বিচারে অবিচার একটি বিজয়, কিছু সতর্কতা

মুহাম্মাদ লুৎফুর রহমান

সাঁতার যে জানে তার জন্য পুকুর, বিল, খাল সবই সমান। নদ-নদী সমুদ্রেও সে সাঁতার কাটতে অভ্যস্ত। সাধারণত সাঁতারুরা সমুদ্রে সাঁতার কাটেন না। তবে স্বাভাবিক অবস্থানের চেয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ে সাঁতার কাটতে হয় একটু সতর্কতার সাথে। মুমিন জীবন মানেই হক-বাতিল সাগরে সংগ্রাম। তাগুতি খোদাদ্রোহী শক্তি সব সময় মুমিন মুজাহিদ তথা দ্বীন ইসলামের উত্থানে থাকে ভীত-সন্ত্রস্ত। ছলে বলে কৌশলে, ভেল্কিবাজি, অপবাদ, অত্যাচার জুলুমের পাহাড়-পর্বত জুজুর ভয় দেখিয়ে ইসলামের বিজয় ঠেকাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। নবী-রাসূলদের থেকে শুরু করে যুগে যুগে পৃথিবীর সর্বত্রই তাগুতি শক্তি ইসলামের বিপ্লবী দাওয়াত কখনো সহ্য করেনি। এর স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ করতে সংগঠনের নেতৃত্ব-কর্মীবাহিনীর ওপর চালিয়েছে সীমাহীন জুলুম নির্যাতন।
তথাকথিত কিছু অপরাধের অপবাদ দিয়ে ইসলামী নেতৃত্বকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কারণ ও উদ্দেশ্য চোখে আঙুল দিয়ে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। যে যা ইচ্ছা তা করার মনোবাসনা পূরণ হলে পৃথিবীতে মহাপরাক্রমশালী সত্তা আল্লাহর প্রয়োজন হতো না। তবে ইসলামী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্র নতুন নয়। এ প্রেক্ষিতে সত্যপথের পথিকদের কৌশল, ধৈর্য, সাহসিকতা ও সতর্ক কদমে পথচলার ওপর নির্ভর করবে সফলতা ও আরেকটি বিজয়ের।
যুগের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় খোদাদ্রোহী শক্তি তিনটি স্তরে ইসলামের গতিরোধে চেষ্টা চালিয়েছে। প্রথমত, বিদ্রƒপ অপবাদ বা উপহাস; দ্বিতীয়ত, প্রলোভন ও লালসা; তৃতীয়ত, নির্যাতন ও জুলুম। এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন নির্যাতন হচ্ছে অপবাদ-বিদ্রƒপ।
রাসূল (সা)-এর নেতৃত্বে মুজাহিদগণ বদর যুদ্ধে জয়লাভের পর আরবে ইসলামী আন্দোলনের যে উত্থান শুরু হয় খন্দকের যুদ্ধ পর্যন্ত পৌঁছতে পৌঁছতেই তা এত বেশি ব্যাপকতা লাভ করে যার ফলে মুশরিক, ইহুদি, মুনাফিক ও দো-মনা সংশয়ী নির্বিশেষে সবাই এ কথা অনুভব করতে থাকে যে, এ নব উত্থিত শক্তিটিকে শুধুমাত্র অস্ত্র ও সমর শক্তির মাধ্যমে পরাস্ত করা যাবে না। প্রায় সকল যুদ্ধেই কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা মুসলমানদের তুলনায় তিনগুণ বেশি ছিল, কোন কোন যুদ্ধে তা ছিল ১২ গুণেরও বেশি। অপর দিকে জনসংখ্যার দিক দিয়েও সে সময় মুসলমানদের সংখ্যা আরবে বড়জোর ছিল দশ ভাগের একভাগ। মুসলমানদের উন্নতমানের অস্ত্রসম্ভারও এ উন্নতির মূল কারণ ছিল না। অর্থনৈতিক শক্তি ও প্রভাব প্রতিপত্তির দিক দিয়েও তাদের সাথে মুসলমানদের কোনো তুলনাই ছিল না। কাফেরদের পেছনে ছিল সমগ্র আরবের মুশরিক সমাজ ও আহলি কিতাব গোত্রগুলো। এহেন অবস্থায় যে জিনিসটি মুসলমানদের ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল সেটি ছিল তাদের চারিত্রিক ও নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব, চরিত্রের পবিত্রতা, আদর্শিক দৃঢ়তা। অন্য দিকে তারা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক নৈতিক পবিত্রতা মুসলমানদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সংহতি সৃষ্টি করে দিয়েছে। ফলত তাদের জন্য মুসলমানদের আদর্শিকভাবে মোকাবেলা সম্ভব ছিল না।
