বিদেশে অর্থপাচার সর্বনাশটা এ দেশের -জালাল উদ্দিন ওমর

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) কর্তৃক ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫৫৮৮ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। ইলিসিট ফিন্যান্সিয়াল ফ্লোস ফ্রম ডেভেলপিং কান্ট্রিজ : ২০০৪-২০১৩ শীর্ষক প্রতিবেদনটির তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ২০০৪ সালে ৩৩৫ কোটি ডলার, ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি ডলার, ২০০৬ সালে ৩৩৮ কোটি ডলার, ২০০৭ সালে ৪১০ কোটি ডলার, ২০০৮ সালে ৬৪৪ কোটি ডলার, ২০০৯ সালে ৬১৩ কোটি ডলার, ২০১০ সালে ৫৪১ কোটি ডলার, ২০১১ সালে ৫৯২ কোটি ডলার, ২০১২ সালে ৭২২ কোটি ডলার এবং ২০১৩ সালে ৯৬৭ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এসব অর্থ বাংলাদেশীরা বিদেশে পাচার করেছেন।
যদি ১ ডলারের গড়মূল্য ৭৫ টাকা হিসাব করা হয়, তাহলে এ দশ বছরে পাচার হওয়া অর্থের বাংলাদেশী টাকায় পরিমাণ ৪১৯১০০ (চার লক্ষ উনিশ হাজার একশত) কোটি টাকা। আর শুধুমাত্র ২০১৩ সালে পাচারকৃত মুদ্রার বাংলাদেশী মান হচ্ছে ৭২৫২৫ কোটি টাকা এবং গড়ে প্রতি বছর পাচার হওয়া অর্থের বাংলাদেশী মান ৪১৯১০ কোটি টাকা। জিএফআই এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভ কার এবং অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্পেনজারস এই প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী যেহেতু প্রতি বছরই অর্থ পাচার হয়েছে, সুতরাং অর্থপাচারের এই ধারা ২০১৪-২০১৫ সালেও অব্যাহত ছিল এবং ২০১৬ সালেও অব্যাহত থাকাটা স্বাভাবিক। এদিকে ২০১৪ সালের জুন মাসে ইউএনডিপি কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে চার দশকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ জিডিপির আকারের প্রায় ৩০ শতাংশ। সে হিসাবে গত চার দশকে প্রায় ৩ (তিন) লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয় এবং এর ফলে এ দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে সেটাও সহজেই পরিমেয়। মূলতপক্ষে বিদেশে অর্থপাচারের কারণে এ দেশের সর্বনাশ হচ্ছে।

