয়া থেকে স্ত্রী সঙ্গে করে এনেছিলেন না। এভাবে প্রথম গড়ে ওঠে এই উপমহাদেশের মুসলিম জনসমাজ। তুর্কিরা ঘরে তুর্কি ভাষা বলতেন। কিন্তু এরা ছিলেন আবার ফারসি ভাষা-সংস্কৃতির দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত। তুর্কি শাসনামলে রাজকার্য চলেছে বিশেষভাবে ফারসি ভাষাকে নির্ভর করে। ফারসি ভাষায় আছে অনেক আরবি শব্দ। আধুনিক বাংলা ভাষায় প্রায় আড়াই হাজারের ওপর ফারসি শব্দ প্রচলিত আছে। যার মধ্যে অনেক শব্দই হলো আবার ফারসি ভাষার মাধ্যমে প্রাপ্ত আরবি শব্দ। এসব শব্দকে বাদ দিয়ে বাংলা ভাষার কথা ভাবা যায় না। এক সময় বাংলাদেশে মুসলমানরা ধর্মচর্চা করেছেন প্রধানত ফারসি ভাষার মাধ্যমে। নামাজ, বেহেস্ত, দোজখ, পয়গম্বর ফারসি শব্দ; আরবি শব্দ নয়। খোদা আরবি শব্দ হলেও তা এসেছে ফারসি ভাষার মাধ্যমে। মসজিদকে এক সময় এদেশে বলা হয়েছে খোদা-খানা। আল্লাহাফেজ না বলে আমরা বলেছি খোদাহাফেজ। কিছু কিছু তুর্কি শব্দ বাংলা ভাষায় এসেছে। যেমন, দারগা, বাবুর্চি, কাঁচি, কাবু, বোচকা, আলখল্লা, বাহাদুর, বিবি, বেগম।
সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে চারটি মাযহাব গড়ে উঠেছে। এরা হলো: হানাফি, মালেকি, সাফি ও হাম্বলি। তুর্কি মুসলমানদের মত বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান এখনও হলেন হানাফি মাযহাব ভুক্ত। বাংলাভাষী মুসলমান মেনে চলেছেন এখনও হানাফি আইন-কানুন। বাংলাদেশে শতকরা দশভাগ মানুষ এখন মানেন হাম্বলি মাযহাবের আইন-কানুন। এদের পুর্বপুরুষ ছিলেন হানাফি মাযহাবভুক্ত। কিন্তু পরে ঊনবিংশ শতাব্দীতে এরা গ্রহণ করেন হাম্বলি মাযহাব। এটা ঘটতে পারে প্রধানত ওহাবি আন্দোলনের ফলে। আর এটা ঘটতে পেরেছে ব্রিটিশ শাসনামলে। হানাফি মাযহাব প্রতিষ্ঠাতা করেন ইমাম আবু হানিফ আল-নুমান বিন সার্বিত (৭০০-৭৯৪ খ্রি.)। তিনি উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের রাজত্বকালে (হিজরি ৮১) কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পারস্যের প্রাচীন সাসানীয় (হকামেনীয়) রাজবংশের বংশধর ছিলেন। ভাষার ব্যাপারে আবু হানিফা ছিলেন খুবই উদার। তিনি মনে করতেন নামাজ ও খুতবা যে কোন ভাষায় পড়া চলতে পারে। বাংলাদেশে অধিকাংশ মুসলমান হলেন হানাফি সুন্নি মুসলমান। বাংলাভাষী মুসলমান ইসলাম সম্পর্কে বই লিখেছেন বাংলা ভাষায়। অতীতে বাংলা ভাষার মাধ্যমেও যথেষ্ট ধর্মচর্চা হয়েছে। সাবেক পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে হতে পেরেছে তাই রাষ্ট্র-ভাষা আন্দোলন। এই ছিল একটা সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক ভিত্তি। এই পর্যন্ত বাংলা ভাষায় সর্ব প্রাচীন যে পুথি পাওয়া গিয়েছে, যার ভাষা পড়ে এখনও আমরা সহজেই বুঝতে পারি; তা হল শাহ মুহম্মাদ সগীর রচিত ‘ইউসুফ জুলেখা’। শাহ মুহম্মাদ সগীর তাঁর ‘ইউসুফ জুলেখা’র প্রস্তাবনায় বলেছেন,
নানা কথা কাব্য রসে মজে নরগণ।
যার যেই শ্রদ্ধায় সন্তোষ করে মন ॥
না লেখে কিতাব কথা মনে ভয় পাএ
দোষিব সকল তাক ইল ন জুয়াএ ॥
গুনিয়া দেখিলুঁ অক্ষি ইহ ভয় মিছা।
ন হয় ভাষায় কিছু হয় কথা সাচা ॥
শুনিয়াছি মহাজনে কহিতে কথন।
রতন ভাণ্ডার মধ্যে বচন সে ধন ॥
ইউসুফ জুলেখার কিচ্ছা কিতাব প্রমাণ।
দেশী ভাষে মোহাম্মদ সগীরি এ ভান ॥