নিকৃষ্ট স্বভাবের লোকদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, তাদের চোখে যখন অন্যের গুণাবলি ও নিজের দুর্বলতাগুলো পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে এবং তারা এটাও যখন বুঝতে পারে যে, প্রতিপক্ষের সৎগুণাবলি তাকে এগিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের নিজেদের দোষ ত্রুটিগুলো তাদেরকে নিম্নগামী করছে তখন তাদের মনে নিজেদের ত্রুটিগুলো দূর করে প্রতিপক্ষের গুণাবলির আয়ত্ত করে নেবার চিন্তা জাগে না, বরং তারা চিন্তা করতে থাকে যেভাবেই হোক নিজেদের অনুরূপ দুর্বলতা তার মধ্যেও ঢুকিয়ে দিতে হবে। আর এটা সম্ভব না হলে কমপক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালাতে হবে, যাতে জনগণ বুঝতে পারে যে, প্রতিপক্ষের যতগুণই থাক, সেই সাথে তাদের কিছু না কিছু দোষ-ত্রুটিও আছে। এ হীন মানসিকতাই ইসলামের শত্র“দের কর্মতৎপরতার ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সৃষ্টির দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছে।
ইসলামী নেতৃত্ব ও কর্মীবাহিনীর নিশ্চয়ই অজানা নয় যে, রাসূল (সা) তাঁর পালকপুত্র যায়েদ ইবনে হারেসা (রা)-এর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী যয়নব (রা) বিনতে জাহশকে বিয়ে করা সংক্রান্ত বিষয়ে মদীনার মুনাফিকরা অপপ্রচারের এক বিরাট তাণ্ডব সৃষ্টি করে। বাইরে থেকে ইহুদি ও মুশরিকরাও তাদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে মিথ্যা অপবাদ রটাতে শুরু করে। তারা লবণ, মরিচ মাখিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত সব গল্প তৈরি করে চারদিকে ছড়িয়ে দিতে থাকে। এ গল্পগুলো এত ব্যাপকভাবে কৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হয় যে, মুসলমানরাও এগুলোর প্রভাবমুক্ত থাকতে পারেনি। অথচ হযরত যয়নব (রা) ছিলেন রাসূল (সা)-এর আপন ফুফু উমাইমাহ বিনতে আব্দুল মোত্তালিবের মেয়ে। তাঁর সমগ্র শৈশব-যৌবনকাল আল্লাহর রাসূলের (সা) সামনেই অতিবাহিত হয়েছিল। রাসূল (সা) নিজ উদ্যোগেই যায়েদ ইবনে হারেসার (সা) সাথে হযরত যয়নব (রা)-এর বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও নির্লজ্জ ইসলামের দুশমনরা নবী (সা)-এর ওপর জঘন্য ধরনের নৈতিক দোষারোপ করে এবং এত ব্যাপক আকারে সেগুলো ছড়ায় যে, আজো পর্যন্ত তাদের এ মিথ্যা প্রচারণার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
এরপর দ্বিতীয় হামলা করা হয় বনি মুসতালিক যুদ্ধের সময়। প্রথম হামলার চেয়ে এটি ছিল আরো মারাত্মক এবং ভয়ঙ্কর। প্রতি সফরে মহানবী (সা) লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করে একজন স্ত্রীকে সাথে নিতেন। এ সফরে হয়রত আয়েশা (রা)-এর নাম আসে। কাফেলা পথিমধ্যে যাত্রাবিরতি শেষে রওয়ানা হয়ে যায়। কিন্তু হযরত আয়েশা (রা) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে আসার সময় দেখতে পান যে তার গলার হারটি ছিঁড়ে কোথাও পড়ে গেছে। তা তিনি খুঁজতে থাকেন, এসে দেখেন কাফেলা তাঁকে রেখেই ভুলক্রমে চলে গেছে। তিনি চাদর মুড়ি দিয়ে সেখানে শুয়ে থাকেন এ চিন্তা করে যে, হাওদার মধ্যে আমাকে না পেয়ে