বিশ্বরাজনীতিতে ইসরাইলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ আনতেই কি নেতানিয়াহুর ভারত সফর? মো: কামরুজ্জামান (বাবলু)বিশ্বরাজনীতিতে ইসরাইলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ আনতেই কি নেতানিয়াহুর ভারত সফর? -মো: কামরুজ্জামান (বাবলু)

পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত একনায়ক, উগ্রজাতীয়তাবাদী জার্মান নেতা ও নাৎসিবাদের জনক এডলফ হিটলারের সাথে যায়নবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর একটি বিষয় দারুণ মিল রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো চিন্তার এই ঐক্য দুই পক্ষকে কাছাকাছি না এনে বরং একজনকে আরেক জনের জানের শত্রুতে পরিণত করেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান তার ‘বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর’- গ্রন্থে হিটলারের চিন্তাধারা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে লিখেছেন : ‘হিটলারের ধারণা ছিল জার্মানজাতি পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র উৎকৃষ্ট ও শ্রেষ্ঠজাতি, অন্যরা নিকৃষ্ট। অতএব নিকৃষ্টের ওপর শ্রেষ্ঠের কর্তৃত্ব থাকা খুবই স্বাভাবিক। জার্মানজাতি গোটা ইউরোপের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে এই স্বপ্নে হিটলার বিভোর ছিলেন। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে গিয়ে তিনি এক সর্বধ্বংসী যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।’
অপর দিকে, ইহুদিরাও সেই আদি আমল থেকে এমনই এক জাতি যে তারা সবসময় নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করে আসছে। এমনকি সবশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর আগমনেরও বহু আগে থেকে মদিনায় ইহুদিদের মোড়লিপনার বিবরণ পাওয়া যায়। তাদের কাছে তখন ধর্মীয় গ্রন্থ তাওরাত ছিল। তৎকালীন মানুষের ওপর ইহুদিদের প্রভাব-প্রতিপত্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক নঈম সিদ্দিকী তার ‘মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা.)’- শীর্ষক গবেষণামূলক গ্রন্থে লিখেছেন : ‘এমনকি যদি কোন আনসারীর সন্তান না বাঁচতো, তাহলে সে এই বলে মান্নত মানতো যে, সন্তান বেঁচে থাকলে তাকে ইহুদি বানানো হবে।’
জন্মলগ্ন থেকেই ইহুদিরা সব সময় নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। নানাভাবে প্রচার-প্রপাগান্ডা চালিয়ে অপরকে নিজের বাগে রাখা এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম করতে সব যুগেই ইহুদি জাতি নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। নঈম সিদ্দিকী তার বইয়ে আরো লিখেছেন : ‘ইহুদিরা প্রায়শই আনসারদের সামনে আস্ফালন করতো যে, শিগগিরই শেষ নবী আসবেন। তিনি এলে আমরা তার সাথে মিলিত হয়ে তোমাদেরকে দেখে নেব।’ অথচ সেই ইহুদিরাই শেষ নবীর আগমনের পর সম্পূর্ণরূপে জেনে বুঝে ও ঠাণ্ডা মাথায় শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে শেষ নবীকে মেনে নেয়নি! কারণ তিনি ইহুদি বংশে জন্মাননি।
বর্তমান সময়ের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক ইমরান নজর হোসেন তার ‘পবিত্র কুরআনে জেরুসালেম’ শীর্ষক গবেষণা পুস্তকে লিখেছেন : ‘বাইবেলের ভাষ্যমতে ‘পবিত্রভূমির’ সীমানাকে (মিসরের নদী থেকে ফোরাত পর্যন্ত) শক্তি মদমত্ত দুর্বিনীত ইসরাইলের আগ্রাসনের মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য বলে চিহ্নিত করেছি এবং যার জন্য সে অতি শিগগিরই একটা বড় যুদ্ধ বাধাবে বলে আমরা মনে করি। প্রতারণায় যারা চযউ ডিগ্রি লাভ করেছেন, তারা নিশ্চয় এমন একটা যুদ্ধ বাধাবেন না যাতে আপাতদৃষ্টিতে তাদের আগ্রাসী বা আক্রমণকারী বলে মনে হবে।’

বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে
যায়নবাদী ইসরাইল