সগিরী তাঁর ইউসুফ জুলেখা কাব্য রচনা করেছিলেন পারস্যের কবি জামীর অনুকরণে। এ সময় বাংলার সুলতান ছিলেন গিয়াস উদ-দীন আযম শাহ্। যার রাজত্বকাল ধরা হয় ১৩৯০ থেকে ১৪১০ খ্রিস্টাব্দ। তুর্কি মুসলমান শাসনামলের আগের কোন বাংলা পুথি পাওয়া যায়নি। ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে চলেছিল একটা পৃথক স্বাধীন মুসলিম সালতানাত। এ সালতানাতের সময়েই হতে পেরেছিল বাংলা বাক্য-সাহিত্যের বিকাশ। বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে সুলতান হোসেন শাহ (রাজত্বকাল ১৪৯৩-১৫১৮) এবং তার পুত্র নসরত শাহ (রাজত্বকাল ১৫১৮-৩২) খুবই খ্যাত হয়ে আছে। বাবর তার আত্মজীবনীতে নসরত শাহর খুব প্রশংসা করেছেন। তিনি নসরত শাহকে বলেছেন ‘নসরত শাহ বাঙ্গালী’। বাবর নসরত শাহর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ জয় করতে পারেননি। হোসেন শাহর সেনাপতি ছিলেন পরাগল খান। ইনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়েছিলেন। এর আদেশে কবীন্দ্র পরমেশ^র সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় মহাভারত রচনা করেন। পরাগল খানের পুত্র ছুটি খানের আদেশে শ্রীকর নন্দী বাংলা ভাষায় মহাভারতের আর একটি অনুবাদ করেন। ছুটি খান ত্রিপুরার রাজাকে যুদ্ধে পরাজিত করে ত্রিপুরা দখল করেন। মহাভারত সংষ্কৃত থেকে বাংলাভাষায় অনূদিত হয় সুলতানি আমলে। এর আগে সংস্কৃত থেকে মহাভারত আর কোন ভাষায় অনূদিত হয়নি। বাংলা ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন কৃত্তিবাস ওঝা। তাকে হিন্দু পণ্ডিতরা মেরে ফেলতে চান। কিন্তু সেটা সম্ভব হয় না। কেননা, গৌড়ের সুলতান রোকন-উদ-দীন বারবাক শাহ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। বারবাক শাহর রাজত্বকাল ধরা হয় ১৪৫৫ থেকে ১৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। অর্থাৎ বাংলা ভাষার চর্চা বিশেষভাবে আরম্ভ হতে পেরেছিল স্বাধীন সুলতানি আমলে; তার পূর্বে নয়। দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় থেকে ১৯১১ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত History of the Bengali Language and Literature’ বইতে বলেছেন, সংস্কৃত ভাষাকে ভাবা হতো দেবভাষা। বাংলা ভাষাকে হিন্দু পণ্ডিতরা ভাবতেন হীন ভাষা। তারা কখনই চাননি বাংলা ভাষায় রামায়ণ, মহাভারত অনূদিত বা রচিত হোক। তুর্কি মুসলমানগণ এ দেশে নিয়ে আসেন কাগজ তৈরির কৌশল। শুরু হয় কাগজে কলম দিয়ে বই লিখা। কাগজ এবং কলম আরবি শব্দ। ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকার India Through the Ages বইতে বলেছেন, তুর্কি-মুসলিম শাসনামলে আরম্ভ হয় কাগজে কলম দিয়ে বই লিখা। হিন্দু আমলে যার চল ছিল না। তুর্কি মুসলমান আমলে গড়ে ওঠে বই নকল করে তাদের প্রচারের ব্যবস্থা। এভাবে হতে পারে জ্ঞানের বিস্তার। হিন্দু নৃপতিদের আমলে যা সম্ভব ছিল না। যদুনাথ সরকার বলেছেন, পুরাকালে হিন্দু লেখকগণ যখন সাধারণত তাদের লেখা লুকিয়ে রাখা পছন্দ করতেন, তখন পুস্তকের নকল ও প্রচার করে জ্ঞান বিস্তারের সহায়তা করার উদ্যোগের জন্য আমরা মুসলমানদের কাছে ঋণী। যদুনাথ সরকার আরও বলেছেন যে, তুর্কি মুসলমানগণ মধ্য এশিয়া থেকে বহন করে আনেন রোগ চিকিৎসার বিশেষ পদ্ধতি। যা হেকিমি চিকিৎসা নামে পরিচিতি।
এক সময় ভাবা হতো তুর্কি মুসলমানরা ছিলেন কেবলই যোদ্ধা। কিন্তু এখন আর তা ভাবা হয় না। মধ্য-এশিয়া থেকে যেসব তুর্কি মুসলমানরা এদেশে আসেন, তারা যে সবাই সৈনিক ছিলেন, তা নয়। বাংলা সুলতানি আমলে এদেশে গড়ে ওঠে একটা বৈশিষ্ট্যময় ইসলামী স্থাপত্য শৈলী। শুরু হয় গম্বুজ ও প্রকৃত খিলানযুক্ত মসজিদ নির্মাণ। মধ্য-এশিয়া থেকে বিশেষভাবে আসে সুচালো খিলান নির্মাণপদ্ধতি। এদেশে আগে যা ছিল না।