কাফেলার কেউ না কেউ আমাকে খুঁজতে আসবে। হযরত সাফওয়ান ইবনে মু’আত্তাল সালামী (রা) এসে হযরত আয়েশা (রা)-কে চিনতে পারেন। অতঃপর তিনি তাকে উটের পিঠে চড়িয়ে মূল কাফেলার স্থানে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় কুচক্রীরা মিথ্যা অপবাদ রটাতে থাকে এবং এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল সবার আগে। চিৎকার করে বলতে থাকে “আল্লাহর কসম, এ মহিলা নিষ্কলঙ্ক অবস্থায় আসেনি। নাও, দেখো তোমাদের নবীর স্ত্রী আর একজনের সাথে রাত কাটিয়েছে।” (নাউজুবিল্লাহ)
এ প্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল (সা) পর্যন্ত হযরত আয়েশা (রা)-এর সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তাঁর পিতা হযরত আবু বকর (রা)-এর লজ্জায় মুখ ধরে রাখা ছিল মুশকিল। মুসলিম মুজাহিদদের মাঝে এ ঘটনার কোনো জবাব দেয়ার অবস্থা ছিল না। একে অপরের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একের প্রভাবে অন্যজনও প্রভাবিত হচ্ছিল। এমনকি হযরত আলী (রা) হাসসান ইবনে সাবিত (রা)সহ উল্লেখযোগ্য সাহাবীগণ এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় হযরত আয়েশা (রা)-এর পরিবর্তে অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে আল্লাহর রাসূল (সা)-কে পরামর্শ প্রদান করেন।
পরিশেষে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্যের বিজয় আর মিথ্যার পরাজয় ঘোষণা করে মুনাফিকদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে সূরা আন নূরে সুস্পষ্ট আয়াত নাজিল করলেন। যার একাংশ হচ্ছে, “যারা এ মিথ্যা অপবাদ তৈরি করে এনেছে তারা তোমাদেরই ভেতরের একটি অংশ, এ ঘটনাকে নিজেদের পক্ষে খারাপ মনে করো না বরং এর মধ্যেও তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। যে এর মধ্যে যতটা অংশ নিয়েছে সে ততটাই গোনাহ কামাই করেছে আর যে ব্যক্তি এর দায়দায়িত্বের বড় অংশ নিজের মাথায় নিয়েছে তার জন্য তো রয়েছে কঠিন শাস্তি। যখন তোমরা এটা শুনেছিলে তখনই কেন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা নিজেদের সম্পর্কে সুধারণা করোনি এবং কেন বলে দাওনি এটি সুস্পষ্ট মিথ্যা দোষারোপ।” (সূরা আন-নূর : ১১-১২)
এ ধরনের অপবাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর অবস্থান তুলে ধরেছেন। অতএব ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রঙে ঢঙে বিরোধী শক্তির জঘন্য ভূমিকা যুগের স্বাভাবিক ইতিহাস। স্থান কাল পাত্রভেদে তারা তাদের কৌশল বাজারে প্রয়োগ করলেও তাদের এ হিংস্র টার্গেট এক ও অভিন্ন। তাই ইসলামের বীর সেনানীদের তাগুতি শক্তির জুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দৃঢ়চিত্তে কয়েকটি মৌলিক দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস : ইসলামী আন্দোলনের প্রতিকূল পরিবেশে প্রয়োজন মহান আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস। যুগে যুগে এ পথ পরিক্রমায় ইসলামের বিজয় কেতন উচ্চকিত হয়েছিল। এর মাধ্যমেই হক-বাতিলের, মুমিন-মুনাফিক, মুজাহিদ-কাপুরুষ, সত্য-অসত্য যাচাই বাছাই হয়। মহান আল্লাহ সূরা বাকারার ২১৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেন, “তোমরা কি ধারণা করছো যে, বিনা যাচাই-বাছাইয়ে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বেকার সত্য পথযাত্রীগণ চরম অত্যাচার বিপদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এ অসহনীয় জুলুমের প্রেক্ষিতে মুমিনগণ আল্লাহর রাসূল (সা)-কে বলেছিলেন, কখন আমাদের জন্য আল্লাহর সাহায্য আসবে? তোমরা স্মরণে রাখ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটেই।”
