বিজয়ের চেতনা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। গত সংখ্যার বিষয় ছিল “বিজয়ের চেতনা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ”। এ সংখ্যার বিষয়
“ভাষার লড়াই”। লিখবেন ২৫০ থেকে ৩০০ শব্দের মধ্যে। A4 সাইজের ফুলস্কেপ সাদা কাগজের একপিঠে যথেষ্ট পরিমাণ ফাঁক রেখে লিখতে হবে। লেখার নিচে আপনার পূর্ণ নাম ও ঠিকানা থাকতে হবে। খামের উপরে অবশ্যই “পাঠক চিন্তা” কথাটি লিখে দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ফটোকপি বা নিউজপ্রিন্ট কাগজে লেখা গ্রহণযোগ্য হবে না।
ই-মেইলেও লেখা পাঠানো যাবে : chhatra_sangbad@yahoo.com। -বিভাগীয় সম্পাদক

চেতনা শব্দটির অর্থ হলো জ্ঞান, সজ্ঞা, অনুভূতি ইত্যাদি। কোন ভালো বিষয়ের সঙ্গে শব্দটি ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিজয় শব্দটি দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনকে বোঝায়। সুতরাং বিজয়ের চেতনার অর্থ স্বাধীনতার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে রাংলাদেশকে গড়ে তোলা।
স্বাধীন সুলতানি আমলে বাংলাদেশ এক ঐশ্বর্যশালী দেশ হিসেবে বিশ্বসমাজে সমাদৃত হতো। ১৭৫৭ সালে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাধীনতার এক দুর্বিষহ জীবন কাটাতে বাধ্য হয়। এ সময়ে দেশটি কেবল কলকাতা ও ড্যান্ডির পশ্চাদক্ষেত্র (Hinterland) হিসেবে ‘বাঙ্গাল’ নামে টিকে ছিল। ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত স্বাধীন হলে বাংলাদেশে তৎকালীন প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যক্তিত্ব শ্রেণী বলতে হিন্দুরা ভারতে চলে যান। অপর দিকে ভারত থেকে অসহায় মুসলিম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। পূর্ববঙ্গকে এমন কৌশলে ভাগ করা হয় ফলে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অবকাঠামো ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংযোগগুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাক জান্তা শুরুতেই স্বাধীন সত্তা বিকাশের প্রধান অবলম্বন মুখের ভাষাকে স্তব্ধ করে দেয়ার প্রয়াস চালিয়ে এক জাতি-সত্তা বিশ্বাসের ওপর আঘাত হেনে আমাদের আস্থা হারিয়ে ফেলে। এরপর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসন চালিয়ে গণতন্ত্র বিকাশের সব পথকে রুদ্ধ করে বাংলাদেশকে শাসন করতে থাকে। ফলে, ব্রিটিশ শাসনামলের মতোই আবারো আমাদের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে হলো। পরিভাষায় এ আন্দোলনগুলো নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ছিল কিন্তু চেতনাগতভাবে আমাদের মধ্যে কতটুকু অর্থবহ রাজনৈতিক মানসিকতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হযেছিল তা আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যারোমিটার লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়। একটি স্বাধীন দেশের জন্য আকাক্সিক্ষত রাজনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে গণতস্ত্র। কেয়ারটেকার সরকারপদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন ও রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে স্বাধীন বাংলাদেশ উপযোগী যতটুকু কল্যাণমুখী রাজনীতি জনগণের কাছে বিকশিত হচ্ছিল সে সাফল্যটুকুও এক শ্রেণী স্বার্থান্বেষী সহ্য করতে পারল না।
তাই, ‘বিজয়ের চেতনা’ আগের মতই এখনও কেবল মুখরোচক এবং নির্বাচনী প্রচারণা-শ্লোগান হিসেবে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সচেষ্ট রয়েছে। আমাদের বিজয়ের চেতনা প্রকৃত অর্থে উপলব্ধি ও এর সুফল ভোগ করতে হলে স্বাধীনতার সম্পূরক চেতনা সুষ্ঠু গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতেই হবে।
মু. আমিনুল ইসলাম
মূলাটোল, রংপুর

SHARE

Leave a Reply