মসজিদ বাংলার মুসলিম সমাজে পালন করেছে খুবই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। মসজিদ কেবলই প্রার্থনার স্থান হয়ে থাকেনি। মসজিদ হয়েছে শিক্ষা কেন্দ্র। মসজিদে মানুষ একত্রিত হয়ে করেছেন সমাজের সৃষ্ট বিবাদ-বিসংবাদের মীমাংসা। মসজিদে এসে মুসলিম পথচারীরা নিদ্রা গিয়েছেন রাতে। মসজিদ হয়েছে পথচারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার আরম্ভ হয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমভাগ থেকে। তুর্কি মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে বাংলাদেশের উত্তরভাগে রাজ্য স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন দিল্লির তুর্কি সুলতান কুতুব উদ্দিন আইবেক-এর একজন সেনাপতি। বাংলার উত্তরাঞ্চলে তখন বাস করত মেচ, থারু ও কোচ জাতি। মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির কাছে কোচ জাতির একজন সর্দার ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম হয় আলী মেচ। আলী মেচ পরে হন গৌড়ের প্রশাসক। তুর্কি মুসলমানদের মধ্যে দুইটি ধারার সৃষ্টি হয়। একটি ধারা হলো, ওসমানলি তুর্কি ধারা। যারা এখন বাস করেন বর্তমান তুরস্কে। অন্য দিকে আর একটি ধারাকে বলা হয়, সালযুক তুর্ক। সালযুক তুর্কি নেতা তুঘরিল শাসন ক্ষমতা দখল করেছিলেন বাগদাদের খলিফাদের কাছ থেকে। সালযুক তুর্কি মুসলমানরাই এসেছিলেন ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে।
বাংলাদেশে তুর্কি মুসলমান অভিযান আরম্ভ হয় খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে (৬০০ হিজরির আরম্ভে)। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার আরম্ভ হয়েছিল এই সময় থেকেই। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম প্রচার আরম্ভ হয়েছিল ১০৮২ খ্রিস্টাব্দ থেকে; প্রধানত দক্ষিণ আরবের ইয়েমেন থেকে সেখানে যাওয়া আরব মুসলিম বণিকদের ইসলাম প্রচারের ফলে। দক্ষিণ আরবে ইয়েমেনে মুসলমানরা প্রধানত হলেন সাফিই মাযহাব ভুক্ত। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানরা হলেন প্রধানত সাফিই মাযহাবভুক্ত; বাংলাদেশের মুসলমানদের মতো হানাফি মাযহাবভুক্ত নন। হিন্দুরা অনুসরণ করেছেন মনুর বিধান। মনুর বিধানে সমুদ্র যাত্রা নিষিদ্ধ। হিন্দুরা সমুদ্রপথে তাই যাননি কোথাও বাণিজ্য করতে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে বৌদ্ধরা সমুদ্রপথে বাণিজ্য করতে গিয়েছেন মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে। অনেকে তাই মনে করেন, এই অঞ্চলে বৌদ্ধদের ইসলাম গ্রহণ বাংলাদেশের বৌদ্ধদের ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছিল। এক সময় মনে করা হতো বাংলাদেশের মুসলিম নৃপতিরা এই অঞ্চলে বল প্রয়োগ করে ইসলাম প্রচার করেছিলেন। কিন্তু এখন এই ধারণাকে আর আগের মত সত্য বলে স্বীকার করা হয় না। ব্রিটিশ শাসনামলে আদম শুমারি আরম্ভ হয় ১৮৭১ সাল থেকে। এ সময় এখন যা বাংলাদেশ, তাকে বলা হতো লোয়ার বেঙ্গল। এই লোয়ার বেঙ্গলে তখন হিন্দুরা ছিলেন সংখ্যাগুরু; মুসলমানরা নন। এরপর আদম শুমারি হয় ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে। এই আদম শুমারিতে দেখা যায় যে, হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানদের সংখ্যা বেড়েছে। এরপরে যত আদম শুমারি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে মুসলমানের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। ব্রিটিশ শাসনামলে কাউকে জোর করে মুসলমান করা হয়নি। বাংলাদেশের মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে ব্রিটিশ শাসনামলে।১
তথ্যসূত্র:
১. শ্রীমীনেন্দ্রনাথ বসু: বাঙালির পরিচয়, জেনারেল প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, ১৯৪৫ খ্রি., পৃষ্ঠা ৫৭।)

লেখক : বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট

SHARE

Leave a Reply