মুনাফেকি চিন্তা-চেতনা থেকে নিজকে মুক্ত রাখা : অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা যতই বৃদ্ধি পায় মুমিন মনেও বিভিন্ন শয়তানি ওয়াসওয়াসা বাড়তে থাকে। শয়তান বিভিন্নভাবে কুমন্ত্রণা দিতে সচেষ্ট হয়। এমতাবস্থায় সত্যপথের যাত্রীগণ নিখুঁত আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজকে নিফাকি আচরণ থেকে রক্ষা করবেন। সত্যের পথ থেকে সরে দাঁড়িয়ে অথবা এহেন পরিস্থিতিতে নীরবে নিভৃতে আল্লাহর বন্দেগিতে সময় কাটিয়ে দিতে মনের মাঝে বিভিন্ন ধারণার উদ্রেক হয়। মুমিন মুজাহিদদের এ ধরনের আচরণ থেকে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন, “আর মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যারা কিনারায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর বন্দেগি করে, যদি তাতে তার উপকার হয় তাহলে তাদের চিত্ত প্রশস্ত হয়ে যায়, আর যদি কোনো বিপদ আসে তাহলে পেছনে ফিরে যায়। তার দুনিয়াও গেলো এবং আখেরাতও, এ হচ্ছে সুষ্পষ্ট ক্ষতি।” (সূরাতুল হজ : ১১)
তাগুতি শক্তির এ হীন তৎপরতা আল্লাহ সম্যক অবগত : তাগুতি খোদাদ্রোহীরা যতই শক্তিধর আর কোশলীই হোক না কেন ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের পরিচালিত সকল তৎপরতার ব্যাপারে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহতায়ালা সম্যক অবগত আছেন। তাঁর দৃষ্টির বাইরে একটি ধূলিকণা, পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গ আসমান-পাতালে নেই, সকলের কর্মতৎপরতা তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন। আল্লাহ বলেন, “পূর্ব-পশ্চিম সবই আল্লাহর, যে দিকেই তুমি মুখ ফিরাবে, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান, নিশ্চয়ই আল্লাহর বিশালত্ব সীমাহীন ও তিনি সর্বজ্ঞ।” (সূরা বাকারা : ১১৫)
কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়া : ইসলামের দুশমনরা সত্যের গতিরোধে একদিকে সরাসরি এর নেতৃত্ব-কর্মীবাহিনীর ওপর জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রাখবে, অন্য দিকে এর অনুসারীদের বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাইবে। রাষ্ট্রীয় তথ্যসন্ত্রাস থেকে শুরু করে সকল বাহন তারা অবলম্বন করবে। আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্ত্র সৃষ্টি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই ইসলামের দুশমনদের অপপ্রচারে কান দেয়ার সুযোগ নেই।
সত্যের ব্যাপারে আপসরফার চিন্তা মাথায় না রাখা : এটি নির্ভেজাল সত্য যে, জুলুম-নির্যাতনের পথ ধরেই ইসলামী আন্দোলনের গতি আরো মজবুত হয়। আন্দোলনের নিখুঁত ছাকুনিতে শুদ্ধতা ফুটে ওঠে। জালেমদের মূল টাগের্টই থাকে তাদের এ হিংস্র কর্মকাণ্ডে আলোর পথযাত্রীগণ ভড়কে যাবে। ভয়ে তটস্থ হয়ে সত্যের পথ ছেড়ে তাদের সাথে আপস করতে বাধ্য হবে। এমনকি কোনো কোনো সময় তারা ইসলামের মূল নেতৃত্বসহ বিভিন্ন স্তরে লোভ-লালসা, নানাবিধ সুযোগ সুবিধার অবারিত অফার দেবে। আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সা)-এর জীবনেও যার ব্যত্যয় ঘটেনি। ক্ষেত্রবিশেষে ইসলামের দুশমনরা হিতাকাক্সক্ষী সেজে গোপনে-প্রকাশ্যে অনেক আহবান জানাবে, প্রতিশ্র“তি দেবে, সর্বাবস্থায় সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
