বিশ্ব চলচ্চিত্র টার্গেট ইসলাম

জাফর ফিরোজ

(গত সংখ্যার পর)
তারেক মাসুদের সর্বশেষ ছবি ‘রানওয়ে’। কী নেই এই ছবিতে? রানওয়ে ছবির ভাবনা প্রসঙ্গে তারেক মাসুদ বলেন, ‘শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক আর্থসামাজিক আবহ একটি সহজ-সরল ছেলেকে কীভাবে উগ্র ও জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়তে সাহায্য করে এবং তা তার নিজের জীবনে, পরিবারে ও সমাজের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে এমনই কিছু ভাবনা থেকে ছবিটি। মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক ছেলে কীভাবে জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়, কীভাবে আফগানিস্তান-ফেরত মুজাহিদ দলনেতার জঙ্গি শিবিরে শরিক হয়, কীভাবে সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় তা দেখানো হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। তারেক মাসুদ সব সময় একটি আদর্শকে লালন করতেন। তিনি কখনো তার আদর্শের বাইরে গিয়ে কোন চলচ্চিত্র তৈরি করেননি। তার সবগুলো ছবিতে তার আদর্শের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে আদর্শ প্রচারের জন্য যদি কোনো পরিচালক কাজ করে থাকেন তিনি তারেক মাসুদ। তার মাটির ময়নাতেও দেখি ইসলামের শাশ্বত বিধান কুরবানিকে নিয়ে তামাশা করতে। অন্তর্যাত্রায় আজানকে কাকের কর্কশ ধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন। আর তার দীর্ঘ সাধনার যে চলচ্চিত্রটির লোকেশন খুঁজতে গিয়ে মারা যান সেটিরও টার্গেট পয়েন্ট ঠিক করা ছিল। চলচ্চিত্র যদি সমাজের আয়না হয় তাহলে গেরিলা, রানওয়ে, অপেক্ষা এই চলচ্চিত্রগুলি কোন সমাজের আয়না? এই রকম আর ৫/৭টা চলচ্চিত্র তৈরি হলে হয়তো আমেরিকার জঙ্গি বিমান বাংলাদেশকে দ্বিতীয় আফগানিস্তানের মর্যাদায় নিয়ে নিবে।
আজ আমরা এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি যখন সামাজিক মূল্যবোধ আমাদের মাঝ থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। মানুষ একজন আরেকজনকে করছে অবিশ্বাস। বাড়ছে পারিবারিক কলহ, ঘটছে দাম্পত্য জীবনের অবসান। সন্তান মনে করে পিতা-মাতা আজ তার কাজের প্রধান অন্তরায়। রাজনীতিবিদদের কল্যাণে ধর্মীয় মূল্যবোধ উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করেছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইসলামের সাথে সকল অকল্যাণকে জুড়ে দেয়া হয়েছে। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আ) এর সাথে হযরত হাওয়া (আ) এর বন্ধন সৃষ্টি করে দেয়ার মাধ্যমে শুরু হয় পারিবারিক কাঠামো। একসময় মানুষ ছিল যাযাবর। মানুষ ভালো মন্দ বুঝতে শিখল। অসভ্য জীবন থেকে মানুষ সভ্য জীবনে প্রবেশ করে পরিবারপ্রথা গড়ে তুলল। মানুষ বিচিত্র কারণেই সমষ্টিগত তথা পরিবারকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষ দিককার কিছু কিছু ঘটনা পরিবার প্রথা বা কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তনের সূচনা ঘটিয়েছে যা বিভিন্ন দিক থেকেই এই পরিবার কাঠামোর জন্যে হুমকিস্বরূপ। পরিবার প্রথা বিলোপের জন্য চলচ্চিত্র আজ মোড়লের ভূমিকায় অবতীর্ন। পাশ্চাত্যে লাগামহীন স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা পরিবার প্রথার মূলে মারাত্মক আঘাত হেনেছে এবং পশ্চিমা পরিবারগুলোর জন্যে ডেকে এনেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ। এখন সেখানে দুই জনের পরিবার ব্যবস্থাও খুব একটা নেই। বাড়ছে নিঃস্বঙ্গতা। যার ফলে প্রতিদিন গড়ে আমেরিকাতে ১৯০০ জন নারী এবং পুরুষ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। পশ্চিমা সেই অন্ধকারকে আলো ভেবে আজ আমাদের ১,৪৭,৫৭০ (প্রশ্নবিদ্ধ) বর্গকিলোমিটারের দেশ আনন্দে খাবি খাচ্ছে। রেডিও টেলিভিশন সিনেমায় সেই আলোর (অন্ধকার) বান সেকেন্ডে ১,৪৭,৫৭০ (প্রশ্নবিদ্ধ) বর্গকিলোমিটার বেগে প্লাবিত হতে দেখা যায়। যার সুবাধে অনেক সচেতন মানুষও অচেতন মনে সেই বানে গোসল সেরে নিচ্ছেন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করে মনে হচ্ছে আমরা আবার গুহার জগতে ফিরে যাচ্ছি। মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিয়ে আমরা বন্য হয়ে যাচ্ছি। আমাদের মুখের ভাষায় কোনো আভিজাত্য নেই। আমাদের শরীরে কোনো বস্ত্র নেই। আমাদের নিজস্ব কোনো সংস্কৃতি নেই। আমাদের একটা জিনিসই আছে তা হলো অবাধ স্বাধীনতা। আমরা ইচ্ছে করলে যে কারো বৃক্ষ হতে ফল ছিড়ে খেতে পারি। আমরা ইচ্ছে করলে যে কারো শান্তিতে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারি। আজ মনে হচ্ছে আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে। কেউ কারো কথা শোনার প্রয়োজন নেই। কেউ কাউকে মানারও প্রয়োজন নেই। সবাই নেশার ঘোরে টালমাটাল। বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে আমার দেশের হিমসাগর বাদ দিয়ে পশ্চিমা মরা পঁচা ইঁদুরকে চুষে চুষে খেতে আমাদের রুচিতে বাঁধে না।
আজ রুচিশীল দেশীয় সংস্কৃতি বাদ দিয়ে শিলা শিলাকি জাওয়ানীতে আমরা উন্মাতাল। আধুনিক হচ্ছি না! আমাদেরকে পিছিয়ে থাকলে হবে? আমি আধুনিকতায় প্রতিবন্ধক নই। আপনি আলোর গতিতে মনুষ্যত্ব নিয়ে আধুনিক হোন; সমাজ আপনার থেকে সত্যিকারের আলোয় আলোকিত হবে। তবে আধুনিকতার নামে আজ দেশে যা ছড়াচ্ছে তার নাম আধুনিকতা নয়, আদিমতা।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যাবে আমরা যাকে আদিমতা বলে জানি তা-ই আজ নতুন নামে নতুন ডিজাইনে আধুনিকতার নামে আমাদের সামনে রাজার আসনে সমাসীন। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একটু দৃষ্টিপাত করুন; যেখানে শিক্ষার আলো এখনো পৌঁছায়নি। কী দেখবেন? দেখবেন তারা ভালো মন্দ উপলব্দি করতে পারে না। পুরুষ ও মহিলারা গাছের পাতা অথবা ছাল দিয়ে লজ্জাস্থান ঢেকে রেখেছে। তাদের গায়ের রং কালো, চুলে শ্যাম্পু করা জানে না, বিউটি পার্লার তারা চিনে না, রাখে না সভ্য সমাজে চলার অধিকার। আর অন্যদিকে আমরা যারা নিজেদেরকে আধুনিক মনে করি তাদের গায়ের রং সাদা, চুলে নামিদামী ব্রান্ডের কোন শ্যাম্পু অথবা হেয়ারজেল, ড্রেস মেয়েদেরটা গুহাবাসিদের যা আছে তাই। এই হচ্ছে আমাদের আধুনিকতা! অথচ এই আধুনিক বিষয়টা ছিল কত পবিত্র কত মর্যাদার। সাংস্কৃতিক দেউলিয়ার কারণে আজ আমরা সব হারাতে বসেছি।
এখন চলচ্চিত্রে দেখানো হচ্ছে বোরখা-হিজাব হচ্ছে পশ্চাৎপদতা ও নির্যাতন-নিপীড়ন এর হাতিয়ার! আধুনিকতা বা সভ্যতার অর্থ যদি অর্ধ-উলঙ্গ বুঝায় তাহলে তো আদিম যুগের মানুষ পুরোপুরি আধুনিক ও সভ্য ছিল। অথচ তাদেরকে অসভ্য বলা হয়। রাস্তা-ঘাটের উলঙ্গ পাগলা-পাগলিকেও তো তাহলে পুরোপুরি আধুনিক ও সভ্য বলতে হয়। কিন্তু সেটা তো কেউই মেনে নেবেন না।
আজ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে ছড়াচ্ছে নানা ধরনের রোগ জীবাণু। পারফিউমের বিজ্ঞাপনের নামে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে উগ্র যৌনতা। বাচ্চাদের নর্দমায় নামিয়ে দিয়ে ওয়াশিং পাউডারের বিক্রি বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো। একা একা খেতে চাও দরজা বন্ধ করে খাও; এর মাধ্যমে শিশু বয়স থেকেই স্বার্থপর জাতি হিসেবে তৈরি করছে আমাদের। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় দেখেছি মুনাজাতের মত ধর্মীয় আচারকে তারুণ্যের মাঝে পরিবর্তন করে দিতে। অনেক মোবাইল অপারেটর ছেলেমেয়েদের লম্বা সময় ধরে কথা বলায় উৎসাহী করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে হট জোন। ক্লাস বাদ দিয়ে দিনরাত কথা বলে সময় পার করে ছিনতাইকারী চাঁদাবাজ বানাচ্ছে আমাদের। কিভাবে মানুষের টাকা মারতে হয় এবং পাওনাদার দেখলে পালাতে হয় তাও আজ আমাদের চলচ্চিত্রের কল্যাণে আমরা আত্মস্থ করতে পেরেছি।
আজ সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কিছুই বাকি নেই। বড় পরিবারের সেই জৌলুশ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। হিন্দী সিরিয়ালগুলো যেভাবে যৌথ পরিবারে অবিশ্বাস ঢুকিয়ে দিচ্ছে তাতে আমাদের দেশ থেকে যৌথ পরিবারের প্রথাটা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখন স্বামী-স্ত্রী’র ছোট্ট পরিবার। সেখানেও হানা দিচ্ছে গণমাধ্যম। স্বামী এবং স্ত্রীকে আলাদা আলাদা বাসায় রাখার জন্য জোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ১৯৫০ এর পর শীতল যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পথে অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। গণমাধ্যম এবং প্রচারণার ঐ যুদ্ধের পাশাপাশি পরিবারের নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরে হলিউড ছবি নির্মাণ করতে থাকে। সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি রোধে পরিবার ব্যবস্থার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীতে এই পরিবারব্যবস্থা এবং এর সদস্যরা গণমাধ্যমের প্রভাবশালী প্রচারণা কৌশলের শিকার। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মন-মানসিকতার ওপর, সন্তানের সাথে তাদের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলার জন্যে গণমাধ্যমগুলো এখন খুবই শক্তিশালী হাতিয়ার। এই গণমাধ্যমগুলো পরিবার, প্রেম এবং নৈতিকতার মতো বিষয়গুলোর অর্থ ও তাৎপর্যকে উপহাস্য করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। পরিবার ব্যবস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করার মধ্য দিয়েই গণমাধ্যমগুলো তাদের টার্গেটে পৌঁছতে চায়। গণমাধ্যমের প্রভাবের কারণে এরইমধ্যে সারা বিশ্ব জুড়েই পরিবার ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা হ্রাস তথা সন্তানাদি কম নেওয়ার জোর প্রচেষ্টা আজ বিশ্বব্যাপী। ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট, এই প্রচারণা আমাদের দেশে শিশু বয়স থেকে শেখানো হয়। এর মাধ্যমে পৃথিবী থেকে পারিবারিক বন্ধনকে বিলুপ্ত করে মানুষকে একা নিঃসঙ্গ মানুষে পরিণত করার স্বপ্ন দেখে ষড়যন্ত্রকারীরা।
আজ আমরা হলিউড অথবা বলিউডের চলচ্চিত্রকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি। তাদের কাছ থেকে পরিবার বিধ্বংসী কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করি। তাদের দেশ থেকে সার্টিফাই পদক নিয়ে আমাদের কোমলমতি শান্তশিষ্ঠ পরিবারের মাঝে মহাসমারোহে প্রদর্শন করি। আর আমাদের দেশের মানুষরাও কোনো চিন্তা ভাবনা না করে যেহেতু বিদেশ থেকে সার্টিফিকেট অর্জন করেছে সেহেতু দেখা দরকার বলে মনের অজান্তে গিলছে আর রক্ত বমি করছে। তারা এতই শক্তিশালী যে আবার এই সমস্ত ছবির বিজ্ঞাপনে আমার দেশের মন্ত্রী পরিষদ এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারছে। ছবিগুলোতে কী হচ্ছে? অবাধ, স্বাধীন ও নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে, ধর্মকে সকল সাফল্যের প্রতিবন্ধক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ধন-সম্পদ আর খ্যাতি অর্জনের জন্যে পরিবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখার প্রতি অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে।
পৃথিবীব্যাপী ফিল্ম নির্মাণের স্টুডিওর সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠাতা মার্কিন বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। তাঁর জীবনের শেষ দিকে এসে বলেছিলেন, ‘সিনেমার বিচিত্র প্রয়োগের ব্যাপারে আমার খুব উজ্জ্বল স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন ছিল দেখার; সিনেমার সাহায্যে মানুষ কীভাবে অজানা এবং যার যার প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে শিখছে, সরাসরি এবং সুন্দরভাবে। কিন্তু যখনি সিনেমা বিনোদন আর প্রচারের মাধ্যমে পরিণত হলো আমি তখনি হাল ছেড়ে দিয়েছি, কেননা এর মাধ্যমে আর আমার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হবে না, সেটা আমি বুঝে ফেলেছি।’
আমি স্বপ্নবাজ মানুষ। নিজে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি এবং মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পছন্দ করি। বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন সিনেমা নিয়ে তাঁর হাল ছেড়ে দিলেও আমি সে হাল ধরতে পছন্দ করি। আমার বিশ্বাস এর মাধ্যমেই আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই ইসলামকে মানবতার ধর্ম হিসেবে মানুষের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব। এখন প্রয়োজন একদল স্বপ্নবাজ তরুণের। যারা পৃথীবির এই কঠিন দায়িত্বটি কাঁধে তুলে নিয়ে সমগ্র মানবজাতিকে মুক্তি দিবে। সমগ্র সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা মহাবিজ্ঞানী আল্লাহ সোবহানাহু তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে সূরা আল ইমরানের ১৩৯ নাম্বার আয়াতে ঘোষণা করেন, “আর তোমরা নিরাশ হয়ো না, দুঃখ করো না; যদি তোমরা মুমিন হও তবে তোমরাই জয়ী হবে।”

 

SHARE

Leave a Reply