বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বন্যা -ড. মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম

বন্যা বাংলাদেশে নিত্য বছরের ঘটনা। ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক কারণেই বাংলাদেশের কখনোই বন্যমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। ভারত কর্তৃক ফারাক্কা বাঁধ, গজলডোবা বাঁধ, ইজুলির নিপকো বাঁধ ও অন্যান্য অভিন্ন নদীতে অসংখ্য বাঁধ নির্মাণের পর থেকে বন্যা বাংলাদেশের জন্য নিত্য বছরের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নদী যেহেতু আছে একটানা বৃষ্টিপাত যখন আছে, উজানের দেশ আঞ্চলিক বৃহৎশক্তি ভারত যেহেতু স্বীয় ভূখণ্ডে পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করে শুষ্ক মৌসুমে, খরার সময় বাংলাদেশের অভিন্ন নদীতে পানির অভাব এবং বর্ষায় যে কোন সময় যে কোন দিক হতে প্লাবন সৃষ্টির ক্ষমতা হাতে তুলে নিয়েছে সে জন্য বাংলাদেশে বন্যা হবেই। বন্যার কারণে প্রতি বছর অনেক ফসল বিনষ্ট হয়। গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যায়। দেশের জনগণ অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশার সম্মুখীন হয় এবং জানমালের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। সর্বনাশা বন্যার তাণ্ডবলীলা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায়। বন্যার কারণে বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
উজান তথা প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে জুলাই মাসে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। প্রবল বর্ষণে ভারতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভারত তিস্তা নদীতে দেয়া গজলডোবা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দিয়েছে। এতে ভারত থেকে ধেয়ে আসছে বানের পানি। হঠাৎ করে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়েছে। গজলডোবা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, বগুড়া জামালপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নদ-নদীর পানি শুধু বিপদসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে না, তীরের বিরামহীন ভাঙনে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার লাখ লাখ মানুষও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের ঘরবাড়ি, ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্নাবান্না করে খাওয়া দূরে থাকুক তারা এমনকি বাড়িতেও থাকতে পারছে না। এখনো তলিয়ে যাচ্ছে এই অঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা। বন্যার সাথে করোনা ও ডেঙ্গুতো আছেই।
আষাঢ় শ্রাবণ মাসের প্রবল বর্ষণ এবং বর্ষা মওসুমের কারণে বাংলাদেশের বিস্তৃীর্ণ এলাকা যখন প্রাকৃতিক নিয়মে পানিতে বন্যা আক্রান্ত, লাখ লাখ ও বস্ত্রহীন মানুষ যখন আশ্রয়হীন পড়েছে ঠিক তেমন এক ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে ভারত কর্তৃক হঠাৎ তিস্তা নদীর উজানে নির্মিত বাঁধ।
আন্তর্জাতিক নদী তিস্তার উজানে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবা নামক স্থানে ভারত ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করেছে বহুমুখী ব্যারাজ গজলডোবা। বাঁধটি ২২১ দশমিক ৫০ মিটার দীর্ঘ ৪৪টি গেইট সমেত। বাংলাদেশের তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার উজানে ভারত এই মরণফাঁদ নির্মাণ করেছে।
গজলডোবা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দিয়েছে। এর ফলে ধেয়ে আসতে শুরু করেছে বন্যার পানি। আর সে পানিতে তলিয়ে গেছে নীলফামারী ও কুড়িগ্রামসহ দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো। এখনো তলিয়ে যাচ্ছে অনেক নতুন অঞ্চল।
বিবিসি এবং আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের খবরে জানানো হয়েছে, দিনের পর দিন ধরে টানা বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদের উপত্যকায় ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে আসাম রাজ্য জুড়েও। পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটলে দেশটির সেচ দফতর হলুদ সতর্কতা সংকেত জারি করে। পরদিন বারই গজলডোবা বাঁধের গেটগুলো খুলে দেয় ভারত। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারীর ডিমলা, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ: উপজেলার সব গ্রামের পাশাপাশি অসংখ্য চরও উজানের পানিতে তলিয়ে যায়। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ।
পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পাশাপাশি ধলেশ্বরী, করতোয়া, ধরলা ও তিস্তাসহ সব নদ-নদীতে পানি শুধু বাড়ছেই। গত ১ জুলাই পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারিয়াকান্দি ও ধুনট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই অবস্থা চলছে তিস্তা তীরবর্তী ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে। সেখানে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রামের চিলমারীসহ অন্য সকল এলাকাতেও পানি কেবল বেড়েই চলেছে। তিস্তা ও ধরলা থেকে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ প্রতিটি নদ-নদী এরই মধ্যে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ফলে বহু কিলোমিটার জুড়ে তীর তত ভেঙে পড়ছেই, আশপাশের সকল গ্রামও তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় ভেঙে গেছে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে দেয়া বালুর বাঁধ। বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা কৃত্রিম সব বাঁধও প্রবল স্রােতে ভেসে গেছে। পাল্লা দিয়ে বিপদ বেড়ে চলেছে আশ্রয়হীন হয়ে পড়া লাখ লাখ মানুষের।
বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোতে যথেষ্ট সংখ্যক উঁচু স্থান বা স্থাপনাও নেই, যেখানে গিয়ে বিপন্ন মানুষেরা আশ্রয় নিতে পারে। ফলে সাপসহ হিং¯্র প্রাণীর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পানির মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা চলছে খাদ্য ও সুপেয় পানির। কারণ বন্যায় চুলো জ্বালিয়ে রান্নাবানা করা একেবারেই সম্ভব নয়। তার ওপর রয়েছে চাল-ডালসহ খাদ্যসামগ্রীর তীব্র সঙ্কট। মুড়ি আর চিঁড়ার মতো শুকনো খাবারও পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও কেনার মতো সাধ্য নেই প্রায় কোনো মানুষেরই।
ওদিকে রয়েছে নিরাপদ পানীয় পানির তীব্র অভাব। কুয়া, নলকূপ ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানি পাওয়া ও পান করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বন্যার পানিই পান করতে হচ্ছে, যার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ। এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-কিশোররা। তাদের অনেকে মারাও যাচ্ছে। কারণ, হাজার বিপদের কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না তারা। হাসপাতাল দূরের কথা, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের পক্ষে। বহু লাশের দাফনও করা যাচ্ছে না।
এ ধরনের অনেক মর্মান্তিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হচ্ছে দেশের পত্রপত্রিকায়, দেখানো হচ্ছে বেসরকারি টেলিভিশনে। দেশের অন্তত ২৫-৩০টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। সেই সাথে তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন অনেক এলাকাও। লাখ লাখ বিপন্ন মানুষ অপেক্ষায় আছে সামান্য কিছু ত্রাণ পাওয়ার আশায়। তাদের জীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। বলার অপেক্ষা রাখে না, সব মিলিয়েই বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত আশংকাজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রকাশিত খবরে প্রসঙ্গক্রমে ১৯৯৮ সালে নির্মিত গজলডোবা বাঁধের ইতিহাস উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, বন্যা হলে বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজের ৬০ কিলোমিটার উজানে নির্মিত এ বাঁধটির সব গেটই ভারত খুলে দেয়। এর ফলে বন্যায় তলিয়ে যায় বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আর শুষ্ক মওসুমে ভারত একই বাঁধের গেটগুলো বন্ধ করে। তখন গজলডোবার উজানে তিস্তা-মহানন্দা খালের মাধ্যমে দুই হাজার ৯১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের ভেতরে পানি প্রবেশ করে। এই বিপুল পরিমাণ পানি দিয়ে বাংলাদেশ সংলগ্ন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, কুচবিহার ও মালদহ জেলার দুই লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয়। অর্থাৎ গজলডোরা বাঁধের সাহায্যে ভারত একদিকে বর্ষার মওসুমে বাংলাদেশকে বন্যার পানিতে ডুবিয়ে দেয়, অন্য দিকে শুষ্ক মওসুমে পানিবঞ্চিত করে নিজেই শুধু লাভবান হয়। একযোগে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার করে বাংলাদেশকে। বলা হচ্ছে, মূলত এজন্যই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে ভারত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর করা থেকে সুকৌশলে বিরত রয়েছে।
তিস্তা একটা ‘ডেড ইস্যু’ ভারতের কাছে, দুই হাজার নয় সালের বহু আগে থেকেই। তিস্তা থেকে আসলে ভারতের কাউকে কিছু দেয়ার নেই। উৎস থেকে যা নেয়া হচ্ছে শুধু তাই নয়। ২০০৯ সালের আগেই ভারতের এসব বাঁধ সম্পন্ন হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনার কাছে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তিস্তা চুক্তি হবে। আজো তা বলে যাওয়া হচ্ছে।
গজলডোবা বাঁধের মাধ্যমে শুধু নয়, ফারাক্কাসহ অন্য অসংখ্য বাঁধ এবং খাল ও নদীর ধ্বংসের মাধ্যমেও ভারত বাংলাদেশকে ক্ষয়ক্ষতির শিকার বানিয়ে এসেছে।
তিস্তা, মহানন্দা, মনু, কোদলা, ধোয়াই, গোমতি ও মুহুরিসহ আরো অন্তত ১৫টি নদ-নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত। এভাবে ফারাক্কার পাশাপাশি ছোট-বড় বিভিন্ন বাঁধের মাধ্যমে ভারত পানি সরিয়ে নেয়ায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করায় অভিন্ন ৫৪টির মধ্যে ৪০টি নদ-নদী শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এখন পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। আবার পুরো বাংলাদেশকে ডুবিয়ে দিচ্ছে বর্ষার মওসুমে।
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, বন্যায় ভারতের আসামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারতের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আসামের সংবাদমাধ্যম বলছে, আসামে এ পর্যন্ত বন্যায় ৩০ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। মধ্য জুলাইয়ে ভারী বর্ষণের ফলে আসামের ১৫টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এই জেলাগুলোর ১১০০ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ভারতের আসাম ও অরুনাচল প্রদেশে প্রবল বর্ষণে উপচে পড়া পানির সাথে সেখানকার শতাধিক উপনদীর পানি ব্রহ্মপুত্রের নিজ প্রবাহের সাথে যুক্ত হওয়ায় আসামে বেড়েছে বন্যার ব্যাপকতা। এ পানি দ্রুত নেমে আসছে ব্রহ্মপুত্র দিয়ে। এছাড়া অরুনাচল প্রদেশে ইজুলির নিপকো কোম্পানির হাইড্রোইলেকট্রিক বাঁধের স্লুইস গেটগুলো খুলে দেয়ায় হাজার হাজার কিউসেক অতিরিক্ত পানি যুক্ত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্রে। এ পানিও ধীরে ধীরে নেমে আসছে নিচের দিকে বাংলাদেশে। পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতে একসাথে হাজার হাজার কিউসেক অতিরিক্ত পানি যুক্ত হওয়ায় খুব দ্রুতই এই দুই নদীর কূল উপচে সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যাদুর্গত মানুষরা অনাহারে-অর্ধাহারে, খাওয়ার পানি ও আশ্রয়ের অভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে অথবা কোন জায়গায় থেকে খোলা আকাশ ও রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এমন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে ও হাহাকার করছে, যা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের জীবনে এক মস্ত বড় ট্র্যাডেজি।
বাংলাদেশে বন্যার জন্য দায়ী কারণসমূহ বহুবিধ। এগুলো হচ্ছে:
১. উজানের পানি;
২. অতিবৃষ্টি-দেশের বাইরে নদ-নদীর উজান এলাকার এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারি বৃষ্টিপাত;
৩. নদীর গভীরতা হ্রাস-পানি …..ফলে নদ-নদীর তলদেশে ভরাট হয়ে যাওয়া সংঘটন,
৪. প্রধান প্রধান নদীসমূহে একসঙ্গে পানিবৃদ্ধি এবং এক নদীর ওপর অন্য নদীর প্রভাব বিস্তার;
৫. প্রতিবেশী দেশ কর্তৃক সংকট সৃষ্টি;
৬. প্রকৃতির উপর মানবীয় হস্তক্ষেপ;
৭. জোয়ার-ভাটা এবং বায়ুপ্রবাহের বিপরীতমুখী ক্রিয়ার ফলে ইধপশ ধিঃবৎ নদ-নদীর সমুদ্রমুখী প্রবাহ ধীরগতি প্রাপ্ত হওয়া (নধপশ ধিঃবৎ বভভবপঃ);
৮. সমুদ্র পৃষ্ঠের পরিবর্তন প্রতিক্রিয়া;
৯. ভূ-গাঠনিক বিশৃংখলা (ভূমিকম্প, নদীর প্রবাহ ও ভূরূপতত্ত্বে পরিবর্তন;)
১০. সম্ভাব্য গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি।
বন্যা নামক সর্বগ্রাসী দৈত্যের ভয়ে দেশবাসী সর্বদা শঙ্কিত। বন্যার ভয়াবহ তাণ্ডবলীলায় প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরণ করে। পানিতে ভেসে যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু। পানিবন্দী হয়ে এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয় লাখ লাখ মানুষ। বিনষ্ট হয় হাজার হাজার একর জমির ফসল।
সর্বোপরি ভেঙে যায় কৃষকের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়ে লেনদেনের ভারসাম্যে সুতরাং এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার।
লেখক : কলামিস্ট ও ইতিহাসবিদ

SHARE

Leave a Reply