দলীয় ভাঙন ও বিশৃঙ্খলা রোধে ইস্পাতকঠিন ঐক্যের প্রাচীর নির্মাণ : ইসলামের বিজয় ঠেকাতে এর শত্র“রা হত্যা, নির্যাতন, বন্দী, মামলা-হামলা, বিচার-প্রহসন ইত্যাদির পাশাপাশি আদর্শিক ও সাংগঠনিক ভিতকে ধ্বংস করতে দলের ঐক্যের মাঝে ভাঙনের চর সৃষ্টি করবে। দলের মাঝে বিভিন্ন অ্যাজেন্সির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করবে। নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে এ নেতৃত্ব সরিয়ে নতুন মডার্ন নেতৃত্ব (!) চাইতে দলের মাঝে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করবে। আন্দোলনের কোনো পলিসি কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনার ঝড় তোলার চেষ্টা করবে। কারণ জালেমদের নিকট ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও নেতৃত্বের পারস্পরিক সীসাঢালা ঐক্যের সম্পর্ক প্রাচীর সবচেয়ে বেশি হুমকিস্বরূপ। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য রক্ষায় সকলের আপসহীন ভূমিকা একান্ত প্রয়োজন।
জুলুম-নির্যাতনের নতুন নতুন ধরন দেখে বিচলিত না হওয়া : তাগুতি শক্তি জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে শুধু কোণঠাসাই করবে না, সাথে সাথে এর কার্যকর ফলানায়নে নতুন নতুন ফর্মুলা নিয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করবে। কখনো তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে যেনতেনভাবে আইন পাস করাবে। সংবিধানে তাদের মনোপূত ধারা সংযোজন করবে। বিচারালয়, প্রশাসনে বিবেকবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালাবে। মানবাধিকারের নিম্নস্তরে গিয়ে হত্যা, গুম, রিমান্ড, জেল-জুলুম মামলার আশ্রয় নেবে। সাবোটাজ কোনো ঘটনা ঘটাবে। এমতাবস্থায় ইসলামের অনুসারীগণ বিচলিত হয়ে ময়দান ছেড়ে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। এর প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর নির্দেশিকা হচ্ছে, “যাদেরকে লোকেরা বলছে যে, তোমাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য বহু সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে (শত্র“পক্ষ) জনসমাবেশ করছে। অতএব তাদের ভয় কর। তখন এ খবর শুনে তাদের (মুমিনদের) ঈমান আরো দৃঢ়তর হয় এবং মুমিনগণ বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি কতই না সফলতা দানকারী।”
দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে নিজের কোনো দৃষ্টিভঙ্গি না রাখা : পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্য। আপাতদৃষ্টিতে সংগঠনের কোনো সিদ্ধান্ত বা পলিসি নিজের মনোপূত না হলেও ইবাদতের পূর্ণ অনুভূতিসহ সংগঠনের পলিসি বাস্তবায়নে আপসহীন আনুগত্য জারি রাখা। হতে পারে এহেন প্রতিকূলতায় একজন নেতা বা কর্মীর অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড, কোনো বক্তব্য-মন্তব্যকে পুঁজি করে বিরোধী পক্ষ আন্দোলনের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। আল্লাহ না করুন অগ্রসরমান সম্ভাবনাময়ী একটি আন্দোলন এ কারণেই নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ বলেছেন, “আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা) এর আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর নাফরমানি হতে দূরে থাকে সে সফলকাম।” (সূরা আন-নূর : ৫২)
ব্যক্তিগত নৈতিক মানোন্নয়ন ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয় থাকা : আন্দোলনের প্রতিকূল সময়ে সাধারণ জনশক্তির গঠনমূলক ট্রেনিং কর্মসূচি, সামষ্টিক মোটিভেশনাল ওয়ার্ক কম হওয়ায় ব্যক্তির নৈতিক আমলে দুর্বলতা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে স্ব-উদ্যোগে নৈতিক মান সংরক্ষণ, দ্বীনের দাওয়াতি কাজ অব্যাহত রাখা এবং স্বাভাবিক সাংগঠনিক দায়িত্ব সক্রিয়ভাবে পালন করা। এতে নিজের আদর্শিক মান ঠিক থাকবে এবং আন্দোলনে অন্যান্যদের অবস্থানও সুসংহত হবে। তাই নিয়মিত সরাসরি কুরআন-হাদিস, ইসলামী সাহিত্য, সাহাবা আজমাইন (রা) এবং পৃথিবীর ত্যাগী আন্দোলনের ইতিহাস বেশি বেশি অধ্যয়ন একান্ত প্রয়োজন।
জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা : ইসলামের শত্র“দের টার্গেটই থাকে যে, তারা জুলুম-নির্যাতন আর অপপ্রচার-মিথ্যাচারের মাধ্যমে আন্দোলনকে জনবিচ্ছিন্ন করার। তাই আমাদের জানা উচিত, মানুষ জন্মগতভাবেই বিবেকসচেতন, দেশ-বিদেশে জালেমদের মুখোশ উন্মোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য সকল প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যাবশ্যক। সৎ, যোগ্য, নিরীহ, মজলুম জনগণের পক্ষে একটা পর্যায়ে জনমত সৃষ্টি হবেই, ক্ষোভের দানা বেঁধে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠবে জালেমদের বিরুদ্ধে।
কোনো পাতানো ফাঁদে পা না দেয়া : খোদাদ্রোহী শক্তি ইসলামের উত্থান ঠেকাতে ছলে বলে কৌশলে তৎপর থাকবেই। শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাততে থাকবে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, অমুসলিমদের ওপর হামলা, কর্মীদের উসকে দেয়া, ধর্মীয় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করবে। আন্দোলনের ভাবমূর্তিকে সর্বত্র হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন কূটকৌশলের ব্যাপারে মুমিন মুজাহিদদের সতর্ক থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। সুযোগ বুঝে তারা সাধারণ জনগণকে ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইবে।
নফল ইবাদতসহ আল্লাহর মদদপ্রাপ্তিতে নিয়োজিত হওয়া : আল্লাহর মদদই সকল পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলনকে জালেমের কশাঘাত থেকে নিরাপদে রাখবে। কারণ এ আন্দোলন রক্ষার দায়িত্ব শুধু আমাদের নয়, মহান আল্লাহও এ দায়িত্বের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। গোপন-প্রকাশ্য সকল ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে আল্লাহ খবর রাখেন। তাঁর দৃষ্টির বাইরে কিছুই হচ্ছে না। তাই আল্লাহর দলের কর্মীদের প্রতিকূল পরিবেশে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর মদদপ্রাপ্তিতে এ সময় বেশি বেশি নফল ইবাদত, তাহাজ্জুদ গোজার, নফল রোজা, দান-সদকা ইত্যাদির প্রতি বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন।
