বিশ্ব পরিস্থিতি ও ইসলামী আন্দোলন দেশে দেশে

মতিউর রহমান আকন্দ

ঘটনাবহুল বিংশ শতাব্দীর বিদায়ের পর একবিংশ শতাব্দীর যাত্রা শুরুর প্রায় এক যুগ অতিবাহিত হলো। একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব পরিস্থিতি কোন দিকে ধাবিত হবে তা গত শতাব্দীর ঘটনাবলি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন বিশ্লেষক প্রায় এক ও অভিন্ন মন্তব্য পেশ করেছিলেন। যে কোন বিষয়ের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের জন্য সেই বিষয়ের প্রেক্ষিত খুব ভালো ভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। আজকের একবিংশ শতাব্দী জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উৎকর্ষতার দিক থেকে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। মানুষের জীবন ও জীবন যাপনের মানে অনেক পরিবর্র্তন এসেছে। পরিবর্তন হয়েছে রুচি, পছন্দ, অভ্যাসের। দৃষ্টিভঙ্গিরও হয়েছে পরিবর্তন।
বিগত ঘটনাবহুল শতাব্দীতে মানবজাতি অনেক কিছুই প্রত্যক্ষ করেছে। মানুষ সুখ, শান্তি, মুক্তি ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দুই দু’টি বিশ্বযুদ্ধ, সমাজতন্ত্রের উত্থান ও পতন, সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার, বিশ্বায়ন, উদার গণতন্ত্র, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতা আন্দোলন, উপনিবেশবাদের করাল গ্রাস থেকে মুসলিম দেশসমূহের স্বাধীনতা অর্জন, ইরানের সফল ইসলামী বিপ্লব, বিংশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পৃথিবীর দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন, ইহুদিদের দ্বারা বায়তুল মোকাদ্দাস দখল ও অগ্নিসংযোগ, বসনিয়া, চেচনিয়া, যোগোস্লাভিয়া গণহত্যা, ভূস্বর্গ কাশ্মীরে রক্তাক্ত ঘটনা, আলবেনিয়ায় দমন-পীড়ন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ এসবই সংঘটিত হয়েছে বিংশ শতাব্দীতে।
সমাজতন্ত্রের জয় জয়কার পরিস্থিতির যবনিকাপাতের মাধ্যমে, পরাশক্তির সংখ্যা দুটো থেকে একটিতে নেমে আসার মধ্য দিয়ে গেলো শতাব্দীর বিদায় ঘটে। মানুষের তৈরি বিভিন্ন মতবাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বলা যায় এক মহাশূন্যতা ও সঙ্কটের মধ্য দিয়ে মানবজাতি নতুন শতাব্দীতে পদার্পণ করেছে। মুক্তিকামী মানবতা সুখ, শান্তি ও তৃপ্তির সন্ধানে বহু মতবাদের পেছনে ধাবিত হয়েছে কিন্তু মানুষ তার কাক্সিক্ষত আদর্শের সন্ধান পায়নি। অর্থনৈতিকভাবে বিশ্ববাসী ব্যাপক সমৃদ্ধি অর্জন করলেও প্রশান্তির পরশ পায়নি। যুদ্ধ, সঙ্ঘাত, দ্বন্দ্ব, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, পৃথিবীকে অশান্ত করে তুলেছে।
পুঁজিবাদী সমাজের শোষণ এবং শ্রেণী বৈষম্যনীতির বিষময় ফলাফলের প্রেক্ষাপটে কার্লমার্ক্স নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং বঞ্চিত মানুষের শান্তি বিধানের লক্ষ্যে সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। পুঁজিবাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই সমাজতন্ত্রের জন্ম। সমাজতন্ত্রের উত্থান শুরু হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়া হতে। রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব এতে এনে দেয় এক নব চেতনা। ১৯১৭ সালের এ বিপ্লব সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিশাল অংশজুড়ে বৃহত্তম দেশ রাশিয়া দুনিয়ার প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ। বলশেভিক বিপ্লবের নায়ক লেলিন হন রাষ্ট্রের প্রধান। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বরূপ উদঘাটিত হয় ১৯২০ সাল হতে ১৯৩০ সালের মধ্যে। এ সময় মার্কসবাদ ও লেলিনবাদ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সমাজতন্ত্রের আসল চরিত্রের উন্মোচন ঘটে। শুরু হয় মুসলিম নির্যাতন। মুসলমানদের সমূলে উৎপাটনের জন্য বিভিন্ন কায়দায় অত্যাচার নিপীড়ন চালানো হয়।
বিপ্লবের পূর্বে যেসব মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় মুসলমানরা লেলিনকে স্বাধীনতা ফিরে পাবার শর্তে সমর্থন করেছিল তারাও রেহাই পায়নি। লেলিনের পর ক্লুশেভ, ব্রেজনেভ, যিনিই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন তিনিই মুসলিম নিধনের পাশাপাশি মুসলমানদের চিন্তা, চেতনায় পরিবর্তনের জন্য মগজ ধোলাইয়ের কাজও সম্পন্ন করেন।
