বিশ্বায়নের প্রভাব ও আমাদের সংস্কৃতি -সীমান্ত আকরাম

বিশ্বায়নের প্রভাবে আমাদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বিপন্ন- এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। বিশ্বায়ন পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে গতিময় করেছে। তাই এ অভিযোগ অমূলক নয়। আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ কোনো কিছুই বিশ্বায়নের প্রভাবমুক্ত নয়। তাই আমাদের সংস্কৃতিও বিশ্বায়ন প্রভাবিত। আমাদের সাংস্কৃতিক গতিপথের অভিমুখও বাঁক নিচ্ছে বিশ্বায়নের প্রভাবের দিকে। অথচ বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কখনও ভেঙে পড়ার নয়, প্রতিনিয়ত গড়ে ওঠার।
মানুষের আত্মপরিচয়ের বিধৃত রূপই হচ্ছে সংস্কৃতি। এ পরিচয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত তার ইতিহাস, ঐতিহ্য, জীবনযাত্রা। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সংস্কৃতি-ব্যাখ্যা এক্ষেত্রে স্মরণীয়, “সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে বাঁচা, প্রকৃতি-সংসার ও মানব সংসারের মধ্যে অসংখ্য অনুভূতির শিকড় চালিয়ে দিয়ে বিচিত্র রস টেনে নিয়ে বাঁচা, নর-নারীর বিচিত্র সুখ-দুঃখে বাঁচা, বিচিত্র দেশ ও বিচিত্র জাতির অন্তরঙ্গ সঙ্গী হয়ে বাঁচা, প্রচুরভাবে, গভীরভাবে বাঁচা, বিশ্বের বুকে বুক মিলিয়ে বাঁচা।” এই সংজ্ঞায় সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের অস্তিত্ব ধারণের প্রসঙ্গটিও যুক্ত হয়েছে। সেই অর্থে সংস্কৃতি সংগ্রামের ধারণারই পরিপূরক। বিরূপ প্রকৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, সেই প্রকৃতিকে জয় করে প্রতিনিয়ত তার জীবনযাপনকে সহজ ও সুন্দর করার সাধনাই মানবজীবনের লক্ষ্য। জীবনের এই প্রয়াস, জীবনকে সহজ ও সুন্দর করার জন্য বিরূপ পরিপার্শ্বের বিরুদ্ধে মানুষের এই সংগ্রাম- এরই নাম সংস্কৃতি। সেজন্যই সংস্কৃতির অর্থ দাঁড়ায় সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে বাঁচা।
বাঁচার সংগ্রাম আর সংস্কৃতি অভিন্ন বলেই বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদী দৃষ্টিতে সংস্কৃতির অবয়বের তিনটি ভাগ। এর প্রথম ভাগে রয়েছে জীবন সংগ্রামের বাস্তব উপকরণ, দ্বিতীয় ভাগে সমাজযাত্রার বাস্তবব্যবস্থা আর তৃতীয় ভাগে মানবসম্পদ। তৃতীয় ভাগে অর্থাৎ মানবসম্পদরূপই হলো আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, সাহিত্য, সঙ্গীত, নাট্যকলা, চারুকলা প্রভৃতি প্রচলিত অর্থে সংস্কৃতি।
বাঙালি জাতি এক অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী। আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস হাজার বছরের। এ অঞ্চলের জীবনাচরণে, সঙ্গীতে, সাহিত্যে, চিত্রকলায়, নাটকে আমাদের সংস্কৃতি ভাস্বর হয়ে আছে। বাঙালি সংস্কৃতির ধারা গত কয়েক শ’ বছরে বিশেষ কোনো ছকে রূপান্তরিত হয়েছে- এমন বলা যাবে না। নানা মত-পথ-পন্থা, তান্ত্রিকতা, সুফিবাদ ও মূল ধর্মসমূহের আদর্শগত দ্বন্দ্ব-বিরোধ এবং গ্রামীণ জনপদে গ্রহণ-বর্জন সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে এই সংস্কৃতির মূলধারা বিকশিত হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর সমন্বয়ধর্মী ধারা। শুধু সমন্বয়ধর্মী নয়, মানবতাবাদীও। বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ইসলাম ধর্ম এখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেতে শুরু করে। দেশজ সংস্কৃতি ও ইসলাম পরস্পরের পরিপূরক হয়েছে। এরপর উত্তর থেকে অনেক আফগান ও তুর্কি বাংলায় এসেছেন। পাঠান সুলতানরা ২০০ বছর এ দেশ শাসন করেছেন এবং এখানকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। তারা এ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের রাজত্বকালে দেশী ভাষা ও সাহিত্য সমাদৃত হয় এবং এ দেশের শিল্পী ও কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। এ সময়টি ছিল বাঙালি সংস্কৃতির স্বর্ণযুগ। একদিকে স্বচৈতন্যের ভক্তিবাদ ও ভালোবাসার বাণী এবং অন্যদিকে সুফিসাধকদের মানবতাবাদী মতবাদ- এই দুইয়ের সংমিশ্রণে এক অসামান্য স্তরে উন্নীত হয় বাঙালি সংস্কৃতি। এভাবে সব প্রাতিষ্ঠানিক ও নানা লোকধর্মের চিন্তা-চেতনার মানবিক অন্তঃসার যুক্ত হওয়াতে বাঙালি সংস্কৃতি প্রাণবন্ত ও গতিশীল হয়ে ওঠে। এই সংস্কৃতির প্রচার বাহন হয়ে পড়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভাষানির্মাণের বুলি আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। সমাজজীবন ও ভাষার এই মেলবন্ধনের মধ্যেই বাঙালির স্বকীয় জীবনবৈশিষ্ট্য ও বিরাজমান। এই সংস্কৃতি বাঙালি হিন্দুর নয়, বৌদ্ধের নয়, খ্রিস্টানের নয়, মুসলমানের নয়- এই সংস্কৃতি সব বাঙালির সংস্কৃতি।
বিশ্বায়নের প্রভাবে আমাদের হাজার বছরের ঐহিত্যে লালিত সংস্কৃতি সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়ে পশ্চিমা মূল্যবোধের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের মধ্যে অবাধ চলাফেরা ও স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা প্রকাশ পাচ্ছে। যার ফলে বিশ্বায়নের প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন জীবনের উপর এসে পড়েছে। খোলামেলা পোশাক, পাশ্চাত্য ঢং আর ফ্যাশনও এসে গেছে আমাদের সমাজের মাঝে। বলা যায় যে, অভিভাবক ও সন্তানদের মাঝে পোশাক পরিধানে তেমন পার্থক্যও নেই বটে। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের পারিবারিক নিজস্ব রুচিবোধও। চাইনিজ, ফাস্ট ফুড, ড্রিংকস, পিৎজা, পেপসি, কোকাকোলা, আরসির মত অস্বাস্থ্যকর পানীয় ও খাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি আমরা। ভুলে যাচ্ছি আমাদের নিজস্ব খাবারের নাম। পরিবর্তিত হচ্ছে আমাদের খাদ্যাভ্যাস। যা আমাদের অদূর ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্বায়নের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে আবহমান গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতি। আবহমান কাল থেকে গ্রামবাংলায় যে লোকজ সংস্কৃতির চর্চা ছিল সেটা এখন মানুষ ভুলতে বসেছে। কালের বিবর্তনে মানুষ আধুনিকতার নামে পশ্চিমা সংস্কৃতির চর্চায় মেতে উঠেছে। তাই এখন পশ্চিমা আগ্রাসী আকাশ সংস্কৃতিতে ছেয়ে গেছে সারাদেশ। কালের গর্ভে বিলীন হতে চলছে প্রাচীন বাংলার লোকজ সংস্কৃতি। আমাদের দেশে বর্তমানে লোকজ সংস্কৃতির বদলে আকাশ সংস্কৃতির জয়জয়কার। প্রযুক্তির এ যুগে আকাশ সংস্কৃতি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়ছে পশ্চিমা সংস্কৃতি। তরুণদের মুখে এখন পশ্চিমা সংস্কৃতির জয়জয়কার। প্রতিনিয়তই পশ্চিমা সংস্কৃতির নতুনত্বের আবির্ভাব ঘটছে আমাদের দেশে। আর এ নতুনত্বকে স্বাদরে স্বাগত জানাচ্ছে আমাদের দেশের নতুন প্রজন্মরা। সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে নিজের লোকজ সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐহিত্য ভুলে গিয়ে ভিনদেশের সংস্কৃতির চর্চায় মেতে উঠছে আজকের প্রজন্ম। এ আগ্রাসী সংস্কৃতির খপ্পরে পড়ে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা নৈতিকতা হারিয়ে বিপথগামী হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ যেন অভিনব আভিজাত্যের মূর্তমান ব্যক্তিত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে এ প্রজন্মের কাছে। এ থেকে উত্তরণের পথ খোঁজে বের করতে না পারলে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মরা নিমজ্জিত হবে আগ্রাসী সংস্কৃতির অন্ধকারের অতল গহ্বরে। এ সংস্কৃতির কারণে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে আবহমান বাংলার আদি লোকজ সংস্কৃতি। যুগ যুগ ধরে আবহমান বাংলায় যে লোকজ সংস্কৃতির চর্চা হয়েছে তা এখন আর আগের মতো পরিলক্ষিত হয় না। এক কথায় বলা যায় সে সংস্কৃতির চর্চা এখন আর হয় না বললে এতটুকু ভুল হবে না। এর বদলে আমাদের দেশের তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ এখন ঘরে বসে স্যাটেলাইটে বিভিন্ন চ্যানেলে আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমে পশ্চিমা আগ্রাসী সংস্কৃতির চর্চায় মেতে উঠেছে। এখন আর আগের মতো হাটে, ঘাটে, মাঠে, গ্রামে, গঞ্জে লোকজ সংস্কৃতির চর্চা হতে দেখা যায় না। মনে হচ্ছে বাংলার মানুষ এ সংস্কৃতির কাছে হার মানতে শুরু করেছে। রাখালের হাতের বাঁশি বাজে না, কিষাণ, মাঝিমাল্লা গায়না জারি-সারি, ভাটিয়ালি ও ভাওয়াইয়া গান। গ্রাম বাংলার গৃহস্থের বাড়িতে বসে না কিস্সা বা পুঁথির আসর। মনে হচ্ছে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের রুচিবোধ পাল্টে গেছে। সেই সাথে ধ্বংস হতে যাচ্ছে হাজার বছরের পুরনো বাঙালি জাতির লোকজ সংস্কৃতি। এ অবস্থা চলতে থাকলে কিছু দিনের মধ্যে এর জায়গা হবে জাদুঘরে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এক সময় আমাদের দেশে পাড়া ও মহল্লায় জারি, সারি, পালাগান ও কবিগানের আসর বসত। এসকল দেশীয় সংস্কৃতি গ্রামবাংলার মানুষ প্রাণ ভরে উপভোগ করত। এ সংস্কৃতির মাধ্যমেই বাংলার মানুষ চিত্তবিনোদন করে থাকত। কালের বিবর্তনে আধুনিকায়নের ফলে মানুষের রুচিবোধ বদলে গেছে। এ রুচিবোধ প্রভাব ফেলছে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির উপর। ভিনদেশি এ সংস্কৃতির কারণে দেশের মানুষ ভুলতে বসেছে নিজস্ব সংস্কৃতি। এ থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আমাদের এ সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। তা না হলে এ সংস্কৃতির প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করবে। যার ফলে এমন সময় আসবে তখন আঘাত হানবে আমাদের জাতিসত্তার উপর। তখন শুধরানোর সময় থাকবে না। আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য টিকিয়ে রাখার জন্য এ আগ্রাসী সংস্কৃতির বলয় থেকে তরুণ প্রজন্মকে বের করে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের তরুণ সমাজকে বিদেশি সংস্কৃতির কবল থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন অতি জরুরি। সময় থাকতে হেলায় গা না ভাসিয়ে আমাদের দেশের লোকজ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যা করণীয় তার সঠিক ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নিজস্ব সংস্কৃতি হচ্ছে একটি জাতির পরিচিতির ধারক ও বাহক। আর এ সংস্কৃতিই বিলুপ্ত হতে চলছে আমাদের দেশ থেকে।
বর্তমান সময়ে বিগত দশ বছরের তুলনায় দেশে যে হারে ধর্ষণ ও নারী নিগ্রহের ঘটনা বেড়েছে, সেক্ষেত্রে ভিনদেশির পর্নো তারকার আগমন অবক্ষয়ের দগদগে আগুনে ঘি ঢালার মতোই কাজ করবে বলে মনে করি। কনসার্টের নামে এ ধরনের অশ্লীল ও যৌন সুড়সুড়িমূলক অনুষ্ঠান এদেশের জনগোষ্ঠীকে ব্যভিচারে উৎসাহিত করবে বলে বিশ্বাস করি এবং এর দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ইতোমধ্যে লাম্পট্য ও মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু মেয়েরা নন, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজনরাও ইভটিজারদের হাতে নিরাপদ নন। সারা দেশে উদ্বেগজনকভাবে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। পুলিশ সদর দফতর হতে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ২০১৪ সালে ৪ হাজার ৬৪২টি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫৩৮টি। ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে সারা দেশে ৭৯৭টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এ তথ্যানুসারে, প্রতি মাসে অন্তত ৩০০টি ধর্ষণের মামলা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির দেয়া তথ্যানুসারে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সারা দেশে ২৪১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির মতে, ২০১০ সাল থেকেই ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলেছে। তাদের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ৭৮৯, ২০১৩-তে ৭১৯, ২০১২-তে ৮৩৬, ২০১১-তে ৬০৩ এবং ২০১১-তে ৪১১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে নির্যাতন যেমন বাড়ছে, নির্যাতনের নতুন নতুন রূপও প্রকাশ পাচ্ছে দিন দিন। আজ প্রকাশ্য ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠেছে। শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করে কয়েক টুকরো করার মতো বীভৎস ঘটনাও ঘটেছে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি।
বর্তমানে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে যুবসমাজের মাঝে অপরাধপ্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও সরকারের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। বরং নীতিগত উন্নয়নের নামে সরকারি উচ্চপদস্থ অনুমোদন নিয়ে ঐসব উন্মাদ কনসার্ট আয়োজনের সুযোগ পক্ষান্তরে অশালীন পরিবেশকেই উসকে দেয়, যা ধ্বংস করে দিতে পারে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত সংস্কৃতি।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply