বিবেকি মানুষের তাগিদ

একটি জাতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্য জাতীয় অগ্রগমন নিশ্চিত করে। বিভেদ জাতিকে ঠেলে দেয় পেছন দিকে কিংবা জাতিকে করে দেয় নিশ্চল, স্থবির। আমরা স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী প্রায় চার দশক সময়েও আমাদের জাতীয় অগ্রগমন নিশ্চিত করতে পারিনি শুধু এই একটি কারণে। এ আমাদের জন্য এক দুঃসহ ব্যর্থতা। জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজন আমাদের মধ্যে এতটাই প্রকট যে, ঐক্য প্রক্রিয়া ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। আমরা জন্ম দিচ্ছি এমন নতুন নতুন সব ইস্যু, যা ঐক্য প্রশ্নে আমাদের হতাশই করে। মূলত একটি দেশের সরকারই সে দেশের জাতীয় ঐক্য নিশ্চিতকরণে প্রধানতম ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মূল কাজই যেন হয়ে পড়েছে নতুন নতুন বিভাজনের পদ্ধতি উদ্ভাবন করা এবং তার সাহায্যে জাতিকে পরাধীনতার আগলে আবদ্ধ করে দেয়া। এটা তো পরম সত্য যে, কোনো সরকারই সে দেশের একমাত্র সরকার নয়। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর পর সরকার পরিবর্তন বা বদল হয়। আর বাংলাদেশের জন্য এটা আরো সত্য যে, এখানে কোনো সরকারই পর পর দুই মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পায় না। তাই আওয়ামী সরকার যে সমস্যাসমূহের জন্ম দিচ্ছে, তার ভয়াল পরিণতিগুলো এ দেশের মানুষকেই বহন করতে হবে।
যাঁরা সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন এবং তার জন্য স্বতঃনিবেদিত হয়ে কাজ করেন, তাঁরা কখনও মানবতাবিরোধী হতে পারেন না। বরং মানবাধিকার রক্ষা করাই হয় তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির তথা ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী দলগুলো এ কাজই করে আসছে। কিন্তু সেক্যুলার আওয়ামী সরকার তার উপর চাপিয়ে দেয়া একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এই শক্তিকেই তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং শুরু করে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের মহোৎসব। মূলত জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করে দেয়ার জন্যই তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের নামে মানবতাবিরোধী অপরাধের ধুয়া তুলে দেশপ্রেমিক ও আল্লাহপ্রেমিক জাতীয় নেতৃবৃন্দকে কারাগারের অভ্যন্তরে আটকে রেখে চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপায়-উপকরণহারা মানুষ মৌলিক অধিকারগুলো ফিরে পেতে একতাবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামবে এবং শোষকের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করবে, এটাই নিয়ম। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন সরকার সেটাও সহ্য করতে নারাজ। তাই প্রশাসন ও দলীয় গুন্ডাবাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে গণতন্ত্র তথা গণ দাবিকে বুটের নিচে পিষ্ট করতেও কসুর করে না। এটা তো আজ পরিষ্কার যে, জাতীয় নেতৃবৃন্দকে জেলে আটকে রেখে সরকার নিজেই মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। এক বছরের অধিক সময় পার হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট করে একটি অভিযোগও উত্থাপন করতে পারেনি তারা। পারবেও না। কারণ, মিথ্যাকে সব সময় গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। সরকারের মিথ্যা প্রপাগাণ্ডাকে মানুষ আর বিশ্বাস করছে না। অতি শীঘ্রই এ সরকার গণরোষে পড়ে ক্ষমতার মসনদ থেকে বিদায় নেবে ইনশাআল্লাহ। আর সেদিনই সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ আল্লাহ এটাই ওয়াদা করেছেন। এখন শুধু প্রয়োজন সত্যকে আঁকড়ে ধরে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়া। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়া। ঈদুল আজহার আত্মত্যাগের সাথে নিজেকে একীভূত করা। কিসের শঙ্কা বা পিছুটান আমাদের? আমরা তো বীরের জাতি। আমাদের আছে সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, ঊনসত্তর, একাত্তর, নব্বই আর ২০০১-এর প্রেরণা। হৃদয়ে দীপ্তমান হযরত ইবরাহিম (আ) আর ইসমাঈলের (আ) কুরবানির পরম নজরানা।
এখন তাই বিবেকি মানুষের তাগিদ হচ্ছে জাতীয় ঐক্যকে সুসংহত করা এবং অবসান ঘটানো জাতীয় বিভাজনের। স্ব স্ব স্থান থেকে জালেম সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যমত সৃষ্টি করে ছিনিয়ে আনতে হবে বেঁচে থাকার অধিকারগুলো। রক্ষা করতে হবে দেশীয় সম্পদ ও দেশের ভূখণ্ডকে। আর সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে আগামী প্রজন্মকে সমস্যামুক্ত রাখার বিষয়টিকে। নয়তো তারা এই প্রজন্মকে কখনোই ভালো চোখে দেখবে না। ফলে জাতি আরো অন্ধকারে হারিয়ে যাবে। আসুন আমরা সবাই সে পথে চলি, যে পথে চললে জাতি এক দিন সত্যিকার অর্থেই পরিণত হবে এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে। সেই সূত্রে আমরা হবো গর্ব করার মতো সমৃদ্ধ এক জাতি। আল্লাহ এ কাজে আমাদের সহায় হোন।

SHARE

Leave a Reply