সমাজতন্ত্র তার সমহিমায় টিকে থাকার জন্য নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের নানান পথ পর্ব সম্পন্ন করেও শেষ রক্ষা পায়নি। ১৯৮৯ সালে এ মতবাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় ঘটে।
বিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত দু’টি বিশ্বযুদ্ধ ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ দুটো বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। ১৯১৪-১৮ সালের সংঘটিত প্রথম মহাযুদ্ধ মূলত ইউরোপের ছয়টি বড় বড় শক্তিশালী দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়। পরে অবশ্য অনেক ছোট ছোট দেশ তাতে জড়িয়ে পড়ে। এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার উদ্দেশ্যে। ১৯১৫ সালে আমেরিকা মহাসমরে যোগদান করেছিল নিজের বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে ৫১টি দেশ মিলিত হয়ে জাতিসংঘ গঠন করে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও আমেরিকার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের নেতৃত্বে বিশ্ব মূলত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অসাধারণ অগ্রগতির মধ্য দিয়ে আসে তৃতীয় শিল্প বিপ্লব। এ বিপ্লবের পর আবিষ্কার হয় পারমাণবিক শক্তি। দুই পরাশক্তির অব্যাহত প্রতিযোগিতা পারমাণবিক শক্তির সমন্বয় ও ঠাণ্ডা যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বসভ্যতা ধ্বংসের মারণাস্ত্র লাভ করে।
প্রথমে আমেরিকা পরে ১৯৪৯ সালে রাশিয়া এ বোমার মালিক হয় এবং শান্তির জন্যই যুদ্ধ এ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে পারমাণবিক রণ প্রস্তুতির উন্মাদনা।
পরবর্তী ৪০ বছর ছিল বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। ১৯৮৯ সালে সমাজতন্ত্রের পতনের পর বিশ্ব সভ্যতার পরিবর্তন সূচিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায়। বিশ্বমোড়লিপনা এককভাবে চলে যায় আমেরিকার হাতে। আমেরিকা ছলেবলে কৌশলে সমগ্র বিশ্বে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হয়।
পুঁজিবাদী পশ্চিমাবিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের নতুন পরিচয় নিয়ে বিশ্বকে গ্রাস করার চেষ্টা চালায়। তাদের এ পরিচয়ের নাম দেয় নতুন বিশ্বব্যবস্থা। এটাকেই বলা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাসি। কিন্তু কমিউনিজমের মত উদার নৈতিক সমাজব্যবস্থাও চরমভাবে ব্যর্থ হয়। এ মতবাদের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে মূলত বিংশ শতব্দীর বস্তুবাদী চিন্তাধারায় গড়ে ওঠা আদর্শের পতন নিশ্চিত হয়। পতনের এ প্রেক্ষাপটে মানবজাতিকে মহাসঙ্কট থেকে উদ্ধার করার আদর্শ হিসেবে অবশিষ্ট থাকে কালজয়ী আদর্শ ইসলাম।
বিশ্বব্যাপী আদর্শিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে ইসলামের সম্ভাব্য পুনর্জাগরণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে তাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে পাশ্চাত্যের জন্য সবচাইতে কার্যকর ও কৌশলগত পরামর্শটি প্রণয়ন করেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিজ্ঞানী প্রফেসর হান্টিংটন। আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক দীর্ঘকালীন উপদেষ্টা এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Olin Institute for strategic studies এর পরিচালক Samuel P Huntington নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিশ্ব রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে নাটকীয় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ‘The Changing Security Environment and American National Interest’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে লিখেছেন : ‘World Politics is entering a new phase in which the fundamental sourec of conflict will be neither ideological nor economic. It will be the clash of civilization.’ অর্থাৎ পরাশক্তিদ্বয়ের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগের অবসানের পর বিশ্বরাজনীতি এমন একপর্যায়ে অনুপ্রবেশ করছে যেখানে সংঘাতের মৌলিক উৎস আর আদর্শও হবে না, অর্থনীতিও হবে না। সেই সংঘাত হবে মূলত সভ্যতাসমূহের মধ্যে সংঘাত।