এ জুলুম নির্যাতন সাময়িক : রাতের আঁধার কখনো স্থায়ী হয় না। একদিন ভোরের সোনালি নকিব উদিত হবেই। তাই আদর্শিক আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের ওপর জালেমের জুলুম নির্যাতন একদিন বন্ধ হতে বাধ্য। পুলিশি নির্যাতন, রিমান্ড, মামলা, হামলা, গ্রেফতার, গুম, হত্যা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড যত নির্মমই হোক বা কেন এর একটি পরিসমাপ্তি আছে। ফেরাউন-নমরূদসহ পৃথিবীর কোনো লৌহমানবই নির্যাতনের পথ অবলম্বন করে তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। সূরা আল ইমরানের ১৭৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “হে রাসূল (সা)! কাফেরদের হটকারী তৎপরতা যেন আপনাকে বিচলিত না করে, নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।” সূরা আস সফের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তারা ফুৎকার দিয়ে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্ত হচ্ছে তিনি তাঁর নূরকে (দ্বীন) অবশ্যই প্রজ্ব¡লিত রাখবেন তা কাফেরদের নিকট যতই অপছন্দনীয় হোক না কেন।”
বিনা বাধায় আন্দোলন এগিয়ে যাওয়া শুধু এটিই সফলতার মাপকাঠি নয় : দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়া অগ্রসর হওয়া স্বাভাবিক সুন্নত নয়। আন্দোলনের সামনে প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা ব্যর্থ, প্রতিকূলতা না থাকলে তা সফল এটা একেবারেই ভুল ধারণা। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই আন্দোলন বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তাই সংখ্যাধিক্যতা, বিরোধী শক্তির স্নেহ-সমাদর এগুলোকে ইসলামী আন্দোলনের সফলতা-ব্যর্থতার মাপকাঠি বানানোর কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর পথে শহীদ-গাজী, আহত-নিহত উভয়ই সফল বলে স্বীকৃত। আল্লাহ বলেছেন, “আর যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে তারা শহীদ হোক অথবা গাজী সফল অবস্থায়ই তাদেরকে অফুরন্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।” (সূরা আন নিসা : ৭৪)
টার্গেট ইসলাম, ব্যক্তি নয় : ইসলামের শত্র“দের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা ছলে বলে কৌশলে ব্যক্তিকে টার্গেট করবে যাতে সাধারণ জনগণ তাদের কূটকৌশল বুঝতে না পারে। কিন্তু এর মাধ্যমে তাদের আসল টার্গেট হচ্ছে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন। এ জন্য তারা সত্য প্রতিষ্ঠার সিপাহসালারদের চরিত্রহনন, ব্যক্তিগত-পারিবারিক বা অর্থনৈতিক কোনো স্ক্যান্ডালে ফেলে দিয়ে জুলুমের একটি ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করে। যারা ইসলামের নেতৃত্ব প্রদান করে তাদেরকে শেষ করে দিতে পারলেই তারা মনে করে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করা যাবে, দুনিয়াতে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে।
নির্যাতিতদের পরিবার পরিজনকে সর্বোচ্চ সবর করা : দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে সম্পৃক্ততাই সত্যের সেনানীদের মূল অপরাধ। ফলত তাদের ওপর নেমে আসে খোদাদ্রোহী শক্তির সকল আক্রোশ। মিথ্যা অজুহাত তুলে চলতে থাকে বাতিলের নিষ্ঠুর নির্যাতন। ক্ষেত্রবিশেষে তারা সত্যের পথিকদের পরিবার পরিজনকেও নির্যাতনের আওতায় আনতে দ্বিধা করে না। এমতাবস্থায় ইসলামী আন্দোলনের নির্যাতিতদের পরিবারের সদস্যগণ সবরে জামিলের পন্থা অবলম্বন জরুরি। বাতিলের কাছে মাথা নোয়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এ জুলুমের বদৌলতে মহান রব আপনাকেও পরকালে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করবেন। তাই এটা আপনার জন্য জান্নাতে গমনের একটি সুযোগ ও একটি পরীক্ষা। আন্দোলনের দৃষ্টিভঙ্গিই এক্ষেত্রে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি হবে এটিই স্বাভাবিক। পাশাপাশি শত্র“পক্ষের কারো ওপর কোনো প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তার সুযোগ নেই। সকল জুলুম নির্যাতনের বদলা দ্বীনকে বিজয়ী করার মাধ্যমেই নেয়া হবে।
তবে সফলতা দুনিয়াতেও আসবে : মু’মিন মুজাহিদগণ জালেমদের নির্যাতন নীরবে সইবে, পরকালে তারা এ জন্য পুরস্কার পাবে তাই নয়, তাঁরা অবশ্যই দুনিয়াতেও এর প্রতিদান প্রাপ্য হবে। তাই ফল প্রাপ্তিতে অতি তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই। এটি আল্লাহর সুন্নতও নয়। সর্বোত্তম সবর এবং সাহসিকতার মাধ্যমে ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, “এটি আল্লাহর সুন্নাত নয় যে আল্লাহ মুমিনগণ এখন যে অবস্থায় আছে সবসময় এ অবস্থায় রেখে দেবেন। (এ জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে) তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে তিনি পবিত্র লোকদেরকে নাপাক লোকদের থেকে আলাদা করবেন। কিন্তু এটিও আল্লাহর সুন্নত নয় যে, তিনি তোমাদেরকে গায়েব জানিয়ে দিবেন।” (সূরা আল ইমরান : ১৭৯)
সর্বোপরি দ্বীন প্রতিষ্ঠার বীর সেনানীদের ওপর জুলম-নির্যাতন এ আন্দোলনের জন্য অক্সিজেন, জুলম-নির্যাতনের মাধ্যমেই আন্দোলনের শিকড় আরো সুদৃঢ় হয়। জনশক্তির ঈমানী কুওয়াত বৃদ্ধি পায়, ভালো-মন্দ যাচাই বাছাই হয়। আর এভাবেই দ্বীনের বিজয় ত্বরান্বিত হয়।
বৈষয়িক ও ইসলামী আন্দোলন সকল ময়দানেই ত্যাগের প্রয়োজন। পৃথিবীতে এমন একটি বিপ্লবী আন্দোলন আছে কী যে তারা ত্যাগ-কুরবানিবিহীন বিজয় লাভ করেছে? আজ শুধু যে ইসলামের অনুসারীগণ নির্যাতন সহ্য করছে, শাহাদাত, কারাবরণ করছে তাই নয়, বস্তুবাদী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও দুনিয়ার জন্য জীবন দিতে পিছিয়ে নেই। জালেমি হুঙ্কারে ভীত সন্ত্রস্ত হবার কারণ নেই। জালেমদের উত্থান বুদবুদের ন্যায় সাময়িক। জালেমরাও কম পেরেশানিতে নেই। তাই তারা মরণ কামড় দিয়েছে। বরঞ্চ তাদের পেরেশানি মজলুমদের চেয়ে অনেক বেশি। সুতরাং জুলুমের অন্তরালে লুক্কায়িত আছে ইসলামের বিজয় কেতন। কোনো অপশক্তিই এ আদর্শিক আন্দোলনের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না। জুলুম নির্যাতনের স্নানে ইসলামী আন্দোলনের অগ্রপুরুষগণের নৈতিক বলিষ্ঠতা আরো বেশি উচ্চকিত হবে, প্রমাণিত হবে তাঁদের সত্যের ব্যাপারে আপসহীনতা, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে তাদের পবিত্র চরিত্রের সৌরভ, উদ্ভাসিত হবে জনতার বিজয়। লক্ষ-অজুত কণ্ঠে ধ্বনি উঠবে- ‘জাআল হাক্কু অ জাহাক্বাল বাতিল, ইন্নাল বাতিলা কানা যাহুক্বা’, ‘সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত, মিথ্যার পতন অবশ্যম্ভাবী।’

SHARE

Leave a Reply