বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাতি ও দেশ গঠনে নিরন্তর অভিযাত্রা

আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ
Shibirবাংলাদেশের বৃহত্তম সংগঠিত ছাত্রসংগঠন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে। ৩৫ বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শিবির আজ এক পূর্ণ যৌবন তরুণের মতো বিকশিত সংগঠন। ইসলামবিরোধী শক্তির হাজারো বাধা-বিপত্তি, ক্ষমতাসীনদের ক্রমাগত নির্যাতন নিষ্পেষণ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্রিয়াশীল, সৃজনশীল ও জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে এর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। কোন প্রতিক্রিয়াশীল, ষড়যন্ত্রকারী ও দমনমূলক কার্যক্রম এই সংগঠনের গতিশীলতাকে রুখতে পারেনি এবং পারবেও না ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর ইতিহাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির একটি অন্যতম মানবসম্পদ সংগঠন (Human Resource Organization), একটি অন্যতম ক্রিয়াশীল জনগোষ্ঠী (Proactive Human Group)। একটি ঈর্ষনীয় গতিশীল ছাত্রসংগঠন (Enviable Progressive Student Organization), একটি ব্যতিক্রমী নৈতিক যুবগোষ্ঠী (Special Kind of Moral Force) এবং সর্বোপরি উন্নত বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত নেতৃত্ব সরবরাহের কারখানা (Leadership Supply Chain for a Developed Bangladesh)। আজকের নিবন্ধের মূল বক্তব্য শিবিরের উপর্যুক্ত পরিচয়গুলো একটি সামাজিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিভাত করে তোলা।

বাংলাদেশ : ৪২ বছরের কড়চা
দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ ও সংগ্রামের পর ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের লাল সবুজ পতাকা উড়িয়ে স্বাধীন যাত্রা শুরু হয় পৃথিবীর বৃহত্তর বদ্বীপ বাংলাদেশের। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিভক্ত জাতিসত্তা ও যুদ্ধকালীন সহযোগী পাশের দেশ ভারতের চানক্যনীতির প্রভাব-বাংলাদেশের পথচলাকে মসৃণ করেনি।
১৯৭৪ সালে দেশে দেখা দেয় স্মরণকালের বৃহত্তম দুর্ভিক্ষ। খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি হয় মানুষে-কুকুরে। ১৯৭৫-এ দেশে চালু হয় একদলীয় বাকশালী শাসন। বিরোধিতা করতে গিয়ে জীবন দেয় ৩০ হাজার প্রতিবাদী তরুণ। কয়েকটি সরকারি পত্রিকা ছাড়া সকল পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়। বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের সব স্বাধীনতা হরণ করে দেশকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়।
আর এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাত্রিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সপরিবারে খুন হন শেখ মুজিবুর রহমান। দুর্ভাগ্যের বিষয় পরদিন তাঁর জন্য রাস্তায় কোন শোকর‌্যালি হয়নি, জীবন দেয়নি কোনো প্রতিবাদী জনতা বরং তাঁরই সহযোগীগণ তার লাশের ওপর দিয়ে হেঁটে ক্ষমতায় বসেন। আর তার এককালের ঘনিষ্ঠ সহচর বলেন, ‘দেশ আজ ফেরাউনের হাত থেকে বাঁচলো।’
নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আবার বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে লাগলো। কিন্তু ১৯৮২ সালে বন্দুকের নলের মুখে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে স্বৈরাচারী সাময়িক জান্তা লে. জে. হু. মু. এরশাদ। এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ সকল দল একজোট হয়ে আন্দোলন গড়ে তুললে অবশেষে ১৯৯১ সালে তীব্র জনরোষের মুখে এরশাদের পতন ঘটে এবং দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন দেশের সর্বপ্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।
পরবর্তী আরো দু’টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জাতি প্রত্যক্ষ করে আওয়ামী বর্বরতা ও নৃশংসতার নগ্নরূপ। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে রাজপথে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করার এই বর্বরতার কথা জাতি কোনদিন ভুলবে না। অতঃপর ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের অসাংবিধানিক সরকার এবং সেই সরকারের আনুকূল্য ও আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে কারচুপির ভোটে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার মেয়াদ ফুরানোর সাথে সাথে আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি ২০১৪ যে ভোটারবিহীন ন্যক্কারজনক নির্বাচন নামক প্রহসন করলো তা জাতি কখনোই বিস্মৃত হবে না।
অপরিণামর্দশী-অবিমৃশ্যকারী ও দেশপ্রেম বর্জিত নেতৃত্বের কবলে পড়ে বিগত ৪২ বছরে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন দেশটি ধুঁকে ধুঁকে ভুগছে। ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাত হতে পারত কর্মীর হাত, ১৬ কোটি মানুষ হতে পারতো ১৬ কোটি মানবসম্পদ। প্রতি ইঞ্চি উর্বর মাটি হতে পারতো বিচিত্র কৃষিজ উৎপাদনের ক্ষেত্র, সুশিক্ষিত-স্বশিক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে বিশাল মানবসম্পদ হতে পারতো আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল জোগানদার। কিন্তু কী হয়েছে? অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা স্থবির হয়ে পড়েছে নানা ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে। তৈরী পোশাক খাত আমাদের একটি বিরাট ক্ষেত্র। কিন্তু বারবার জ্বালাও-পোড়াও ভাঙচুর-হরতাল-অবরোধ এই বিশাল সম্ভাবনাময় খাতটিকে আজ দুর্বল করে ফেলেছে। বিদেশীরা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য কোথাও নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজছে। পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা ও জনশক্তির অযোগ্যতার কারণে বিদেশে যাওয়া এক বিরাট অংশকে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। দুর্নীতি আমাদের আপাদমস্তক গ্রাস করেছে। মন্ত্রী-এমপি থেকে সাধারণ মানুষ … সব ক্ষেত্রেই ‘দুর্নীতি’ আমাদের জাতীয় তিলক হতে চলছে। এমতাবস্থায় জাতীয় মুক্তি, সমৃদ্ধি ও প্রগতির জন্য দরকার নতুন ‘কো…..রামানি’।
সরকারি-বেসরকারি প্রচার মাধ্যমে ঘাপটি মেরে থাকা দেশদ্রোহী সম্প্রদায়ের ক্রমাগত অপপ্রচার ও একপেশে তথ্যসন্ত্রাসের পরও বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত ও বাস্তবে প্রমাণিত বন্ধু হওয়ায় ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’ আজও আমাদের আশা-ভরসার একটি অনেক বড় কেন্দ্র।

ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

এক. শিবির একটি অন্যতম মানবসম্পদ সংগঠন (A Human Resources Organization)
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির একটি ছাত্রসংগঠন। শিবিরের সমর্থক-কর্মী ও নেতৃত্বে যারা আছে তারা সবাই ছাত্র। কোন অছাত্র এই সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে না। ছাত্রশিবিরের সকল পর্যায়ের জনশক্তি (Man Power) একটি ব্যক্তিগত রিপোর্ট বই/ ফর্মে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের রিপোর্ট সংরক্ষণ করে থাকে। এ রিপোর্ট নিয়মিত তদারক করা হয়। সকল পর্যায়ের কর্মী তার মান বৃদ্ধির চেষ্টা করে এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ তাদের মান রক্ষার বিষয়টি কেবল আল্লাহর ওয়াস্তে তদারকি করে থাকেন। ফলে- কুরআন অধ্যয়ন/ হাদীস অধ্যয়ন/ ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন/ নিয়মিত জামায়াতে নামাজ আদায়/ পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়ন / দাওয়াতি কাজ / কর্মী যোগাযোগ / পত্রিকা পাঠ / শরীর চর্চা/আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়/ আত্মসমালোচনাসহ অন্য সকল কার্যক্রম একজন ছাত্রকে সবদিক থেকে আত্মগঠনে সাহায্য করে থাকে। শিবিরের অধিকাংশ জনশক্তি লজিং/ টিউশনি করে পড়ালেখা করে থাকে। এটিও একট দ্বিপাক্ষিক মানবসম্পদ-বিকাশপ্রক্রিয়া।
ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে প্রতিটি কর্মী সাংগঠনিক যোগ্যতা অর্জন (Organizing Capacity), সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সংরক্ষণ ও মেনে চলা (Organizational Discipline and Obedience), চমৎকার সাংগঠনিক আচরণ (Organizational Behavior) অর্জন করে থাকে যা আমাদের অনেক ভালো ভালো পেশাজীবী সংগঠনেও অনুপস্থিত। শিবিরের জনশক্তি কেবল তাত্ত্বিক অধ্যয়নের মাধ্যমে সংগঠন শিখে না বরং একান্ত প্রায়োগিকভাবে নিজেদের দৈনন্দিন কার্যক্রম কঠোরভাবে মেনে নিয়ে সংগঠন শিখে।
এই সংগঠনে চমৎকার একটি HR Compliance রয়েছে যা কি না একজন মানুষকে উত্তম মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করে থাকে। শিবিরের সমর্থক হিসেবে সম্পৃক্ত হতে হলেও একজন ব্যক্তির ন্যূনতম কিছু গুণাবলি বিবেচনা করা হয় বরং শিবির এই গুণাবলিকে প্রাধিকার দিয়েই কাউকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করে। একটি ক্যাডারভিত্তিক (Cadre Based) সংগঠন হওয়ার কারণে প্রতিটি স্তরে মানোন্নয়নের জন্য একজন ছাত্রকে জ্ঞান, চরিত্র, দক্ষতা ও যোগ্যতায় ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি অসাধারণ প্রশিক্ষণব্যবস্থা (Training Arrangement)। প্রশিক্ষণের নাম শুনলেই কতিপয় অর্বাচীন লোক মনে করে থাকে শিবির মনে হয় তার কর্মীদেরকে অস্ত্রশস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তারা আসলে কল্পনাই করতে পারে না- এই যে বিগত উত্তাল আন্দোলনের দিনগুলোতে শিবিরকে কোন স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার, তার পেটোয়া বাহিনী- তাদের রাতের ঘুমকে হারাম করেছে, প্রতিষ্ঠানে ক্লাস করতে দেয়নি, শুধু শুধু হয়রানি করে বেড়িয়েছে- তারপরও শিবির তার জনশক্তিকে কুরআন-হাদিস-ইসলামী সাহিত্য শিক্ষা দান, বৈঠক, পাঠচক্র, নৈতিক তত্ত্বাবধান কোনদিনও বন্ধ রাখেনি। ফলে আল্লাহর রহমতে শিবির এখনও বাংলাদেশের ঘুণে ধরা সমাজে একদল আল্লাহপ্রেমিক মানবসম্পদ সরবরাহের কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার জটিল ও কঠিন তাত্ত্বিক বইপুস্তকগুলো এতো আয়োজনের পরও যেখানে সৎ-যোগ্য-দক্ষ মানব তৈরিতে ব্যর্থ সেখানে একজন শিবিরকর্মীকে নিজের সংগঠন / প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়ে যে কেউই নিশ্চিত থাকতে পারেন এই কারণে যে তারা মৌলিকভাবে দায়িত্বশীল, নিষ্ঠাবান এবং পরকালের জবাবদিহিতায় উজ্জীবিত পরিশ্রমী মানুষ।
বাংলাদেশে যারা বর্তমানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত সৎমানুষ তার এক বড় অংশ বিগত ৩৫ বছর ধরে পরিচালিত শিবিরের অব্যাহত মানবসম্পদ তৈরির প্রয়াসের ফসল।
দুই. শিবির একটি অন্যতম ক্রিয়াশীল জনগোষ্ঠী (Proactive Human Group)
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে যখন কোন কোন পত্রিকা বা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করতে চায় তখন তা খুবই হাস্যকর মনে হওয়ার প্রধান কারণ হলো- যারা এসব মন্তব্য করেন তারা প্রকৃত অর্থেই প্রতিক্রিয়াশীল। কারো যখন নিজেদের কোন ইতিবাচক কার্যক্রম থাকে না, ইতিবাচক ভূমিকা থাকে না, বরং অন্যের ইতিবাচক কার্যক্রমের সমালোচনা-পর্যালোচনা ও বিরোধিতা করে বেড়ানোই তাদের কাজ। তখন সে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আমরা প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি।

মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান
মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মসূচি সম্পর্কে যাদের সম্যক জ্ঞান রয়েছে তারা জানেন শিবিরের ৫ দফা অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি রয়েছে যা হলো- ১. দাওয়াত (ওInvitation/ Preaching Propagation), ২. সংগঠন (Organization / Discipline / Structure) ৩. প্রশিক্ষণ (Moral Training / Training to build up Human Resoureces / Professional Training), ৪. শিক্ষা ও ছাত্র-আন্দোলন (An Education Institute apart from our formal education system / helping students in all aspects including coaching centres) ৫. সামগ্রিক বিপ্লব (Emancipation of Economic, Political repression and Cultural Slavery).
এই পাঁচ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শিবিরের বিশাল জনশক্তিকে দিন-রাত সব ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাদেরকে সাধারণ মানুষ ও তাদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করতে হয়, সাধারণ মানুষ এমনকি ওপরের নির্দেশে যারা তাদের ওপর নির্যাতন চালান তাদের অনেকের ছেলেমেয়েই শিবিরের এইসব কার্যক্রমের সুফল ভোগ করে থাকেন। সবচেয়ে মজার বিষয় অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী যারা শিবিরকে রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে থাকেন তাদের সন্তান-সন্ততিও শিবিরের ইতিবাচক কার্যক্রম দ্বারা উপকৃত হচ্ছে। তারপরও কেন তারা শিবিরের বিরোধিতায় এতো উচ্চকণ্ঠ? মনে হচ্ছে এটি তাদের একটি বাতিক (Manira) আর আসলেই তাদেরকে শিবিরভীতি (Shibir Phobia) পেয়ে বসেছে যার কারণে বিকারগ্রস্ত মানুষের মতো কোনো কারণ ছাড়াই তারা শিবিরকে প্রতিক্রিয়াশীল অভিধায় দোষারূপ করে নিজেদের চাণক্যনীতির পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের জানা উচিত চোখ বন্ধ করে কাক যেমন মনে করে তার অপকর্ম কেউ দেখছে না, তারাও তেমনি মনে করছেন অপপ্রচারের ডামাডোলে তারা শিবিরকে দোষারূপ করে পার পেয়ে যাবেন- তা কিন্তু আর হতে পারছে না। কারণ সকল বাধা-বিপত্তির পরও এখন আমরা বিশাল তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বসবাস করছি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইতিবাচক কর্মসূচির কাছে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রকে অবশ্যই হার মানতে হবে ইনশাআল্লাহ। একটি কথা আমাদের জানা থাকা দরকার, যুগে যুগে ইতিবাচকতা (Positivism) বিজয়ী হয়েছে, নেতিবাচক শক্তি এক সময় ভেতর থেকেই প্রাণশূন্য হয়ে আত্মহত্যা করেছে। এই জন্যই যখন শিবিরের একজন কর্মীকে অকারণে অপবাদ দিয়ে নির্যাতনের শিকার করে হত্যা করা হয় তখন আমরা দেখি আরো অসংখ্য তরুণ ঐ শহীদদের লাশ ছুঁয়ে নতুন প্রাণে উজ্জীবিত হয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। তারা জানে প্রতিটি মৃত্যুই নতুন প্রাণের সঞ্চার করে থাকে (We insert life in death).

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালি
মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালি

তিন. শিবির একটি ঈর্ষনীয় প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন (Enviable Progressive Student Organization)
বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে প্রধান প্রধান ছাত্রসংগঠন হিসেবে যারা চিহ্নিত তারা হলো- ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্র ইউনিয়নের এককালের মেধাবী সভাপতি ড. মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান ‘বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস’ নামে একটি বই লিখেছেন। সে বইটিকে একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে নিলে আমরা এইসব সংগঠনের একটি পরিচিতি পাবো। পক্ষপাত দুষ্টতা সত্ত্বেও আমি সেই বইটি ছাত্রনেতাদের একটি পাঠ্য বই হিসেবে পড়তে বলবো।
আদর্শিক বিরোধের কারণে আমরা কারো অর্জনকে অস্বীকার করতে পারি না। ওপরে বর্ণিত কয়টি সংগঠন বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে বিভিন্ন সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় রাজনীতির সন্ধিক্ষণে এইসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কর্মীগণ- যেসব ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন তা অবশ্যই ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্থানাভাবে এবং প্রয়োজন নেই বলে আমি অন্যান্য সংগঠনের প্রগতিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে এখানে আলোচনা করছি না।
একটি দল নিরপেক্ষ (Non partisan) এবং অপ্রভাবিত (Unbiased) অধ্যয়ন থেকে এ কথা নির্দ্বিধায় বলবো বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির এক বিরাট অহঙ্কার যাকে বারবার অপপ্রচার ও তথ্যসন্ত্রাসের মাধ্যমে কালিমালিপ্ত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। কিন্তু কেউ সফল হয়নি।

কেন ইসলামী ছাত্রশিবির একটি ঈর্ষনীয় ছাত্রসংগঠন?
কারণ, ইসলামী ছাত্রশিবির কেবলমাত্র ছাত্রদের সংগঠন। ছাত্ররাই এর কর্মী ও নেতা। কোন রকম আদুভাই নেতৃত্বের প্রাদুর্ভাব এখানে নেই। কোন কোন ছাত্রসংগঠনে যখন দেখি- বাবা ও ছেলে একই ছাত্রসংগঠনে নেতা ও কর্মী তখন বুঝতে পারি না কেন একজন বাবাকে তার ছেলের মতোই ছাত্রসংগঠনে থাকতে হবে। বুঝি তখন যখন দেখি- এ বাবার বয়সী লোকটি ছাত্রনেতার পরিচয়ে সমানে টেন্ডারবাজি, নিয়োগবাণিজ্য, পুলিশের দালালি করে কোটি কোটি টাকা কামাই করে বেড়ায়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৩৫ বছরের ইতিহাসে এরূপ একটি ঘটনার প্রমাণ কি কেউ দিতে পারবেন?
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির একজন ছাত্রকে ছাত্রত্ব রক্ষা করেই আগামীদিনের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। অন্যান্য সংগঠনের সাথে এর মৌলিক পার্থক্য হলো- এ সংগঠনের কর্মীরা সংগঠনের নাম বিক্রি করে খায় না। ছাত্রসংগঠনের নেতা বলে আশপাশ প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে না। এ ছাড়াও ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজের মাঝে modesty, manner, charcter এবং value উচ্চকিত রাখার একটি সংগঠন।
এই যে বিগত কয়েকটি বছর শিবিরের বিরুদ্ধে সরকারের এত তীব্র দলন, পীড়ন, হত্যা, সন্ত্রাস এরপরও শিবির তার গতিশীল অভিযাত্রা বন্ধ করেনি। নিয়মিত পরিচালনা করেছে তার প্রকল্পসমূহ, জাতিকে করেছে সমৃদ্ধ। প্রকাশিত হয়েছে শিবিরের বই, পুস্তক, ডায়েরি, ক্যালেন্ডার, পত্রপত্রিকা এমনকি Audio-video সমূহ।
বাংলাদেশ সরকারের একজন বর্তমান মন্ত্রী আজ থেকে ২৩ বছর আগে তখনকার শিবিরে সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলেছিলেন, এত সব ইতিবাচক কাজ তোমরা কর! আজ হয়তো তিনি বা তার দল সেসব কাজের ইতিবাচকতা ভুলে গেছেন।

সারা দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম
সারা দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম

চার. শিবির একটি ব্যাতিক্রমী নৈতিক যুবগোষ্ঠী (Special kind of moral force)
একটি দেশ ও জাতির জন্য মূল্যবোধ ও নৈতিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন জাতিকে নষ্ট করার জন্য সে জাতির যুবশক্তির নৈতিকতা ভেঙে দেয়াটাই যথেষ্ট। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ভেতর বাইর থেকে একটি চক্র যুবসম্প্রদায়কে নষ্ট করার যে আয়োজন করেছিল তা এখন শতগুণে চলছে। স্বাধীনতা-উত্তরকালের যুবসমাজের আস্থা তুলে ধরে সে সময়কার একজন প্রখ্যাত নেতা বলেছিলেন, ‘হাতে বালা শৃঙ্খল পরিহিত একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক প্রশাসন নামক কুশাসনের আশ্রয় প্রশ্রয়ে দেশজুড়ে তাণ্ডব অব্যাহত রেখেছিলো।’
আর তারই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আত্মপ্রকাশের দিন থেকে আজ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শিবির বাংলাদেশের বুকে একদল নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ তৈরির মিশন অব্যাহত রেখেছে। শত বাধা-বিপত্তির মুখেও শিবির তার এই মহান ব্রত পালন থেকে এক পা পেছনে হাঁটেনি।

কী ধরনের যুবক তৈরি করেছে শিবির?
প্রথমত, শিবির প্রতিটি তরুণকে ধর্মপ্রাণ, খোদাভীতিসম্পন্ন, সৎ ও পরিশ্রমী যুবক হিসেবে গড়তে চায়। শিবিরের প্রতিটি কর্মী নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করে, গভীর রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে, রাতে কিংবা সকালে কুরআন তেলাওয়াত করে, সব সময় অন্যায় থেকে দূরে থাকে, সৎকাজে সাহায্য করে। আধুনিকতার সয়লাবে হারিয়ে না গিয়ে তারা নিজেদের আলাদাভাবে রক্ষা করে থাকে।
দ্বিতীয়ত, শিবিরকর্মীরা মা-বাবা, শিক্ষক, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে। ভাইবোনদের শ্রদ্ধা ও স্নেহ করে। তারা সবাইকে সালাম দেয়। শিবিরকর্মীরা জ্ঞাতসারে কারো কোন ক্ষতি করে না। অনেক শিবির নেতাকর্মী রয়েছে যাদের মা-বাবা অন্য আদর্শের অনুসারী এবং শিবির করার কারণে ওদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। কিন্তু শিবিরকর্মীরা কখনো তাদের সাথে বেয়াদবি করে না। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখেছি তাদের নৈতিক উচ্চতা শেষ পর্যন্ত মা-বাবাসহ অন্যদের হৃদয় জয় করে নেয়।
তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে শিবির নেতাকর্মীরা অন্যায়, ঠকবাজি, দুর্নীতি ও গর্হিত কাজ থেকে দূরে থাকে। কোন শিবিরকর্মী কোন প্রকার নেশা করে না। গোটা যুবসমাজ যখন মাদকাসক্তি ও নেশার ঘোরে বিভোর তখন শিবিরের যুবকেরা এসবের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে অনড়। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ যখন নকল করে তখনও শিবির নকলমুক্ত ছাত্রসংগঠন। অনেক সময় এমন হয়েছে শিবিরের একজন সাথী নকল করার কারণে সাথী পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। তার শিক্ষকগণ শিবির নেতাদের বলেছেন, ‘আরে, আমরা তো ওকে নকলের অপরাধে শাস্তি দেইনি, তোমরা শাস্তি দিতে গেলে কেন?” শিবির মনে করে ঘুণেধরা এ সমাজকে ভালো করতে হলে তার একমাত্র প্রতিষেধক হচ্ছে ‘নৈতিক মজবুতি’। শিবিরকর্মীদের অর্থনৈতিক লেনদেনও খুব পরিষ্কার। একবার এক জোটপ্রার্থীর নির্বাচনের জন্য শিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে বেশ কিছু টাকা প্রদান করেন প্রার্থী। নির্বাচনে জেতার পর তিনি শিবিরের নেতাদের সাক্ষাৎ করতে বলেন। সাক্ষাতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ যখন তার সামনে কয়েক বস্তা ভাউচার, একটি খরচ বিবরণী ও উদ্বৃত্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা ফেরত দিলেন ঐ নেতা অভিভূত হয়ে বলেন, ‘আরে, ঐ হিসাব আর উদ্বৃত্তের জন্য তো ডাকিনি।’ কিন্তু শিবির সকল ব্যাপারেই তার জনশক্তিকে এই নৈতিক শিক্ষা দেয় যে, ‘সব সময় আল্লাহর ভয় সামনে রেখে কাজ করতে হবে।’ নৈতিকভাবে শক্ত থাকতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য এখন প্রয়োজন একদল দৃঢ়চেতা, দেশপ্রেমিক, লোভ-লালসামুক্ত, দুর্নীতির রাহুগ্রাসে হারিয়ে না যাওয়া মানুষের, এক নতুন প্রজন্মের। আর কেবলমাত্র বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরই সে প্রজন্ম তৈরির কাজটি করে যাচ্ছে নিরলসভাবে।

পাঁচ. শিবির উন্নত বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত নেতৃত্ব সরবরাহের কারখানা (leadership supply chain for developed Bangladesh)
একটি উন্নত বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন একদল সৎ সাহসী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থানের জন্য সবাই একবাক্যে এর দেশপ্রেম শূন্য, উচ্চাভিলাষী ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বকে দায়ী করে থাকেন। দেশের জন্য উপযুক্ত নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে শিবির সক্ষম এই কারণে যে শিবিরে চমৎকার একটি চেইন অব কমান্ড, নেতৃত্ব ও আনুগত্যের সমন্বয় রয়েছে। এখানে নেতৃত্বের জন্য কোন মারামারি কাড়াকাড়ি হয় না। নেতৃত্বকে সবাই মনে করে একটি বিরাট responsibility যার জন্য মানুষ ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় রয়েছে। ফলে শিবির থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যেসব তরুণ বের হয় তারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে গড়ে ওঠে। তারা হয় জনদরদি, নির্ভীক, সাহসী এবং সততার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। প্রতি বছর শিবির যে অসংখ্য ছাত্র-তরুণকে দেশের জন্য উপযুক্ত করে বের করেছে তাদের ওপর depend  করা যায়। কিন্তু কেন যে আমাদের নীতিনির্ধারকগণ সৎ মানুষদের নির্বাসিত করতে চান? কেন সৎ মানুষদের দেশ গড়ার কাজে ব্যবহার কারতে চান না?
এটি দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করা যায় শিবির একটি মানুষ তৈরির কারখানা, নেতৃত্ব তৈরির কেন্দ্র। leadership traits ও feature বলতে আমরা যা কিছু বুঝি শিবিরের মধ্যে তার সবকিছুর অসাধারণ সমারোহ রয়েছে। সে জন্য এখান থেকে দেশ ও দশের কল্যাণকামী নেতৃত্বসম্পন্ন মানুষ তৈরি হয়।

শিবির : তিমিরবিনাশী আলোর
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এক ঘনতমসায় ঘেরা। আকাশে শকুনের আনাগোনা। জাতি এক চরম হতাশায় নিমজ্জিত। এই যে প্রতিদিন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে, এই যে ধরে ধরে হত্যা করে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের গল্প বানানো হচ্ছে, এই যে মায়ের বুক খালি করা হচ্ছে, জামায়াত-শিবির নির্মূলের নীলনকশা করা হচ্ছে, এক সময়কার সন্ত্রাসী দলের নেতারা ক্ষমতায় বসে এই যে হুঙ্কার ছাড়ছেন তা সবাই জানে। পাপ বাপকেও ক্ষমা করে না। এভাবে tanget killing এর মাধ্যমে একটি আর্দশবাদী দলকে নিশ্চিহ্ন করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। যারা ঐ দুঃস্বপ্ন দেখেন তাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এটি ’৭৪-৭৫ এর বাংলাদেশ নয়। তিরিশ হাজার তরুণকে হত্যার ইতিহাস ইনু সাহেবরা ভুলতে পারেন, জাতি ভুলেনি।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে অকারণে নিষিদ্ধ দলের মতো treat  করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। শিবিরের কর্মীরা ’৭১-এ জন্মও নেয়নি। ওদের অধিকাংশই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, স্বাধীনতা-উত্তরকালের সেরা সন্তান। ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা ও ইসলামের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করাই যদি তাদের একমাত্র অপরাধ হয় তাহলে সে অপরাধে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ দায়ী। সবাই হয়তো ওদের মতো দুঃসাহসী হয়ে কাজ করতে পারেন না, কিন্তু বাংলাদেশের মুসলিম মাত্রই ইসলামকে ভালোবাসেন। আমি সরকারপ্রধানসহ দেশবাসীর কাছে একটি অনুরোধ রাখব- দেশের এই বিরাট সম্ভাবনাময় তরুণগোষ্ঠীকে দেশের কল্যাণে লাগানোর চিন্তা করুন। দয়া করে এতো সংগঠিত একটি জনগোষ্ঠীকে হেলায় দূরে ঠেলে দেবেন না। অহেতুক তাদের লাশের ওপর বর্বর নৃত্য করার অভিশপ্ত অভিলাষ পরিহার করুন সরকারি দলের নেতৃবৃন্দ। আসুন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ এই অসম সাহসী তরুণ কাফেলাকে দেশ গড়ার কাজে লাগাই, সাজাই একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

লেখক : সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
azmobaidullah@yahoo.com

SHARE

Leave a Reply