দু’টি প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা দেখতে পেলাম আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। মূলত এ কারণেই আমাদের দেশ অনুন্নত রয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে এসব অর্থ উন্নত দেশে জমা হচ্ছে। ফলে উন্নত দেশসমূহ আরো উন্নত হচ্ছে। অর্থপাচারের এই ধারা যেন নদীর ¯্রােতের মতোই প্রবহমান। উঁচু এলাকার পানি যেমন সবসময় নদীর পথ ধরে নিচু এলাকার দিকে চলে যায়, ঠিক তেমনি আমাদের মতো অনুন্নত দেশের অর্থও পাচার হয়ে উন্নত দেশে চলে যায়। ফলে অনুন্নত দেশের ভাগ্যও ফিরে না, আর উন্নত দেশের অবস্থাও খারাপ হয় না। অনুন্নতরা অনুন্নতই থাকে আর উন্নতরা উন্নতই থাকে। ফলে উন্নত দেশসমূহ আমাদের মতো অনুন্নত দেশসমূহের ওপর খবরদারি করে। অনুন্নত দেশসমূহ তখন উন্নত দেশসমূহের আজ্ঞাবহে পরিণত হয়। জিএফআই এর তথ্যানুযায়ী যেই পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, তা যদি পাচার না হয়ে এ দেশে থাকত এবং এ দেশে বিনিয়োগ হতো, তাহলে বাংলাদেশ আজ অনেক বেশি উন্নত হতো। শিক্ষার হার বাড়ত, কর্মসংস্থান বাড়ত, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হতো, আরো বেশি জনগণ বিদ্যুৎসুবিধা পেত, বেকারত্ব কমত, দরিদ্রতা কমত, আমদানি কমত এবং রফতানি বাড়ত। তখন এ দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হতো। আমাদের আয় বাড়ত। ফলে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতাম। এখন আমাদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় মাত্র ১৩১৬ ডলার। পাচারকৃত অর্থ এ দেশে বিনিয়োগ হলে আমাদের গড় আয় আজ কমপক্ষে দ্বিগুণ হতো। আমরা লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রিজ-এর দল থেকে বের হতে পারতাম। পাচারকৃত অর্থ দেশে বিনিয়োগ করলে দেশটা কিভাবে উন্নতির দিকে এগিয়ে যেত তার একটি ব্যাখ্যা দিচ্ছি। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৩ সালে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৩৫ কোটি ডলার। ডলারের মূল্যমান ৭৫ টাকা ধরলে, বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৫১২৫ কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে ওই বছরে বড় আকারের কমপক্ষে ১০০টি শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করা যেত। প্রতিটি শিল্পকারখানায় গড়ে ২০০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হলে ওই বছরেই বিশ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতো। ফলে বেকারত্ব কমত। ওই ১০০টি শিল্পকারখানায় যদি ৫০টি পণ্যও উৎপাদন করত তাহলে ঐ ৫০টি পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো না। ফলে ঐ ৫০টি পণ্য আমদানিতে কোনো অর্থ ব্যয় হতো না। ফলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি হতো এবং আমাদের জিডিপি বাড়ত। এভাবেই দেশ উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেত। এভাবে প্রতি বছরই যে পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, সেই টাকা বিদেশে পাচার না হয়ে যদি দেশে বিনিয়োগ হতো, তাহলে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে উন্নতির দিকেই এগিয়ে চলত এবং আমরা একটি উন্নত দেশেই পরিণত হতাম। আমরা এখন একটি শিল্পসমৃদ্ধ দেশেই পরিণত হতাম। আমরা আমদানিপ্রধান দেশ না হয়ে তখন রফতানিপ্রধান দেশে পরিণত হতাম। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে তখন এ দেশের লাখো মানুষকে রুজি রোজগারের জন্য বিদেশে যেতে হতো না। বরং দেশেই কর্মসংস্থান হতো। অপর দিকে এইসব অর্থ পাচার না হলে, উন্নত দেশসমূহে এত শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা হতো না। ফলে ঐসব দেশে এত কর্মসংস্থান হতো না। তাদের রফতানি আয় কমত। আমাদের সাথে তাদের ব্যবধান কমত। ফলে তারা আমাদের ওপর এত খবরদারি করতে পারত না। এভাবে পৃথিবীতে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধানটা কমে আসত।
আর এভাবেই বিশ্বব্যাপী প্রতিটি মানুষের জীবন উন্নত, সমৃদ্ধ এবং সুখের হতো। এই পৃথিবীর বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ তখন আর অট্টালিকায় এবং কেউ আবার গাছতলায় বসবাস করত না। প্রতিটি মানুষরই উন্নত একটি বাড়ি থাকত, জীবনযাত্রার মান উন্নত হতো এবং থাকত সুখের নিবাস।
এই যে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে, তার সাথে কিন্তু সমাজের উঁচুস্তরের ব্যক্তিরাই জড়িত। দেশের গরিব-দুঃখী মানুষ কখনো বিদেশে টাকা পাচার করে না। কারণ তাদের যেমন অর্থ নেই, ঠিক তেমনি অর্থ পাচারের পথঘাটও তারা চিনে না। মূলতপক্ষে যারা বড় বড় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি, যাদের কাছে দেশবাসীর ভালো কিছুই প্রত্যাশা করে তারাই আজ অর্থপাচারের সাথে জড়িত। তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই ঋণের একটি অংশ উন্নত দেশে পাচার করছে। সেখানে বাড়ি কিনছে, গাড়ি কিনছে এবং সম্পত্তি কিনছে। সেখানেই তারা ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে তুলছে। ফলে আমাদের অর্থে বিদেশ উন্নত হচ্ছে। এই অর্থপাচারের প্রধান অংশ সম্পাদিত হচ্ছে আমদানি-রফতানির মাধ্যমে এবং এর শতকরা হার প্রায় ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিদেশে পাচারকৃত অর্থের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলকে ব্যবহার করে পাচার হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী পণ্য আমদানির সময় ওভার ইনভয়েসিং করে অর্থাৎ পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থটা বিদেশে পাচার করে। আবার পণ্য রফতানির সময় আন্ডার ইনভয়েসিং করে অর্থাৎ পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে রফতানি পণ্যের মূল্যের একটি অংশ বিদেশেই রেখে দেয়। এভাবে আমদানি-রফতানির মাধ্যমে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে এ দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার করছেন। এদিকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই ঋণের একটি অংশ বিদেশে পাচার করার কারণে অনেক ঋণগ্রহীতা ঠিকমত ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না বা পরিশোধ করেন না। ফলে ব্যাংকের ঋণখেলাপি হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের একটি অংশ আদায় হচ্ছে না এবং এতে ব্যাংকিং সেক্টর সমস্যায় পড়েছে। সুতরাং ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে এ দেশ থেকে বিদেশে যেন অর্থ পাচার করতে না পারে সে জন্য ব্যাংকিং সেক্টরে মনিটরিং বাড়াতে হবে এবং সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক যেহেতু সব ব্যাংকের কন্ট্রোলিং অথরিটি, সুতরাং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয়সহ সকলের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়ে বলছি, আপনারা অনুগ্রহ করে ব্যাংকিং সেক্টরের ওপর আরো নজরদারি বাড়ান। ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে বিদেশে টাকা পাচার টোটালি বন্ধের ব্যবস্থা করুন। ব্যাংকিং এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা আরো বাড়াতে হবে। একই সাথে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার বন্ধের ব্যবস্থা করুন। পাশাপাশি টাকা পাচারে জড়িত এবং এর সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি দুদক এবং এনবিআরসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঠিক এবং যথাযথ নজরদারি বাড়াতে হবে। কারণ দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

এখন কথা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে কিছু ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি বিদেশে টাকা পাচার করছেন কেন? আর সেই টাকা দিয়ে তারা উন্নত দেশে ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে তুলছেন কেন? প্রকৃতপক্ষে এর অনেক কারণ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসার ঘাটতি এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার ঘাটতি। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ার কারণে দেশে নিজেকে এবং নিজের বিনিয়োগকে নিরাপদ মনে না করা। দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ না থাকা, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং উপাদান যেমন বিদ্যুৎ, গ্যাস সহজলভ্য না হওয়া। এ ছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্নীতিও রয়েছে। সুতরাং বিদেশে অর্থপাচার বন্ধ করতে হলে এবং সেই অর্থ দেশে বিনিয়োগ করাতে হলে, সবার আগে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ করতে হবে এবং সহনশীলতা সৃষ্টি করতে হবে। ব্যবসায়ীদেরকেিনি ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে অথবা ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ার কারণে কোন ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা যাবে না। মূলতপক্ষে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভিন্ন মতাবলম্বীকে হয়রানিই হচ্ছে দেশ থেকে অর্থপাচারের প্রধান কারণ। এ জন্যই বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, মেক্সিকো, ভারত এবং মালয়েশিয়া থেকেও প্রচুর অর্থ উন্নত দেশে পাচার হয়েছে এবং হচ্ছে। জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৩-২০১৪ সালে চীন থেকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে। এর পরিমাণ হচ্ছে ১৩৯২২৮ কোটি ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া এবং রাশিয়া থেকে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১০৪৯৭৭ কোটি ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী অর্থপাচারে শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে চীন রাশিয়ার পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে মেক্সিকো, ভারত এবং মালয়েশিয়া। আর এসব টাকা জমা হয়েছে উন্নত দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। সুতরাং উন্নত দেশসমূহ কেন বছরের পর বছর ধরে উন্নতই রয়ে যাচ্ছে, তা নিশ্চয়ই সহজেই অনুমেয়।

পরিশেষে যে সমস্ত ব্যক্তি টাকা পাচার করেছেন তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলছি, আপনারা অনুগ্রহ করে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনুন এবং ভবিষ্যতে টাকা পাচার বন্ধ করুন। পাচারকৃত অর্থ আপনারা দেশে বিনিয়োগ করুন, শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করুন, নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করুন এবং দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে, মানুষের জীবন উন্নত হবে এবং প্রিয় দেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে । আর তখন বিশ্ববাসীর কাছে এই দেশ যেমন হবে সম্মানিত, ঠিক তেমনি এই দেশের মানুষের কাছে আপনারা হবেন চির স্মরণীয় এবং বরণীয়। একইসাথে সরকারের প্রতিও বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলছি, আপনারা অনুগ্রহ করে দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করুন, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করুন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করুন এবং দুর্নীতি নির্মূল করুন। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ থেকে অর্থপাচার বন্ধ হোক এবং আমাদের দেশ উন্নয়ন এবং শান্তির পথে অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাক- এই প্রত্যাশা।

লেখক : প্রকৌশলী ও উন্নয়নকর্মী

SHARE

Leave a Reply