তিনি পুনরায় বলেন, ‘ঞযব ঈবহঃৎধষ ধীরং ড়ভ ড়িৎষফ চড়ষরঃরপং রহ ঃযব ভঁঃঁৎব রং ষরশবষু ঃড় নব ঃযব পড়হভষরপঃ নবঃবিবহ ঃযব বিংঃ বহফ ঃযব ৎবংঃ, ধহফ ঃযব ৎবংঢ়ড়হংব ড়ভ ঃযব হড়হ বিংঃবৎহ পরারষরুধঃরড়হং ঃড় বিংঃবৎহ ঢ়ড়বিৎ ধহফ াধষঁবং.’ অর্থাৎ ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতিতে সংঘাতমুখী যে মেরুকরণ ঘটবে তার একদিকে থাকবে পাশ্চাত্য শক্তিসমূহ এবং অপর পক্ষে থাকবে পাশ্চাত্যের ক্ষমতা ও মূল্যবোধের প্রতিদ্বন্দ্বী অপাশ্চাত্য (প্রাচ্যের) জাতিসমূহ।
এর পর হান্টিংটন সাহেব পাশ্চাত্য শক্তিবর্গকে তাদের পরবর্তী আক্রমণের টার্গেট নির্দেশিত করে বলেন : ‘Those countries that for reason of culture and power do not wish to join the west. Compete with the west, by developing their own economic, military and political Power. The most prominent form of this Co-operation is the Confucian- Islamic connection that has emerged to challenge western interest, values and power’ অর্থাৎ প্রাচ্য দেশীয় যে সকল জাতি পাশ্চাত্য সভ্যতা, সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে অনিচ্ছুক বরং নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রাখতে আগ্রহী, তারা নিজেরাই অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এ জাতীয় দেশসমূহের মধ্যে সহযোগিতার সুপ্রত্যক্ষ উদাহরণ হচ্ছে কনফুসিয়ান ও ইসলামী আঁতাত যা কিনা পাশ্চাত্য স্বার্থ, মূল্যবোধ এবং ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য উত্থিত হয়েছে। তিনি সরাসরি উসকানিমূলক যে বক্তব্যটি ব্যবহার করেন তা হচ্ছে : ‘A central focus of conflict for immediate future will be between the west and Islamic Confucian states’ অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হবে পাশ্চাত্য শক্তির বিরুদ্ধে ইসলামী-কনফুসিয়ান রাষ্ট্রসমূহের।
হান্টিংটন তার বর্ণনার একদিকে কনফুসিয়াস প্রভাবাধীন দেশ চীন ও কোরিয়া এবং অপরদিকে ইসলাম প্রভাবাধীন পাকিস্তান, ইরান, লিবিয়া, সুদান ও আলজেরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কতিপয় দেশে অব্যাহত সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পশ্চিমা আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সাথে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক জোট ইকো এবং মুসলিম বিশ্বে ইসলামী পুনর্জাগরণবাদীদের শক্তি বৃদ্ধি যারা রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থাপনায় পাশ্চাত্য প্রবর্তিত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ইসলাম অনুমোদিত পদ্ধতি প্রবর্তনে আগ্রহী। তাই তিনি কনফুসিয়ান ইসলামী আঁতাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সকল পাশ্চাত্য শক্তিকে- ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। হান্টিংটন সাহেব বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পশ্চিমা দেশসমূহের অর্থনৈতিক সামরিক ও রাজনৈতিক প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে যে সুপারিশমালা প্রণয়ন করেন তা হলো :
It is clearly in the interest of the west to promote greater Co-operation and unity within its own civilization particularly between its European and North-American components to limit the expansion of the military strength of Confucian and Islamic states to maintain western military superiority in East and Southeast Asia to exploit differences and conflicts among Confucian and Islamic states, to support in other civilizations, groups Sympathetic to western values and interest, to strengthen international institution that reflect and legitimate western interests and values and to promote the involvement of non-western states in those institutions.
এর সহজ অর্থ করলে এই দাঁড়ায় যে, নিজেদের স্বার্থে পাশ্চাত্য শক্তিবর্গ বিশেষত উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপীয় দেশসমূহের মধ্যে বৃহত্তর সমঝোতা ও ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। এবং এটা এজন্য প্রয়োজন যে :

  • কনফুসিয়ান ও ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি রোধের জন্য।
  • পূর্ণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার পাশ্চাত্য সামরিক প্রাধান্য বজায় বাখার জন্য;
  •   কনফুসিয়ান এবং ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার ব্যবধান ও সংঘাতসমূহকে কাজে লাগানোর জন্য।
  •   পাশ্চাত্য স্বার্থ ও মূল্যবোধের প্রতি বৈরী ভাবাপন্ন নয় বা সহানুভূতিশীল এমন অপরাপর সভ্যতা-সংস্কৃতির অধিকারী জাতিসমুহের সমর্থন আদায়ের জন্য; এবং
  •   পাশ্চাত্য স্বার্থকে সংরক্ষণ এবং আইনসিদ্ধ করে এমন সব আন্তর্জাতির (অর্থলগ্নি) প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করে এতে প্রাচ্যের দেশসমূহকে অধিক হারে সংশ্লিষ্ট করার জন্য।

এভাবে হান্টিংটন তার নিবন্ধে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের নীলনকশা প্রণয়ন করেছেন। হান্টিংটনের এ বক্তব্যের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামী পুনর্জাগরণ প্রতিহত করার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি, অনৈক্য, পারস্পারিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র প্রণয়নের জন্য সিআইএ ও স্থানীয় এজেন্টদের সক্রিয় করে। এসব এজেন্টদের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার সংগঠন, নারী মুক্তি আন্দোলন, গণতন্ত্রের নামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ফোরাম এবং দারিদ্র্য বিমোচনের নামে পাশ্চাত্য অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা এনজিও।
ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের সম্পর্কে অপপ্রচারের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও তাদেরকে দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত করার মাধ্যমে সামাজিকভাবে অস্থিতিশীল করার সাথে সাথে, পাশ্চাত্য দুনিয়ার অপর লক্ষ্য হচ্ছে মুসলিম বিশ্বকে সামরিক শক্তির দিক থেকে দুর্বল করে রাখা। মার্কিন চক্রান্তে World Bank, IMF, UNDP এর মত আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নি সাহায্য সংস্থাসমূহ কর্তৃক মুসলিম দেশগুলোর দেয়া সাহায্য কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হচ্ছে সামরিক খাতে ব্যয় কমানো। পাশ্চাত্যের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে যে সকল মুসলিম দেশ সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সচেষ্ট রয়েছে তাদের জন্য মার্কিন সাহায্য কর্মসূচি বন্ধ বা স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। এদের কাউকে আবার সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তারা বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। ইসলামকে সুমহান আদর্শ প্রচারে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। মুসলমানদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে। তাদের সকল বাধা, প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে ইসলামী আন্দোলন এগিয়ে চলছে আপন গতিতে। এ শক্তি হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য।
দুই.
পৃথিবীতে ইসলামের বিজয় এক অনিবার্য বাস্তবতা। সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বে সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। সত্যের পতাকাবাহী কাফেলার হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়ার কথা মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। নানান ঘাত প্রতিঘাত চড়াই-উৎরাই ও রক্তসাগর পেরিয়ে আজ মুসলমানেরা এগিয়ে চলছে বিজয়ের দিকে। যদিও দৃশ্যত পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। কিন্তু এর মাঝেই লুকিয়ে আছে সাফল্যের সম্ভাবনা। একদিকে বাড়ছে মুসলমানদের সংখ্যা, অপরদিকে বাড়ছে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা।
২০০৯ সালের জরিপ অনুযায়ী ধর্মাবলম্বী হিসেবে পৃথিবীতে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা প্রায় ২০৩ কোটি ৪০ লাখ আর তা কমে গিয়ে ২০১৬ সালে দাঁড়াবে ২০৩ কোটি ৩০ লাখ। ঐ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুসলমানদের সংখ্যা ১৫৭ কোটি। মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বে মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৮৪ শতাংশ। মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে দাঁড়াবে ২০৩ কোটি ৪০ লাখ, যেখানে তরুণদের আধিক্য থাকবে। সার্বিক দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, ধর্মাবলম্বী হিসেবে পৃথিবীতে একবিংশ শতাব্দী হতে যাচ্ছে মুসলমানদের উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। আর সেটা হচ্ছে ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতায়।
সমাজবিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন যে, মানুষের মাঝে সত্যকে গ্রহণ করার একটি প্রবণতা থাকে। মানুষের বিবেক সর্বদা ক্রিয়াশীল বিবেকবোধ যখন শাণিত হয় তখন মানুষ পশুত্ব, বর্বরতা, অসত্য ও মিথ্যাকে উপেক্ষা করে সত্যের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। মানুষের মাঝে সত্যের ও বিবেকের অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে একমাত্র ইসলাম। তাই দেখা যায় পৃথিবীর সব দেশেই ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা। জুলুম, নিপীড়ন, নির্যাতনের অক্টোপাস থেকে মুক্তিকামী মানবতা ইসলামের পতাকাতলে দলে দলে সমবেত হচ্ছে।
পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যেখানে প্রতিদিন ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ঘটছে না। বিশ্বে বসবাসরত সমগ্র মুসলিমের এক-তৃতীয়াংশ বসবাস করে অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র ও অঞ্চলগুলোয়; যেমন ভারত, চীন, রাশিয়া, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশে। সব দেশেই ইসলামের সুমহান আদর্শে দীক্ষিত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
একদিকে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, অপর দিকে অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ আগামী দিনে ইসলামের বিজয়কে ত্বরান্বিত করছে। জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও অগ্রগতির পাশাপাশি তরুণদের ইসলামের প্রতি আগ্রহ ইসলামের বিজয়কে আরো গতিশীল করছে।
মুসলমানদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পতনের পর পশ্চিমা যে মতবাদগুলো ইসলামের স্থান দখল করতে চেয়েছিল, সেসব মতবাদ ব্যর্থতা বরণ করে পেছনে হটে যাচ্ছে। জীবন নিয়ন্ত্রণকারী সার্বিক আদর্শ হিসেবে ইসলামের বিশ্বব্যাপী উত্থান সময়ের ব্যাপার মাত্র। এটাই বাস্তবতা। জুলুম, নিপীড়ন, যড়যন্ত্র, চক্রান্ত এ বাস্তবতার মাঝে কোন ব্যত্যয় ঘটাতে পারবে না।
নানান ঘাত প্রতিঘাত ও রক্তসাগর পেরিয়ে ইসলামের সত্য আজ সূর্যের মত সকলের কাছে দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছে। শুধু মুসলিম বিশ্ব নয়, বিশ্বের সব স্থানে সব প্রান্তেই ইসলামী জীবনাদর্শ এক প্রচণ্ড গতির বিকাশমান শক্তি হিসেবে আসন গাড়ছে। আজ সর্বমহল থেকে স্বীকৃতি আসছে ইসলামের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দুনিয়াতে নেই।
তারই বাস্তব নমুনা আজ মধ্যপ্রাচ্যে দেখা যাচ্ছে যাকে আরব বসন্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
কোন আদর্শের বিজয়ের জন্য প্রয়োজন সংগঠন, ত্যাগ- কোরবানি ও তরুণদের অংশগ্রহণ।
গত শাতাব্দীর শুরুতে মুসলমানদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ছিল না, কোন সংগঠনের অস্তিত্ব ছিল না। বিগত শতাব্দীর মাঝা মাঝি সময় মুসলমানদের সে অভাব পূরণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সংগঠন। ১৯২৮ সালে ইখওয়ানুল মুসলিমিন, ১৯৪১ সালে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলমানদের সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠে এ দুটো সংগঠনের তত্ত্বাবধানে যারা দুনিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। শত প্রতিবন্ধকতা, জুলুম, নিপীড়ন, অত্যাচার, উৎপীড়ন ও ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত এ আদর্শবাদী সংগঠনকে দুর্বল করতে পারেনি।
এসব সংগঠনে যোগদান করছে তরুণরা। তরুণদের অংশগ্রহণে ইসলামী আন্দোলন আজ বিশাল শক্তিরূপে বিশ্বের দেশে দেশে আত্মপ্রকাশ করছে। ইতিহাস সাক্ষী কোন সংগঠনে যখন তরুণদের অংশগ্রহণ অধিক হারে হতে থাকে তা বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। দুনিয়ার যে কোন দেশের মসজিদগুলোতে আজ তরুণদের আধিক্য। আরব দেশের লাইব্রেরিগুলোতে আজ তরুণ পাঠকদের ভিড়। আন্দোলন সংগ্রামের সফলতায় তরুণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ত্যাগ, কোরবানি, সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার চেতনা। পৃথিবীর সর্বত্র আজ তরুণেরা ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করছে। একমাত্র ইসলাম ছাড়া অন্য কোন আদর্শের জন্য এভাবে জীবন উৎসর্গের ঘটনা বিরল।
ইসলামের শাশ্বত এ সুমহান আদর্শের বিজয় কখন, কিভাবে, কোন সূত্র ধরে সম্পন্ন হবে তা গণিতশাস্ত্রের মত অঙ্ক কষে নির্ধারণ করা যাবে না। ইতিহাসের অনিবার্য বাস্তবতায় তা সম্পন্ন হবে। অতি সম্প্রতি তিউনিসিয়া, মিসর, আরব ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে সে বাস্তবতার জ্বলন্ত দৃশ্য বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে।
তিউনিসিয়ার এক ফল বিক্রেতার আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে আরব ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে শুরু হয় গণ-আন্দোলন। সে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মিসরে হোসনি মোবারকের পতন ডেকে আনে। মাত্র ১৮ দিনের টানা আন্দোলনে পতন ঘটে ৩০ বছরের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের।
কয়েক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও স্বাধীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছেন ইখওয়ানুল মুসলিমিন তথা মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা ডক্টর মুহাম্মদ মুরসি।
ড. মুরসি তার একাডেমিক সার্টিফিকেট অনুযায়ী একজন মেধাবী ব্যক্তি। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম দশের মধ্যে মেধা তালিকায় ছিলেন। তাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমেরিকায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। সেখানকার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার বাবা একজন কৃষক; যার পাঁচ বিঘা জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি জমি দেখাশুনা করেন এবং তিনি মিসরের শ্রমিকদের মধ্যকার একজন শ্রমিক।
ড. মুরসি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। কিছুদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় কাজ করেন। দেশে ফিরে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোবারক শাসনামলে তিনি পার্লামেন্টে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। মোবারক আমলে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। নিয়তির নির্মম পরিহাস হচ্ছে মোবারকবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন মুরসি ছিলেন কারাগারে। এখন মুরসি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আর মোবারক কারাগারে। ড. মুহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত জাগজিগ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছিলেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মুরসি ঘোষণা করেছেন ‘নিজেকে ক্ষমতাধর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিন শেষ।’ তিনি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতীয় ঐক্য গড়ার ডাক দেন। ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক বেসামরিক রাষ্ট্র গড়াই তার লক্ষ্য বলে ঘোষণা দেন। তিনি অঙ্গীকার করে বলেছেন ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পথ সবসময় খোলা থাকবে। নারীদের পোশাক পরার ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না বলেও জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয় জনগণই দেশের মালিক।
প্রেসিডেন্ট মুরসির স্ত্রী নাজলা আলী যিনি তার স্বামীকে সব কাজেই সমর্থন দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন। মিসরের প্রচলিত নিয়মানুসারে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে যার ফার্স্ট লেডি হওয়ার কথা তিনি সে পদবি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি ঘোষণা করেন, ‘ইসলাম একজন নারীর সাথে অন্য কারোর কোনো বৈষম্য করে না। আমরা সবাই মিসরীয় এবং আমাদের দেশের সেবা করতে একতাবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইসলাম আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে শাসক হচ্ছে দেশের প্রথম সেবক আর প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে আমিও হবো জনগণের প্রথম সেবক, ফার্স্ট লেডি নয়।’
প্রেসিডেন্ট ড. মুরসির স্ত্রী নাজলা আরো বলেন, ‘যদি একান্তই প্রয়োজন না হয় তাহলে আমরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে থাকতে চাই না। আমরা সাধারণ মানুষের সাথেই থাকতে চাই। কারণ আমার মনে হয় রাজ প্রাসাদে বাস করলে মানুষের হৃদয় কঠিন হয়ে যায়। তাই আমি সাধারণ মানুষের সাথেই থাকতে চাই। তাদের সুখ, দুঃখ ভাগ করে নিতে চাই।’
মিসরে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের বিজয়ের ভিত্তি বোঝার জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে অনেক পেছনে। (চলবে)
লেখক : সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply