বিজয় রক্ষায় চাই ১০০ ভাগ দেশপ্রেম

আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করেছি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল নিয়াজী। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এটি ছিল একটি বড় ধরনের পরাজয়। এই দলিলে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে পরাজয় মেনে নিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বিজয়ী হলো বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য গড়ে তোলা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যগণ, এককথায় ‘মিত্রবাহিনী’। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। ভারতের ইতিহাসে এটি পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের বিজয়। আর সেজন্যই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীকে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের কোথাও দেখা যায়নি, এমনকি একজন স্বাক্ষী হিসেবেও নয়। ভারতীয়গণ তাদের এই বিজয়ের দলিলে কোথাও আমাদের কোনো হিস্যা রাখেননি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরেও এমন কোনো দলিল নেই যা দিয়ে একথা প্রমাণ করা যায় যে, পাকিস্তান সেনাপ্রধান বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
আমাদের বিজয়ের ৪১তম বর্ষ এবার
৪১ বছর ধরেই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছেÑ ১৬ ডিসেম্বরে আসলে কার বিজয় হয়েছে? আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আবালবৃদ্ধবনিতার প্রাণপ্রিয় মুক্তিযোদ্ধারাই কি বিজয়ী হয়েছেন নাকি ভারতীয় সেনাবাহিনী অর্থাৎ ভারতীয়গণ বিজয়ী হয়েছেন? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সামনে রেখে ভারত তার এক সুদীর্ঘকালের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সহযোগিতা প্রদান করার নামে ভারত একটি চানক্যনীতি প্রয়োগ করে সুকৌশলে ভূ-রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তান নামক তার চির দুশমনকে পরাজিত করে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিয়ে, অস্ত্র সহায়তা দিয়ে একটি দুর্বল ভূখণ্ড হিসেবে স্বাধীন হতে সহায়তা করে। আর সেই থেকে ক্রমাগত ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে দুর্বল ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে জিইয়ে রেখে নিজের আধিপত্যবাদী চরিত্র বজায় রেখে চলছে ভারত।
বিজয়ের সাধ : সাধের বিজয়
আমাদের সাধ ছিল আমরা হাজার বছরের স্বাধীনতার গৌরবকে ধারণ করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিগড় থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়বো। ৭ মার্চের ওই জাদুকরী ঘোষণাÑ “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” যে আবেগে আমাদেরকে উজ্জীবিত করেছিল, জাগিয়ে তুলেছিলÑ সেই আবেগ ও উদ্দীপনা কি সত্যি সত্যি বাস্তবায়িত হয়েছে? মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন কল্পনাও করেননি যে তারা কারও ক্রীড়নক হতে যাচ্ছেন। তারা সেদিন মায়ের কোল ছেড়ে, স্ত্রীর বাহুবন্ধন মুক্ত হয়ে, সন্তানের মায়া ভুলে যার যা আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকার ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে তারা জীবনপণ লড়াই করেছেন। তাদের শুধু একটিই স্বপ্ন সাধ ছিলÑ বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। স্বাধীন দেশের মানুষ হিসেবে তারা আত্মমর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকবেন। কিন্তু আজ যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশ্ন করিÑ এসেছে কি আপনার সাধের বিজয়? ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে তিনি উল্টো প্রশ্ন করবেনÑ কার বিজয়, কিসের বিজয়? ৪০ বছর পরে আজো আমরা ভৌগোলিকভাবে বিজয়ী নই। আমাদের মানচিত্রের চারিদিক ঘিরে আছে নিষাদ শায়ক। ভাটির দেশ বাংলাদেশের উজানে অসংখ্য বাঁধ ও গ্রোয়েন নির্মাণ করে বাংলাদেশকে একটি কৃত্রিম মরুভূমিতে পরিণত করছে ভারত। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার দোহাই দিয়ে, মাত্র কিছুদিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালুর অনুমতি নিয়ে সেই যে ফারাক্কা বাঁধ চালু করেছে তারা, আর কখনো বন্ধ করেনি।