হিটলার যেমন বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, তেমনি যায়নবাদী ইহুদিরাও একই স্বপ্নে বিভোর রয়েছে। তবে, হিটলার নানা ঘটনা পরম্পরায় ব্যর্থ হলেও ইসরাইল ব্যর্থ হয়নি। ইতোমধ্যেই বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের হাতের মুঠোয় নেয়ার কাজটি খুব সফলভাবেই সম্পন্ন করেছে ইসরাইল। আমেরিকার অর্থনীতি ও রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রতি ক্ষেত্রেই ইসরাইলের একচ্ছত্র প্রভাব এরই মধ্যেই সুনিশ্চিত হয়েছে। গোটা মুসলিম বিশ্বের বিরোধিতাকে নানা অপকৌশলে মোকাবেলা করে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দখলদার ইসরাইলি রাষ্ট্র। এখন পবিত্র জেরুসালেম শহরকে নিজেদের রাজধানী করার মতো এক সর্বগ্রাসী তৎপরতায় আদাজল খেয়ে নেমেছে দেশটি।
কিন্তু শুধু ইউরোপ ও আমেরিকা নিয়েই যেন সন্তুষ্ট নয় ইসরাইল। এবার বিশ্ব মোড়লের আসনে সরাসরি আসীন হতে চায় ঐতিহাসিকভাবে উচ্চাভিলাষী ইহুদি সম্প্রদায় ও তাদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। আমেরিকার ছদ্মাবরণের পাশাপাশি নিজদের পরিচয়েও সরাসরি রাজনীতির মাঠে যেন খেলতে চায় ইসরাইল। আর তারই অংশ হিসেবে এবার এশিয়া তথা দক্ষিণ এশিয়ার দিকে সতর্ক দৃষ্টি যায়নবাদী ইসরাইল রাষ্ট্রের।
ইতোমধ্যেই বিশ্ববাসী গণমাধ্যমের কল্যাণে জানতে পেরেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের আরাকানে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে সীমাহীন নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী সেখানেও নেপথ্যের নায়কদের মধ্যে অন্যতম ইসরাইল। কারণ মিয়ানমারে সামরিক অস্ত্র বিক্রির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে ইসরাইলের নাম। এমনকি মিয়ানমার সেনাদের সামরিক প্রশিক্ষণও দিচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। সেই হিসেবে মিয়ানমার সরকারের ওপর ইসরাইলের রয়েছে মারাত্মক প্রভাব। অথচ আরকানের মুসলমানদের ওপর সাম্প্রতিক জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসরাইলের কোনো ভূমিকাই লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি ওই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হলে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হবে না কিংবা মিয়ানমার সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে নাÑ এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ পর্যন্ত নেয়নি ইসরাইল; বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মিয়ানমারের খুনি সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতা করে চলছে দেশটি।

ভারতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক
যায়নবাদী অবৈধ ইসরাইলকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম সারির দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ভারতের নাম। ১৯৫০ সালে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় দিল্লি। অবশ্য দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৯২ সালে। আর তারও এক দশকের মাথায় ২০০৩ সালে অ্যারিয়েল শ্যারন প্রথমবারের মতো কোনো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর করেন।
অপর দিকে, হিন্দুত্ববাদী বিজেপি পার্টি সমর্থিত ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি হলেন একমাত্র ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি ২০১৭ সালে প্রথম বারের মতো ইসরাইল সফর করেছেন এবং ইহুদিবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আধুনিক ইসরাইলের আধ্যাত্মিক গুরু থিওডোর হার্জেলের সমাধি পরিদর্শন করেন। ৬৭ বছরের পুরনো এ জায়গাটিতে একটা কালো মার্বেলের চূড়ায় ছোট পাথর বসানো আছে, যা জেরুসালেমের মাউন্ট হার্জেল নামে পরিচিত।
এদিকে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দ্বিতীয় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর করেছেন। ছয় দিনের সফরে দিলির মহাত্মা গান্ধী স্মৃতিস্তম্ভ ও তাজমহল পরিদর্শনসহ ভারতীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে নানা ইস্যুতে বৈঠকের মধ্য দিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেন নেতানিয়াহু।
মজার ব্যাপার হলো ইসরাইলও ভারতের প্রতিষ্ঠাতা জনকদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বরাবরই ইসরাইলের বিরোধিতা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। কিন্তু কালের ব্যবধানে ভারতের প্রধান অস্ত্রসরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে ইসরাইল।
পালাবদলের ধারাবাহিকতায় বিগত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভারতের পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ওই বছরেরই মে মাসে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অন্য অনেক বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে নেতানিয়াহুও মোদিকে অভিনন্দন জানান এবং একই সাথে বাণিজ্যের দুয়ার খুলে যায় দুই দেশের মধ্যে।
মোদি নির্বাচিত হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই ইসরাইল ভারতে ৬৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র রফতানি করে, যা ভারতে ইসরাইলের আগের তিন বছরের মোট রফতানির চেয়েও বেশি ছিল।
বর্তমানে ইসরাইলই ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। পুরোপুরি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বছর ১৯৯২ সালে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যেখানে ছিল ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে ২০১৬ সালে এসে তা দাঁড়ায় ৪ বিলিয়ন ডলারে, যার একটি বড় অংশই অস্ত্র ব্যবসাকে কেন্দ্র করে।

নেতানিয়াহুর ২০১৮ এর ভারত
সফরের মূল অর্জন
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এবারের ভারত সফরের প্রেক্ষাপট ছিল একেবারেই ভিন্ন। মাত্র কিছুদিন আগে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করার বিতর্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটি ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা কারণেই ভারত ও ইসরাইল দুই দেশই এক বিতর্কিত অবস্থানের মধ্যে সময় পার করছে। তাই শুরু থেকেই এই সফরের মূল এজেন্ডাকে সুকৌশলে আড়াল করে রাখা হয়েছে। নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজনকেই ফলাও করে প্রকাশ করা হচ্ছিল কিন্তু অস্ত্র চুক্তিসহ সিরিয়াস ইস্যুগুলোকে অনেকটা ঢেকে রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে উভয় দেশের পক্ষ থেকেই।
এর পরও নানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী, মিডিয়ায় দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আলোচনার খবর প্রচার করা হচ্ছিল সেটি ছিল প্রকৃত অর্থে অস্ত্র প্রস্তুতকারক ও ঠিকাদারদের মধ্যেকার আলোচনা এবং নীল সুট ও সিল্ক টাই পরা যুদ্ধ ব্যবসায়ীদের ওই বৈঠক ছিল যুদ্ধের। ওই বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছে তা বিস্তারিত পরিসরে প্রকাশের দাবি রাখে। উল্লেখ্য, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারত তার মোট অস্ত্রের ৪১ শতাংশই আমদানি করেছে ইসরাইল থেকে।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভারত-ইসরাইলের মধ্যে দুই বিলিয়ন ডলারের সামরিক অস্ত্রচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ভারত সরকার ‘নিজ দেশে বানাই’- নীতিমালা অনুসরণে ৫০০ মিলিয়নের ট্যাংকবিধ্বংসী মিসাইল কিনতে অস্বীকৃতি জানায় ইসরাইলের অস্ত্র কোম্পানিগুলোর কাছে। নেতানিয়াহুর এই সফরে তিনি ওই চুক্তি আবার আলোচনার টেবিলে এনেছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত কিছু হয়েছে কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি।
এ ছাড়া ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে যে উষ্ণ সংবর্ধনা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, হিব্রু ভাষায় বাচ্চারা গান গেয়ে যেভাবে নেতানিয়াহুকে বরণ করেছে তা অনেকেরই নজর কাড়ে। ভারতের গণমানুষের সেন্টিমেন্ট, বিশেষ করে বিশাল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী ও তাদের ভোটের শক্তিকে মাথায় রেখে জেরুসালেম ইস্যুতে ইসরাইলের বিপক্ষে জাতিসংঘে ভোট দেয়ার কোনো শীতলতাই যেন চোখে পড়নি মোদি কিংবা নেতানিয়াহুর চোখে-মুখে।
নেতানিয়াহুর সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যায়িত করে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (উরৎবপঃড়ৎ-এবহবৎধষ) উভাল রোতিম (ণাঁধষ জড়ঃবস) সফররত অবস্থায় এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই সফরের সত্যিকার ফল আগামী সপ্তাহ থেকেই ফলতে শুরু করবে যখন আমরা সফর শেষে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করবো।
তিনি বলেন, শুধু সামরিক কিংবা কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রেই কাজ করার জন্য আমরা সম্মত হয়েছি। আমরা চলচ্চিত্র অঙ্গন, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র এবং সাইবার ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংযোগ তৈরি করেছি।
কাক্সিক্ষত লক্ষ্যপানে এগিয়ে
চলছে ইসরাইল
আমেরিকা ও ব্রিটেন থেকে শুরু করে ইউরোপ ও আমেরিকায় দাপটের সাথে এগিয়ে চলা ইসরাইল ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে তার লক্ষ্যপানে। জেরুসালেমকে রাজধানী করে বাদশা সোলাইমান (আ.) এর আদলে বিশ্বশাসনের স্বপ্ন পূরণে মরিয়া যায়নবাদীরা। আর সে লক্ষ্য অর্জনে এশিয়া অঞ্চলে ভারতের কাঁধে সওয়ার হতে চায় দেশটি। কারণ এক্ষেত্রে ভারতই হলো সবদিক থেকে নিরাপদ ও সুবিধাজনক। ইসরাইল তার লক্ষ্য পূরণের পথে প্রধান বাধা মনে করে মুসলমানদের। অপর দিকে, ভারতও বরাবরই মুসলমানদের উত্থানের বিরুদ্ধে। এ দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে রয়েছে দারুণ মিল।
অবশ্য চীনের প্রসঙ্গটি এখানে আসতে পারে। কিন্তু চীন নিজেই যেহেতু আমেরিকাকে টপকে শিগগিরই বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি হতে চায় সেদিক দিয়ে চীন আর ইসরাইল সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বী।
অপরদিকে, এশিয়ার আরেক শক্তিশালী দেশ পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তান যেহেতু মুসলিম দেশ তাই পাকিস্তানকে টার্গেট করে এতদাঞ্চলে ইসরাইলি প্রভাব বিস্তার সম্ভব নয়। তাই ভারতকে ব্যবহার করে পুরো এশিয়া অঞ্চলে ইসরাইল তার প্রভাব বিস্তারের যে নীলনকশা প্রণয়ন করেছে সাম্প্রতিক নেতানিয়াহুর সফর সেই নীলনকশারই অংশ বিশেষ।
লেখক : সাংবাদিকপৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত একনায়ক, উগ্রজাতীয়তাবাদী জার্মান নেতা ও নাৎসিবাদের জনক এডলফ হিটলারের সাথে যায়নবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর একটি বিষয় দারুণ মিল রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো চিন্তার এই ঐক্য দুই পক্ষকে কাছাকাছি না এনে বরং একজনকে আরেক জনের জানের শত্রুতে পরিণত করেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান তার ‘বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর’- গ্রন্থে হিটলারের চিন্তাধারা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে লিখেছেন : ‘হিটলারের ধারণা ছিল জার্মানজাতি পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র উৎকৃষ্ট ও শ্রেষ্ঠজাতি, অন্যরা নিকৃষ্ট। অতএব নিকৃষ্টের ওপর শ্রেষ্ঠের কর্তৃত্ব থাকা খুবই স্বাভাবিক। জার্মানজাতি গোটা ইউরোপের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে এই স্বপ্নে হিটলার বিভোর ছিলেন। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে গিয়ে তিনি এক সর্বধ্বংসী যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।’
অপর দিকে, ইহুদিরাও সেই আদি আমল থেকে এমনই এক জাতি যে তারা সবসময় নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করে আসছে। এমনকি সবশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর আগমনেরও বহু আগে থেকে মদিনায় ইহুদিদের মোড়লিপনার বিবরণ পাওয়া যায়। তাদের কাছে তখন ধর্মীয় গ্রন্থ তাওরাত ছিল। তৎকালীন মানুষের ওপর ইহুদিদের প্রভাব-প্রতিপত্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক নঈম সিদ্দিকী তার ‘মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা.)’- শীর্ষক গবেষণামূলক গ্রন্থে লিখেছেন : ‘এমনকি যদি কোন আনসারীর সন্তান না বাঁচতো, তাহলে সে এই বলে মান্নত মানতো যে, সন্তান বেঁচে থাকলে তাকে ইহুদি বানানো হবে।’
জন্মলগ্ন থেকেই ইহুদিরা সব সময় নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। নানাভাবে প্রচার-প্রপাগান্ডা চালিয়ে অপরকে নিজের বাগে রাখা এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম করতে সব যুগেই ইহুদি জাতি নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। নঈম সিদ্দিকী তার বইয়ে আরো লিখেছেন : ‘ইহুদিরা প্রায়শই আনসারদের সামনে আস্ফালন করতো যে, শিগগিরই শেষ নবী আসবেন। তিনি এলে আমরা তার সাথে মিলিত হয়ে তোমাদেরকে দেখে নেব।’ অথচ সেই ইহুদিরাই শেষ নবীর আগমনের পর সম্পূর্ণরূপে জেনে বুঝে ও ঠাণ্ডা মাথায় শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে শেষ নবীকে মেনে নেয়নি! কারণ তিনি ইহুদি বংশে জন্মাননি।
বর্তমান সময়ের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক ইমরান নজর হোসেন তার ‘পবিত্র কুরআনে জেরুসালেম’ শীর্ষক গবেষণা পুস্তকে লিখেছেন : ‘বাইবেলের ভাষ্যমতে ‘পবিত্রভূমির’ সীমানাকে (মিসরের নদী থেকে ফোরাত পর্যন্ত) শক্তি মদমত্ত দুর্বিনীত ইসরাইলের আগ্রাসনের মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য বলে চিহ্নিত করেছি এবং যার জন্য সে অতি শিগগিরই একটা বড় যুদ্ধ বাধাবে বলে আমরা মনে করি। প্রতারণায় যারা চযউ ডিগ্রি লাভ করেছেন, তারা নিশ্চয় এমন একটা যুদ্ধ বাধাবেন না যাতে আপাতদৃষ্টিতে তাদের আগ্রাসী বা আক্রমণকারী বলে মনে হবে।’

বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে
যায়নবাদী ইসরাইল
হিটলার যেমন বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, তেমনি যায়নবাদী ইহুদিরাও একই স্বপ্নে বিভোর রয়েছে। তবে, হিটলার নানা ঘটনা পরম্পরায় ব্যর্থ হলেও ইসরাইল ব্যর্থ হয়নি। ইতোমধ্যেই বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের হাতের মুঠোয় নেয়ার কাজটি খুব সফলভাবেই সম্পন্ন করেছে ইসরাইল। আমেরিকার অর্থনীতি ও রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রতি ক্ষেত্রেই ইসরাইলের একচ্ছত্র প্রভাব এরই মধ্যেই সুনিশ্চিত হয়েছে। গোটা মুসলিম বিশ্বের বিরোধিতাকে নানা অপকৌশলে মোকাবেলা করে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দখলদার ইসরাইলি রাষ্ট্র। এখন পবিত্র জেরুসালেম শহরকে নিজেদের রাজধানী করার মতো এক সর্বগ্রাসী তৎপরতায় আদাজল খেয়ে নেমেছে দেশটি।
কিন্তু শুধু ইউরোপ ও আমেরিকা নিয়েই যেন সন্তুষ্ট নয় ইসরাইল। এবার বিশ্ব মোড়লের আসনে সরাসরি আসীন হতে চায় ঐতিহাসিকভাবে উচ্চাভিলাষী ইহুদি সম্প্রদায় ও তাদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। আমেরিকার ছদ্মাবরণের পাশাপাশি নিজদের পরিচয়েও সরাসরি রাজনীতির মাঠে যেন খেলতে চায় ইসরাইল। আর তারই অংশ হিসেবে এবার এশিয়া তথা দক্ষিণ এশিয়ার দিকে সতর্ক দৃষ্টি যায়নবাদী ইসরাইল রাষ্ট্রের।
ইতোমধ্যেই বিশ্ববাসী গণমাধ্যমের কল্যাণে জানতে পেরেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের আরাকানে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে সীমাহীন নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী সেখানেও নেপথ্যের নায়কদের মধ্যে অন্যতম ইসরাইল। কারণ মিয়ানমারে সামরিক অস্ত্র বিক্রির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে ইসরাইলের নাম। এমনকি মিয়ানমার সেনাদের সামরিক প্রশিক্ষণও দিচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। সেই হিসেবে মিয়ানমার সরকারের ওপর ইসরাইলের রয়েছে মারাত্মক প্রভাব। অথচ আরকানের মুসলমানদের ওপর সাম্প্রতিক জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসরাইলের কোনো ভূমিকাই লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি ওই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হলে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হবে না কিংবা মিয়ানমার সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে নাÑ এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ পর্যন্ত নেয়নি ইসরাইল; বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মিয়ানমারের খুনি সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতা করে চলছে দেশটি।

ভারতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক
যায়নবাদী অবৈধ ইসরাইলকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম সারির দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ভারতের নাম। ১৯৫০ সালে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় দিল্লি। অবশ্য দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৯২ সালে। আর তারও এক দশকের মাথায় ২০০৩ সালে অ্যারিয়েল শ্যারন প্রথমবারের মতো কোনো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর করেন।
অপর দিকে, হিন্দুত্ববাদী বিজেপি পার্টি সমর্থিত ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি হলেন একমাত্র ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি ২০১৭ সালে প্রথম বারের মতো ইসরাইল সফর করেছেন এবং ইহুদিবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আধুনিক ইসরাইলের আধ্যাত্মিক গুরু থিওডোর হার্জেলের সমাধি পরিদর্শন করেন। ৬৭ বছরের পুরনো এ জায়গাটিতে একটা কালো মার্বেলের চূড়ায় ছোট পাথর বসানো আছে, যা জেরুসালেমের মাউন্ট হার্জেল নামে পরিচিত।
এদিকে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দ্বিতীয় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর করেছেন। ছয় দিনের সফরে দিলির মহাত্মা গান্ধী স্মৃতিস্তম্ভ ও তাজমহল পরিদর্শনসহ ভারতীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে নানা ইস্যুতে বৈঠকের মধ্য দিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেন নেতানিয়াহু।
মজার ব্যাপার হলো ইসরাইলও ভারতের প্রতিষ্ঠাতা জনকদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বরাবরই ইসরাইলের বিরোধিতা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। কিন্তু কালের ব্যবধানে ভারতের প্রধান অস্ত্রসরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে ইসরাইল।
পালাবদলের ধারাবাহিকতায় বিগত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভারতের পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ওই বছরেরই মে মাসে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অন্য অনেক বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে নেতানিয়াহুও মোদিকে অভিনন্দন জানান এবং একই সাথে বাণিজ্যের দুয়ার খুলে যায় দুই দেশের মধ্যে।
মোদি নির্বাচিত হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই ইসরাইল ভারতে ৬৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র রফতানি করে, যা ভারতে ইসরাইলের আগের তিন বছরের মোট রফতানির চেয়েও বেশি ছিল।
বর্তমানে ইসরাইলই ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। পুরোপুরি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বছর ১৯৯২ সালে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যেখানে ছিল ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে ২০১৬ সালে এসে তা দাঁড়ায় ৪ বিলিয়ন ডলারে, যার একটি বড় অংশই অস্ত্র ব্যবসাকে কেন্দ্র করে।

নেতানিয়াহুর ২০১৮ এর ভারত
সফরের মূল অর্জন
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এবারের ভারত সফরের প্রেক্ষাপট ছিল একেবারেই ভিন্ন। মাত্র কিছুদিন আগে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করার বিতর্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটি ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা কারণেই ভারত ও ইসরাইল দুই দেশই এক বিতর্কিত অবস্থানের মধ্যে সময় পার করছে। তাই শুরু থেকেই এই সফরের মূল এজেন্ডাকে সুকৌশলে আড়াল করে রাখা হয়েছে। নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজনকেই ফলাও করে প্রকাশ করা হচ্ছিল কিন্তু অস্ত্র চুক্তিসহ সিরিয়াস ইস্যুগুলোকে অনেকটা ঢেকে রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে উভয় দেশের পক্ষ থেকেই।
এর পরও নানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী, মিডিয়ায় দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আলোচনার খবর প্রচার করা হচ্ছিল সেটি ছিল প্রকৃত অর্থে অস্ত্র প্রস্তুতকারক ও ঠিকাদারদের মধ্যেকার আলোচনা এবং নীল সুট ও সিল্ক টাই পরা যুদ্ধ ব্যবসায়ীদের ওই বৈঠক ছিল যুদ্ধের। ওই বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছে তা বিস্তারিত পরিসরে প্রকাশের দাবি রাখে। উল্লেখ্য, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারত তার মোট অস্ত্রের ৪১ শতাংশই আমদানি করেছে ইসরাইল থেকে।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভারত-ইসরাইলের মধ্যে দুই বিলিয়ন ডলারের সামরিক অস্ত্রচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ভারত সরকার ‘নিজ দেশে বানাই’- নীতিমালা অনুসরণে ৫০০ মিলিয়নের ট্যাংকবিধ্বংসী মিসাইল কিনতে অস্বীকৃতি জানায় ইসরাইলের অস্ত্র কোম্পানিগুলোর কাছে। নেতানিয়াহুর এই সফরে তিনি ওই চুক্তি আবার আলোচনার টেবিলে এনেছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত কিছু হয়েছে কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি।
এ ছাড়া ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে যে উষ্ণ সংবর্ধনা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, হিব্রু ভাষায় বাচ্চারা গান গেয়ে যেভাবে নেতানিয়াহুকে বরণ করেছে তা অনেকেরই নজর কাড়ে। ভারতের গণমানুষের সেন্টিমেন্ট, বিশেষ করে বিশাল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী ও তাদের ভোটের শক্তিকে মাথায় রেখে জেরুসালেম ইস্যুতে ইসরাইলের বিপক্ষে জাতিসংঘে ভোট দেয়ার কোনো শীতলতাই যেন চোখে পড়নি মোদি কিংবা নেতানিয়াহুর চোখে-মুখে।
নেতানিয়াহুর সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যায়িত করে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (উরৎবপঃড়ৎ-এবহবৎধষ) উভাল রোতিম (ণাঁধষ জড়ঃবস) সফররত অবস্থায় এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই সফরের সত্যিকার ফল আগামী সপ্তাহ থেকেই ফলতে শুরু করবে যখন আমরা সফর শেষে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করবো।
তিনি বলেন, শুধু সামরিক কিংবা কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রেই কাজ করার জন্য আমরা সম্মত হয়েছি। আমরা চলচ্চিত্র অঙ্গন, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র এবং সাইবার ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংযোগ তৈরি করেছি।
কাক্সিক্ষত লক্ষ্যপানে এগিয়ে
চলছে ইসরাইল
আমেরিকা ও ব্রিটেন থেকে শুরু করে ইউরোপ ও আমেরিকায় দাপটের সাথে এগিয়ে চলা ইসরাইল ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে তার লক্ষ্যপানে। জেরুসালেমকে রাজধানী করে বাদশা সোলাইমান (আ.) এর আদলে বিশ্বশাসনের স্বপ্ন পূরণে মরিয়া যায়নবাদীরা। আর সে লক্ষ্য অর্জনে এশিয়া অঞ্চলে ভারতের কাঁধে সওয়ার হতে চায় দেশটি। কারণ এক্ষেত্রে ভারতই হলো সবদিক থেকে নিরাপদ ও সুবিধাজনক। ইসরাইল তার লক্ষ্য পূরণের পথে প্রধান বাধা মনে করে মুসলমানদের। অপর দিকে, ভারতও বরাবরই মুসলমানদের উত্থানের বিরুদ্ধে। এ দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে রয়েছে দারুণ মিল।
অবশ্য চীনের প্রসঙ্গটি এখানে আসতে পারে। কিন্তু চীন নিজেই যেহেতু আমেরিকাকে টপকে শিগগিরই বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি হতে চায় সেদিক দিয়ে চীন আর ইসরাইল সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বী।
অপরদিকে, এশিয়ার আরেক শক্তিশালী দেশ পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তান যেহেতু মুসলিম দেশ তাই পাকিস্তানকে টার্গেট করে এতদাঞ্চলে ইসরাইলি প্রভাব বিস্তার সম্ভব নয়। তাই ভারতকে ব্যবহার করে পুরো এশিয়া অঞ্চলে ইসরাইল তার প্রভাব বিস্তারের যে নীলনকশা প্রণয়ন করেছে সাম্প্রতিক নেতানিয়াহুর সফর সেই নীলনকশারই অংশ বিশেষ।
লেখক : সাংবাদিক

SHARE

Leave a Reply