বৃহত্তর বিজয়ের জন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চ কুরবানি

মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ

ত্যাগ ও কুরবানির মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের বিজয় নিশ্চিত হবে। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের এক মহা সৌধ নির্মিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন ত্যাগ ও কুরবানির এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত। কুরবানির ভিত যত মজবুত হবে ইসলামী আন্দোলন তত গতিশীল হবে। ত্যাগ ও কুরবানির শিকড় যত গভীরে প্রোথিত হবে আন্দোলনের সাফল্য ততই নিকটস্থ হবে। ষড়যন্ত্র, বাধা-প্রতিবন্ধকতা ইসলামী আন্দোলনের পথে সৃষ্ট পরিস্থিতি। নিশ্চিত এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ত্যাগ কুরবানির বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এছাড়া বিকল্প কোন আপসের মত নিরাপদ রাস্তা নেই। ইসলামের দুশমন শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ প্রতিবন্ধকতা আসবে নানা অজুহাতে। ইসলামের প্রতি হিংসুক ও অসহিষ্ণু গোষ্ঠী জুলুম নির্যাতন চালাবে ইসলামী আন্দোলনের ওপর। এ অবস্থায়  ভয়ে ভীত না হয়ে ষড়যন্ত্রের সামনে মাথানত না করে সামনে এগোতে হবে অসম সাহসিকতার সাথে। ইসলামী আন্দোলনের চূড়ান্ত ও বৃহত্তর বিজয় আসবে সর্বোচ্চ কুরবানির মাধ্যমে। যে ত্যাগ ও কুরবানি হবে অসামান্য,্ ঐতিহাসিক ও মানব ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মতো। মানব ইতিহাসে যে কুরবানি হবে অনুপ্রেরণা দানকারী ও স্বর্ণাক্ষরে লিখিত। নিঃসার্থ ও ত্যাগী মানুষের ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে যারা হবে অগ্রগণ্য। তাদের অকৃত্রিম ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের জন্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার ব্যতিক্রমী নজির হবে সাড়া জাগানো। ইসলামের জন্য কুরবানির এ দৃষ্টান্ত চরম দুশমনদের মনেও অনেক সময় দাগ কাটে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ত্যাগের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণকারী এসব মানুষের নিজের সর্বশেষ অস্তিত্বটুকু উৎসর্গ করার ঘটনাবলি বিশ্ব বিবেক নাড়া দেবে। হতবাক বিস্ময়ে অনেক দুশমন সম্প্রদায় তাকিয়ে থাকবে, চরম জিঘাংসু ও লোমশিহরানো উৎপীড়কের সামনে মাথা নত না করে ইসলামের ওপর অবিচলতার দুঃসাহস দেখানোর কারণে। নির্মমতার অতিমাত্রায় অনেকের বিবেক দংশন করে  ইসলামের ব্যাপারে কৌতূহল উদ্দীপক সহনশীল মানসিকতার জন্ম দেবে। ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের জন্য দুনিয়ায় সাড়া জাগানো ও অনাগতকালের মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় ত্যাগ কুরবানির প্রয়োজন হবে। যে ত্যাগের মজবুত ভিতের ওপর ইসলামী আন্দোলনের সুবিশাল সৌধ দাঁড়িয়ে থাকবে। অনাগতকালের ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তিরা সে ত্যাগের সোনালি ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিতে থাকবে। সে ত্যাগই মানুষদের নির্ভীক ও সাহসী কুরবানি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠাকামী মোজাহিদদের ঈমানকে শানিত করবে। লাভ করবে মানসিক শক্তি ও সাহসী হিম্মত। উজ্জীবিত হবে ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমায়। আল্লাহর নবীদের ওপর সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হয়েছে ঈমানের। তীব্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা। নির্যাতন ও প্রতিরোধের মুখেও ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছিলেন। ইসলামী আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে সফল করার পূর্বশর্তই হলো ত্যাগ ও কুরবানি সমৃদ্ধশালী ইতিহাস রচনা করা। আজকে সে ত্যাগ কুরবানিদাতাদের খাতায় নাম লিখাতে হবে সর্বস্তরের জনশক্তিকে। ঊর্ধ্বতন থেকে অধস্তন সর্বস্তরের সবাইকে শামিল হতে হবে এ ইতিহাস রচনায়। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা) ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র অনুকরণীয় মডেল। তার তের বছরের মাক্কি যুগের সংগ্রামী দাওয়াতি কার্যক্রম ও দশ বছরের মাদানি যুগের ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার ইতিহাসগুলো বর্তমান প্রেক্ষিতে সামনে আনা প্রয়োজন। তার পবিত্র মুখ নিঃসৃত একটি হাদিস থেকেÑ “অতীত দ্বীনের দায়ীদের ওপর লোমহর্ষক নিপীড়নের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাহাবীদের অভিযোগের  জবাবে তিনি বললেন, তোমাদের পূর্বেকার জমানায় মানুষকে ধরে নিয়ে মাটির গর্তে দাঁড় করানো হতো। তারপর করাত দ্বারা কারো মাথা থেকে লম্বালম্বি শরীর ছিঁড়ে ফেলা হতো। কারো শরীর থেকে গোশত ও হাড় লোহার চিরুনি দ্বারা আঁচড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করা হতো। তবুও কাউকে তার দ্বীন থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো না।” (বোখারী)
ইসলামী আন্দোলনের অনিবার্য পাওনাই হলো কঠোরতম নির্মমতা। ঈমান গ্রহণকারী অতীতে যারা, তাদের ওপর পৈশাচিকতা ও নির্মমতার প্রান্তসীমা অতিক্রম করা সত্ত্বেও ঈমানের ওপর টিকে থাকাকেই তারা দায়িত্ব মনে করেছিল। ঈমান থেকে তাদের টলাতে পারেনি ক্ষণিকের জন্যও। সাম্প্রতিক অবস্থা দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তিকে কঠিন কুরবানি দেয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। জুলুমবাজদের সামনে  মনোবল ভাঙা হওয়া যাবে না। দমিত হয়ে ঘরে বসে থাকা যাবে না। তাদের রক্তচক্ষুকে ভয় পেয়ে ময়দান ছাড়া হওয়া যাবে না। নির্যাতনের ভয়ে পিছু হঠে দুর্বলতার পরিচয় দেয়া যাবে না। দায়িত্বশীলদের অনুপস্থিতিতে জনশক্তিকে ময়দানে সক্রিয় রাখতে হবে। দায়িত্বশীলতার মান বৃদ্ধি করে নিজেকে ময়দানে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ করতে হবে। জালেম শাসকশক্তি জেল জুলুম গ্রেফতার মামলা নির্যাতন রিমান্ড সব রকমের অত্যাচার চালাবে। এটা তাদের শেষ অস্ত্র যা তারা প্রয়োগ করছে। মনে হয় তারা আরও তীব্রবেগে এই অস্ত্র প্রয়োগ করবে। সর্বশক্তি দিয়ে তারা মরণ ছোবল মারবে। মরণ ছোবল মারার এই মুহূর্তে ত্যাগের সর্বোচ্চ মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে ও সাহসিকতার চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করতে পারলে ইসলামবিরোধীগোষ্ঠী তাদের গুটিয়ে  নেবে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দৃঢ় পদচারণার সামনে বাতিল শক্তির মনোবলে চিড় ধরবে। ইসলামী শক্তিকে নির্মূলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সর্বোচ্চ কুরবানি দেয়ার মানসিকতার সামনে তারা ব্যর্থ হয়ে যাবে। হয়তো আল্লাহতাআলা ইসলামী আন্দোলনের জন্য সুদূরপ্রসারী বৃহত্তর বিজয় রাখতে পারেন সৃষ্ট এ পরিস্থিতির মাঝে। তবে শর্ত সর্বোচ্চ কুরবানির চেতনায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ইসলামী ইতিহাসে সে শিক্ষা পাওয়া যায়। আল্লাহর রাসূল মোহাম্মদ (সা)-এর নবুওয়তের নবম হিজরিতে মুসলমানদের এক বড় বিজয় দান করেছিলেন। তবে তার আগে সাহাবীদের ত্যাগের মানসিকতার পরীক্ষা হয়েছিল। দ্বীনের দাওয়াত দান ও ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে আল্লাহর রাসূল ও তার সাহাবীরা নবম হিজরি পর্যন্ত দীর্ঘ বাইশ বছর অবিশ্রান্ত কষ্ট করেছেন। জুলুম অত্যাচারের মুখেও তারা ইসলামী আন্দোলনের কাজ করে গিয়েছেন। রাসূল (সা) এর নেতৃত্বে পরিচালিত সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন সমসাময়িককালের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বৃহৎ শক্তির সাথে চ্যালেঞ্জকারী স্বীকৃত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। মক্কা বিজয়, খন্দক ও মুতা প্রান্তরে মুসলমান শক্তির অবিস্মরণীয় বিজয়ে পুরো আরব জগতে সাড়া পড়েছিল। কেবল একটি পরাশক্তি অবশিষ্ট ছিল। আর তা হলো রোম সাম্রাজ্য। এক দিকে দীর্ঘ বাইশ বছর ত্যাগের বিনিময়ে ইসলাম শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছল। অপর দিকে ইসলামী শক্তির সাথে পাল্লা দেয়ার মত রোমীয় শক্তি কেবল অবশিষ্ট ছিল। সেই শক্তির সাথে বিজয়ী হওয়া দরকার। সে বিজয় হবে বড় বিজয়। তাহলে ইসলামী শক্তির বিজয় নিরঙ্কুশ হয়ে যাবে। সে সময় আল্লাহতাআলা মুসলমানদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন। নবম হিজরিতে তাবুক অভিযানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মুসলমানদের ভূমিকা তার প্রমাণ গ্রহণ করে। তাবুক অভিযানের প্রাক্কালে মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার কারণে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত থাকাই স্বাভাবিক। অথচ ইসলামী শক্তির সাথে চ্যালেঞ্জ করার মতো অবশিষ্ট রোম সাম্রাজ্যের সাথে লড়ার জন্য কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ সময়ে মুসলমানদেরকে সর্বোচ্চ কুরবানি ও ত্যাগের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হয়েছে। আল্লাহতাআলা কুরবানি মুসলমানদের কাছ থেকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করার আগেই বৃহত্তর বিজয় হিসেবে রোম সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ বাইশ বছর কুরবানি দিয়ে ইসলাম আজকে একটি বৃহৎ শক্তি। সে সময় আবারও একটি সর্বাত্মক কুরবানির প্রশ্ন। তাও আবার সেই কুরবানির নির্দেশ সর্বস্তরের মুসলমানদের জন্য। ইসলামী আন্দোলন শক্তিশালী হলে আরও বড় বিজয়ের জন্য কুরবানি প্রয়োজন। ইসলামের ইতিহাস তাই প্রমাণ করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামী এদেশের বৃহত্তর ইসলামী শক্তির একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন। জামায়াতের কর্মীদের আদর্শিক চেতনা ও এদেশের মানুষের জামায়াতের প্রতি ক্রমবর্ধমান সমর্থনের কারণে উদীয়মান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সকলে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এ সংগঠনের রাজনৈতিক উত্থানে ইসলামবিরোধী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো গভীরভাবে চিন্তিত। সমগ্র দুনিয়ায় কার্যকর ইসলামী শক্তির বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়। জামায়াতে ইসলামী আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধীগোষ্ঠীর নজরের বাইরে নয়। ইসলাম বিরোধীগোষ্ঠীর ক্রীড়নক হিসেবে এদেশীয় চরম ইসলামবিদ্বেষীগোষ্ঠী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতের ব্যাপারে পরিকল্পিতভাবে খড়গহস্ত হয়। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরও ছাত্রদের মাঝে অত্যন্ত কম সময়ে ব্যাপকতা লাভ করছে। ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কারণে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিয়েও দুশমন সম্প্রদায় গভীর চিন্তিত। তাদের হিসাব-নিকাশ জামায়াত-শিবির এদেশের আগামী দিনের সিদ্ধান্তকারী রাজনৈতিক শক্তি। তাই আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধীগোষ্ঠী সেই সাথে আধিপত্যবাদী ভারত জামায়াতকে দমিয়ে  দেয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তাদের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসলামের দুশমনদের দোসর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসায়। ইসলামী শক্তিকে দমিয়ে দিতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী চারদলীয় সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। সর্বশেষ ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনা ঘটিয়ে ডিজিটাল কারচুপির চোখভুলানো এক কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ অবিশ্বাস্য বিজয় লাভ করে। কথিত ওয়ান- ইলেভেন নাটকের উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করা। মুসলিম সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে বিজাতীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ে ধ্বংস করা। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইসলামবিমুখ করা। বাংলাদেশ  ভৌগোলিকভাবে এ অঞ্চলে অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ণ এশিয়ায় অত্যধিক গুরুত্বপুর্ণ অবস্থানে অবস্থিত। তা ছাড়া বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের দীর্ঘদিন থেকে একটি গোষ্ঠীর এ অঞ্চলকে খ্রিস্টান রাজ্য বানানোর সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত দীর্ঘদিন থেকে চলমান। পার্শ্ববর্তী ভারত বাংলাদেশের প্রকৃত সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। তারা দাদাগিরি খাটিয়ে এদেশের বন্দর ব্যবহার করতে চায়। এদেশের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে সেভেন সিস্টার নামে খ্যাত সাত রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমাতে চায়। ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে শুকিয়ে মারছে। আবার টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে তারা একচেটিয়া পানি সুবিধা ভোগ করতে চায়। এ ক্ষেত্রে তারা কোন প্রকারের আন্তর্জাতিক নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা মানতে রাজি নয়। তাদের এসব আধিপত্যবাদী আচরণের বলিষ্ঠ প্রতিবাদী একমাত্র জামায়াত। তাই জামায়াতে ইসলামীকে তারাও আদাজল খেয়ে টার্গেট করেছে। বাংলাদেশ ও এদেশের ইসলামী শক্তিকে নিয়ে আন্তর্জাতিক চক্র সেই সাথে আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী ভারত, তাদের সকল এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রধান প্রতিবন্ধক মনে করছে জামায়াতে ইসলামীকে। তাই তারা জামায়াতকে নির্মূলের সিদ্ধান্ত নেয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায়। তার নেতৃবৃন্দকে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে জেলে বন্দী করে আর দেশব্যাপী দমন নিপীড়ন চালিয়ে জামায়াতকে স্তব্ধ করতে চায়। অথচ জামায়াতের জন্য অপেক্ষা করছে উজ্জ্বল রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তাই বৃহত্তর এক ভবিষ্যৎ  বিজয়ে সকল জনশক্তিকে তাবুকের চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে। লড়তে হবে ময়দানে সর্বোচ্চ কুরবানি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে। জুলুমবাজদের সকল চক্রান্তকে কঠোর হস্তে রুখে দিতে হবে। সকল মছিবত অত্যাচারকে সহাস্যে আলিঙ্গন করতে হবে। মনে রাখতে হবে রাসূল (সা) এর সে হাদিসকে। রাসূল (সা) বলেছেন- আল্লাহ তাআলা যদি কারো কল্যাণ চান, তাহলে তাহাকে বিপদগ্রস্ত করেন। (বোখারী)।
লেখক : সাবেক কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply