বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা এমফিল ও পিএইচডি । রাশেদুল ইসলাম

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা এমফিল ও পিএইচডিবাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা বলতে এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা প্রচলিত আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত জ্ঞান উৎপাদন ও বিতরণ করা হয়। একজন গবেষকের প্রধান কাজ হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে অধ্যয়ন। এ জন্য গবেষককে হতে হয় অনুসন্ধিৎসু মনের অধিকারী। বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবেশের আলোকে গবেষণার চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণাকে পেশা হিসেবে স্বীকার করা না হলেও এটা যে এক ধরনের নেশা তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তারা দেশ ও জাতির অমূল্য সম্পদ, জাতির গৌরব। গবেষক পৃথিবীর সকল বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন না, তবে যে বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন তার আদ্যপ্রান্ত সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর ফলাফল বের করে আনবেন। তারা গবেষণালব্ধ ফলাফল দিয়ে দেশ ও জাতিগঠনে শক্তি ও সাহস সঞ্চয়ন করেন এবং রাষ্ট্রকে আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য উৎসাহ উদ্দীপনা জোগান। সুতরাং গবেষণাকর্মগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে বিশেষ করে দেশপ্রেম, সুনাগরিক ও শোষণমুক্ত সমাজগঠনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবদান রাখে।

গবেষণামূলক উচ্চশিক্ষার স্তর
বর্তমানে বাংলাদেশে গবেষণামূলক উচ্চশিক্ষার স্তর হচ্ছে এমফিল ও পিএইচডি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেড় বছর মেয়াদি এমএএস ডিগ্রি চালু আছে, যা সম্পূর্ণ করলে এমফিল না করেই পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ২ বছর মেয়াদি (সর্বোচ্চ ৩ বছর) এমফিল ডিগ্রি এবং ৩ বছর মেয়াদি (সর্বোচ্চ ৫ বছর) মেয়াদি পিএইচডি কোর্স চালু আছে। এসব ডিগ্রি দেশ ও দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অর্জন করা যেতে পারে।

গবেষণার বিষয়
প্রকৃত পক্ষে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও বাণিজ্যসহ মোটামুটি সব বিষয়ের ওপর গবেষণা হচ্ছে এবং গবেষকরা তাদের গবেষণার মাধ্যমে উত্তরোত্তর গবেষণার পরিধি সম্প্রসারিত করছেন। একজন গবেষক কোন বিষয়ের ওপর গবেষণা করবেন সেটা নির্ভর করে তার ব্যক্তিগত চাহিদা এবং অ্যাকাডেমিক বিষয়ের ওপর যে বিষয়ে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করছেন অথবা অন্য অনুষদ ও বিভাগ থেকেও করা যেতে পারে যদি সেটা তার বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য হয়।

গবেষণা প্রার্থীর করণীয়
গবেষণা প্রার্থীর প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে সুপারভাইজার বা গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন, যার তত্ত্বাবধানে থেকে গবেষণা প্রার্থী তার গবেষণার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। সুপারভাইজার গবেষণা প্রার্থীর গবেষণার বিষয় ঠিক করে দিবেন, গবেষণার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। তাই প্রার্থীকে সুপারভাইজার নির্বাচন করতে হবে নিজ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনার বিষয় হচ্ছে তত্ত্বাবধায়কের গবেষণার ক্ষেত্র, গবেষণার ব্যাপারে তার ইচ্ছা, আগ্রহ সর্বোপরি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা।

কোথায় গবেষণা করবেন
বাংলাদেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৪২টির মত। এদের মধ্যে প্রথম সারির ও প্রতিষ্ঠিত সরকারি বিশ্বাবদ্যালয়গুলো মূলত এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের জন্য উপযুক্ত। প্রাথমিকভাবে আমরা প্রাচীন ও খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলোচনায় আনতে পারি যেমন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবেষণার কাজ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং অনেকগুলো গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইনস্টিটিউট এবং বিভাগগুলোর মাধ্যমে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

গবেষণার সুফল
একজন গবেষক তার গবেষণাকর্ম সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারলে তিনি নিজে যেমন উপকৃত হবেন পাশাপাশি দেশ ও জাতিগঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। গবেষণাকাজে তার পরিশ্রমপ্রিয়তা তাকে অন্যান্য গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করবে। এভাবেই তিনি হয়ে উঠবেন একজন প্রতিভাবান গবেষক।

ভর্তির প্রাথমিক যোগ্যতা
দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমফিল ও পিএইচডিতে ভর্তির যোগ্যতা প্রায় একই রকম তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে কিছুটা তারতম্য আছে। এর মধ্যে মূল ধারার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা তুলে ধরা হলো।

এমফিল প্রোগ্রাম

১. ভর্তির যোগ্যতা
ক) চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অথবা
খ) তিন বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা
গ) দুই বছর মেয়াদি স্নাতক ও দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি
ঘ) প্রার্থীদের সকল পরীক্ষায় কমপক্ষে ২য় বিভাগ/শ্রেণিসহ ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকতে হবে। C.G.P.A.নিয়ম থাকলে মাধ্যমিক/সমমান থেকে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সকল পরীক্ষায় C.G.P.A. ৫-এর মধ্যে ৩.৫ অথবা C.G.P.A. ৪-এর মধ্যে ৩ থাকতে হবে।

২. মেয়াদ : এমফিল. প্রোগ্রামের মেয়াদ দুই বছর। প্রথম বর্ষ কোর্স ওয়ার্কস ও ২য় বর্ষ থিসিস। তবে এমফিল প্রোগ্রামের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪ (চার) বছর।

৩. কোর্স ও ক্লাস : সকল অনুষদের/ইনস্টিটিউটের এমফিল কোর্স পূর্ণকালীন কোর্স হিসেবে গণ্য হবে।
এমফিল প্রোগ্রামে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গবেষকদের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ নম্বরের দুই ইউনিট (প্রতি ইউনিট ১০০ নম্বর) অথবা চার ইউনিট (প্রতি ইউনিট ৫০ নম্বর) তত্ত্বীয় কোর্স ১ম বর্ষে সম্পন্ন করা আবশ্যিক। প্রতি কোর্সে ১০০ নম্বরের ইউনিটের জন্য ৪ ঘণ্টার এবং ৫০ নম্বরের ইউনিটের জন্য ২ ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হবে। এ ছাড়া ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষাও থাকবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় পাস নম্বর গড়ে ৫০% এবং মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০%। কোনো একটি কোর্সের পরীক্ষায় ৩০-এর কম নম্বর গণনা করা হবে না। উপরিউক্ত পরীক্ষায় কোনো গবেষক অনুত্তীর্ণ হলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন। তবে যেসব বিষয়ে তিনি ৫০%-এর অধিক নম্বর পেয়েছেন, সেই নম্বর বহাল রাখার অধিকার তার থাকবে।
প্রতি ১০০ নম্বরের ইউনিটের জন্য ন্যূনতম ৪৮টি এবং ৫০ নম্বরের ইউনিটের জন্য ন্যূনতম ২৪টি ক্লাস গ্রহণ আবশ্যিক।
এমফিল প্রোগ্রামে তত্ত্বীয় পরীক্ষায় পাস করে একজন গবেষক মৌখিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইচ্ছে করলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
এমফিল কোর্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য কোনো গবেষক কোনো একটি তত্ত্বীয় কোর্সে/মৌখিক পরীক্ষায় ৫০%-এর কম নম্বর পেয়ে থাকলে সেই কোর্সে/ মৌখিক পরীক্ষায় পরবর্তী সুযোগে পুনঃভর্তি ছাড়াই যথারীতি ফিস প্রদান করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিতে পারবেন।

৪. ছুটি : চাকরিরত প্রার্থীদের ১ (এক) বছরের ছুটি নিয়ে এমফিল প্রোগ্রামে যোগদান করতে হবে। তবে কোনো আবেদনকারী যদি কোনো উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অথবা গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, সে ক্ষেত্রে বিভাগের/ইনস্টিটিউটের অ্যাকাডেমিক কমিটির এবং সংশ্লিষ্ট অনুষদের সুপারিশের ভিত্তিতে অ্যাকাডেমিক পরিষদ তা শিথিল করতে পারে।

৫. দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি : এমফিল ১ম বর্ষ উত্তীর্ণ গবেষকগণকে পরীক্ষার ফল প্রকাশের ১ (এক) মাসের মধ্যে ২য় বর্ষে ভর্তি হতে হবে। দৈনিক ১ (এক) টাকা নির্ধারিত হারে বিলম্ব ফিস প্রদান করে আরো ১ (এক) মাস পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যাবে। ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফলপ্রকাশের ২ (দুই) মাসের মধ্যে ভর্তি না হলে ২০০০ (দুই হাজার) টাকা বিলম্ব ফিস প্রদান করে ভর্তি হওয়া যাবে।
৬. পুনঃভর্তি : কোনো এমফিল গবেষক ১ম বর্ষ পরীক্ষায় প্রথম বারে পাস করতে না পারলে অথবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে অথবা কোর্স সমাপ্ত করতে না পারলে তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে শুধু একবার পুনরায় ভর্তি হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এরপর আর পুনঃভর্তির সুযোগ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে উপাচার্য মহোদয় পুনঃভর্তির অনুমতি দিবেন।

৭. থিসিস জমা ও সময়বৃদ্ধি :
ক) এমফিল ১ম পর্বের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ১ (এক) বছরের মধ্যে থিসিস জমা দিতে হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ থিসিস জমা দিতে না পারলে তাকে শিক্ষা-১ শাখা থেকে সময়বৃদ্ধির নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউটের অ্যাকাডেমিক কমিটি ও সংশ্লিষ্ট অনুষদ সভার সুপারিশের পর অনুমোদনের জন্য ‘বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ’ ও অ্যাকাডেমিক পরিষদের সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
খ) কোনো গবেষকের থিসিস জমা দেয়ার সময় পার হয়ে গেলে তিনি তা জমা দানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগের/ ইনস্টিটিউটের প্রধানের সুপারিশসসহ উপাচার্য মহোদয় বরাবর সাদা কাগজে আবেদন করলে উপাচার্য মহোদয় সিন্ডিকেটের ৬/১২/২০০১ তারিখের সিদ্ধান্ত বলে গবেষককে থিসিস জমা দেয়ার জন্য আরো ৬ (ছয়) মাস সময় বৃদ্ধির বিষয়ে বিবেচনা করতে পারেন।
গ) এমফিল প্রোগ্রামে যোগদানের পর গবেষক ৩ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে থিসিস জমা দিতে না পারলে ২০০০ টাকা এবং ৫ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে জমা দিতে না পারলে ৪০০০ টাকা বিলম্ব ফিস দিয়ে তা জমা দিতে পারবেন।

৮. বৃত্তি : এমফিল প্রোগ্রামে প্রতি শিক্ষাবর্ষে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে ইতিহাস বিভাগের জন্য নির্ধারিত একটি শেরেবাংলা বৃত্তিসহ মোট ৩৬টি বৃত্তি মাসিক ৩০০০ টাকা হারে মঞ্জুর করা হয়। তবে গবেষক চাকরিরত থাকলে অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি/আর্থিক সহযোগিতা পেলে এ বৃত্তি ভোগ করার যোগ্য বিবেচিত হবেন না। ২য় বর্ষে এই বৃত্তি নবায়নের ব্যবস্থা থাকবে। তবে বৃত্তিধারী গবেষক যদি প্রথম বর্ষে প্রথমবারে পাস করতে না পারেন তবে এই বৃত্তি নবায়ন করা হবে না।

পিএইচডি প্রোগ্রাম

১. ভর্তির শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা
ক) এমফিল পাস অথবা
খ) ৪ (চার) বছর মেয়াদি স্নাতক/স্নাতক সম্মান ডিগ্রি এবং ১ (এক) বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি।
শিক্ষাজীবনে সকল পরীক্ষায় কমপক্ষে ২য় বিভাগ/ শ্রেণি (ন্যূনতম ৫০% নম্বর) থাকতে হবে। C.G.P.A. নিয়ম থাকলে মাধ্যমিক/সমমান থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সকল পরীক্ষায় C.G.P.A. ৫-এর মধ্যে ৩.৫ অথবা C.G.P.A.৪-এর মধ্যে ৩ থাকতে হবে। উল্লিখিত ন্যূনতম নম্বর বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউট/ পিএইচডি উপ-কমিটি/ অনুষদ নিজ নিজ ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করবে।

২. মেয়াদ : পিএইচডি প্রোগ্রামে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ৪ (চার) বছর। ২ (দুই) বছর পর থিসিস জমা দেয়া যায়। থিসিস জমা না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর একই সময় রেজিস্ট্রেশন ফিস জমা দিতে হবে। সময়মতো রেজিস্ট্রেশন ফিস জমা না দিলে নিয়মানুযায়ী বিলম্ব ফিস প্রদান করতে হবে।
খণ্ডকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ৫ (পাঁচ) বছর। ৪ (চার) বছর পরে থিসিস জমা দেয়া যাবে। তবে কোনো গবেষক যদি কাজ সম্পন্ন করে ৩ (তিন) বছরের শেষে থিসিস জমা দিতে চান তাহলে তত্ত্বাবধায়ক এবং বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশসহ অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় জমা দিতে পারবেন।

৩. এমফিল থেকে পিএইচডি প্রোগ্রামে স্থানান্তর : যে সকল প্রার্থী এমফিল ১ম বর্ষের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন এবং ২য় বর্ষের মধ্যে আবেদন করছেন তাদেরকে গবেষণায় সন্তোষজনক অগ্রগতির ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়কের সুপারিশক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটি, পিএইচডি উপ-কমিটি, অনুষদ সভার সুপারিশ এবং ‘বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ’ ও অ্যাকাডেমিক পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে এমফিল থেকে পিএইচডি প্রোগ্রামে স্থানান্তর করা যাবে।

৪. সময়বৃদ্ধি (উপাচার্যের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে) : গবেষকদের থিসিস জমা দেয়ার সময় রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এবং থিসিস জমা দেয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে মাননীয় উপাচার্য অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করতে পারবেন।

৫. পুনঃরেজিস্ট্রেশন : রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ (চার বছর) শেষ হলে আরও চার বছরের জন্য পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

৬. নতুনভাবে রেজিস্ট্রেশন : রেজিস্ট্রেশন এবং পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ (৪+৪=৮) আট বছর অতিক্রান্ত হলে নতুনভাবে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা থাকবে, তবে এই সুযোগ কেবল ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষের পূর্বে রেজিস্ট্রেশন ও পুনঃরেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হলে নতুনভাবে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা অতিরিক্ত ফিস দিতে হবে।

৭. সেমিনার বক্তব্য : সকল অনুষদের বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটসমূহের পিএইচডি গবেষকদের প্রতি বছর স্ব স্ব অ্যাকাডেমিক কমিটির সম্মুখে একটি করে সেমিনার বক্তব্য দিতে হবে। এভাবে কমপক্ষে ২টি সেমিনার রিপোর্ট তত্ত্বাবধায়ক এবং বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশসহ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নিকট থিসিসের সঙ্গে জমা দিতে হবে। সেমিনার বক্তব্যের রিপোর্ট ছাড়া থিসিস জমা নেয়া হবে না।

৮. বৃত্তি : প্রতি শিক্ষাবর্ষে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৫টি বৃত্তি মাসিক ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা হারে মঞ্জুর করা হবে। তবে গবেষক চাকরিরত থাকলে অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি/আর্থিক সহযোগিতা পেলে, এ বৃত্তি ভোগ করার যোগ্য বিবেচিত হবে না। ২য় বর্ষে এই বৃত্তি নবায়নের ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়াও নিম্নে উল্লেখযোগ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে এমফিল, পিএইচডি নিয়মাবলি জেনে নিতে পারেন।
৯.www.dunivdhaka.edu
www.juniv.edu
www.ru.sac.bd
www.cu.ac.bd
www.bau.edu.bd
www.buet.ac.bd
www.iu.ac.bd
www.bssmmu.org
www.nu.edu.bd
www.bou.edu.bd
১০. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় – ১৯৯১ www.ku.ac.bd
১১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-১৯৯৮ www.bsmrau.edu.bd
১২. মওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৯ www.mbsstu.ac.bd
১৩. শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০১ www.sau.ac.bd
১৪. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ www.jnu.ac.bd
১৫. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৭ www.sust.edu.bd
১৬. হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – ১৯৯৯ www.hstu.ac.bd
১৭. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ ২০০৫ www.jkkniu.edu.bd
১৮. বাংলাদেশ ইউনিভারসিটি অব প্রফেশনালস্, মিরপুর, ঢাকা- ২০০৮ www.bup.edu.bd
১৯. ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – ২০০৩ www.duet.ac.bd
২০. চট্টগ্রাম প্রকৌশলও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৩ www.cuet.ac.bd
২১. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় – ২০০৬ www.cou.ac.bd
২২. খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৩ www.kuet.ac.bd
২৪. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৬ www.sau.ac.bd

SHARE

Leave a Reply