Ñএই ছিল ভারতের প্রথম বিজয়। আন্তর্জাতিক রীতিনীতির কোনরূপ তোয়াক্কা না করে ভারত একইভাবে অন্য নদীগুলোতেও বাঁধ নির্মাণ করছে। বরাক নদীতে বাঁধ দিয়ে শুকিয়ে মারতে চাইছে বৃহত্তর সিলেটকে। সকল বড় নদীর উৎসমুখ যেহেতু ভারতে, ভারত চাইছে সবগুলো নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশকে তার করতলগত রাজ্যে পরিণত করতে।
একইভাবে যদি ভাষার প্রশ্নে আসা যায়, যদি সংস্কৃতির প্রশ্নে আসা যায়Ñ সেখানেও আমরা ক্রমাগত পরাজিত হতে যাচ্ছি। বাংলা ভাষায় হিন্দি ও সংস্কৃতির আগ্রাসন চলছে, ভারতীয় চ্যানেলের অবাধ প্রচার এদেশের সংস্কৃতিকে কলুষিত করছে প্রতিনিয়ত। অথচ ভারতে বাংলাদেশের চ্যানেলের প্রচার এতটা সীমিত যে তাকে নিষিদ্ধের পর্যায়ে ফেলা যায় অনায়াসে। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে জীবন দিয়ে আমরা যে ভাষার স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, সে ভাষা যেন তার স্বকীয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা হারাতে যাচ্ছে। যাদের বাসায় টিভি আছে এমন প্রতিটি বাসাতেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তোতাপাখির মতো ডরিমনের বুলি আওড়াচ্ছে। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিজয় কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে সেটি আজ একটি বড় ধরনের প্রশ্ন।
আর আমাদের অর্থনৈতিক বিজয়? সেই বিজয়তো সুদূর পরাহত। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই একটি শিল্পনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিবর্তে একটি ভোক্তাবাজারনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এই ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতীয় পণ্যের একটি অবাধ বাজার। বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য মূলত একটি অসম বাণিজ্য। বাংলাদেশ বহুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য আমদানি করে থাকে, সে তুলনায় রফতানি করে যৎসামান্য। এই যে ভারসাম্যহীন বাণিজ্যপ্রবাহ, তা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে ভারতনির্ভর করে তুলছে। এটিই ভারতের সবচয়ে বড় বিজয়।
বিগত ৪১ বছরে বাংলাদেশকে ভারত সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ পরাজিত দেশে পরিণত করেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে পরবর্তীকালে বাংলাদেশের কোনো সামরিক তথ্যই ভারতের কাছে গোপন নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাগণ ভারতের হাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। দীর্ঘদিন সামরিক শাসন জারি থাকাকালীন সময়ে সামরিক জান্তাগণ ভারতের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদপুষ্ট থেকেছে। তারা ভারতের সকল প্রকার বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিলো। বাংলাদেশের সকল সামরিক অভ্যুত্থানের নায়কেরা ভারতের সহযোগিতা নিয়েছিলো। এখনো বারবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির উত্থানের কথা বলে জুজুর ভয় দেখানো হয়। এসবই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ব্যাপারে জনগণকে সংশয়ী করে তোলে। বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার আড়ালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকষ ও দেশপ্রেমিক অফিসারদের যে রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলো বাংলাদেশ কখনো এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে না। বিদগ্ধজন মনে করেন এটিও আমাদের পরাজয়।
তাহলে বিজয় কি আসবে না?
হ্যাঁ, ৪১ বছর ধরে স্বাধীনতা ও বিজয়কে যারা খুঁজে ফিরছেন সেই দেশপ্রেমিক, হতাশাক্লিষ্ট অথচ আশাবাদী মানুষদের মনে আজ এই প্রশ্নটি বারবার ঘুরে ফিরে আসছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর এই প্রশ্নের কী জবাব হতে পারে আজ?
সেই রুশ পণ্ডিতের কথা মনে পড়ছে। তিনি কখনোই একজন অদৃশ্য খোদায় বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু বাংলাদেশে এসে তার চিন্তায় পরিবর্তন আসে। এদেশে এসে তিনি অবাক হয়ে দেখেন আকণ্ঠ অনিয়ম, দুর্নীতি ও হতাশায় নিমজ্জিত বাংলাদেশ টিকে থাকছে কিভাবে? তার মনে হয়েছে একমাত্র একজন অদৃশ্য শক্তিমানই বাংলাদেশকে প্রতিটি সঙ্কটে আপন দয়া ও মহিমায় টিকিয়ে রেখেছেন।
বাংলাদেশ হাজারো সম্ভাবনায় ভরা এক সবুজ শ্যামল ভূখণ্ড যার রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম উর্বর মাটি, তার চেয়েও কর্মক্ষম একদল পরিশ্রমী জনগণ। এসব মানুষেরা সকল সঙ্কটে, সংগ্রামে অকুতোভয়, সাহসে বলীয়ান এবং সঠিক নেতৃত্বের অধীন সবসময়ই পারঙ্গম একটি জাতি। জনগণের এই হাতগুলোকে কর্মীর হাতে পরিণত করে এদেশে যে কোনো মিরাকল ঘটানো সম্ভব। এখনো এদেশের ১৫ কোটি মানুষ কেবলমাত্র জনসংখ্যা নয়, এটিকে সহজেই জনসম্পদে (ঐঁসধহ জবংড়ঁৎপব) পরিণত করা যায়। এজন্য চাই একটি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা (চবৎংঢ়বপঃরাব চষধহ), সম্মিলিত প্রয়াস (ঈড়ষষবপঃরাব ঊভভড়ৎঃং) এবং সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় অভেদ্য ঐক্য।
কয়েকটি বিবেচ্য বিষয়
এক- বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে দেশকে যে বিভেদের রাজনীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তা অবিমৃষ্যকারিতা বৈ নয়। দেশকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। পুলিশ-আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সমন্বয়ে যে নির্যাতক বাহিনীর জন্ম দেয়া হচ্ছে তা কিন্তু ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে না। এভাবে তারা প্রকারান্তরে নিজেদেরকে গণবিচ্ছিন্ন, গণদুশমন হিসেবে আবির্ভূত করছেন। মনে হয় দেয়ালের লেখা পড়তে তারা ভুল করছেন। নিকট অতীত হতে শিক্ষা নেয়ার এটিই সময়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা হচ্ছে- ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।
দুই- সরকার প্রকৃত সমস্যাকে একদিকে রেখে কতিপয় মীমাংসিত বিষয়ে বিতর্ক জন্ম দিয়ে দেশকে একটি অরাজক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে যে প্রহসন চলছে- এদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকই সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। কিন্তু, পুলিশি নির্যাতন, দলীয় গুণ্ডাদের তাণ্ডব আর বিচার বিভাগের দলীয়করণের ফলে সাময়িকভাবে মানুষ চুপ করে আছে। এটি যেনো প্রলয়ের আগে প্রকৃতির নিস্তব্ধতা। ভেতরে ভেতরে মানুষ ফুঁসে উঠছে। নির্যাতন-নিষ্পেষণের স্টিমরোলার চালিয়ে বেশিদিন তা দমিয়ে রাখা যাবে না।
যেসব তরুণদের সরকার জেল-জুলুম-হুলিয়া ও সশস্ত্র সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে দমাতে চাইছেন তারাও কিন্তু মানুষ। রক্তমাংসের মানুষ। মনে হচ্ছে সরকার বেশি মাত্রায় তাদের রক্তে বারুদ ঢেলে দিচ্ছেন। ইতিহাস স্বাক্ষী- এসবের পরিণতি ভালো হয় না।
তিন- বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জামায়াত-শিবির ও ইসলামী দলসমূহ একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার যদি একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ জরিপ চালান তাহলে দেখতে পাবেন এদেশের মানুষ ইসলামকে বাদ দিয়ে রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতি কিছুই চায় না। এ জন্য অতীত ও বর্তমানের সব সরকার ইসলামের দোহাই দিয়ে জনসমর্থন ঠিক রেখেছেন। বর্তমান সরকারও সকল নির্বাচনে “নৌকার মালিক তুই আল্লাহ” শ্লোগান ও তসবিহ-হিজাবের চর্চা অব্যাহত রেখেছেন।
একটি মজবুত ভিত্তিসম্পন্ন রাজনৈতিক দল, কালের কণ্ঠের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে দেশে যার পাঁচ লক্ষাধিক একটিভিস্ট রয়েছে, অসংখ্য সমর্থক রয়েছে, তাদেরকে ভেবেচিন্তে কাউন্টে না নিলে ভুল করবেন। আর ভুলবেন না, এরা ভারত বা পাকিস্তান থেকে ভেসে আসা মুহাজির নয়। দেশের প্রতিটি মানুষের সাথে তাদের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। এরা এদেশ, এ জনপদের মানুষ। সরকার যেন একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে পরিকল্পিতভাবে গোপন সশস্ত্র দলে পরিণত করার অপকৌশলে লিপ্ত হচ্ছেন। এটি কোনো সুস্থতার লক্ষণ নয়। এ জাতীয় খেলায় নেমে সরকার বড় ধরনের ভুল করবেন।
চার- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যে দেশপ্রেমিক ও বলিষ্ঠ সশস্ত্র বাহিনী দরকার তার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে পরপর কয়েকটি ঘটনায়। বিএসএফ এখন কথায় কথায় বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিডিআর-এর মতো শক্ত কোনো ভূমিকা রাখছে না বা রাখতে পারছে না। এখন এদেশে দরকার একদল দেশপ্রেমিক-লড়াকু জনগোষ্ঠী। আমরা নিজেদের প্রশ্ন করে দেখতে পারিÑ এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করার জন্য কোনো রাজনৈতিক দল, দলসমূহ প্রস্তুত রয়েছে?
এদেশে একটি বহুল প্রচলিত শ্লোগান রয়েছেÑ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়/দলের চেয়ে দেশ বড়।” কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, প্রায়োগিক বিবেচনায় কাজ হচ্ছে ঠিক উল্টো। এখানে অধিকাংশ মানুষের প্রবণতা বলছেÑ দেশের চেয়ে দল বড়/দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। এর প্রধান কারণ আমাদের দুর্নীতি প্রবণতা। আমরা সবাই বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার। দেশ-জাতি-দল যেদিকেই যাক না কেন, আমার স্বার্থটা ষোল আনা চাই।
এই দুর্নীতি ও স্বার্থপরতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া ৪১ বছর আগে অর্জিত আমাদের বিজয়কে অর্থবহ করা কিংবা টিকিয়ে রাখা আদৌ সম্ভব নয়।
বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য দেশের প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি দল, দলের নেতা ও কর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।
শেষ কথা নয়
রাজনীতিতে নাকি শেষ কথা বলতে কিছু নেই। তবে দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে শেষ কথা আছে। দেশপ্রেম ১০০-তে ১০০ পেয়ে প্রমাণ করতে হয়। ৯০ পেলেও অ+ পাওয়া যায় না। আজ বাংলাদেশে প্রয়োজন ১০০-তে ১০০ পাওয়া খাঁটি, নির্ভেজাল, দুর্নীতিমুক্ত ও প্রমাণিত দেশপ্রেমিকের। আসুন আমরা সবাই সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই।

SHARE

Leave a Reply